দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ

জাতীয়

মতামতমতামত

আদালত প্রাঙ্গণে নারী সাংবাদিকের ওপর হামলা: নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন, এনজেইউসি’র তীব্র প্রতিবাদ

রাজধানীর আদালত প্রাঙ্গণে প্রকাশ্যে এক নারী সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় সাংবাদিক মহলে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিচারপ্রার্থীদের ভিড়ে থাকা আদালত ভবনের বারান্দায় দায়িত্ব পালন ও ব্যক্তিগত কাজে অবস্থানরত বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) সিনিয়র রিপোর্টার নার্গিস আক্তার সরকার জুঁইয়ের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে এক অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ঘটনাটি শুধু একজন সাংবাদিকের ওপর হামলাই নয়, বরং আদালত চত্বরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা কার্যকর—সেই প্রশ্নও সামনে নিয়ে এসেছে।ঘটনার পর জাতীয় সাংবাদিক ঐক্য পরিষদ (এনজেইউসি) গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। একই সঙ্গে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।কী ঘটেছিল আদালতের বারান্দায়?অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২ জুন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত ভবনের ৪র্থ তলায় ৬ নম্বর আদালতের সামনে অবস্থান করছিলেন সাংবাদিক নার্গিস আক্তার সরকার জুঁই। তার স্বামী সৈয়দ শাহ নেওয়াজ হোসেনের দায়ের করা একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন।বেলা আনুমানিক ১১টা ২৫ মিনিটের দিকে এক অজ্ঞাত ব্যক্তি তাকে জোরে ধাক্কা দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানালে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই ব্যক্তি অশালীন ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন এবং একপর্যায়ে শারীরিকভাবে আক্রমণ করেন।রক্তাক্ত জখম, হাসপাতালে চিকিৎসাহামলার ফলে সাংবাদিক নার্গিস আক্তার সরকার জুঁই শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে ঘুষির আঘাতে তার নাক ও উপরের ঠোঁট রক্তাক্ত হয়ে যায় এবং একটি দাঁত নড়ে যায়।প্রত্যক্ষদর্শীরা তার চিৎকার শুনে এগিয়ে এলে পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে বলে দাবি করা হয়েছে। এ সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রাণনাশের হুমকিও দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।পরে তার স্বামী ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি সামাল দেন। এরপর আহত সাংবাদিককে উদ্ধার করে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়।থানায় অভিযোগ, তদন্তের দাবিঘটনার পর কোতোয়ালি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।এনজেইউসি নেতৃবৃন্দ বলেছেন, আদালতের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও নিরাপত্তাবেষ্টিত এলাকায় এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাদের মতে, একজন নারী সাংবাদিকের ওপর প্রকাশ্যে হামলা কেবল ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয় নয়, এটি সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের পরিবেশকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে।সংগঠনটির সভাপতি সাবেক অধ্যক্ষ এম.এম. আজিজুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক লায়ন মো. সাইফুল ইসলাম রণি এক যৌথ বিবৃতিতে হামলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।সিসিটিভি ফুটেজে মিলতে পারে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যএনজেইউসি নেতৃবৃন্দ আদালত প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও পর্যালোচনার মাধ্যমে হামলাকারীকে দ্রুত শনাক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন।তাদের মতে, আদালত এলাকায় সাধারণত একাধিক নিরাপত্তা ক্যামেরা থাকে। ফলে ঘটনার প্রকৃত চিত্র বের করে আনা এবং দায়ীদের শনাক্ত করা সম্ভব হওয়া উচিত।একই সঙ্গে ভুক্তভোগী সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও দাবি জানানো হয়েছে।কেন উদ্বেগ বাড়ছে?সাংবাদিকদের ওপর হামলা বা হুমকির ঘটনা নতুন নয়। তবে আদালত চত্বরের মতো একটি সংবেদনশীল ও নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রিত স্থানে এ ধরনের অভিযোগ নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।গণমাধ্যম বিশ্লেষকদের মতে, সাংবাদিকরা তথ্য সংগ্রহ, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় তুলে ধরার কাজ করেন। এ কারণে অনেক সময় তারা বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকির মুখোমুখি হন। কিন্তু নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত না হলে স্বাধীন সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।সামাজিক মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, জনসমাগমপূর্ণ স্থানে সংঘাত বা সহিংস আচরণের ঘটনা বেড়ে যাওয়ার পেছনে সামাজিক সহনশীলতার সংকট, আইনের প্রতি উদাসীনতা এবং ব্যক্তিগত ক্ষোভের অনিয়ন্ত্রিত প্রকাশ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই শুধু অপরাধী শনাক্ত করাই নয়, জনপরিসরে নিরাপদ ও সম্মানজনক আচরণের সংস্কৃতি গড়ে তোলাও জরুরি।বর্তমানে ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা এবং অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

প্রতিযোগিতার নতুন লড়াইয়ে বাংলাদেশ: ২০২৬–২৭ বাজেট কি বদলে দিতে পারবে অর্থনীতির গতি

উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ এবং ব্যবসা পরিচালনার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের মধ্যে বাংলাদেশ নতুন অর্থবছরের বাজেট প্রস্তুত করছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এবার শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব দিলেই চলবে না; বরং এমন একটি বাজেট প্রয়োজন, যা দেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াবে, বিনিয়োগ টানবে এবং ডিজিটাল ও লজিস্টিক্স ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করবে।বাংলাদেশ এখন এমন এক পর্যায়ে রয়েছে, যেখানে অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসনের সমন্বয়ই আগামী দিনের অর্থনৈতিক অবস্থান নির্ধারণ করতে পারে। তাই ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটকে ঘিরে ব্যবসায়ী ও নীতিনির্ধারকদের প্রত্যাশাও অনেক বেশি।ব্যয় কমানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জবাংলাদেশে উৎপাদন থেকে শুরু করে বাজারে পণ্য পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় খরচ তুলনামূলক বেশি। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণা ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, দেশে লজিস্টিক্স ব্যয় মোট উৎপাদন খরচের প্রায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছে যায়। উন্নত অর্থনীতিতে যেখানে এই হার প্রায় অর্ধেক, সেখানে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা এখনও পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থার নানা সীমাবদ্ধতার মুখে পড়ছেন।বিশেষজ্ঞদের দাবি, চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা, রেলপথে কন্টেইনার পরিবহনের সীমিত সুযোগ এবং আধুনিক গুদাম ব্যবস্থার অভাব দেশের রপ্তানি সক্ষমতাকে ধীর করে দিচ্ছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।অর্থনীতিবিদদের একটি অংশ মনে করছেন, নতুন বাজেটে ঢাকা-চট্টগ্রাম অর্থনৈতিক করিডোর, পায়রা ও মাতারবাড়ী বন্দরের সংযোগ অবকাঠামো, ড্রাই পোর্ট এবং কোল্ড চেইন ব্যবস্থার জন্য বড় ধরনের বরাদ্দ রাখা প্রয়োজন। এতে শুধু রপ্তানি নয়, অভ্যন্তরীণ সরবরাহ ব্যবস্থাও আরও দ্রুত ও সাশ্রয়ী হতে পারে।সড়কের ওপর অতিনির্ভরতা কমানোর তাগিদবর্তমানে দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ পণ্য পরিবহন হয় সড়কপথে। এতে সময় ও খরচ—দুইই বাড়ছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মহাসড়কে যানজট, জ্বালানি ব্যয় এবং পরিবহন বিলম্বের কারণে অনেক ক্ষেত্রে উৎপাদন ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে।এই বাস্তবতায় রেলভিত্তিক কন্টেইনার পরিবহন ও অভ্যন্তরীণ নৌপথ ব্যবহারে প্রণোদনার দাবি জোরালো হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মাল্টিমোডাল পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে দীর্ঘমেয়াদে লজিস্টিক্স খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসতে পারে।একই সঙ্গে রপ্তানিমুখী শিল্পাঞ্চলগুলোতে আলাদা লজিস্টিক্স জোন তৈরির বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, শিল্পাঞ্চলের কাছে গুদাম, কাস্টমস সেবা ও দ্রুত পরিবহন সুবিধা থাকলে উৎপাদন ও রপ্তানি—দুই ক্ষেত্রেই গতি বাড়বে।ডিজিটাল গভর্নেন্সে বড় পরিবর্তনের প্রত্যাশাব্যবসা নিবন্ধন, কর, ভ্যাট কিংবা কাস্টমস সেবার অনেক কিছুই এখন অনলাইনে হলেও পুরো ব্যবস্থায় এখনও সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের তথ্যভান্ডার একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত না থাকায় ব্যবসায়ীদের বাড়তি সময় ও খরচ গুনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।নীতিনির্ধারকদের একটি অংশ মনে করছেন, ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ ধারণাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে এবার বাজেটে সমন্বিত ডিজিটাল গভর্নেন্সকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। অর্থাৎ সরকারি সেবাগুলোকে এক প্ল্যাটফর্মে আনার পাশাপাশি ডাটা শেয়ারিং ও স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়া চালু করতে হবে।বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ডিজিটাল প্রশাসন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে প্রশাসনিক ব্যয় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। একই সঙ্গে কর আদায়ে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং রাজস্ব ফাঁকি কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।রাজস্ব বাড়ানোর নতুন পথ খুঁজছে সরকারবাংলাদেশের রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত এখনও দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশের তুলনায় কম। অর্থনীতিবিদদের মতে, শুধু করের হার বাড়িয়ে কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব অর্জন সম্ভব নয়। বরং কর প্রশাসনকে প্রযুক্তিনির্ভর ও স্বচ্ছ করা বেশি জরুরি।এক্ষেত্রে AI-ভিত্তিক কর নিরীক্ষা, ই-ইনভয়েসিং এবং স্বয়ংক্রিয় ভ্যাট ব্যবস্থার মতো উদ্যোগের কথা সামনে আসছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডিজিটাল ট্যাক্স ব্যবস্থাপনা চালু হলে কর ফাঁকি কমবে এবং রাজস্ব আদায় আরও বাড়তে পারে।তবে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর একটি অংশ সতর্ক করে বলছে, নতুন প্রযুক্তি চালুর আগে ব্যবসায়ীদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও অবকাঠামোগত সহায়তা নিশ্চিত না হলে ছোট উদ্যোক্তারা চাপে পড়তে পারেন।প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর দাবিদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা দ্রুত বাড়লেও গ্রামীণ অঞ্চলে এখনও উচ্চগতির ইন্টারনেট ও নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল সেবার ঘাটতি রয়েছে। প্রযুক্তি খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ৫জি অবকাঠামো, জাতীয় ডাটা সেন্টার, ক্লাউড সেবা ও সাইবার নিরাপত্তায় বড় বিনিয়োগ ছাড়া ডিজিটাল অর্থনীতির লক্ষ্য পূরণ কঠিন হবে।স্টার্টআপ ও ফিনটেক উদ্যোক্তাদের দাবি, নতুন বাজেটে প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্ভাবনী খাতের জন্য কর সুবিধা এবং ভেঞ্চার ফান্ড গঠন করা প্রয়োজন। তাদের মতে, তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য অর্থায়নের সুযোগ বাড়ানো গেলে কর্মসংস্থান ও রপ্তানির নতুন খাত তৈরি হতে পারে।তৈরি পোশাকের বাইরে নতুন বাজারের খোঁজবাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের বড় অংশ এখনও তৈরি পোশাক খাতের ওপর নির্ভরশীল। ফলে বৈশ্বিক বাজারে কোনো ধাক্কা এলে পুরো অর্থনীতিতেই প্রভাব পড়ে।এই ঝুঁকি কমাতে ফার্মাসিউটিক্যালস, কৃষি-প্রক্রিয়াজাত শিল্প, আইসিটি, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে বিশেষ সহায়তার প্রস্তাব উঠছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স এবং ডিজিটাল ট্রেড সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে অপ্রচলিত রপ্তানি খাত দ্রুত সম্প্রসারিত হতে পারে।বাস্তবায়ন নিয়ে থেকেই যাচ্ছে প্রশ্নবাংলাদেশে অনেক উন্নয়ন প্রকল্প নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এতে ব্যয় বাড়ে, আবার কাঙ্ক্ষিত সুফলও পাওয়া যায় না। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুধু বড় বাজেট ঘোষণা করলেই হবে না; বাস্তবায়নের সক্ষমতাও বাড়াতে হবে।তারা বলছেন, প্রকল্প মনিটরিং, ই-গভর্নেন্সভিত্তিক ট্র্যাকিং এবং সরকারি ক্রয়ে ডিজিটাল স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে অপচয় ও দুর্নীতি কমতে পারে। একই সঙ্গে বিনিয়োগের কার্যকারিতাও বাড়বে।দক্ষ জনশক্তি ছাড়া টেকসই অগ্রগতি সম্ভব নয়তরুণ জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের বড় শক্তি হলেও দক্ষতার ঘাটতি এখনও অন্যতম চ্যালেঞ্জ। বিশেষজ্ঞদের মতে, কারিগরি শিক্ষা, AI, ডাটা অ্যানালিটিক্স, সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট এবং সাইবার নিরাপত্তাভিত্তিক প্রশিক্ষণে বাজেটে আলাদা গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।শিল্প খাত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো গেলে বৈশ্বিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ কর্মী তৈরি করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।সামাজিক প্রভাব ও অর্থনৈতিক বাস্তবতাবিশ্লেষকদের মতে, প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতি গড়ে তোলা শুধু বড় ব্যবসা বা রপ্তানি বাড়ানোর বিষয় নয়; এটি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গেও সরাসরি জড়িত। পরিবহন ব্যয় কমলে পণ্যের দাম কমতে পারে, ডিজিটাল সেবা বাড়লে দুর্নীতি ও হয়রানি কমতে পারে, আর প্রযুক্তি খাতে নতুন বিনিয়োগ বাড়লে তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।তবে এ ধরনের সংস্কার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।উপসংহার২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটকে ঘিরে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—এটি কি শুধু স্বল্পমেয়াদি অর্থনৈতিক চাপ সামাল দেওয়ার চেষ্টা হবে, নাকি দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর একটি কার্যকর রূপরেখা হয়ে উঠবে? বিশেষজ্ঞদের মতে, লজিস্টিক্স উন্নয়ন, ডিজিটাল গভর্নেন্স, প্রযুক্তি বিনিয়োগ এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির ওপর জোর দেওয়া গেলে বাংলাদেশ আগামী দশকের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আরও শক্ত অবস্থানে যেতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত সাফল্য নির্ভর করবে বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা ও কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর।

সাংবাদিকতার সংকটের ‘নাই’ তালিকা: নিরাপত্তা, আয় ও মর্যাদাহীনতায় উদ্বেগ, ১৪ দফা দাবিতে ঐক্যের আহ্বান

দেশের সাংবাদিকতা পেশায় আবারও উঠে এসেছে এক কঠিন বাস্তবতা। পেশাগত নিরাপত্তা থেকে শুরু করে আর্থিক সুরক্ষা—সব ক্ষেত্রেই ঘাটতির অভিযোগ তুলে এবার সামনে এসেছে ‘নাই’-এর দীর্ঘ তালিকা। জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহ ঘিরে এই পরিস্থিতি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।গণমাধ্যম সপ্তাহে উত্থাপিত বাস্তব চিত্রজাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহ উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে সাংবাদিকদের অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে ১৪ দফা কর্মসূচির কথা জানানো হয়েছে। আয়োজক সংগঠন Bangladesh Mofussil Journalists Forum-এর পক্ষ থেকে এই দাবি তুলে ধরা হয়।সংগঠনটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফর দেশের সাংবাদিকদের বর্তমান অবস্থাকে “সংকটপূর্ণ” বলে উল্লেখ করেন এবং একটি সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়নের আহ্বান জানান।পেশাগত সুবিধায় বড় ঘাটতিবিবৃতিতে বলা হয়, দেশে সাংবাদিকদের জন্য এখনো একটি পূর্ণাঙ্গ ডাটাবেইস বা তালিকা গড়ে ওঠেনি। পাশাপাশি রয়েছে— নির্দিষ্ট বেতন কাঠামোর অভাব নিয়মিত ভাতা ও বোনাসের অনিশ্চয়তা অবসরকালীন পেনশন সুবিধার ঘাটতি বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতার সীমাবদ্ধতা এছাড়া সাংবাদিকদের দক্ষতা উন্নয়নের প্রশিক্ষণ ও আধুনিক সরঞ্জাম সহায়তার ঘাটতির কথাও তুলে ধরা হয়েছে।নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগসাংবাদিকদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হিসেবে উঠে এসেছে পেশাগত নিরাপত্তা। অভিযোগ অনুযায়ী, দুর্নীতি বা অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করলে অনেক সাংবাদিক হুমকি, মামলা বা হামলার শিকার হন।একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাংবাদিক বলেন, “সংবেদনশীল বিষয়ে রিপোর্ট করলে শুধু নিজের নয়, পরিবারের নিরাপত্তাও ঝুঁকিতে পড়ে যায়।”এছাড়া সাংবাদিকরা নিজে বাদী হয়ে আইনি সহায়তা চাইলে অনেক ক্ষেত্রে বিলম্বের অভিযোগও রয়েছে।সামাজিক ও পারিবারিক সংকটশুধু পেশাগত ক্ষেত্রেই নয়, সাংবাদিকদের ব্যক্তিগত জীবনেও রয়েছে নানা চ্যালেঞ্জ। শিক্ষা, চিকিৎসা ও বাসস্থানের মতো মৌলিক বিষয়েও অনেককে সংগ্রাম করতে হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।বিবৃতিতে বলা হয়, সাংবাদিকদের সন্তানদের শিক্ষা সহায়তা বা সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় আনার উদ্যোগ এখনো পর্যাপ্ত নয়।‘নাই’-এর তালিকা ও পেশাগত বাস্তবতাবিবৃতিতে যেসব ঘাটতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তা সাংবাদিকতা পেশার কাঠামোগত দুর্বলতাকেই তুলে ধরে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও মফস্বল পর্যায়ের সাংবাদিকরা এসব সমস্যায় বেশি ভোগেন বলে দাবি করা হয়।এ বিষয়ে আয়োজকরা বলেন, “এটি কোনো অভিযোগ নয়, বরং দীর্ঘদিনের বাস্তব চিত্র।”১৪ দফা দাবি ও আসন্ন সমাবেশএই পরিস্থিতিতে সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় ১৪ দফা দাবিতে আগামী ৭ মে ঢাকায় সমাবেশের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে সাংবাদিকদের অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।আয়োজকদের মতে, এই সমাবেশ শুধু দাবি জানানোর প্ল্যাটফর্ম নয়, বরং একটি সমন্বিত আন্দোলনের সূচনা হতে পারে।গণমাধ্যম খাতে প্রভাবের শঙ্কাবিশ্লেষকদের মতে, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত না হলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।একজন মিডিয়া বিশ্লেষক বলেন, “সাংবাদিকতা যদি অনিরাপদ হয়, তাহলে তথ্য প্রকাশের স্বাধীনতাও সীমিত হয়ে যায়।”তারা মনে করেন, এই দাবিগুলো বাস্তবায়িত হলে গণমাধ্যম খাতে স্বচ্ছতা ও পেশাগত মান বৃদ্ধি পেতে পারে।প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নসাংবাদিক সংগঠনগুলো মনে করছে, একটি সুসংহত নীতিমালা প্রণয়ন এবং সুরক্ষা আইন বাস্তবায়নে সরকারের আরও কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।একই সঙ্গে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোরও দায়িত্ব রয়েছে তাদের কর্মীদের ন্যায্য পারিশ্রমিক ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে।ব্যালান্সড অবস্থানএই দাবিগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে, তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।উপসংহার জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহে প্রকাশিত সাংবাদিকদের ‘নাই’-এর তালিকা শুধু অভিযোগ নয়, বরং দেশের গণমাধ্যম ব্যবস্থার একটি বাস্তব চিত্র। পেশাগত মর্যাদা, নিরাপত্তা ও আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এখন সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন—সরকার, মালিকপক্ষ এবং সাংবাদিক সমাজের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে এই সংকটের সমাধান দিতে।

গণমাধ্যমে সংস্কারের ডাক: জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সাংবাদিকদের জোরালো দাবি সমাবেশের প্রস্তুতি

দেশের গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতায় পরিবর্তনের নতুন বার্তা নিয়ে রাজধানীতে সরব হয়েছেন সাংবাদিক নেতারা। পুরোনো ধাঁচের সাংবাদিকতা থেকে বেরিয়ে এসে আধুনিক, জবাবদিহিমূলক ও পেশাদার সাংবাদিকতা প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে গণমাধ্যমকে পূর্ণাঙ্গ শিল্প হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি তুলেছেন তারা।শুক্রবার (১ মে) সকাল ১০টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত ১০ম জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহের উদ্বোধনী শোভাযাত্রায় এসব কথা বলেন বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়।গণমাধ্যমে নতুন যুগের আহ্বানশোভাযাত্রায় বক্তারা বলেন, দেশের বর্তমান বাস্তবতায় গণমাধ্যমের কাঠামোগত পরিবর্তন অত্যন্ত জরুরি। “ব্যাঙের ছাতার মতো” অনিয়ন্ত্রিতভাবে মিডিয়া প্রতিষ্ঠা হলে সাংবাদিকতার মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়—এমন মন্তব্যও উঠে আসে তাদের বক্তব্যে।তারা দাবি করেন, গণমাধ্যমকে একটি পূর্ণাঙ্গ শিল্প হিসেবে ঘোষণা দিতে হবে সাংবাদিক নিয়োগে স্বচ্ছ নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে পেশাদার সাংবাদিকদের একটি নির্ভুল তালিকা তৈরি করে প্রকাশ করতে হবে প্রেস কাউন্সিলকে যুগোপযোগী করে পুনর্গঠন করতে হবে নেতৃবৃন্দের মতে, এসব উদ্যোগ না নিলে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়বে, যা রাষ্ট্র ও জনগণের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।ফ্যাক্ট-চেক ছাড়া সংবাদ পরিবেশনের বিরুদ্ধে সতর্কতাঅনুষ্ঠানে বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, যাচাই-বাছাই ছাড়া সংবাদ পরিবেশন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং ছাড়া খবর প্রকাশ করলে তা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।একজন বক্তা বলেন, “গণমাধ্যমের স্বাধীনতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি দায়বদ্ধতাও সমান জরুরি। দায়িত্বজ্ঞানহীন সংবাদ পরিবেশন সমাজে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।”আইন সংস্কার ও তথ্য কমিশনের দাবিতথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি শক্তিশালী তথ্য কমিশন গঠনের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি নতুন করে আইন প্রণয়নের মাধ্যমে মিডিয়া নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনার প্রস্তাবও দেওয়া হয়।বক্তারা অভিযোগ করেন, অতীতে সাংবাদিকদের তালিকা প্রণয়নের কথা বলা হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। বরং বিভিন্ন আইনের মাধ্যমে সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তারা।তাদের ভাষায়, “দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকদের দাবি উপেক্ষিত হয়েছে। এখন সময় এসেছে সেগুলো বাস্তবায়নের।”১৪ দফা দাবিতে ঐক্যবদ্ধ সাংবাদিক সমাজঅনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের ১৪ দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু দাবি হলো: সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়ন পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সাংবাদিকদের জন্য কল্যাণ তহবিল গঠন গণমাধ্যম সপ্তাহকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া আগামী ৭ মে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এসব দাবিতে একটি বৃহৎ সমাবেশ আয়োজনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ ও নেতৃত্বউদ্বোধনী শোভাযাত্রায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফর। তিনি বেলুন উড়িয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন ঘোষণা করেন।এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা, যার মধ্যে ছিলেন— ওমর ফারুক জালাল, সাব্বির আহমেদ রনি, মঞ্জুর হোসেন ঈশা, অশোক ধর, বীথি মোস্তফা, ফাতেমা আক্তার, শেখ শহীদুর রহমান পাভেলসহ অনেকে।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও সদস্যরা, যারা এই আন্দোলনের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেন।হামলার শিকার সাংবাদিকের আবেগঘন বর্ণনাশোভাযাত্রায় অংশ নেন ফরিদপুরে হামলার শিকার এক সাংবাদিকও। তিনি ঢাকা পঙ্গু হাসপাতাল থেকে সরাসরি এসে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।তিনি জানান, কিভাবে দুর্বৃত্তদের হামলায় তার হাত-পা ভেঙে দেওয়া হয়। তার এই বর্ণনা উপস্থিতদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি করে।সংগঠনের পক্ষ থেকে তাকে আইনি সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়।সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি১ থেকে ৭ মে পর্যন্ত চলবে জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহ। এর মধ্যে রয়েছে— উদ্বোধনী শোভাযাত্রা কেক কাটা অনুষ্ঠান বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সাংবাদিক প্রশিক্ষণ “মিট দ্য প্রেস” প্রীতি ফুটবল ম্যাচ এবং ৭ মে দাবি সমাবেশ দেশের বিভিন্ন জেলায় এসব কর্মসূচি ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।বিশ্লেষণ: কেন গুরুত্বপূর্ণ এই আন্দোলন?বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের গণমাধ্যম খাত এখন একটি রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ডিজিটাল মিডিয়ার প্রসার যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে ভুয়া খবর ও অপেশাদার সাংবাদিকতার ঝুঁকিও।এই পরিস্থিতিতে— পেশাদার সাংবাদিকদের তালিকা তৈরি প্রশিক্ষণ বৃদ্ধি আইনি সুরক্ষা —এসব বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একজন গণমাধ্যম বিশ্লেষক বলেন, “সাংবাদিকতা যদি নিয়ন্ত্রিত ও মানসম্পন্ন না হয়, তাহলে তা গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।”প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নযদিও এসব দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে, তবে এ বিষয়ে সরকারের আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে, তবে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।উপসংহারগণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দায়বদ্ধতা—এই দুইয়ের ভারসাম্য রক্ষা করেই এগোতে চায় দেশের সাংবাদিক সমাজ। জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহকে কেন্দ্র করে যে দাবি ও আন্দোলন শুরু হয়েছে, তা ভবিষ্যতে এই খাতের কাঠামোগত পরিবর্তনের পথ খুলে দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন দেখার বিষয়, সরকার কত দ্রুত এবং কতটা কার্যকরভাবে এসব দাবি বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেয়।

সাংবাদিকদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে সোচ্চার সংবাদকর্মীরা

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংবাদকর্মীরা। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকরা প্রতিনিয়ত হামলার শিকার হচ্ছেন এবং হুমকির সম্মুখীন হচ্ছেন, যা মুক্ত গণমাধ্যম এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য একটি বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতির অবসানে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন বিভিন্ন স্তরের সাংবাদিকরা।সম্প্রতি আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেন, কোনো গণতান্ত্রিক সমাজে সাংবাদিকরা এভাবে অনিরাপদ থাকতে পারেন না। তথ্য সংগ্রহের কাজ করতে গিয়ে তারা নানাভাবে বাধা পাচ্ছেন। বিশেষ করে স্থানীয় পর্যায়ে যারা কাজ করছেন, তাদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। অপরাধীদের দৌরাত্ম্য ও ক্ষমতার দাপটের কাছে সাংবাদিকরা আজ অসহায় হয়ে পড়ছেন। এই পরিস্থিতির পরিবর্তনের জন্য প্রশাসনকে কঠোর ভূমিকা নিতে হবে।বক্তারা আরও বলেন, অতীতেও অনেক সাংবাদিককে তাদের দায়িত্ব পালনের সময় নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে, কিন্তু তার অনেক ঘটনারই সঠিক বিচার পাওয়া যায়নি। এই বিচারহীনতার সংস্কৃতিই অপরাধীদের আরও বেশি উৎসাহিত করছে। তাই সাংবাদিকদের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট সুরক্ষা আইন এবং নির্যাতনকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।পটভূমি হিসেবে বলা যায়, বাংলাদেশে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি বহু পুরনো। এর আগেও বিভিন্ন সময় গণমাধ্যম কর্মীরা তাদের ওপর হওয়া হামলার বিচার এবং কাজের পরিবেশ নিরাপদ করার দাবিতে রাস্তায় নেমেছেন। অনেক সময় দেখা গেছে, প্রভাবশালী মহলের স্বার্থে আঘাত লাগলে বা কোনো অনিয়মের সত্য তুলে ধরলে সাংবাদিকদের ওপর হামলা করা হয়। এটি কেবল একজন সাংবাদিকের ওপর হামলা নয়, বরং এটি মানুষের জানার অধিকারের ওপর আঘাত।সাংবাদিকরা মনে করেন, একটি স্বাধীন দেশের শক্তিশালী স্তম্ভ হলো গণমাধ্যম। আর এই গণমাধ্যমকে যদি ভয়ভীতিহীনভাবে কাজ করতে না দেওয়া হয়, তবে সমাজের সব স্তরে অনিয়ম ও দুর্নীতি জেঁকে বসবে। তাই কেবল মৌখিক আশ্বাস নয়, বরং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা রক্ষায় রাষ্ট্রকে এখন কার্যকর ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে হবে।উপসংহারে বলা যায়, সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত একটি সুস্থ ও স্বচ্ছ সমাজ গড়া সম্ভব নয়। আশা করা যাচ্ছে, সাংবাদিক সংগঠনগুলোর এই সম্মিলিত কণ্ঠস্বর ও দাবিগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আসবে এবং সাংবাদিকদের কাজের জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ তৈরি হবে। মুক্ত সাংবাদিকতা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল ভূমিকা এখন সময়ের দাবি।

নির্যাতন বন্ধে নতুন কমিটি: সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়াতে আসছে কেন্দ্রীয় পরিষদ

ঢাকায় নতুন করে গঠিত হতে যাচ্ছে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল। এরই অংশ হিসেবে সংগঠনটির সভাপতি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন আহমেদ আবু জাফর এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আলী আজগর ইমন। শনিবার (২৫ এপ্রিল ২০২৬) এক ভার্চুয়াল সভা শেষে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।দুপুর ২টার দিকে অনুষ্ঠিত এই অনলাইন সভায় দেশের বিভিন্ন জেলা ও অঞ্চলের সাংবাদিকরা যুক্ত হন। সভা শেষে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা সাংবাদিক নির্যাতন বন্ধের লক্ষ্যেই এই নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়েছে। উপস্থিত সদস্যরা আশা প্রকাশ করেন, নতুন কমিটি দেশের সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষায় আরও শক্তভাবে কাজ করবে।সভাপতি হিসেবে মনোনীত আহমেদ আবু জাফর একজন অনলাইন বাংলা পোর্টালের সম্পাদক। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক আলী আজগর ইমন একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন। মাঠ পর্যায়ে সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা থাকায় তারা দুজনই এই সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও এগিয়ে নিতে পারবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খুব শিগগিরই ১৫১ সদস্যের একটি পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হবে। এই কমিটিতে শুধু সাংবাদিক নয়, সমাজের বিভিন্ন পেশার মানুষকে যুক্ত করা হবে। আইনজীবী, চিকিৎসক, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, ব্যবসায়ী, নারী নেত্রী, ছাত্র প্রতিনিধি, শ্রমিক নেতা এবং মানবাধিকারকর্মীরাও এতে থাকবেন। এর মাধ্যমে একটি শক্তিশালী ও বহুমুখী প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি মূলত বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের একটি সহযোগী সংগঠন হিসেবে কাজ করবে। তাদের লক্ষ্য হচ্ছে মাঠ পর্যায়ে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, হয়রানি বা হামলার ঘটনায় দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানো এবং প্রয়োজন হলে আইনি সহায়তা দেওয়া। দেশের বিভিন্ন স্থানে ইতোমধ্যে তাদের কয়েকটি শাখা কমিটি গঠিত হয়েছে, যা স্থানীয় পর্যায়ে কাজ করছে।উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ২০২০ সালে করোনা মহামারির সময় দেশে সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা বাড়তে শুরু করে। বিভিন্ন জায়গায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকরা হামলা, হুমকি ও মামলার শিকার হন। সেই প্রেক্ষাপটে এই সংগঠনের যাত্রা শুরু হয়। এরপর ধীরে ধীরে এটি একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করে, যেখানে দেশের বিভিন্ন জেলার সাংবাদিকরা একত্রিত হন।বাংলাদেশে অতীতেও সাংবাদিক নির্যাতনের নানা ঘটনা আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে স্থানীয় পর্যায়ে দুর্নীতি বা অনিয়ম নিয়ে কাজ করা সাংবাদিকরা অনেক সময় ঝুঁকির মধ্যে থাকেন। তাই এমন একটি সংগঠন গড়ে ওঠা অনেকের কাছে সময়োপযোগী উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাংবাদিকদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত না হলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতাও বাধাগ্রস্ত হয়।সংগঠনটির নেতারা জানিয়েছেন, তারা শুধু সমস্যার কথা বলেই থেমে থাকতে চান না, বরং বাস্তব পদক্ষেপ নিতে চান। এর মধ্যে রয়েছে সচেতনতা তৈরি, প্রশিক্ষণ আয়োজন এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধান বের করা। সব মিলিয়ে বলা যায়, নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি একটি বড় পরিসরে কাজ শুরু করতে যাচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, তাদের ঘোষিত পরিকল্পনা কতটা বাস্তবায়ন হয় এবং দেশের সাংবাদিকরা কতটা উপকৃত হন। তবে শুরুটা আশাব্যঞ্জক বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ধ্বংসস্তূপ থেকে শিক্ষা: রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির পর কী বদলেছে, কী এখনো বাকি

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল, সকাল সাড়ে ৮টার কিছু পর। ঢাকার পাশে সাভারের একটি ব্যস্ত এলাকায় হঠাৎ করেই ধসে পড়ে একটি বহুতল ভবন। মুহূর্তেই বদলে যায় হাজারো মানুষের জীবন। Rana Plaza collapse আজও বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে মর্মান্তিক শিল্প দুর্ঘটনাগুলোর একটি হিসেবে স্মরণ করা হয়।সাভার বাসস্ট্যান্ডের কাছে অবস্থিত নয়তলা রানা প্লাজা ভবনটি ছিল মূলত বাণিজ্যিক ব্যবহারযোগ্য একটি স্থাপনা। সেখানে পাঁচটি পোশাক কারখানা, একটি শপিং মল এবং একটি ব্যাংকের শাখা চালু ছিল। ধসের সময় ভবনের ভেতরে প্রায় পাঁচ হাজার শ্রমিক কাজ করছিলেন। ভবনটি ভেঙে পড়ার পর কয়েকদিন ধরে চলে উদ্ধার অভিযান। ধ্বংসস্তূপ থেকে ১,১৩৬টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়, আর জীবিত উদ্ধার করা হয় ২,৪৩৮ জনকে। এদের মধ্যে প্রায় দুই হাজার মানুষ গুরুতর আহত বা স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়ে যান।নিহতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন তথ্য এলেও সাম্প্রতিক সরকারি হিসাব অনুযায়ী মৃতের সংখ্যা ১,১৩৫ থেকে ১,১৩৮ জনের মধ্যে। এই ঘটনা শুধু বাংলাদেশের নয়, পুরো বিশ্বের ইতিহাসে অন্যতম বড় শিল্প দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচিত।তদন্তে উঠে আসে ভয়ংকর সব অনিয়মের চিত্র। ভবনটির অনুমোদন ছিল পাঁচ থেকে ছয় তলা পর্যন্ত, কিন্তু মালিক সোহেল রানা বেআইনিভাবে আরও কয়েকটি তলা নির্মাণ করেন। নির্মাণে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হয়। এছাড়া ভবনটি তৈরি করা হয়েছিল একটি ভরাট করা জলাভূমির ওপর, যা বহুতল ভবনের জন্য মোটেই উপযুক্ত ছিল না।ধসের আগের দিন, অর্থাৎ ২৩ এপ্রিল ভবনের বিভিন্ন জায়গায় ফাটল দেখা দেয়। একজন প্রকৌশলী ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেন। তবুও কারখানার মালিক ও কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের কাজে যোগ দিতে বাধ্য করে। পরদিন সকালে জেনারেটর চালু করার পরপরই ভবনটি ধসে পড়ে। অনেকের মতে, এটি নিছক দুর্ঘটনা নয়, বরং অবহেলা আর লোভের ফল।ঘটনার পর দায়ীদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। সবচেয়ে গুরুতর মামলা ছিল হত্যার অভিযোগে, যেখানে ভবন মালিকসহ মোট ৪১ জনকে আসামি করা হয়। তবে এক যুগ পেরিয়ে গেলেও বিচার প্রক্রিয়া এখনো ধীরগতিতে চলছে। শত শত সাক্ষীর মধ্যে অল্প কয়েকজনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে। অনেক আসামি এখনো জামিনে বা পলাতক রয়েছেন।ক্ষতিপূরণের বিষয়টিও ছিল জটিল। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার উদ্যোগে একটি তহবিল গঠন করা হয়, যার লক্ষ্য ছিল প্রায় ৩ কোটি ডলার সংগ্রহ করা। প্রায় ২৯টি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড এতে অংশ নেয়। প্রায় ৩,০০০ ভুক্তভোগীকে এই তহবিল থেকে সহায়তা দেওয়া হয়। তবে অনেকের অভিযোগ, ক্ষতিপূরণ যথেষ্ট ছিল না এবং প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব ছিল।এই ট্র্যাজেডির পর আন্তর্জাতিক চাপের মুখে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে বড় ধরনের পরিবর্তন শুরু হয়। ‘অ্যাকর্ড’ এবং ‘অ্যালায়েন্স’ নামে দুটি সংস্থা তৈরি হয়, যারা কারখানার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করে। তারা প্রায় ২,০০০ কারখানা পরিদর্শন করে ঝুঁকি চিহ্নিত করে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৮১ শতাংশ ঝুঁকি কমানোর কাজ শেষ হয়েছে এবং লাখ লাখ শ্রমিককে নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।পটভূমি হিসেবে জানা যায়, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম বড় তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ। এই খাতে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক কাজ করেন, যাদের বড় অংশই নারী। রানা প্লাজার আগে তাজরীন ফ্যাশনসের আগুনসহ আরও কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটেছিল, যা নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে সামনে এনে দেয়।তবে অগ্রগতি সত্ত্বেও এখনো অনেক কারখানায় নিরাপত্তা ঘাটতি রয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত তদারকি ও কঠোর আইন প্রয়োগ ছাড়া এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।সব মিলিয়ে, রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, এটি একটি বড় শিক্ষা। এটি দেখিয়েছে, অবহেলা ও অনিয়মের মূল্য কত ভয়াবহ হতে পারে। এক যুগ পরও নিহতদের পরিবার ন্যায়বিচার ও পূর্ণ ক্ষতিপূরণের অপেক্ষায়। এই ঘটনার স্মৃতি আমাদের মনে করিয়ে দেয়—শ্রমিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু দায়িত্ব নয়, এটি একটি নৈতিক বাধ্যবাধকতা।

নোয়াব বৈঠকের সাধারণ মধ্যাহ্নভোজ ঘিরে আলোচনা: ব্যয় সংকোচন নীতি নিয়ে নতুন রাজনৈতিক বার্তা?

প্রধানমন্ত্রী ও সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নোয়াবের বৈঠকের একটি সাধারণ মধ্যাহ্নভোজ এখন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। খাবারের তালিকা থেকে শুরু করে সরকারের ব্যয়নীতির দিক—সবকিছু নিয়েই বিভিন্ন মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।বৈঠক ঘিরে নতুন আলোচনার জন্মসম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে Newspaper Owners Association of Bangladesh–এর সদস্যরা এবং সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সাধারণত এই ধরনের বৈঠককে রাষ্ট্র, গণমাধ্যম ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখা হয়।বৈঠক শেষে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ছড়িয়ে পড়ে।মধ্যাহ্নভোজে কী ছিল?প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ওই বৈঠকের খাবারের তালিকা ছিল বেশ সাধারণ। সেখানে পরিবেশন করা হয়—সাদা ভাত, সবজি, লাউ-চিংড়ি, ডিমের তরকারি এবং শেষে দই।রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সাধারণত যেসব আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজন প্রত্যাশা করা হয়, তার তুলনায় এই আয়োজন ছিল ব্যতিক্রমীভাবে সাদামাটা।ব্যয় সংকোচনের নতুন নীতিসরকারি সূত্রের দাবি, বর্তমান প্রশাসনের অধীনে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে আগের তুলনায় ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে। আগে যেখানে জনপ্রতি খাবারের ব্যয় প্রায় ৮০০ টাকা ছিল, তা এখন কমিয়ে প্রায় ১৫০ টাকার মধ্যে আনা হয়েছে।এই পরিবর্তনকে শুধু অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত হিসেবে নয়, বরং একটি নীতিগত বার্তা হিসেবেও দেখা হচ্ছে—যেখানে রাষ্ট্রীয় ব্যয়ে সংযমকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।প্রধানমন্ত্রী ও ব্যয় ব্যবস্থাপনা নিয়ে মন্তব্যবৈঠকে এক পর্যায়ে কিছু সম্পাদক মন্ত্রীদের অসন্তোষের প্রসঙ্গ তুললে প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন, তিনি নিজেও কিছু সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।এই বক্তব্যকে অনেকেই রাষ্ট্রীয় ব্যয় ব্যবস্থাপনায় ব্যক্তিগত উদাহরণ হিসেবে দেখছেন, যেখানে সিদ্ধান্তগুলো সবার ওপর সমানভাবে প্রযোজ্য।সরকারি নীতিতে ধারাবাহিক পরিবর্তনসাম্প্রতিক সময়ে সরকার বেশ কয়েকটি ব্যয়সংকোচনমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানা যায়। এর মধ্যে রয়েছে— সরকারি প্লট বরাদ্দে কঠোরতা শুল্কমুক্ত গাড়ির সুবিধা সীমিতকরণ ভিভিআইপি প্রটোকল হ্রাস জ্বালানি খাতে ব্যয় কমানোর উদ্যোগ এই পদক্ষেপগুলোকে প্রশাসনিক দক্ষতা ও স্বচ্ছতা বাড়ানোর প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিশ্লেষণবিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রীয় ব্যয় কাঠামোতে পরিবর্তন আনতে পারে। তবে তারা বলছেন, শুধুমাত্র ঘোষণা নয়, বাস্তবায়নই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “ব্যয় সংকোচন যদি ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়ন হয়, তাহলে এটি প্রশাসনিক সংস্কৃতিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।”ইতিহাস ও প্রেক্ষাপটবাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বের সাদাসিধে জীবনযাপন বহুবার আলোচনায় এসেছে। স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সময় রাষ্ট্রপ্রধানদের সংযমী জীবনধারা জনগণের কাছে ভিন্ন বার্তা দিয়েছে।এই প্রেক্ষাপটে বর্তমান ব্যয় সংকোচনের নীতিকে কেউ কেউ সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখছেন।বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জবিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ব্যয় সংকোচনের নীতি টেকসই করতে হলে এটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। না হলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর প্রভাব দুর্বল হয়ে যেতে পারে।একজন অর্থনীতিবিদ বলেন, “সংযমী নীতি ভালো, কিন্তু সেটি যদি নিয়ম ও কাঠামোর মাধ্যমে নিশ্চিত না করা হয়, তাহলে তা দীর্ঘস্থায়ী হয় না।”গণমাধ্যমে আলোচনানোয়াব বৈঠকের সাধারণ মধ্যাহ্নভোজ এখন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। অনেকেই এটিকে রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের নতুন দর্শনের প্রতীক হিসেবে দেখছেন।অন্যদিকে কেউ কেউ মনে করছেন, এটি নিছক একটি সাধারণ আয়োজন হলেও এর রাজনৈতিক ব্যাখ্যা অতিরঞ্জিত হচ্ছে।উপসংহারসব মিলিয়ে, নোয়াব বৈঠকের একটি সাধারণ মধ্যাহ্নভোজ এখন শুধু খাবারের বিষয় নয়—এটি রাষ্ট্রীয় ব্যয়নীতি, প্রশাসনিক সংস্কার এবং রাজনৈতিক বার্তার প্রতীকী আলোচনায় পরিণত হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, এই সংযমী ব্যয়নীতি কতটা বাস্তবে টিকে থাকে এবং এটি রাষ্ট্র পরিচালনার কাঠামোয় কী ধরনের পরিবর্তন আনে।

অনলাইন জরিপ অনলাইন জরিপ

২২ ডিসেম্বর ২০২৫, ০১:৪৪ পিএম
পদত্যাগপত্র-জমা-দিয়েছেন-কোচ-সালাউদ্দিন।-তার-এই-সিদ্ধান্ত-সমর্থন-করেন-কি।

পদত্যাগপত্র-জমা-দিয়েছেন-কোচ-সালাউদ্দিন।-তার-এই-সিদ্ধান্ত-সমর্থন-করেন-কি।

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ৩ জন
১

প্রেস রিলিজ নর্দার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে NUB Film and Photography Club-এর উদ্যোগে ফটোগ্রাফি ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত

২

খিলক্ষেত নিকুঞ্জ জনগণের স্বার্থে চাঁদাবাজি মাদকমুক্ত সমাজ গড়বো: আলহাজ্ব ফজলুল হক

৩

ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সহ-সভাপতি নির্বাচিত মঈন সরকার, এমপি জাহাঙ্গীরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়

৪

বনানীতে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজির অভিযোগ, কঠোর অবস্থানে ওয়ার্ড আহ্বায়ক কবির হোসেন

৫

ময়মনসিংহে জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ হামলার অভিযোগ, নারীসহ একাধিক আহত, লুটপাটের দাবি

৬

ঈদের নাটক ‘ওয়ারিশ’ নিয়ে চমক, পরিবার ও সম্পর্কের টানাপড়েনের গল্পে তারিক আনাম-তৌসিফ

৭

খালি পেটে মিষ্টি নয়—রক্তে শর্করা বাড়ার ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্কতা

৮

বনানী যুবদল নেতা লিটনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ লিটনের খপ্পরে নিঃস্ব বিধবা নারী রেশমি :থানায় অভিযোগ

৯

আশকোনায় হাজি স্কুলের পাশে শক্তিশালী বোমা উদ্ধার, বড় নাশকতা থেকে রক্ষা পেলো বিমানবন্দর এলাকা

১০

শারীরিক অসুস্থতায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ, ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ

জনপ্রিয় সব খবর
১

‎খুলনা বিভাগে ১০ জেলায় ভোক্তার অভিযান, জরিমানা প্রায় ২ লাখ টাকা

২

মুন্সীগঞ্জে গোপন ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩

৩

টঙ্গীতে শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ, ঘটনার পরদিন মিষ্টি নিয়ে বাড়িতে যান অভিযুক্ত শিক্ষক

৪

নরসিংদীতে বাসে তল্লাশি, ১৪০ রাউন্ড গুলিসহ নারী আটক

৫

ইউরোপে পোশাক রপ্তানিতে পিছিয়ে বাংলাদেশ, আট মাসে আয় কমেছে ১১.৬৭%

৬

মোহাম্মদপুরে নারী ও কিশোরসহ ১৩ ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার, অস্ত্র উদ্ধার

৭

টঙ্গীতে যৌথ অভিযানে ধরা পড়লো ৩ চিহ্নিত অপরাধী, অস্ত্র উদ্ধার

৮

মেটাকে ২৫ বিলিয়ন ডলার জরিমানা, ফেসবুকের তথ্য সুরক্ষা নিয়ে বড় রায়

৯

খাদ্য ব্যবসায় নিবন্ধন বাধ্যতামূলক, তালিকায় পিঠা-পুরির দোকানও

১০

বনানীর ‘প্ল্যান বি’ বারে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযান

সর্বশেষ সব খবর

সারাদেশ

‎খুলনা বিভাগে ১০ জেলায় ভোক্তার অভিযান, জরিমানা প্রায় ২ লাখ টাকা

‎খুলনা বিভাগে ১০ জেলায় ভোক্তার অভিযান, জরিমানা প্রায় ২ লাখ টাকা

‎বাণিজ্য মন্ত্রণালয়াধীন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় ও খুলনা বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন জেলা কার্যালয় কতৃক ২৬ অক্টোবর সোমবার ভোক্তা অধিকারের ৯ টি টিম তদারকিমূলক অভিযান পরিচালনা করে। এসময়ে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রী, চাল, ভোজ্য তেল, গ্যাস, ঔষধ, ডায়াগনস্টিক, আলু, দেশি পেয়াজ, সবজি, মুরগির বাজার ও ডিমের বাজার দর ও ক্রয় ভাউচার যাচাই করা হয় এবং সকল ব্যবসায়ীকে সরকার নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রির নির্দেশনা দেয়া হয়। ‎‎তদারকিকালে সরকার নির্ধারিত মূল্যে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রির জন্য ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয় এবং কেউ সরকার নির্ধারিত মূল্যের থেকে বেশি মূল্য নিলে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের হুশিয়ারি দেওয়া হয়। অভিযান কালে খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলায় বাজার তদারকি ও জরিমানা করা হয়।‎‎খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক জনাব মোহাম্মদ সেলিম এর  নেতৃত্বে খুলনা মহানগরীর  সদর থানার নিরালা এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধ প্রক্রিয়ায় খাদ্য দ্রব্য উৎপাদন করার অপরাধে রূপকথা রেস্টুরেন্ট কে ৩ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়।  এসময় ১ টি প্রতিষ্ঠান-কে মোট ৩ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়।‎‎খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক জনাব দিনারা জামান এর নেতৃত্বে খুলনা মহানগরীর সদর থানার নিরালা এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিরালা সুইটস কে অবৈধ প্রক্রিয়ায় খাদ্য দ্রব্য উৎপাদন করার অপরাধে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময় মোট ১ টি প্রতিষ্ঠান-কে ৫ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়।‎‎মাগুরা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক জনাব মোঃ সজল আহম্মেদ এর নেতৃত্বে সদর উপজেলার পরানান্দুয়ালী বাজার এলাকায়  অভিযান চালিয়ে মেসার্স সুরুচি আইসক্রিম কে পণ্যের মোড়ক যথাযথ ব্যবহার না করার অপরাধে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময় মোট ০১  টি প্রতিষ্ঠান-কে ১৫ হাজার টাকা  জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয় ।   ‎‎বাগেরহাট জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক(অ.দা.) জনাব ওয়ালিদ বিন হাবিব এর নেতৃত্বে খুলনা জেলার সদর ও কচুয়া থানার ফতেহপুর ও সাইনবোর্ড বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে রুনা ঢাকা বেকারি কে পণ্যের মোড়ক যথাযথ ব্যবহার না করার অপরাধে ৫ হাজার টাকা এবং অবৈধ প্রক্রিয়ায় খাদ্য দ্রব্য উৎপাদন করার অপরাধে বন্ধুমহল রেস্টুরেন্ট ও সুইটস কে ৫ হাজার টাকা এবং সাতক্ষীরা ঘোষ ডেয়ারি কে ৫ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়। এ সময় মোট ০৩ টি প্রতিষ্ঠান-কে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়।‎‎সাতক্ষীরা জেলা কার্যালয়ে সহকারী পরিচালক জনাব মোঃ মেহেদী হাসান তানভীরএর নেতৃত্বে আশাশুনি  উপজেলার বুধহাটা বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে শ্রীদুর্গা অয়েল মিল কে মুল্য তালিকা প্রদর্শন না করার অপরাধে ২ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়।  এ সময় মোট ০১ টি প্রতিষ্ঠান-কে ২ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়। ‎‎যশোর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক জনাব মোঃ সেলিমুজ্জামানের নেতৃত্বে সদর  উপজেলার রুপদিয়া ও বিসিক বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুষ্পিতা ফার্মেসি কে পণ্যের মোড়ক যথাযথ ব্যবহার না করার অপরাধে ১  হাজার টাকা এবং আলভি ফুড প্রোডাক্ট কে খাদ্য দ্রব্যে নিষিদ্ধ পণ্যের মিশ্রণ করার অপরাধে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়।  এসময় ০১ টি প্রতিষ্ঠানকে ১ লক্ষ টাকা জমিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়। ‎‎চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক জনাব মোহাম্মদ মামুনুল হাসান এর নেতৃত্বে সদর উপজেলার সদর বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঢাকা বিরিয়ানি হাউজ কে অবৈধ প্রক্রিয়ায় পণ্য উৎপাদন করার অপরাধে ২০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়।  এসময়  ০১ টি প্রতিষ্ঠানকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়।‎‎নড়াইল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক জনাব শামীম হাসান এর নেতৃত্বে সদর   উপজেলার টার্মিনাল বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মেসার্স মাহমুদা ফুড কে খাদ্য দ্রব্যে নিষিদ্ধ পণ্যের মিশ্রণ ও ওজনে কারচুপি করার অপরাধে ২ হাজার টাকা, মেসার্স পদ্মা বেকারী এন্ড কনফেকশনারি কে ওজনে কারচুপি করার অপরাধে ১০ হাজার টাকা এবং মেসার্স আল-আমীন বেকারি কে ওজনে কারচুপি করার অপরাধে ২ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়।  এ সময় মোট ০৩ টি প্রতিষ্ঠান-কে ১৪ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়। ‎‎ঝিনাইদহ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক জনাব নিশাত মেহের এর নেতৃত্বে সদর উপজেলার গোপিনাথপুর বাজার এলাকায়  অভিযান চালিয়ে  আলিফ ফুড প্রোডাক্ট কে অবৈধ প্রক্রিয়ায় খাদ্য উৎপাদন করার অপরাধে ৫ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়।  এসময় মোট ০১ টি প্রতিষ্ঠান-কে ৫  হাজার টাকা  জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয় ।‎‎অভিযানে ১৪ টি প্রতিষ্ঠানকে ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয় । ‎‎অভিযান চলাকালে ব্যবসায়ীদেরকে সচেতন করার পাশাপাশি বাধ্যতামূলকভাবে মূল্য তালিকা দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন ও ক্রয়-বিক্রয় ভাউচার সংরক্ষণ এবং নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রি করার নির্দেশনা দেয়া হয়। ‎‎জনস্বার্থে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

মুন্সীগঞ্জে গোপন ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩

মুন্সীগঞ্জে গোপন ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩

মুন্সীগঞ্জে গোপনে এক নারীর ভিডিও ধারণ করে তা ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা ও স্বর্ণালংকার দাবির অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় ভিডিও ধারণে ব্যবহৃত একটি মুঠোফোন জব্দ করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. ফাহিম মোল্লা (২১), মো. রবিন মোল্লা ও মো. জিসান দেওয়ান (২০)। তাঁদের সবার বাড়ি মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার কাটাখালী এলাকায়।সোমবার (২৬ অক্টোবর) মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশের গণমাধ্যম শাখা থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।যেভাবে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগপুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৫ অক্টোবর দুপুরে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার রনছ হাওলাদারপাড়া এলাকায় এক নারী পোশাক পরিবর্তনের সময় তাঁর অজ্ঞাতে কৌশলে একটি ব্যক্তিগত ভিডিও ধারণ করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।পরে ‘Lamiya Khan’ নামের একটি ভুয়া ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে ওই নারীর সঙ্গে মেসেঞ্জারে যোগাযোগ করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। একপর্যায়ে ধারণ করা ভিডিও তাঁকে পাঠিয়ে তা ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয় এবং নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার দাবি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযানঘটনাটি জানার পর মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলমের নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. কামরান হোসেনের তত্ত্বাবধানে তদন্ত শুরু করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসতিয়াক আশফাক রাসেলের নেতৃত্বে একটি দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালায়। গত ২৫ অক্টোবর রাত সাড়ে ১০টার দিকে মুন্সীগঞ্জ সদর থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।মুঠোফোন জব্দ, তদন্ত চলছেপুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। ভিডিও ধারণে ব্যবহৃত একটি মুঠোফোন উদ্ধার করে জব্দ করা হয়েছে।জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ইয়াকুব হোসেন জানান, অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছেন কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা জরুরিকোনো ব্যক্তির অজ্ঞাতে তাঁর ব্যক্তিগত ভিডিও ধারণ, তা ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো কিংবা ভিডিও ব্যবহার করে অর্থ বা সম্পদ দাবি করার অভিযোগ গুরুতর। এ ধরনের ঘটনায় ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি শেয়ার করা, সংরক্ষণ করে ছড়িয়ে দেওয়া বা ভুক্তভোগীকে শনাক্ত করার চেষ্টা থেকে বিরত থাকা উচিত।সর্বশেষ অবস্থা: পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং একটি মুঠোফোন জব্দ করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগের চূড়ান্ত বিচারিক নিষ্পত্তি আদালতের মাধ্যমে হবে।

টঙ্গীতে শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ, ঘটনার পরদিন মিষ্টি নিয়ে বাড়িতে যান অভিযুক্ত শিক্ষক

টঙ্গীতে শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ, ঘটনার পরদিন মিষ্টি নিয়ে বাড়িতে যান অভিযুক্ত শিক্ষক

গাজীপুরের টঙ্গীতে সাত বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের পরদিন শিশুটির পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে মিষ্টি নিয়ে তাদের বাসায় গিয়েছিলেন অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষক মোসলেম আহম্মদ (৩০)। তবে পরিবারের কারও সঙ্গে দেখা না হওয়ায় প্রায় ১০ মিনিটের মধ্যে তিনি সেখান থেকে চলে যান। এদিকে, মামলা তুলে নিতে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও সরিয়ে ফেলতে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন শিশুটির বাবা।সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে শিশুটির পরিবারের বসবাস করা ভবনের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ গণমাধ্যমের হাতে আসে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে অভিযুক্ত শিক্ষক কারাগারে রয়েছেন। মামলার তদন্ত চলছে।প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০ অক্টোবর দুপুর ১২টা ৩৮ মিনিটে লাল রঙের একটি ব্যাগ হাতে ভবনে প্রবেশ করেন মোসলেম আহম্মদ। নিচতলায় নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলার পর তিনি লিফটের দিকে যান। প্রায় এক মিনিট পর তাঁকে লিফটে উঠতে দেখা যায়। পরে তিনি নিচে নেমে ভবন থেকে বেরিয়ে যান। পুরো সময় তাঁর হাতে ব্যাগটি ছিল।অন্য একটি ফুটেজে ব্যাগের ভেতরে মিষ্টির প্যাকেট দেখা যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।শিশুটির পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিবারের কারও সঙ্গে দেখা করতে না পেরে ওই দিন দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে শিশুটির মায়ের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে বার্তা পাঠান অভিযুক্ত শিক্ষক। বার্তায় তিনি জানান, শিশুটির পরিবারের বাসার দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন এবং দেখা করতে এসেছেন।তবে ঘটনার পরদিন তিনি কেন পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন, সে বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।শিশুটির পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর থেকে তাঁরা বিভিন্নভাবে হুমকি ও চাপের মুখে রয়েছেন। পরিবারের সদস্যদের মোবাইল নম্বর ছড়িয়ে পড়ায় বিভিন্ন নম্বর থেকে যোগাযোগ করা হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন তাঁরা।শিশুটির বাবা অভিযোগ করেন, তাঁকে মামলা তুলে নিতে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও সরিয়ে ফেলতে বলা হচ্ছে। এতে পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।তিনি আরও স্পষ্ট করেন, তাঁর প্রতিবাদ কোনো ধর্মীয় গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নয়; বরং তাঁর সন্তানের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার পাওয়াই তাঁর লক্ষ্য।তবে হুমকির অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান।পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে শিশুটিকে নিপীড়নের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। তবে তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল ও আদালতের সিদ্ধান্তের আগে মামলার সব বিষয় নিষ্পত্তি হয়েছে বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।এ ঘটনায় করা মামলায় ২১ অক্টোবর অভিযুক্ত শিক্ষক মোসলেম আহম্মদকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার তাঁর জামিন শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল এবং আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।গত ১৯ অক্টোবর টঙ্গীর একটি মাদ্রাসায় সাত বছর বয়সী শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে শিক্ষক মোসলেম আহম্মদের বিরুদ্ধে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ করা হয়।ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে শিশুটির বাবা ও স্থানীয় কয়েকজন অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে।এ ঘটনায় শিশুটির নিরাপত্তা, পরিবারের প্রতি হুমকির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী বিচারপ্রক্রিয়া নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুটির পরিচয়, ছবি বা ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ থেকে বিরত থাকা উচিত। শিশুর মর্যাদা ও গোপনীয়তা রক্ষা করা সবার দায়িত্ব।সর্বশেষ অবস্থা: সরবরাহ করা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত শিক্ষক কারাগারে রয়েছেন এবং তদন্ত চলছে। পরিবারের হুমকির অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ লিখিত অভিযোগ পাওয়ার কথা অস্বীকার করেছে। তদন্তের অগ্রগতি ও সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য পাওয়া গেলে ঘটনার আরও বিস্তারিত জানা যাবে।

নরসিংদীতে বাসে তল্লাশি, ১৪০ রাউন্ড গুলিসহ নারী আটক

নরসিংদীতে বাসে তল্লাশি, ১৪০ রাউন্ড গুলিসহ নারী আটক

নরসিংদীর রায়পুরায় যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালিয়ে ১৪০ রাউন্ড গুলিসহ স্বপ্ন আক্তার (৪২) নামে এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি এলাকায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে এসব গুলি বহন করা হচ্ছিল। গুলির উৎস ও ঘটনায় অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করছে পুলিশ।সোমবার (২৬ অক্টোবর) ভোররাত ৪টা ২০ মিনিটের দিকে উপজেলার মাহমুদাবাদ এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে।আটক স্বপ্ন আক্তার ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বাদুঘর এলাকার মৃত আব্দুস সামাদের স্ত্রী।রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুজিবুর রহমান জানান, সিলেট থেকে ঢাকাগামী এনা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালায় পুলিশ। এ সময় বাসের যাত্রী স্বপ্ন আক্তারের কাছে ১৪০ রাউন্ড গুলি পাওয়া যায়। পরে তাঁকে আটক করা হয়।ওসি মো. মুজিবুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাদুঘর এলাকায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে ব্যবহারের জন্য গুলিগুলো বহন করা হচ্ছিল বলে ওই নারী পুলিশকে জানিয়েছেন।তবে গুলিগুলো কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং সংঘর্ষের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষের হয়ে সেগুলো বহন করা হচ্ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।পুলিশ জানিয়েছে, আটক নারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। গুলির উৎস শনাক্ত করার পাশাপাশি এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।তদন্তে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।উদ্ধার হওয়া গুলির উৎস, সেগুলো কীভাবে পরিবহন করা হচ্ছিল এবং এ ঘটনায় অন্য কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না—এসব বিষয় তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ।এ মুহূর্তে পুলিশের দেওয়া তথ্যের বাইরে গুলির উৎস বা অন্য কারও সম্পৃক্ততা নিশ্চিত নয়। তদন্তের ফলাফল ও মামলার অগ্রগতির ভিত্তিতে ঘটনার বিস্তারিত জানা যাবে।

আন্তর্জাতিক

মেটাকে ২৫ বিলিয়ন ডলার জরিমানা, ফেসবুকের তথ্য সুরক্ষা নিয়ে বড় রায়

মেটাকে ২৫ বিলিয়ন ডলার জরিমানা, ফেসবুকের তথ্য সুরক্ষা নিয়ে বড় রায়

ফেসবুক ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা ও ব্যবহার নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার অভিযোগে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটাকে ২৫ বিলিয়ন ডলার জরিমানা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকোর একটি আদালত। ২০১০ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত টানা ১১ বছর ধরে ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্ত করার অভিযোগে এ রায় দেওয়া হয়েছে বলে বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, বিচারক ফ্রান্সিস ম্যাথিউ এ জরিমানার রায় দেন। তবে মেটার পক্ষ থেকে রায়টির বিরুদ্ধে আপিল করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।আদালতের শুনানিতে ২০১০ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত মেটা এবং প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা ও ব্যবহারের বিষয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার অভিযোগ উঠে আসে।অভিযোগ অনুযায়ী, তৃতীয় পক্ষের কাছে ব্যবহারকারীদের তথ্য অনুমতি ছাড়া দেওয়া হয় না—এমন দাবি করা হলেও বাস্তবে তথ্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে নানা অনিয়ম ছিল। এ প্রসঙ্গে কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা কেলেঙ্কারির বিষয়টিও আলোচনায় আসে।নিউ মেক্সিকোর অ্যাটর্নি জেনারেল রাউল তোরেস বলেন, কোনো শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিউ মেক্সিকোর প্রায় দুই মিলিয়ন মানুষ মেটার বিভ্রান্তিকর তথ্যের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। আদালত রাজ্য আইন ৪০ মিলিয়নেরও বেশি বার লঙ্ঘনের প্রমাণ পেয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, প্রতিটি লঙ্ঘনের জন্য জরিমানা বিবেচনায় মোট অঙ্ক দাঁড়ায় ২১৯ বিলিয়ন ডলার। তবে বিচারক সেই অঙ্ক কমিয়ে ২৫ বিলিয়ন ডলার নির্ধারণ করেন।প্রতিবেদনে জরিমানাটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জরিমানার রায় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ অঙ্ক মেটার এক প্রান্তিকের আয়ের কাছাকাছি বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।মেটার প্রধান আইনজীবী সিজে মাহোনি এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছেন। ফলে মামলাটির পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় জরিমানার অঙ্ক ও রায়ের পরিণতি নিয়ে আরও পরিবর্তন আসতে পারে।তবে আপিলের ঘোষণা থাকলেও আদালতের রায়টি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য সুরক্ষা, ব্যবহারকারীদের সঙ্গে স্বচ্ছতা এবং ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহারের নীতিমালা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিতে পারে।এদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে গুগলের সঙ্গে প্রতিযোগিতা জোরদার করতে মেটা চলতি বছর বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করছে।প্রতিষ্ঠানটির প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা সুসান লির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এআই প্রকল্পে মেটার ব্যয় ১৩৫ থেকে ১৪৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই বিপুল বিনিয়োগের কারণে প্রতিষ্ঠানটি প্রথমবারের মতো নেতিবাচক নগদ প্রবাহের মুখোমুখি হয়েছে।এ অবস্থায় ২৫ বিলিয়ন ডলারের জরিমানার রায় মেটার আর্থিক পরিকল্পনা ও আইনি কৌশলের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। তবে আপিলের ফলাফল এবং জরিমানা কার্যকরের বিষয়টি পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা এখন প্রযুক্তি খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আইনি ও নৈতিক প্রশ্ন। ব্যবহারকারীরা কী তথ্য দিচ্ছেন, সেই তথ্য কীভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং তৃতীয় পক্ষের সঙ্গে তা ভাগ করা হচ্ছে কি না—এসব বিষয়ে স্বচ্ছতা না থাকলে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ওপর আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।তবে এ মামলার চূড়ান্ত প্রভাব মূল্যায়নের ক্ষেত্রে আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায়, জরিমানার আইনি ভিত্তি এবং মেটার আপিলের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ হবে। পাশাপাশি, এআই খাতে বড় বিনিয়োগের পাশাপাশি ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা রক্ষা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সমান গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে।

২২ অক্টোবর ২০২৬

আইন-বিচার

বারিধারায় গাড়িচাপায় শ্রমিক নিহত, ৯ লাখ টাকায় পরিবারের সঙ্গে আপস

বারিধারায় গাড়িচাপায় শ্রমিক নিহত, ৯ লাখ টাকায় পরিবারের সঙ্গে আপস

রাজধানীর বারিধারায় ফুটপাতে বসে থাকা নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান মীমকে (২৪) গাড়িচাপা দিয়ে হত্যার ঘটনায় নিহতের পরিবারের সঙ্গে আসামিপক্ষের ৯ লাখ টাকায় আপস হয়েছে। আদালতে দাখিল করা আপসনামায় নিহতের পরিবার আসামির জামিন বা খালাসের বিষয়ে কোনো আপত্তি নেই বলে জানিয়েছে।বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮-এর বিচারক মো. আব্দুল মোক্তাদিরের আদালতে আসামিদের হাজির করা হলে আসামিপক্ষের আইনজীবী আলমগীর হোসেন আপসের বিষয়টি আদালতকে জানান।আসামিপক্ষের আইনজীবী আলমগীর হোসেন আদালতকে জানান, দুই পক্ষের মধ্যে ৯ লাখ টাকায় সমঝোতা হয়েছে। এরই মধ্যে ওই টাকা নিহতের পরিবারের সদস্যদের দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।তার ভাষ্য অনুযায়ী, আপসনামায় সই করে নিহতের পরিবার আসামির জামিন বা খালাসের বিষয়ে কোনো আপত্তি না থাকার কথা জানিয়েছে।আইনজীবী আরও দাবি করেন, নিহত মেহেদী বাক্‌প্রতিবন্ধী ছিলেন এবং কানে শুনতে পেতেন না। নিহতের মা-বাবা বয়স্ক হওয়ায় তাদের দেখাশোনার বিষয়টিও সমঝোতার সময় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।আপসের ক্ষেত্রে নিহতের পরিবারকে কোনো ধরনের ভয়ভীতি বা চাপ দেওয়া হয়েছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে আইনজীবী বলেন, পরিবারকে কোনো চাপ দেওয়া হয়নি। তাদের পক্ষ থেকে ৯ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ নেই বলেও দাবি করেন তিনি।আলমগীর হোসেনের দাবি, পরিবারের পক্ষ থেকে ময়নাতদন্ত করাতেও আপত্তি ছিল এবং তারা মামলা করতে চাননি। দুর্ঘটনার কারণে পুলিশই মামলা করেছে বলে জানান তিনি।আপসনামাটি কোথায় করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান শান্তা মরিয়মের কার্যালয়ে দুই পক্ষের উপস্থিতিতে সমঝোতা হয়। সেখানে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি নিহতের মামা ও ভাই এবং আসামিপক্ষের লোকজন উপস্থিত ছিলেন বলে জানান তিনি।সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল—একটি জীবনের মূল্য ৯ লাখ টাকা হতে পারে কি না। জবাবে আইনজীবী বলেন, নিহত ব্যক্তি প্রতিবন্ধী ছিলেন এবং বাদীপক্ষই আপস করতে চেয়েছে। তাদের পক্ষ থেকে ১০ লাখ টাকা দাবি করা হলেও পরে ৯ লাখ টাকায় সমঝোতা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।গত মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনের ১ নম্বর সড়কের ফুটপাতে বসে থাকা মেহেদী হাসান মীমকে একটি প্রাইভেটকার চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।দুর্ঘটনার পর গাড়িতে থাকা কিশোর আজান আলী শরীফকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশের কাছে দেন। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হলেও সিসিটিভি ফুটেজ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে গাড়ির চালকের আসন থেকে তাকে বের হতে দেখা যাওয়ার পর বুধবার তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।এ ঘটনায় প্রথমে চালকের আসনে থাকা কিশোরের বদলে অন্য একজনকে আসামি করা হয়েছিল—এমন বিষয় নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।মামলায় গাড়িচালক হিসেবে আকাশ মারককে আসামি করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে।দুর্ঘটনায় ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটি আব্বাস আলী শরীফের পরিবারের বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।এই ঘটনায় কারা প্রকৃতপক্ষে গাড়ি চালাচ্ছিলেন, মামলায় আসামি হিসেবে কাকে কীভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং আদালতে আপসের আইনি প্রভাব কী হবে—এসব বিষয় পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় স্পষ্ট হওয়ার কথা। আপসনামা বা কোনো পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে কারও অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই; মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি আদালতের প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।

২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজনীতি

‘ক্ষমতার গরমের আঁচ পড়েছে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে’:উদ্বেগ শফিকুর রহমানের

‘ক্ষমতার গরমের আঁচ পড়েছে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে’:উদ্বেগ শফিকুর রহমানের

রাজধানীর মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির।শফিকুর রহমান তাঁর স্ট্যাটাসে বলেন, ‘এবার ক্ষমতার গরমের আঁচ পড়ল স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের ওপর।’তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মধ্যরাতে মুখোশ পরা দুই শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটিতে হামলা চালান। পরে সেখানে লুটপাট ও ভাঙচুর করা হয় এবং কেন্দ্রটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।ঘটনাস্থলে একটি ‘রহস্যজনক’ সাইনবোর্ড টানিয়ে দেওয়ার অভিযোগও করেন জামায়াত আমির।ঘটনার পেছনে কারা রয়েছে, তা খুঁজে বের করার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শফিকুর রহমান।তিনি বলেন, ঘটনাটির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।শফিকুর রহমানের বক্তব্য, সরকার একদিকে জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার করছে, অন্যদিকে একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রেই হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটছে।এ ঘটনায় জড়িতদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দেওয়ার দাবি জানান তিনি। হামলাকারীর সংখ্যা, হামলার ধরন ও ঘটনার পেছনে কারা জড়িত—এসব বিষয়ে প্রতিবেদনে শফিকুর রহমানের বক্তব্যই তুলে ধরা হয়েছে; এগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।

গাজী নজরুলের ৪ দিন, প্রথম স্ত্রী মাকছুদার ১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

গাজী নজরুলের ৪ দিন, প্রথম স্ত্রী মাকছুদার ১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনে মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের চার দিন এবং তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এহসানুল ইসলামের আদালত পুলিশের আবেদনের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।এর আগে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।পরে গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকছুদা ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়। এরপর ঘটনার বিষয়ে তদন্তের জন্য তাদের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করে পুলিশ।মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন।মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকছুদা ইসলাম ছাড়াও মরিয়মের মামা মো. ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে।মামলার অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এবং ঘটনার পেছনের কারণ আদালতের আদেশে বা তদন্তে কীভাবে উঠে আসে, সেটিই এখন পরবর্তী পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।রিমান্ডের মাধ্যমে পুলিশ সাধারণত মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘটনাপ্রবাহ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং ঘটনার আগে-পরে কী ঘটেছিল—এসব বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে। তবে আদালত রিমান্ড মঞ্জুর করায় কোনো আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন অর্থ নয়।এই ঘটনায় তদন্ত শেষে পুলিশ কী তথ্য পায় এবং পরবর্তী সময়ে আদালতে কী উপস্থাপন করে, তার ওপর মামলার পরবর্তী গতিপথ নির্ভর করবে।গাজী নজরুল ইসলামের ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছে।তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের ১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছে।ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।মরিয়মের বাবা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করেছেন।মামলায় গাজী নজরুল ও মাকছুদা ছাড়াও মো. ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে।মামলাটি তদন্তাধীন থাকায় আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে কোনো আসামিকে দোষী হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক নয়। বিশেষ করে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মতো মামলায় তদন্তের তথ্য, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং আদালতের পরবর্তী কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ।এ ঘটনায় রিমান্ডের মেয়াদ দুই আসামির ক্ষেত্রে আলাদা হওয়ায় তদন্তে প্রত্যেকের ভূমিকা আলাদাভাবে যাচাই করার বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে রিমান্ডের মেয়াদ বা আদালতের আদেশকে কারও অপরাধ প্রমাণের মাপকাঠি হিসেবে দেখা উচিত নয়।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

বাংলাদেশের রাজনীতিতে চীনের সঙ্গে সম্পর্কের গুরুত্বের মধ্যেই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে বিএনপি চেয়ারম্যানের গুলশান কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ক ও চলমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা হয়।সাক্ষাতের শুরুতে রুহুল কবির রিজভীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।দুই পক্ষের আলোচনায় বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্কের বিভিন্ন দিক উঠে আসে। বিশেষ করে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে মতবিনিময় হয়।সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন দুই দেশের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।বাংলাদেশের অবকাঠামো, বাণিজ্য ও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে চীনের সম্পৃক্ততা রয়েছে। ফলে রাজনৈতিক পর্যায়ের যোগাযোগের পাশাপাশি দুই দেশের উন্নয়ন সহযোগিতার বিষয়টিও এ ধরনের বৈঠকে গুরুত্ব বহন করে।সাক্ষাৎকালে চীনা দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন লিউ ইউইন এবং রাজনৈতিক অ্যাটাচে লিং শুয়ান উপস্থিত ছিলেন।এ ছাড়া রুহুল কবির রিজভীর পিএস কাজী নজরুল ইসলাম এবং এপিএস জাহেদুল আলমও সেখানে ছিলেন।গুরুত্বপূর্ণ দিকমঙ্গলবার বেলা ১১টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।রুহুল কবির রিজভীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।দুই দেশের রাজনৈতিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল করার প্রত্যাশা জানিয়েছেন চীনা রাষ্ট্রদূত।বৈঠকে চীনা দূতাবাসের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক শুধু কূটনৈতিক পর্যায়েই সীমাবদ্ধ নয়; বাণিজ্য, অবকাঠামো ও উন্নয়ন সহযোগিতার ক্ষেত্রেও এর প্রভাব রয়েছে। তাই দেশের বড় রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে চীনা প্রতিনিধিদের নিয়মিত যোগাযোগ ভবিষ্যতের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের দিক থেকেও গুরুত্ব বহন করে।মূল পর্যবেক্ষণ: এই সাক্ষাতের তাৎপর্য শুধু সৌজন্য বিনিময়ে সীমাবদ্ধ নয়। রাজনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি উন্নয়ন সহযোগিতা ও দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ কীভাবে এগোয়, ভবিষ্যতে সেটিই এ ধরনের বৈঠকের বাস্তব গুরুত্ব নির্ধারণ করবে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

বিএনপির নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে: রিজভী

বিএনপির নাম ব্যবহার করে কেউ অপকর্ম বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়ালে তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, বর্তমান সময়ে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা করা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন রিজভী। দলের নাম ব্যবহার করে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে সতর্কতারিজভী বলেন, দলের নাম ভাঙিয়ে ব্যক্তিস্বার্থে অনিয়ম বা অপকর্মে জড়ালে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এর আগে দলের নাম ব্যবহার করে অপকর্মে জড়িতদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি নেতাকর্মীদের অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকার পাশাপাশি গঠনমূলক কাজে যুক্ত হয়ে দলকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান। বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগবর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরে রিজভী দাবি করেন, ক্ষমতায় এসে বিএনপি জনগণের জন্য কাজ করছে। তাঁর দাবি, জনগণের মধ্যে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের জনপ্রিয়তাও বেড়েছে। একই সঙ্গে বিএনপির বিরুদ্ধে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এসব মোকাবিলা করেই দল এগিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও বক্তব্যস্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে রিজভী জানান, দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের দায়িত্ব স্থানীয় নেতৃবৃন্দের ওপর থাকবে। দলীয় প্রতীক না থাকায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের ভালো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। গুরুত্বপূর্ণ দিক দলের নাম ব্যবহার করে অপকর্ম করলে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি। নেতাকর্মীদের অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকার আহ্বান। দলীয় শৃঙ্খলাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে তুলে ধরেছেন রিজভী। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ে স্থানীয় নেতাদের ভূমিকার কথা জানিয়েছেন তিনি।  কেন এই বার্তা গুরুত্বপূর্ণ?রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার করে কোনো ব্যক্তি অনিয়মে জড়ালে তার প্রভাব শুধু ব্যক্তির ওপর পড়ে না; দলের ভাবমূর্তিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে। তাই অভিযোগ উঠলে তা যাচাই করে দলীয় বিধি ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।নিজস্ব পর্যবেক্ষণ: রিজভীর বক্তব্যে শুধু শাস্তির বার্তা নয়, নেতাকর্মীদের ‘জনগণের প্রতিনিধি’ হিসেবে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বানও রয়েছে। অর্থাৎ দলীয় পরিচয়কে ব্যক্তিগত সুবিধার বদলে জনসম্পৃক্ত কাজে ব্যবহারের বিষয়টিও সামনে এসেছে। সাধারণ মানুষের ভাবনা রাজনৈতিক দলের পরিচয় ব্যবহার করে কেউ অনিয়ম করলে দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে অভিযোগ যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে কোনো অভিযোগকে সত্য ধরে নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য ও যাচাইযোগ্য তথ্য দেখা জরুরি।

বিএনপির নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে: রিজভী

নারী উদ্যোক্তা আন্দোলনের অগ্রদূত সেলিমা আহমাদ আর নেই, রেখে গেলেন অনুপ্রেরণার এক ইতিহাস

দেশের নারী উদ্যোক্তা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ, শিল্পোদ্যোক্তা ও সাবেক সংসদ সদস্য সেলিমা আহমাদ আর নেই। থাইল্যান্ডের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর।ব্যবসা, নারী নেতৃত্ব এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের প্রশ্নে বাংলাদেশে যে কয়েকজন মানুষের নাম আলাদা করে উচ্চারিত হয়, সেলিমা আহমাদ ছিলেন তাদের একজন। বিশেষ করে হাজার হাজার নারীকে উদ্যোক্তা হিসেবে দাঁড় করানোর যে আন্দোলন তিনি শুরু করেছিলেন, সেটিই তাকে অন্যদের থেকে আলাদা পরিচয় এনে দেয়।পরিবার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে তিনি অসুস্থ ছিলেন এবং চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে অবস্থান করছিলেন। তার মৃত্যুতে ব্যবসায়ী মহল, নারী উদ্যোক্তা সমাজ এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।ব্যবসায়িক নেতৃত্ব থেকে জাতীয় পরিচিতি১৯৬০ সালের ৭ জুলাই জন্মগ্রহণকারী সেলিমা আহমাদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় ব্যবস্থাপনায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে জাপান, ডেনমার্ক, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে পেশাগত প্রশিক্ষণ নেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেলোশিপ লাভ করেন।তিনি দেশের অন্যতম শিল্পপ্রতিষ্ঠান নিটল-নিলয় গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। অটোমোবাইল, সিমেন্ট, কাগজ, রিয়েল এস্টেট, আর্থিক সেবাসহ বিভিন্ন খাতে বিস্তৃত এই শিল্পগোষ্ঠীর ব্যবস্থাপনা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে তার ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য।ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি ও নিটল-নিলয় গ্রুপের চেয়ারম্যান মাতলুব আহমাদের সহধর্মিণী ছিলেন তিনি।নারী উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন দরজা খুলে দিয়েছিলেনসেলিমা আহমাদের সবচেয়ে বড় পরিচয় সম্ভবত বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিডব্লিউসিসিআই) প্রতিষ্ঠা। ২০০১ সালে তার উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই সংগঠন দেশের নারী উদ্যোক্তাদের জন্য প্রথম জাতীয় পর্যায়ের বাণিজ্য সংগঠন হিসেবে পরিচিতি পায়।তার নেতৃত্বে হাজার হাজার নারী প্রশিক্ষণ, সহজ ঋণ, বাজারসংযোগ ও ব্যবসায়িক পরামর্শ পাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। বিশেষ করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নারীদের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত করার ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, অনেক নারী প্রথমবারের মতো ব্যবসা শুরু করার সাহস পেয়েছিলেন সেলিমা আহমাদের বিভিন্ন কর্মসূচি ও পরামর্শ থেকে।ব্যাংকিং খাত ও নীতিনির্ধারণে সক্রিয় ভূমিকাশুধু শিল্পপ্রতিষ্ঠান নয়, দেশের ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতেও সক্রিয় ছিলেন সেলিমা আহমাদ। তিনি জনতা ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে দায়িত্ব পালন করেছেন।অর্থনীতিবিদদের মতে, নারী উদ্যোক্তাদের অর্থায়নের বিষয়টি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তুলে ধরার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা ছিল দৃশ্যমান। ব্যবসা ও অর্থনীতির বিভিন্ন ফোরামে তিনি নারী অংশগ্রহণ বাড়ানোর পক্ষে ধারাবাহিকভাবে কথা বলেছেন।রাজনীতিতেও ছিল সক্রিয় উপস্থিতিব্যবসা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিজ্ঞতা নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতেও যুক্ত হন সেলিমা আহমাদ। ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।সংসদে তিনি নারী উন্নয়ন, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা এবং অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি নিয়ে বিভিন্ন আলোচনায় অংশ নেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মুখসেলিমা আহমাদের কর্মজীবনের অন্যতম বড় স্বীকৃতি আসে ২০১৪ সালে। সে বছর তিনি অসলো বিজনেস ফর পিস অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন। ব্যবসার মাধ্যমে সামাজিক পরিবর্তন ও ইতিবাচক প্রভাব তৈরির স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মাননা দেওয়া হয়।এছাড়া বিভিন্ন সময়ে বেস্ট বিজনেস উইমেন, প্রিয়দর্শিনী এবং বিজনেস এক্সপ্রেস অ্যাওয়ার্ডসহ একাধিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জন করেন তিনি।কেন তার মৃত্যু গুরুত্বপূর্ণবাংলাদেশে নারী উদ্যোক্তা আন্দোলন আজ যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তার পেছনে কয়েকজন পথপ্রদর্শকের অবদান রয়েছে। সেলিমা আহমাদ ছিলেন সেই অগ্রগামীদের অন্যতম।তার সবচেয়ে বড় সাফল্য ছিল শহরের গণ্ডি পেরিয়ে গ্রামীণ নারীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার প্রচেষ্টা। অনেক ক্ষেত্রে তিনি শুধু প্রশিক্ষণ দেননি, বরং নারী উদ্যোক্তাদের জন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দরজাও খুলে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।পর্যবেক্ষকদের মতে, বাংলাদেশে নারীদের ব্যবসায়িক অংশগ্রহণ বাড়লেও এখনো অর্থায়ন, বাজারসংযোগ এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সেলিমা আহমাদের মতো নেতৃত্বের অভাব ভবিষ্যতে আরও বেশি অনুভূত হতে পারে।একটি বিশেষ পর্যবেক্ষণবাংলাদেশের ব্যবসায়িক ইতিহাসে খুব কম মানুষই আছেন, যারা একই সঙ্গে করপোরেট নেতৃত্ব, নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন, ব্যাংকিং খাতের নীতিনির্ধারণ এবং জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। সেলিমা আহমাদ সেই বিরল ব্যক্তিত্বদের একজন, যিনি চারটি ক্ষেত্রেই নিজের স্বতন্ত্র ছাপ রেখে গেছেন।গুরুত্বপূর্ণ দিক• বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় নারী বাণিজ্য সংগঠন বিডব্লিউসিসিআই প্রতিষ্ঠা করেন• হাজার হাজার নারী উদ্যোক্তাকে প্রশিক্ষণ ও ব্যবসায়িক সহায়তার সুযোগ করে দেন• নিটল-নিলয় গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে শিল্প খাতে নেতৃত্ব দেন• আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অসলো বিজনেস ফর পিস অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেনসাধারণ মানুষের ভাবনাবাংলাদেশে নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের কথা যখন বলা হয়, তখন শুধু নীতিমালা নয়, প্রয়োজন হয় বাস্তব নেতৃত্বের। সেলিমা আহমাদের জীবন দেখিয়েছে—একজন মানুষের উদ্যোগ হাজারো মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনতে পারে। তার মৃত্যুতে অনেকেই মনে করছেন, নারী উদ্যোক্তাদের জন্য শুরু করা কাজগুলো আরও শক্তিশালীভাবে এগিয়ে নেওয়া এখন সময়ের দাবি।নারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ, সহজ অর্থায়ন এবং বাজারসংযোগ নিশ্চিত করা গেলে সেটিই হবে তার প্রতি সবচেয়ে বড় শ্রদ্ধা।

নারী উদ্যোক্তা আন্দোলনের অগ্রদূত সেলিমা আহমাদ আর নেই, রেখে গেলেন অনুপ্রেরণার এক ইতিহাস

সিরাজগঞ্জে বাসচাপায় অটোরিকশার তিন যাত্রী নিহত, গুরুতর আহত আরও দুইজন

সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় সিএনজি চালিত অটোরিকশার তিন যাত্রী নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন আরও দুইজন। দুর্ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে সলঙ্গা থানাধীন চরিয়া এলাকায় RAB-12-এর প্রধান কার্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। আহতদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা?প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সলঙ্গা থেকে যাত্রী নিয়ে একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা সিরাজগঞ্জ শহরের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় বিপরীত দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা রাজশাহীগামী একটি বাস অটোরিকশাটিকে চাপা দেয়।দুর্ঘটনার অভিঘাত এতটাই ভয়াবহ ছিল যে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং আশপাশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করেন।পুলিশের বক্তব্যঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন Md. Aslam Ali।তিনি জানান, “সলঙ্গা থেকে যাত্রী নিয়ে সিএনজি অটোরিকশাটি সিরাজগঞ্জ শহরের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বাস অটোরিকশাটিকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন।”তিনি আরও বলেন, নিহতদের মরদেহ Hatikumrul Highway Police Station-এ রাখা হয়েছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্কদুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক দেখা গেছে। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, মহাসড়কে বেপরোয়া গতির বাস চলাচল বেড়ে যাওয়ায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে।এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, “বাসটি খুব দ্রুতগতিতে আসছিল। হঠাৎ করেই অটোরিকশাটিকে চাপা দেয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সব শেষ হয়ে যায়।”আরেকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “এই সড়কে প্রায়ই দুর্ঘটনা হয়। কিন্তু কার্যকর ব্যবস্থা খুব একটা দেখা যায় না।”সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্নসাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়তে থাকায় সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং, ক্লান্ত চালক এবং ট্রাফিক নিয়ম না মানার কারণে এমন দুর্ঘটনা বাড়ছে।বিশেষ করে মহাসড়কে সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও ভারী যানবাহনের একসঙ্গে চলাচলকে বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।তদন্ত ও পরবর্তী ব্যবস্থাপুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।একই সঙ্গে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।উপসংহার সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আবারও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন সামনে এনে দিয়েছে। মুহূর্তের অসতর্কতা বা বেপরোয়া গতি কত দ্রুত কয়েকটি পরিবারকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে দিতে পারে, এই ঘটনাই তার আরেকটি নির্মম উদাহরণ।

সিরাজগঞ্জে বাসচাপায় অটোরিকশার তিন যাত্রী নিহত, গুরুতর আহত আরও দুইজন

বিনোদন

সকল জেলার খবর

খেলাধুলা

আর্কাইভ

প্রবাস

মালয়েশিয়ায় বিদেশি শিক্ষার্থী ১ লাখ ৬৭ হাজার, বাংলাদেশ তৃতীয়

মালয়েশিয়ায় বিদেশি শিক্ষার্থী ১ লাখ ৬৭ হাজার, বাংলাদেশ তৃতীয়

মালয়েশিয়ায় পড়াশোনা করা বিদেশি শিক্ষার্থীদের সংখ্যা এখন প্রায় ১ লাখ ৬৭ হাজার। শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা নয়, টিউশন ফি ও জীবনযাত্রার খরচের মাধ্যমে তারা দেশটির অর্থনীতিতেও বড় ভূমিকা রাখছেন।এডুকেশন মালয়েশিয়া গ্লোবাল সার্ভিসেসের (ইএমজিএস) সিইও নোভি তাজউদ্দিনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিদেশি শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত ব্যয়ের প্রভাব মালয়েশিয়ার অর্থনীতিতে বছরে প্রায় ২০ বিলিয়ন রিঙ্গিত।আর বিদেশি শিক্ষার্থী মালয়েশিয়ায় পাঠানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়। বাংলাদেশের ওপরে রয়েছে চীন ও ইন্দোনেশিয়া।রোববার তেরেংগানুর পানতাই তেলুক কেতাপাংয়ে ‘মালয়েশিয়ান কালচারাল ডিসকভারি কমিউনিটি ইমারশন’ কর্মসূচিতে এসব তথ্য জানান নোভি তাজউদ্দিন।ইএমজিএসের এক গবেষণার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মালয়েশিয়ায় অবস্থানকালে একজন বিদেশি শিক্ষার্থী গড়ে প্রতি মাসে প্রায় ১০ হাজার রিঙ্গিত ব্যয় করেন।এই ব্যয়ের মধ্যে শিক্ষা, থাকা-খাওয়া, পরিবহণ এবং বিভিন্ন সেবার খরচ রয়েছে। ফলে বিদেশি শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির সুফল শুধু বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকে না; স্থানীয় ব্যবসা ও সেবাখাতও এর মাধ্যমে লাভবান হয়।বাংলাদেশ তৃতীয়, শীর্ষে চীনমালয়েশিয়ায় বিদেশি শিক্ষার্থী পাঠানোর ক্ষেত্রে বর্তমানে শীর্ষ পাঁচ দেশ হলো— চীন ইন্দোনেশিয়া বাংলাদেশ ভারত পাকিস্তান অর্থাৎ মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক শিক্ষাবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান বেশ শক্তিশালী।বাংলাদেশ থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী মালয়েশিয়ার বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছেন। তাঁদের বড় একটি অংশ স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থী বলে জানিয়েছেন ইএমজিএসের সিইও।নোভি তাজউদ্দিনের ভাষ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে মালয়েশিয়ায় বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ২৩ শতাংশ বেড়েছে।একসময় বিদেশি শিক্ষার্থীদের পছন্দের শীর্ষ দেশ হিসেবে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার নাম বেশি আসত। এখন সেই তালিকায় মালয়েশিয়াও গুরুত্বপূর্ণ জায়গা করে নিয়েছে।তেরেংগানুর ইউনিভার্সিটি সুলতান জাইনাল আবিদিন (ইউনিসজা) এবং ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়া তেরেংগানুর (ইউএমটি) মতো বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীও এর অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুবিধা পাচ্ছে বলে জানান তিনি।গুরুত্বপূর্ণ দিক মালয়েশিয়ায় বিদেশি শিক্ষার্থী প্রায় ১ লাখ ৬৭ হাজার। তাঁদের ব্যয়ের অর্থনৈতিক প্রভাব বছরে প্রায় ২০ বিলিয়ন রিঙ্গিত। বিদেশি শিক্ষার্থী পাঠানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ তৃতীয়। গত তিন বছরে বিদেশি শিক্ষার্থী বেড়েছে প্রায় ২৩ শতাংশ। ২০৩৫ সালের মধ্যে ৫ লাখ বিদেশি শিক্ষার্থী আকর্ষণের লক্ষ্য নিয়েছে মালয়েশিয়া।বিদেশি শিক্ষার্থী আরও বাড়াতে মালয়েশিয়া বড় লক্ষ্য নিয়েছে। দেশটির ১০ বছর মেয়াদি ‘মালয়েশিয়া হায়ার এডুকেশন ব্লুপ্রিন্ট’-এ ২০৩৫ সালের মধ্যে ৫ লাখ বিদেশি শিক্ষার্থী আকর্ষণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।এই লক্ষ্য পূরণে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে মালয়েশিয়ার উচ্চশিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে প্রচারণা চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। নোভি তাজউদ্দিন জানিয়েছেন, বিশ্বের প্রায় সাত থেকে আটটি অঞ্চলকে কেন্দ্র করে প্রচারণা চালানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।এর মানে হলো, ভবিষ্যতে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার শিক্ষার্থীদের আকর্ষণ করতে মালয়েশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রচার আরও বাড়তে পারে।বিদেশি শিক্ষার্থীরা যেখানে থাকেন, সেখানে বাসা, খাবারের দোকান, পরিবহণ, পোশাক, মোবাইল সেবা এবং নানা ধরনের দৈনন্দিন ব্যবসার সঙ্গে তাঁদের খরচ জড়িয়ে যায়।নিজস্ব পর্যবেক্ষণ: একজন বিদেশি শিক্ষার্থীর খরচকে শুধু ‘শিক্ষার খরচ’ হিসেবে দেখলে পুরো অর্থনৈতিক চিত্রটি ধরা পড়ে না। একজন শিক্ষার্থী একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর তাঁর খরচের টাকা অনেকগুলো স্থানীয় ব্যবসার হাত ঘুরে আবার অর্থনীতিতে ফিরে আসে। তাই বিদেশি শিক্ষার্থী আকর্ষণ করা অনেকটা শিক্ষা খাতের পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসার জন্যও নতুন ক্রেতা তৈরি করার মতো।মালয়েশিয়ায় বিদেশি শিক্ষার্থী পাঠানোর তালিকায় বাংলাদেশের তৃতীয় অবস্থান দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য দেশটির উচ্চশিক্ষাবাজারে একটি শক্তিশালী উপস্থিতির ইঙ্গিত দেয়।তবে বিদেশে পড়তে যাওয়ার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বীকৃতি, কোর্সের মান, মোট খরচ, ভিসার নিয়ম এবং ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের সুযোগ যাচাই করা জরুরি। শুধু কোনো দেশের জনপ্রিয়তা দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় বেছে নেওয়া উচিত।বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর অনেক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যাচ্ছেন। মালয়েশিয়া তুলনামূলকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি গন্তব্য হয়ে উঠেছে। এতে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছেন, আবার মালয়েশিয়াও বড় একটি শিক্ষার্থী বাজার থেকে অর্থনৈতিক সুবিধা পাচ্ছে। আগামী দিনে মালয়েশিয়া যদি ৫ লাখ বিদেশি শিক্ষার্থীর লক্ষ্য পূরণ করতে চায়, তাহলে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।