দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

উপসাগরীয় উত্তেজনার মধ্যে বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার

উপসাগরীয় উত্তেজনার মধ্যে বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার

চট্টগ্রাম বন্দরে একসঙ্গে ৫ জাহাজে এলো বিপুল জ্বালানি, বাড়ছে জাতীয় মজুত

নতুন শিল্প ও কর্মসংস্থান বাড়াতে বিদেশি বিনিয়োগে জোর, অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে উদ্যোগ

পারমাণবিক অস্ত্র ছাড়াই চুক্তি চায় যুক্তরাষ্ট্র, আলোচনায় না এলে বিপদে পড়বে ইরান: ট্রাম্প

নওগাঁর নিয়ামতপুরে একই পরিবারের ৪ জনকে গলা কেটে হত্যা, এলাকায় আতঙ্ক

চাঁপাইনবাবগঞ্জে খাদ্যবান্ধব কার্ডের নামে ১০ কোটি টাকা আদায়ের অভিযোগ

দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অভাবে বাড়ছে গণপিটুনি: জাতীয় সংসদে রুমিন ফারহানার বক্তব্য

মুকসুদপুরে নির্মাণাধীন রেস্টুরেন্টে চাঁদা দাবির অভিযোগ, ভাঙচুর ও রড নেওয়ার দাবি

চট্টগ্রাম বন্দরে একসঙ্গে ৫ জাহাজে এলো বিপুল জ্বালানি, বাড়ছে জাতীয় মজুত

চট্টগ্রাম বন্দরে একসঙ্গে ৫ জাহাজে এলো বিপুল জ্বালানি, বাড়ছে জাতীয় মজুত
-ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বন্দরে ৫ জাহাজে এলো বিপুল জ্বালানি, স্বাভাবিক থাকবে সরবরাহ

দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বড় পরিমাণ ডিজেল ও অকটেন নিয়ে একযোগে চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করেছে পাঁচটি জাহাজ। এসব জাহাজে মোট প্রায় ১ লাখ ৬৯ হাজার টন জ্বালানি এসেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে দুটি জাহাজ থেকে খালাস কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা দ্রুত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হবে। 

বন্দর সূত্র জানায়, ডলফিন জেটিতে থাকা দুটি জাহাজ থেকে সোমবার সকাল থেকেই জ্বালানি খালাস শুরু হয়েছে। এর মধ্যে একটি জাহাজে প্রায় ৩৫ হাজার টন এবং অন্যটিতে প্রায় ৩৩ হাজার টন ডিজেল রয়েছে। অর্থাৎ এই দুই জাহাজ থেকেই প্রায় ৬৮ হাজার টন ডিজেল সরাসরি খালাস করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, দ্রুতগতিতে এই কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে।

এদিকে বন্দরের বহির্নোঙরে আরও তিনটি জাহাজ খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে। এর মধ্যে একটি জাহাজে প্রায় ৪১ হাজার টন ডিজেল রয়েছে। আরেকটি জাহাজে প্রায় ৩৩ হাজার টন ডিজেল এবং অন্যটিতে প্রায় ২৭ হাজার টন অকটেন রয়েছে। এসব জাহাজ থেকে খালাস কার্যক্রম শুরু হলে জাতীয় জ্বালানি মজুত আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দেশের বর্তমান চাহিদা বিবেচনায় দ্রুত এসব জ্বালানি বিভিন্ন ডিপোতে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিবহন এবং শিল্পকারখানার জন্য নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত রাখাই এখন প্রধান লক্ষ্য। এজন্য খালাস কার্যক্রমে কোনো ধরনের বিলম্ব না হওয়ার দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।

বন্দর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, খালাস শেষ হলে ধাপে ধাপে এসব জ্বালানি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হবে। এতে শুধু জাতীয় মজুতই শক্তিশালী হবে না, বরং ভবিষ্যতে সম্ভাব্য সরবরাহ সংকটের ঝুঁকিও অনেকটাই কমে আসবে। 

চট্টগ্রাম বন্দর দেশের সবচেয়ে বড় সমুদ্রবন্দর হওয়ায় জ্বালানি আমদানির বড় অংশ এখান দিয়েই আসে। সাধারণত ডিজেল ও অকটেনের মতো জ্বালানি প্রথমে এখানে খালাস করে পাইপলাইনের মাধ্যমে সংরক্ষণাগারে নেওয়া হয়, এরপর সেখান থেকে সারা দেশে পাঠানো হয়। তাই বন্দরে একসঙ্গে বড় পরিমাণ জ্বালানি পৌঁছানো মানে জাতীয় সরবরাহ ব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব পড়া।

এর আগে বিভিন্ন সময় আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা বা পরিবহন জটিলতার কারণে দেশে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিকভাবে জ্বালানিবাহী জাহাজ আসায় সেই আশঙ্কা অনেকটাই কমেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে জানা গেছে, আরও কয়েকটি জ্বালানিবাহী জাহাজ ইতোমধ্যে বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করেছে। সেগুলো খুব শিগগিরই বন্দরে ভিড়বে এবং খালাস কার্যক্রমে যুক্ত হবে। এতে করে সামনে জ্বালানি সরবরাহ আরও স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে শিল্প উৎপাদন, কৃষি সেচ, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং পরিবহন ব্যবস্থা সচল রাখতে নিয়মিত জ্বালানি সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই ধরনের ধারাবাহিক আমদানি কার্যক্রম অর্থনীতির জন্যও ইতিবাচক বার্তা দেয়।

সব মিলিয়ে বলা যায়, একসঙ্গে পাঁচটি জাহাজে বড় পরিমাণ জ্বালানি পৌঁছানো দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সংশ্লিষ্টদের আশা, পরিকল্পনা অনুযায়ী খালাস ও বিতরণ কার্যক্রম শেষ হলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও শিল্পখাতে জ্বালানি সরবরাহ আরও স্বস্তিদায়ক 

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬


চট্টগ্রাম বন্দরে একসঙ্গে ৫ জাহাজে এলো বিপুল জ্বালানি, বাড়ছে জাতীয় মজুত

প্রকাশের তারিখ : ২১ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

চট্টগ্রাম বন্দরে ৫ জাহাজে এলো বিপুল জ্বালানি, স্বাভাবিক থাকবে সরবরাহ

দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বড় পরিমাণ ডিজেল ও অকটেন নিয়ে একযোগে চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করেছে পাঁচটি জাহাজ। এসব জাহাজে মোট প্রায় ১ লাখ ৬৯ হাজার টন জ্বালানি এসেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে দুটি জাহাজ থেকে খালাস কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা দ্রুত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হবে। 

বন্দর সূত্র জানায়, ডলফিন জেটিতে থাকা দুটি জাহাজ থেকে সোমবার সকাল থেকেই জ্বালানি খালাস শুরু হয়েছে। এর মধ্যে একটি জাহাজে প্রায় ৩৫ হাজার টন এবং অন্যটিতে প্রায় ৩৩ হাজার টন ডিজেল রয়েছে। অর্থাৎ এই দুই জাহাজ থেকেই প্রায় ৬৮ হাজার টন ডিজেল সরাসরি খালাস করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, দ্রুতগতিতে এই কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে।

এদিকে বন্দরের বহির্নোঙরে আরও তিনটি জাহাজ খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে। এর মধ্যে একটি জাহাজে প্রায় ৪১ হাজার টন ডিজেল রয়েছে। আরেকটি জাহাজে প্রায় ৩৩ হাজার টন ডিজেল এবং অন্যটিতে প্রায় ২৭ হাজার টন অকটেন রয়েছে। এসব জাহাজ থেকে খালাস কার্যক্রম শুরু হলে জাতীয় জ্বালানি মজুত আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দেশের বর্তমান চাহিদা বিবেচনায় দ্রুত এসব জ্বালানি বিভিন্ন ডিপোতে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিবহন এবং শিল্পকারখানার জন্য নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত রাখাই এখন প্রধান লক্ষ্য। এজন্য খালাস কার্যক্রমে কোনো ধরনের বিলম্ব না হওয়ার দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।

বন্দর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, খালাস শেষ হলে ধাপে ধাপে এসব জ্বালানি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হবে। এতে শুধু জাতীয় মজুতই শক্তিশালী হবে না, বরং ভবিষ্যতে সম্ভাব্য সরবরাহ সংকটের ঝুঁকিও অনেকটাই কমে আসবে। 

চট্টগ্রাম বন্দর দেশের সবচেয়ে বড় সমুদ্রবন্দর হওয়ায় জ্বালানি আমদানির বড় অংশ এখান দিয়েই আসে। সাধারণত ডিজেল ও অকটেনের মতো জ্বালানি প্রথমে এখানে খালাস করে পাইপলাইনের মাধ্যমে সংরক্ষণাগারে নেওয়া হয়, এরপর সেখান থেকে সারা দেশে পাঠানো হয়। তাই বন্দরে একসঙ্গে বড় পরিমাণ জ্বালানি পৌঁছানো মানে জাতীয় সরবরাহ ব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব পড়া।

এর আগে বিভিন্ন সময় আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা বা পরিবহন জটিলতার কারণে দেশে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিকভাবে জ্বালানিবাহী জাহাজ আসায় সেই আশঙ্কা অনেকটাই কমেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে জানা গেছে, আরও কয়েকটি জ্বালানিবাহী জাহাজ ইতোমধ্যে বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করেছে। সেগুলো খুব শিগগিরই বন্দরে ভিড়বে এবং খালাস কার্যক্রমে যুক্ত হবে। এতে করে সামনে জ্বালানি সরবরাহ আরও স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে শিল্প উৎপাদন, কৃষি সেচ, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং পরিবহন ব্যবস্থা সচল রাখতে নিয়মিত জ্বালানি সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই ধরনের ধারাবাহিক আমদানি কার্যক্রম অর্থনীতির জন্যও ইতিবাচক বার্তা দেয়।

সব মিলিয়ে বলা যায়, একসঙ্গে পাঁচটি জাহাজে বড় পরিমাণ জ্বালানি পৌঁছানো দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সংশ্লিষ্টদের আশা, পরিকল্পনা অনুযায়ী খালাস ও বিতরণ কার্যক্রম শেষ হলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও শিল্পখাতে জ্বালানি সরবরাহ আরও স্বস্তিদায়ক 


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর