দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
  • photo-stories ফটো স্টোরি

জাতীয়

ভিডিও সব ভিডিও

কোন ভিডিও নেই !

আর্কাইভআর্কাইভ

কোন পোস্ট নেই !

অনলাইন জরিপ অনলাইন জরিপ

২২ ডিসেম্বর ২০২৫, ০১:৪৪ পিএম
পদত্যাগপত্র-জমা-দিয়েছেন-কোচ-সালাউদ্দিন।-তার-এই-সিদ্ধান্ত-সমর্থন-করেন-কি।

পদত্যাগপত্র-জমা-দিয়েছেন-কোচ-সালাউদ্দিন।-তার-এই-সিদ্ধান্ত-সমর্থন-করেন-কি।

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন

কোতোয়ালি থানায় নারী নির্যাতন, মারধর ও লুটপাটের অভিযোগ

খিলক্ষেত নিকুঞ্জ জনগণের স্বার্থে চাঁদাবাজি মাদকমুক্ত সমাজ গড়বো: আলহাজ্ব ফজলুল হক

সব লড়াইয়ের অবসান, চলে গেলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী

বেগম জিয়ার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাইলেন তারেক রহমান

মুখোশধারী সন্ত্রাসীদের টার্গেটে বিএনপি নেতা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোরতার দাবি

জাতীয় কবি নজরুলের সমাধির পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত শহীদ ওসমান হাদি

পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় খালেদা জিয়ার দাফন, স্বামীর পাশে চিরনিদ্রায়; নিজ হাতে মাকে কবরে শায়িত করলেন তারেক রহমান

বিদেশে বসে বিএনপির বিরুদ্ধে বদনাম করছেন ড. ইউনূস: মির্জা আব্বাস

দক্ষিণখানে প্রকাশ্যে যুবলীগ নেতা শাহজাহান শেখকে কুপিয়ে হত্যা

১০

টেন্ডারবাণিজ্যে শতকোটি টাকার মালিক গণপূর্তের আহসান হাবীব

জনপ্রিয় সব খবর

বনানী থানা ওসি তদন্ত মেহেদী হাসান প্রশংসার জোয়ারে

এনসিপির সমর্থনে জামায়াত প্রার্থিতা প্রত্যাহার হাতিয়ায় ১০ দলীয় জোটের সংবাদ সম্মেলন

বিতর্কের জেরে নাজমুলকে দায়িত্বমুক্ত করছে বিসিবি

বিমানের পরিচালক হলেন খলিলুর রহমান, ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব ও ইসি সচিব

মুখোশধারী সন্ত্রাসীদের টার্গেটে বিএনপি নেতা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোরতার দাবি

আগামী নির্বাচিত সরকারের পাশে থাকার বার্তা চীনের

টেন্ডারবাণিজ্য, দুর্নীতি ও হত্যা মামলা: শতকোটি টাকার মালিক গণপূর্তের আহসান হাবীব

বেগম জিয়ার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাইলেন তারেক রহমান

পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় খালেদা জিয়ার দাফন, স্বামীর পাশে চিরনিদ্রায়; নিজ হাতে মাকে কবরে শায়িত করলেন তারেক রহমান

১০

টেন্ডারবাণিজ্যে শতকোটি টাকার মালিক গণপূর্তের আহসান হাবীব

সর্বশেষ সব খবর

সারাদেশ

বনানী থানা  ওসি তদন্ত মেহেদী হাসান প্রশংসার  জোয়ারে

বনানী থানা ওসি তদন্ত মেহেদী হাসান প্রশংসার জোয়ারে

বনানী থানা  ওসি তদন্ত মেহেদী হাসান প্রশংসার  জোয়ারে।   করাইল অপরাধের আখড়া নামে চিহ্নিত। দীর্ঘক্ষণ চেষ্টার পর অস্ত্র উদ্ধার।  দক্ষতা ও চেষ্টায় একটি বিদেশি রিভলবারসহ একজনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের বনানী থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃতের নাম আব্দুস সামাদ (২৫)।বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে বনানী থানাধীন কড়াইল এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করা হয়।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বনানী থানা পুলিশ জানতে পারে কড়াইল জামাই বাজার ঝিলপাড় নরসিংদী পট্টি এলাকার একটি বাসায় রিভলবারসহ একজন অবস্থান করছে।প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ওই স্থানে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশী .২২ ম্যাগনাম মিনি রিভলবারসহ আব্দুস সামাদকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

এনসিপির সমর্থনে জামায়াত প্রার্থিতা প্রত্যাহার হাতিয়ায় ১০ দলীয় জোটের সংবাদ সম্মেলন

এনসিপির সমর্থনে জামায়াত প্রার্থিতা প্রত্যাহার হাতিয়ায় ১০ দলীয় জোটের সংবাদ সম্মেলন

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে একক প্রার্থী হিসেবে এনসিপি মনোনীত প্রার্থী আবদুল হান্নান মাসউদের প্রতি আনুষ্ঠানিক সমর্থন ঘোষণা করেছে ১০ দলীয় জোট।মঙ্গলবার (সকাল) হাতিয়া উপজেলা সদরে এনসিপির নির্বাচনী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জোটভুক্ত শরিক দলগুলো এ ঘোষণা দেয়। একই সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অ্যাডভোকেট শাহ মোহাম্মদ মাহফুজুল হক তাঁর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা জামায়াতের আমির মাস্টার বোরহানুল ইসলাম। জামায়াত নেতা শাব্বির আহমেদ তাফসীরের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন—এনসিপি প্রার্থী আবদুল হান্নান মাসউদ, জামায়াতের প্রার্থী অ্যাডভোকেট শাহ মোহাম্মদ মাহফুজুল হক, এলডিপির প্রার্থী আবুল হোসেন মো. বাবুল, এনপিপির হাতিয়া উপজেলা আহ্বায়ক শামছল তিব্রিজ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের হাতিয়া উপজেলা সভাপতি মাওলানা ইউনুছ সাইফী এবং খেলাফত আন্দোলনের হাতিয়া উপজেলা সদস্য সচিব মুফতি ইছমাইল হোসাইন।বক্তারা অভিযোগ করেন, অতীতে ভোটাধিকার হরণে যুক্ত কিছু ব্যক্তি এবারও নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার অপচেষ্টায় সক্রিয় রয়েছে। তথাকথিত ‘বিনা ভোটের’ জনপ্রতিনিধি ও তাদের সহযোগীরা ভোটের মাঠে অনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করা হয়। এ ধরনের ব্যক্তিদের যেন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া না হয়—সে বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।এনসিপি প্রার্থী আবদুল হান্নান মাসউদ বলেন, “যারা অতীতে মানুষের ওপর নির্যাতন করেননি এবং কোনো অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না, তারা যদি একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চান, তাহলে আমরা তাদের স্বাগত জানাই।”

আগামী নির্বাচিত সরকারের পাশে থাকার বার্তা চীনের

আগামী নির্বাচিত সরকারের পাশে থাকার বার্তা চীনের

বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জানিয়েছেন, আগামী দিনে বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চীন প্রস্তুত রয়েছে। বুধবার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এ আগ্রহের কথা ব্যক্ত করেন।বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয় গুলশানে অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাতে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন এবং প্রেস সচিব সালেহ শিবলী।সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির জানান, বৈঠকে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং ভবিষ্যতে একসঙ্গে কাজ করার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি উন্নয়ন সহযোগিতা কীভাবে আগামী দিনে এগিয়ে নেওয়া যায়, সে বিষয়েও মতবিনিময় হয়েছে।এর আগে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং তারেক রহমানের প্রতি সমবেদনা জানান।আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, চীনের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় বা নির্বাচন নিয়ে কোনো উদ্বেগ প্রকাশ করেননি। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, নির্বাচন বাংলাদেশের নিজস্ব বিষয় এবং এতে চীনের কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ বা মন্তব্য নেই। তবে চীনা রাষ্ট্রদূত প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন যে, নির্বাচনের মাধ্যমে যে সরকারই গঠিত হোক না কেন, সেই নির্বাচিত সরকার দেশের উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।হুমায়ুন কবির আরও জানান, রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেছেন, আগামী দিনে বাংলাদেশে যে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করবে, তার সঙ্গে চীন ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, চীন বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধু এবং অবকাঠামো, যোগাযোগ, জ্বালানি, শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী। ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের উন্নয়নে চীন কীভাবে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, সে বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।সার্বিকভাবে এই সাক্ষাৎকে দুই দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

টেন্ডারবাণিজ্য, দুর্নীতি ও হত্যা মামলা: শতকোটি টাকার মালিক গণপূর্তের আহসান হাবীব

টেন্ডারবাণিজ্য, দুর্নীতি ও হত্যা মামলা: শতকোটি টাকার মালিক গণপূর্তের আহসান হাবীব

ক্ষমতার অপব্যবহার, টেন্ডারবাণিজ্য, কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ ও হত্যা মামলার আসামি হয়েও একজন সরকারি কর্মকর্তা কীভাবে বহাল তবিয়তে দাপটের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন-এই প্রশ্ন এখন প্রশাসন থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মুখে মুখে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের নারায়ণগঞ্জ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আহসান হাবীব। সাবেক ছাত্রলীগ নেতা পরিচয়ে পরিচিত এই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ উঠে এলেও এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।একাধিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে আহসান হাবীব টেন্ডারবাণিজ্যের মাধ্যমে শতকোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। সরকারি দায়িত্বে থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি পছন্দের ঠিকাদারদের মাধ্যমে কাজ বাগিয়ে নিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ উপার্জন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। শুধু দুর্নীতিই নয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে অর্থের জোগান দেওয়ার অভিযোগ এবং একাধিক হত্যা মামলার আসামি হওয়ার বিষয়টি তাকে ঘিরে বিতর্ক আরও ঘনীভূত করেছে।অনুসন্ধানে জানা যায়, মো. আহসান হাবীব ২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর গণপূর্ত অধিদপ্তরের নারায়ণগঞ্জ বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে যোগদান করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি প্রশাসনিক ক্ষমতা নিজের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করেন। অভিযোগ রয়েছে, যোগদানের কয়েক মাসের মধ্যেই দরপত্র প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ভেঙে পড়ে। অধিকাংশ টেন্ডার তার ঘনিষ্ঠ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেওয়া হয় এবং যেসব ঠিকাদার তার সিন্ডিকেটের বাইরে ছিলেন, তাদের নানা অজুহাতে কাজ থেকে বাদ দেওয়া হয়।গণপূর্ত অধিদপ্তরের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারী জানান, দরপত্র আহ্বানের আগেই ঠিক হয়ে যেত কোন ঠিকাদার কাজ পাবে। দরপত্রের শর্ত এমনভাবে সাজানো হতো, যাতে নির্দিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য কেউ যোগ্যতা অর্জন করতে না পারে। এই প্রক্রিয়ায় সরকারি অর্থ লুটপাট হয়েছে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে গুণগত মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।এই টেন্ডারবাণিজ্যের মাধ্যমে আহসান হাবীব বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে নামে-বেনামে অঢেল সম্পদ গড়েছেন। রাজধানী ও নারায়ণগঞ্জে একাধিক ফ্ল্যাট, জমি এবং বিলাসবহুল গাড়ির মালিকানা তার সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। এসব সম্পদের সঙ্গে তার সরকারি বেতনের কোনো সামঞ্জস্য নেই বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন।গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, আহসান হাবীবের বিরুদ্ধে কয়েক কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল। এমনকি দেশের বাইরে শতকোটি টাকা পাচারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে এসব অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।আহসান হাবীবের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর পেছনে তার রাজনৈতিক পরিচয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত ছিলেন এবং ছাত্রলীগের রাজনীতির মাধ্যমে ক্ষমতার কেন্দ্রের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এই রাজনৈতিক নেটওয়ার্কই তাকে দীর্ঘদিন ধরে নিরাপদ রাখছে বলে ধারণা করছেন অনেকে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গণপূর্ত কর্মকর্তা বলেন, আহসান হাবীবের বিরুদ্ধে কোনো সংবাদ প্রকাশ হলে তা দ্রুত ম্যানেজ করা হয়। কখনো রাজনৈতিক চাপ, কখনো প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া হয়। তার নিজস্ব একটি সিন্ডিকেট রয়েছে, যারা গণপূর্তের ভেতরে তার স্বার্থ রক্ষা করে।সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগগুলোর একটি হলো বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় তার ভূমিকা। অভিযোগ রয়েছে, আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও সহিংসতায় অর্থ ও রসদ জুগিয়েছেন আহসান হাবীব। আওয়ামী লীগ সরকারের সুবিধাভোগী কর্মকর্তা হিসেবে তিনি আন্দোলন দমনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে ক্ষোভ আরও বেড়ে যায়।৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর অনেক আওয়ামী লীগঘনিষ্ঠ কর্মকর্তা আত্মগোপনে গেলেও আহসান হাবীব প্রকাশ্যে কর্মস্থলে বহাল থাকেন। অভিযোগ রয়েছে, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অন্যতম মাস্টারমাইন্ড হিসেবে চিহ্নিত হলেও তিনি এখনো দাপটের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।আহসান হাবীব বর্তমানে রাজধানীর পল্টন মডেল থানার একটি হত্যা মামলার আসামি। মামলা নংু৮৭৪ অনুযায়ী তিনি ৭০ নম্বর আসামি। জানা গেছে, কে এম শাহরিয়ার শুভ বাদী হয়ে গত ৩১ অক্টোবর ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করার আবেদন করেন। আদালত পল্টন মডেল থানাকে নির্দেশ দেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একই ধরনের আরও হত্যা মামলা রয়েছে কি না, তা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জানাতে।আদালতের আদেশ অনুযায়ী পল্টন মডেল থানা থেকে পাঠানো প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, একই ঘটনায় এর আগেও একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছিল। ওই মামলায় মো. জামাল মিয়া বাদী হয়ে একই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছিলেন। ফলে আদালত আবেদনটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তর করেন এবং বিষয়টি বিচারাধীন রয়েছে।হত্যা মামলার আসামি হওয়ার পর থেকেই বাদীর ওপর চাপ সৃষ্টি ও আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে মামলা থেকে নিজের নাম প্রত্যাহারের চেষ্টা করছেন আহসান হাবীব-এমন অভিযোগও পাওয়া গেছে। একাধিক সূত্র জানায়, মামলার বাদীর সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা চলছে এবং এই মীমাংসা প্রক্রিয়ায় গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন মহলের একটি অংশ সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।গণপূর্ত অধিদপ্তরের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, আহসান হাবীব আওয়ামী লীগের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি ছিলেন। তার বিরুদ্ধে যত গুরুতর অভিযোগই থাকুক না কেন, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি শেষ পর্যন্ত পার পেয়ে যাবেন-এমন ধারণাই এখন প্রতিষ্ঠানের ভেতরে ঘুরে বেড়াচ্ছে।আইনজ্ঞদের মতে, একজন সরকারি কর্মকর্তা যদি হত্যা মামলার আসামি হয়েও বহাল থাকেন, তবে তা প্রশাসনিক জবাবদিহিতা ও আইনের শাসনের জন্য অশনিসংকেত। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিচার ব্যবস্থার ওপর আস্থা আরও ক্ষুণ্ণ হয়।এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার মো. আহসান হাবীবের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায় কিংবা তিনি কল রিসিভ করেননি।দুর্নীতি, টেন্ডারবাণিজ্য, অর্থ পাচার ও হত্যা মামলার মতো গুরুতর অভিযোগের পরও আহসান হাবীবের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা না থাকায় প্রশ্ন উঠেছেআইনের ঊর্ধ্বে কি তিনি? নাকি রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় সবকিছুই সম্ভব? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে এখন দেশবাসী।

আন্তর্জাতিক

আগামী নির্বাচিত সরকারের পাশে থাকার বার্তা চীনের

আগামী নির্বাচিত সরকারের পাশে থাকার বার্তা চীনের

বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জানিয়েছেন, আগামী দিনে বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চীন প্রস্তুত রয়েছে। বুধবার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এ আগ্রহের কথা ব্যক্ত করেন।বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয় গুলশানে অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাতে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন এবং প্রেস সচিব সালেহ শিবলী।সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির জানান, বৈঠকে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং ভবিষ্যতে একসঙ্গে কাজ করার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি উন্নয়ন সহযোগিতা কীভাবে আগামী দিনে এগিয়ে নেওয়া যায়, সে বিষয়েও মতবিনিময় হয়েছে।এর আগে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং তারেক রহমানের প্রতি সমবেদনা জানান।আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, চীনের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় বা নির্বাচন নিয়ে কোনো উদ্বেগ প্রকাশ করেননি। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, নির্বাচন বাংলাদেশের নিজস্ব বিষয় এবং এতে চীনের কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ বা মন্তব্য নেই। তবে চীনা রাষ্ট্রদূত প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন যে, নির্বাচনের মাধ্যমে যে সরকারই গঠিত হোক না কেন, সেই নির্বাচিত সরকার দেশের উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।হুমায়ুন কবির আরও জানান, রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেছেন, আগামী দিনে বাংলাদেশে যে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করবে, তার সঙ্গে চীন ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, চীন বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধু এবং অবকাঠামো, যোগাযোগ, জ্বালানি, শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী। ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের উন্নয়নে চীন কীভাবে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, সে বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।সার্বিকভাবে এই সাক্ষাৎকে দুই দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

০৮ জানুয়ারি ২০২৬

আইন-বিচার

কাজিপুরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাস্তা নির্মাণ

কাজিপুরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাস্তা নির্মাণ

এনামুল হক কাজিপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ- সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমাণ্য করে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান রাস্তা নির্মাণ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার  গান্ধাইল দক্ষিন পাড়ায় এল জিই ডি,র নির্মানাধীন ওই রাস্তায়  ঠীকাদার ও স্থানীয় ১১ব্যক্তির উপর  আদালত ১৪৪ ধারা  জারি করে। কিন্তু তারা পরস্পর যোগসাজসে আদালতের আদেশকে আমাণ্য করে   দক্ষিন পাড়া বড় বাড়ি হতে পর্বদিকে পাকা রাস্তা পর্যন্ত   নির্মানাধীন পাকা রাস্তার কাজ চালু রেখেছে।  ওই রাস্তার মাঝপথে ১৬৯৫ নং খতিয়ানের ৫৮৪৫ নম্বর দাগের জমির মালিক  চানমিয়া হাজি অভিযোগ  করে জানান, স্থানীয় মৃত  আব্দুল  হামিদের পুত্র আব্দুল হালিম সহ ১১ ব্যাক্তি ঠীকাদারের সাথে যোগসাজসে  রাস্তা নির্মাণকাজ করতে থাকে। তারা  পাশ্ববর্তী  জমি ছেড়ে দিয়ে তার  পাকা বাড়ির বারান্দা ভেঙ্গে  ফেলে রাস্তা নির্মান শুরু করেন। বাঁধা দিলে  উল্টো  চান হাজীকে নানা প্রকার  হুমকি-ধামকি প্রদান করা হয়।  পরে চাঁন হাজি  সুবিচার চেয়ে  অতিরিক্ত  জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত সিরাজগঞ্জে গত ১০ জুন  ১৪৪ ধারার নিষেধাজ্ঞা  মামলা দায়ের করলে আদালত তা মঞ্জুর করে।  চাঁন  হাজির অভিযোগ, কিছুদিন কাজ বন্ধ রাখার পর  প্রতিপক্ষরা আবারো  ১৪৪ ধারা অমান্য করে  রাস্তা নির্মাণের কাজ করেছে।  তিনি এ ঘটনার তদন্ত করে  সুবিচার চেয়েছেন। 

০২ আগস্ট ২০২৪

রাজনীতি

এনসিপির সমর্থনে জামায়াত প্রার্থিতা প্রত্যাহার হাতিয়ায় ১০ দলীয় জোটের সংবাদ সম্মেলন

এনসিপির সমর্থনে জামায়াত প্রার্থিতা প্রত্যাহার হাতিয়ায় ১০ দলীয় জোটের সংবাদ সম্মেলন

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে একক প্রার্থী হিসেবে এনসিপি মনোনীত প্রার্থী আবদুল হান্নান মাসউদের প্রতি আনুষ্ঠানিক সমর্থন ঘোষণা করেছে ১০ দলীয় জোট।মঙ্গলবার (সকাল) হাতিয়া উপজেলা সদরে এনসিপির নির্বাচনী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জোটভুক্ত শরিক দলগুলো এ ঘোষণা দেয়। একই সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অ্যাডভোকেট শাহ মোহাম্মদ মাহফুজুল হক তাঁর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা জামায়াতের আমির মাস্টার বোরহানুল ইসলাম। জামায়াত নেতা শাব্বির আহমেদ তাফসীরের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন—এনসিপি প্রার্থী আবদুল হান্নান মাসউদ, জামায়াতের প্রার্থী অ্যাডভোকেট শাহ মোহাম্মদ মাহফুজুল হক, এলডিপির প্রার্থী আবুল হোসেন মো. বাবুল, এনপিপির হাতিয়া উপজেলা আহ্বায়ক শামছল তিব্রিজ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের হাতিয়া উপজেলা সভাপতি মাওলানা ইউনুছ সাইফী এবং খেলাফত আন্দোলনের হাতিয়া উপজেলা সদস্য সচিব মুফতি ইছমাইল হোসাইন।বক্তারা অভিযোগ করেন, অতীতে ভোটাধিকার হরণে যুক্ত কিছু ব্যক্তি এবারও নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার অপচেষ্টায় সক্রিয় রয়েছে। তথাকথিত ‘বিনা ভোটের’ জনপ্রতিনিধি ও তাদের সহযোগীরা ভোটের মাঠে অনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করা হয়। এ ধরনের ব্যক্তিদের যেন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া না হয়—সে বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।এনসিপি প্রার্থী আবদুল হান্নান মাসউদ বলেন, “যারা অতীতে মানুষের ওপর নির্যাতন করেননি এবং কোনো অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না, তারা যদি একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চান, তাহলে আমরা তাদের স্বাগত জানাই।”

মুখোশধারী সন্ত্রাসীদের টার্গেটে বিএনপি নেতা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোরতার দাবি

মুখোশধারী সন্ত্রাসীদের টার্গেটে বিএনপি নেতা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোরতার দাবি

রাজধানীর বুকে আবারও রক্তাক্ত রাজনীতি—মুখোশধারী সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মোছাব্বির। বুধবার রাত সোয়া ৮টার দিকে রাজধানীর ব্যস্ত এলাকা বসুন্ধরা মার্কেটের পেছনে তেজতুরি বাজারে প্রকাশ্যে গুলি করে তাকে হত্যা করা হয়। একই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন কারওয়ান বাজার ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সুফিয়ান বেপারি মাসুদ, যিনি বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের এডিসি ফজলুল করিম জানান, স্টার কাবাবের পাশের একটি গলিতে মোছাব্বির ও মাসুদকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় মোছাব্বিরকে উদ্ধার করে বিআরবি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার পেটে তিন রাউন্ড গুলি লেগেছিল। পুলিশ জানায়, রাত আনুমানিক ৮টা ১০ মিনিটে অজ্ঞাতনামা কয়েকজন ব্যক্তি আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে এই হামলা চালায়।স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, মোটরসাইকেলে করে এসে দুর্বৃত্তরা নির্বিঘ্নে গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। জোবায়ের হোসেন জাবেদ নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, গুলির শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে তিনি চারদিকে আতঙ্ক আর বিশৃঙ্খলা দেখতে পান।ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ২৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মজিদ মিলন জানান, নিহত মোছাব্বির শরীয়তপুর জেলার বাসিন্দা হলেও দীর্ঘদিন ধরে বসুন্ধরা সিটির পেছনে কাজীপাড়া এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করছিলেন। ঘটনার দিন সন্ধ্যার পর তিনি শরীয়তপুর জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের অন্তত ৪০ জন নেতাকর্মী নিয়ে স্টার কাবাবের দোতলায় একটি বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে রাত ৮টার দিকে অধিকাংশ নেতাকর্মী চলে যান। কিছুক্ষণ পর মোছাব্বির, সুফিয়ান মাসুদ, নুরুল আলম ও মিলন স্টার কাবাবের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন।এ সময় একটি মাইক্রোবাস এসে থামে। গাড়ি থেকে লক্ষ্মীপুর বিএনপির এক নেতা নেমে মোছাব্বিরের সঙ্গে কথা বলেন এবং ওয়াসা অফিসে যাওয়ার কথা উল্লেখ করেন। মোছাব্বির তখন দুজনকে সঙ্গে যেতে বলেন। তাদের যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর আসে। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে মোছাব্বিরকে মৃত ঘোষণা করা হয়।এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে রাতেই কারওয়ান বাজারে সার্ক ফোয়ারা মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় নেতাকর্মী ও শ্রমিকরা। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও দলীয় নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যদিও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখে।নিহত মোছাব্বিরের পরিবার গভীর শোক ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। পরিবারের সদস্যদের ভাষায়, তিনি কাউকে কোনোদিন ক্ষতি করেননি। রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় থাকলেও ব্যক্তিগত জীবনে ছিলেন শান্ত ও ভদ্র মানুষ। এমন নির্মম হত্যাকাণ্ড তারা মেনে নিতে পারছেন না। নিহতের স্ত্রী ও স্বজনরা বলেন, পরিবার এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং তারা অবিলম্বে ন্যায়বিচার চান। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে পরিবার।ঘটনাটি ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা প্রকাশ্যে রাজনৈতিক নেতাকে গুলি করে হত্যার ঘটনাকে ভয়াবহ ও অগ্রহণযোগ্য আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি নির্দেশ করে। তারা সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানান এবং নিহতের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকেও সহিংস ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডকে তারা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য নেওয়া হচ্ছে এবং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড কি না—সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।রাজধানীর ব্যস্ত এলাকায় প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীরা জানান, গুলির শব্দে মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় দৌড়াদৌড়ি শুরু হয়। যদিও পরে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়, তবে নিরাপত্তা নিয়ে মানুষের উদ্বেগ কাটেনি। নিহত মোছাব্বিরের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যে কোনো মূল্যেই এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল রহস্য উদঘাটন করা হবে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে। তবে একের পর এক রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—রাষ্ট্র কি আদৌ নাগরিকের জীবন নিরাপদ রাখতে পারছে?

আগামী নির্বাচিত সরকারের পাশে থাকার বার্তা চীনের

বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জানিয়েছেন, আগামী দিনে বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চীন প্রস্তুত রয়েছে। বুধবার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এ আগ্রহের কথা ব্যক্ত করেন।বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয় গুলশানে অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাতে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন এবং প্রেস সচিব সালেহ শিবলী।সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির জানান, বৈঠকে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং ভবিষ্যতে একসঙ্গে কাজ করার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি উন্নয়ন সহযোগিতা কীভাবে আগামী দিনে এগিয়ে নেওয়া যায়, সে বিষয়েও মতবিনিময় হয়েছে।এর আগে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং তারেক রহমানের প্রতি সমবেদনা জানান।আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, চীনের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় বা নির্বাচন নিয়ে কোনো উদ্বেগ প্রকাশ করেননি। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, নির্বাচন বাংলাদেশের নিজস্ব বিষয় এবং এতে চীনের কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ বা মন্তব্য নেই। তবে চীনা রাষ্ট্রদূত প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন যে, নির্বাচনের মাধ্যমে যে সরকারই গঠিত হোক না কেন, সেই নির্বাচিত সরকার দেশের উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।হুমায়ুন কবির আরও জানান, রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেছেন, আগামী দিনে বাংলাদেশে যে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করবে, তার সঙ্গে চীন ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, চীন বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধু এবং অবকাঠামো, যোগাযোগ, জ্বালানি, শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী। ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের উন্নয়নে চীন কীভাবে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, সে বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।সার্বিকভাবে এই সাক্ষাৎকে দুই দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

আগামী নির্বাচিত সরকারের পাশে থাকার বার্তা চীনের

পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় খালেদা জিয়ার দাফন, স্বামীর পাশে চিরনিদ্রায়; নিজ হাতে মাকে কবরে শায়িত করলেন তারেক রহমান

জেল–জুলুম, নির্যাতন, দীর্ঘ বন্দিত্ব ও শারীরিক যন্ত্রণার মধ্যেও আপসহীন থেকে দেশের গণতান্ত্রিক ও আধিপত্যবিরোধী রাজনীতির প্রতীক হয়ে থাকা তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া আর নেই। কোটি মানুষকে শোকস্তব্ধ করে অনন্ত যাত্রায় পাড়ি জমিয়েছেন তিনি। প্রিয় স্বামী, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন সাবেক এই সরকারপ্রধান।বুধবার (তারিখ) বিকাল পৌনে ৫টায় রাজধানীর জিয়া উদ্যানে স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধির পাশে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় খালেদা জিয়াকে দাফন করা হয়। এর আগে সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।মায়ের কবরে নামলেন তারেক রহমানধর্মীয় রীতি অনুযায়ী বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান সবার আগে কবরে নেমে নিজ হাতে মাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করেন। তিনিই প্রথম মায়ের কবরে মাটি দেন। এরপর পরিবারের নারী সদস্যসহ অন্যান্য স্বজন, তিন বাহিনীর প্রধান, বিএনপির শীর্ষ নেতারা একে একে কবরে মাটি দেন। (খবর: বাসস)দাফন শেষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পক্ষে তাঁদের সামরিক সচিব খালেদা জিয়ার কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। পরে তারেক রহমান ও তিন বাহিনীর প্রধানরাও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শেষে মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।মানিক মিয়া এভিনিউতে জনসমুদ্রদাফনের আগে দুপুরে জোহরের নামাজের পর মানিক মিয়া এভিনিউতে খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় সম্মান জানানো হয়। সকাল থেকেই জাতীয় সংসদ ভবনসংলগ্ন এলাকায় লাখো মানুষের ঢল নামে। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জনস্রোত রূপ নেয় জনসমুদ্রে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাস, ট্রাক ও ট্রেনে করে মানুষ ছুটে আসেন প্রিয় নেত্রীকে শেষ বিদায় জানাতে।কালো ব্যাজ, চোখভরা অশ্রু আর কান্নাজড়িত দোয়ায় বিদায় জানানো হয় আপসহীন এই নেত্রীকে। অনেকেই বলছেন, দেশের ইতিহাসে এমন বিশাল জানাজা আর দেখা যায়নি।রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক অঙ্গনের শীর্ষ ব্যক্তিদের উপস্থিতিজাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত জানাজায় ইমামতি করেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেক। পুরো আয়োজন পরিচালনা করেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।জানাজায় অংশ নেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার–উজ–জামান, নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান।এছাড়া উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা, বিশিষ্ট নাগরিক, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ শীর্ষ নেতারা।তারেক রহমানের আবেগঘন বক্তব্যজানাজা শুরুর আগে দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘মরহুমা খালেদা জিয়া জীবিত থাকা অবস্থায় যদি কারো কথায় বা আচরণে কষ্ট দিয়ে থাকেন, তাহলে তাঁর পক্ষ থেকে আমি ক্ষমাপ্রার্থী। দয়া করে তাঁর জন্য দোয়া করবেন, আল্লাহ যেন তাঁকে বেহেশত নসিব করেন।’আন্তর্জাতিক কূটনীতিকদের অংশগ্রহণমানিক মিয়া এভিনিউতে জানাজায় যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, রাশিয়া, চীন, ইরান, কাতারসহ ৩২টি দেশের কূটনীতিক উপস্থিত ছিলেন। পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক জানাজায় অংশ নিয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ঢাকায় এসে তারেক রহমানের কাছে ভারতের শোকবার্তা হস্তান্তর করেন।কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাজনসমাগম সামাল দিতে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা ও আশপাশে বিজিবি, পুলিশ, র‌্যাব, এপিবিএন ও সেনাবাহিনীর ১০ হাজারের বেশি সদস্য মোতায়েন করা হয়।জীবনাবসান৮০ বছর বয়সী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস ও কিডনির জটিলতায় ভুগছিলেন। গত ২৩ নভেম্বর গুরুতর অসুস্থ হয়ে তাঁকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ৩৭ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে তিনি ইন্তেকাল করেন। দীর্ঘ বন্দিদশা ও চিকিৎসা-বঞ্চনার কারণে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর বন্দিত্ব থেকে মুক্ত হয়ে চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি চিকিৎসার জন্য তিনি লন্ডনে যান। সেখানে কিছুটা সুস্থ হয়ে বড় ছেলে তারেক রহমানের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করেন। তবে বয়স ও জটিল রোগের সঙ্গে লড়াই শেষে অবশেষে পরম সত্যকে মেনে নেন আপসহীন এই নেত্রী।

পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় খালেদা জিয়ার দাফন, স্বামীর পাশে চিরনিদ্রায়; নিজ হাতে মাকে কবরে শায়িত করলেন তারেক রহমান

জাতীয় কবি নজরুলের সমাধির পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত শহীদ ওসমান হাদি

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম বিপ্লবী ও আধিপত্যবাদবিরোধী সংগঠন ‘ইনকিলাব মঞ্চ’-এর মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদিকে লাখো মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সমাহিত করা হয়েছে। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) বিকেল সোয়া ৩টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে তাকে দাফন করা হয়। এর আগে, শনিবার দুপুর আড়াইটায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মরহুমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন তার বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক। শরিফ ওসমান হাদির জানাজা ও দাফনে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। জানাজায় অংশ নেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, এবং তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামসহ অন্যান্য উপদেষ্টাবৃন্দ। দাফনের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান, সহ-উপাচার্য অধ্যাপক মামুন আহমেদ, দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম এবং ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’ (এনসিপি)-এর সদস্য সচিব আখতার হোসেন, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য ও সর্বস্তরের জনতা তাকে শেষ বিদায় জানান। জানাজার আগে সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস আবেগঘন বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, “আমরা আজ তোমাকে, প্রিয় হাদিকে বিদায় দিতে আসিনি; আমরা তোমার কাছে ওয়াদা করতে এসেছি। তুমি আমাদের কানে যে মন্ত্র দিয়ে গেছ, ‘বল বীর, বল উন্নত মম শির’—তা বাংলাদেশের কেউ কোনোদিন ভুলতে পারবে না। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, ততদিন আমাদের শির কখনো নত হবে না। আমরা দুনিয়ার সামনে মাথা উঁচু করে চলব।” তিনি আরও বলেন, “হাদি আমাদের শিখিয়ে গেছে কীভাবে বিনীতভাবে মানুষের কাছে যেতে হয় এবং মানুষকে কষ্ট না দিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য প্রকাশ করতে হয়। আমরা সেই শিক্ষা গ্রহণ করলাম এবং তা চালু রাখতে চাই। শরিফ ওসমান হাদি যুগ যুগ ধরে আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবে।” ওসমান হাদির দাফনকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম সমাধি কমপ্লেক্স এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে টিএসসি, কেন্দ্রীয় মসজিদ এবং সমাধি কমপ্লেক্সের মূল ফটকের সামনে ব্যারিকেড দেওয়া হয় এবং মসজিদের ফটকগুলো সাময়িক বন্ধ রাখা হয়।শহীদ শরিফ ওসমান হাদির অকাল প্রয়াণে তার পরিবার, সহযোদ্ধা এবং দেশবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

জাতীয় কবি নজরুলের সমাধির পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত শহীদ ওসমান হাদি

গুলশান-বনানী আওয়ামীলীগের মদদতদাতা মাদারি মিজানের খুটির জোর কোথায় ?

রাজধানীর গুলশান বনানী কড়াইল, বেলতলা,স্যাটেলাইট, মহাখালী সাততালা এলাকার আশেপাশে প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি সহ সীমাহীন লুটপাট ভাঙ্গচুর অপরাধে অভিযুক্ত । তথ্যসূত্র অভিযোগ উঠেছে বনানী চিহ্নিত মিজানুর রহমান মিজান সহ একদল অজ্ঞাত  কিশোর গ্যাং বনানী থানা  এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে। সরকার পতনের পর মাদারি মিজান দিন দিন বেপরোয়া রুপ ধারণ করে। আরো তথ্যসূত্রে অভিযোগ উঠেছে বনানী থানা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়কের ভূমিকায় কিছুদিন থাকলেও পরবর্তীতে নানান অপকর্মের মাস্টারমাইন্ডের কারনে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়   মাদারি মিজানকে। গোপন সূত্রে পাওয়া খবর আওয়ামী লীগের বনানী থানার সহ  সভাপতি ও  ২০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলার নাসির ওরফে কালা নাসিরের সাথে রয়েছে তার অন্তরঙ্গ সম্পর্কে। আলোচিত বিতর্কিত কালা নাসিরকে  মামলা থেকে বাঁচাতে থানায় গিয়ে কয়েকবার তদবীর করেছেন তিনি এমনি তথ্য রয়েছে আমাদের দপ্তরের । এখানেই শেষ নয় তার বিরুদ্ধে রয়েছে নানান অভিযোগ সাধারণ মানুষকে আওয়ামী লীগের তকমা লাগিয়ে মামলার ভয় দেখিয়ে বাণিজ্য করে বেড়ায়। থানার কয়েকজন বড় কর্মকর্তার সাথে তার সুসম্পর্ক সেই সুবাদে মানুষকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে অনেকে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে মাদারি মিজানের বিরুদ্ধে। মামলা নমুনা ছাত্র হত্যা মামলা ভয় দেখিয়ে এখন তিনি ব্যবসায় পরিণত করেছেন। এমন অদ্ভুত কর্মকাণ্ড দেখে এলাকারত মানুষ হতাশ। বিগত কয়েক বছর  বড় আন্দোলনে ভূমিকা না থাকলেও এখন তিনি তারেক জিয়ার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি দাবি মিজান মানুষ কে বলে বেড়ায়। অভিযোগ রয়েছে সরকার পতনে  ভূমিকা না থাকলেও এখন তিনি মস্ত বড় নেতা। আন্দোলন বৈষম্যকে কাজে লাগিয়ে  মানুষকে মিথ্যা মামলা হয়রানি করার অভিযোগ রয়েছে এই বিতর্কিত নেতার বিরুদ্ধে, থানার কিছু কর্মকর্তাদের সাথে রয়েছে তার অন্তরঙ্গ সুসম্পর্ক। জানা যায় তেলবাজি চাপাবাজি করে স্বৈরাচার হাসিনার আমলে সে আওয়ামী লীগের থেকে অনেক সুবিধা নিয়েছেন। তার এই অপকর্ম দিন দিন যেন বেড়েই চলেছে। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক বিএনপির কর্মী বলেন মদ খেয়ে মাতলামি অবস্থায় নেতাকর্মীদের সাথে দুর্ব্যবহার করেন তিনি এমন অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।আরও জানা যায় এমন অবস্থা খিলক্ষেত প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠাতা সভাপতিকে হুমকি সহ বিভিন্ন ভাবে তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের তকমা লাগিয়ে  অপপ্রচার করে আসছে এই মিজানুর রহমান মিজান। দল থেকে বহিষ্কৃত নেতা এত ক্ষমতার উৎস কোথায় জানতে চাই বিএনপির সাধারণ কর্মীরা। তার ছত্রছায়া বনানী থানার আওতা দিন ঢাকা নিউ এয়ারপোর্ট রোডে গড়ে উঠেছে একাধিক অবৈধ স্থাপনা। চোরি, ছিনতাই মাদক ব্যবসা সহ নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকান্ড। মাদারী মিজানের নামে আরো অভিযোগ রয়েছে রাজনীতির আড়ালে ম্যানপাওয়ারের ব্যবসা করে লোক ঠকিয়ে মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে বিদেশে লোক পাঠানোর। তার বনানী ম্যানপাওয়ার অফিস সন্ধ্যার পরে হয়ে ওঠ সন্ত্রাসীদের আতুর ঘর। বিভিন্ন অবৈধ স্পা, বার, সিষা সেন্টার মাঝারি মিজানকে মাশোয়ারা দিয়ে গড়ে উঠেছে বনানী এলাকায়। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি দলীয়  স্বচ্ছতা ও ক্লিন ইমেজে বদ্ধপরিকর এমন সময় দলের নাম ভাঙ্গিয়ে দলের বদনাম করে নিজের ফায়দা লুটে আখের গোছাচ্ছে এই দুশ্চরিত্র নেতা। নাম গোপন রাখার শর্তে, বনানী থানা বিএনপির এক কর্মী আমাদেরকে জানায়, মাদারি মিজানের বর্তমান কর্মকাণ্ড দলের জন্য হুমকি  ও সমাজের জন্য হুমকি।একজন বহিষ্কৃত নেতা কোন খুঁটির জোরে এমন কর্মকাণ্ড করার সাহস পায় আমরা তা বুঝিনা। তিনি আরো বলেন আমরা চাই তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে বনানী এলাকাকে  ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করা হোক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। কলম চলবে।

গুলশান-বনানী আওয়ামীলীগের মদদতদাতা মাদারি মিজানের খুটির জোর কোথায় ?

খেলাধুলা

সকল জেলার খবর

আর্কাইভ

খেলাধুলা

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় পর্দা উঠলো বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নস লীগ-২৪

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় পর্দা উঠলো বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নস লীগ-২৪

স্পোর্টস ডেস্ক:  ক্যালিফোর্নিয়ার উডলি ক্রিকেট পার্কে ৮ দলের অংশগ্রহনে পর্দা উঠলো বহুল প্রত্যাশিত বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নস লীগ ২০২৪।গত রবিবার স্থানীয় সময় সকাল ৯ টায় উডলি ক্রিকেট গাউন্ডে  বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নস লীগের উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠানিত হয়।  টুর্ণামেন্টের উদ্ধোধনী ম্যাচে রুথলেস গ্লাডিয়েটরস কে ৬ উইকেটে হারিয়ে প্রথম জয় তুলে নেয় ক্যালিফোর্নিয়া ইগল। এছাড়া খেলার প্রথম রাউন্ডে চারটি পৃথক মাঠে ৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়।এবারের আসরে সবার দৃষ্টির কেন্দ্রবিন্দুতে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির স্পন্সরে অংশ নেয়া বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের  টিম রুথলেস গ্লাডযেটরস।প্রবাসী বাংলাদেশিদের সবচেয়ে বড় এই ক্রিকেট টুর্নামেন্টে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন সিটির বাংলাদেশী ক্রিকেটারদের পাশাপাশি বিদেশী ক্রিকেটাররাও অংগ্রহন করেন।টুর্ণামেন্টে অংশগ্রহণ নেয়া ৮টি দলের গ্রুপ "এ" তে বেঙ্গল ইলেভেন, এল এ বাংলা ইউনিক, নোহো টাইটানস, এসএফ ওয়ারিয়র্স & গ্রুপ "বি" তে বেঙ্গল ওয়ারিয়র্স, ক্যালিফোর্নিয়া ঈগলস, রুথলেস গ্ল্যাডিয়েটর্স  এবং সিলেট কনকোয়েরার্স। টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া ৮টি দলের খেলোয়াড় ও গণমাধ্যমকর্মীসহ নানা শ্রেণিপেশার তিনশতাধিক ক্রিকেট ভক্ত উপস্থিত ছিলেন।

ইভেন্ট

লা লিগা
লা লিগা
ইপিএল
ইপিএল
ফ্রেঞ্চ লিগ
ফ্রেঞ্চ লিগ
ফ্রেঞ্চ ওপেন
ফ্রেঞ্চ ওপেন
উইম্বলডন
উইম্বলডন
লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ
লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ
ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ
ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ
বুন্দেসলিগা
বুন্দেসলিগা
উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ
উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ
ইউরোপা লিগ
ইউরোপা লিগ
ইউএস ওপেন
ইউএস ওপেন

পডকাস্ট পডকাস্ট

    কোন পডকাস্ট নেই !