দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

মাদক ও সাইবার অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানে পুলিশ: ‘জিরো টলারেন্স’ বাস্তবায়নের নির্দেশ আইজিপির

মাদক ও সাইবার অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানে পুলিশ: ‘জিরো টলারেন্স’ বাস্তবায়নের নির্দেশ আইজিপির

মুন্সিগঞ্জের ডাকাতি মামলার আসামি কক্সবাজারে গ্রেফতার, র‍্যাবের যৌথ অভিযান সফল

দীর্ঘ ছুটি শেষে খুললো হাইকোর্ট: ৬৩ বেঞ্চে শুরু নিয়মিত বিচারকাজ

ছয় মাসের দাম্পত্য, শেষ হলো করুণ পরিণতিতে—পুলিশ সদস্য সম্রাটের মৃত্যুতে স্তব্ধ পরিবার

যশোরে বিজিবির সফল অভিযান: জব্দ ২ লক্ষাধিক টাকার ভারতীয় মাদক ও পণ্য

রেলওয়ে পুলিশ লাইনে মর্মান্তিক ঘটনা: কনস্টেবল সম্রাটের রহস্যজনক মৃত্যু

শাপলা চত্বর গণহত্যা মামলায় সাবেক আইজিপি মামুনের সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত

জয়পুরহাটে বিজিবির অভিযানে মাদকসহ দুই নারী ধরা

মাদক ও সাইবার অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানে পুলিশ: ‘জিরো টলারেন্স’ বাস্তবায়নের নির্দেশ আইজিপির

মাদক ও সাইবার অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানে পুলিশ: ‘জিরো টলারেন্স’ বাস্তবায়নের নির্দেশ আইজিপির
-ছবি: সংগৃহীত

মাদক ও সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না—এমন স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। তিনি বলেছেন, এসব অপরাধ দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে এবং এ ক্ষেত্রে পুলিশ সদস্যদের দায়িত্বশীল ও পেশাদার আচরণ নিশ্চিত করতে হবে।

সোমবার রাজধানীর সিআইডি সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত জানুয়ারি থেকে মার্চ ২০২৬ সময়কালের ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দুই দিনব্যাপী এই সভায় দেশের বিভিন্ন জেলা ইউনিট, বিশেষায়িত শাখা ও সদর দপ্তরের কর্মকর্তারা অংশ নেন এবং সাম্প্রতিক অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

আইজিপি বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামগ্রিকভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশের সম্মিলিত প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক একটি সফল জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন করার মধ্য দিয়ে পুলিশ সদস্যদের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে এবং জনগণের কাছ থেকেও তারা প্রশংসা পেয়েছেন। তিনি মনে করেন, এই ইতিবাচক অভিজ্ঞতা সামনে রেখে পুলিশ বাহিনী আরও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারবে। 

তিনি আরও বলেন, অপরাধ তদন্তের ক্ষেত্রে সিআইডি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে। জটিল ও সংবেদনশীল মামলার তদন্তে সিআইডির দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বিচার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করছে। তাই তদন্তের গতি বাড়ানো, মান উন্নত করা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মামলার নিষ্পত্তি নিশ্চিত করার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেন।

আইজিপি স্পষ্টভাবে বলেন, কোনো কর্মকর্তা বা সদস্যের ব্যক্তিগত অনিয়ম বা অসততা পুরো পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই প্রত্যেক সদস্যকে সততা, দায়িত্ববোধ ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখে কাজ করতে হবে। তিনি সবাইকে নিজ নিজ কর্মস্থলকে শুধু দায়িত্ব নয়, সুযোগ হিসেবেও দেখার আহ্বান জানান।

এ সময় তিনি অপরাধের মূল কারণ বিশ্লেষণের ওপর গুরুত্ব দেন। তার মতে, শুধু অপরাধ ঘটার পর ব্যবস্থা নিলেই হবে না, বরং কেন অপরাধ ঘটছে তা বুঝে আগাম পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি দ্রুত সাড়া দেওয়ার জন্য রেসপন্স টিমকে সব সময় প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেন তিনি।

সভায় সভাপতিত্ব করেন সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, দুই দিনের এই সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন ইউনিট তাদের কাজের অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেছে। এসব আলোচনা থেকে পাওয়া সুপারিশের ভিত্তিতে আগামী তিন মাসের জন্য একটি বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময় নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে পুলিশ বাহিনী সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছে। একটি জাতীয় নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়া তার বড় উদাহরণ। এখন সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নতুন উদ্যমে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে।

সভায় ক্রাইম সিন ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে দ্রুত প্রতিক্রিয়া টিম গঠন এবং বিজ্ঞানভিত্তিক তদন্ত পদ্ধতি অনুসরণের নির্দেশনাও দেওয়া হয়। তদন্তের ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়। বর্তমানে সাইবার অপরাধ দ্রুত বাড়ছে, তাই এ ধরনের অপরাধ মোকাবিলায় প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়ানো জরুরি বলেও মত দেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। 

প্রসঙ্গত, সিআইডি বাংলাদেশ পুলিশের একটি বিশেষায়িত তদন্ত সংস্থা, যা সাধারণত জটিল হত্যা, আর্থিক জালিয়াতি, সাইবার অপরাধ ও আন্তঃজেলা অপরাধের মতো গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্ত করে থাকে। অনেক সময় স্থানীয় থানার পক্ষে যেসব মামলার তদন্ত কঠিন হয়ে পড়ে, সেগুলো সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়।

অন্যদিকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশে সাইবার অপরাধের ধরন ও সংখ্যা বেড়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। অনলাইন প্রতারণা, তথ্য চুরি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে অপরাধ সংগঠনের মতো ঘটনা বাড়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর দায়িত্বও বেড়েছে।

অনুষ্ঠানের শেষে সিআইডির বিভিন্ন ইউনিটের কর্মকর্তাদের সাহসী ও ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পুরস্কার দেওয়া হয়। এতে সদস্যদের মধ্যে উৎসাহ আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সব মিলিয়ে সভায় উঠে আসা আলোচনা ও নির্দেশনা থেকে স্পষ্ট হয়েছে, মাদক ও সাইবার অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থান বজায় রেখে আধুনিক, দ্রুত এবং স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করার মাধ্যমে পুলিশ বাহিনীকে আরও জনবান্ধব ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬


মাদক ও সাইবার অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানে পুলিশ: ‘জিরো টলারেন্স’ বাস্তবায়নের নির্দেশ আইজিপির

প্রকাশের তারিখ : ২১ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

মাদক ও সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না—এমন স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। তিনি বলেছেন, এসব অপরাধ দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে এবং এ ক্ষেত্রে পুলিশ সদস্যদের দায়িত্বশীল ও পেশাদার আচরণ নিশ্চিত করতে হবে।

সোমবার রাজধানীর সিআইডি সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত জানুয়ারি থেকে মার্চ ২০২৬ সময়কালের ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দুই দিনব্যাপী এই সভায় দেশের বিভিন্ন জেলা ইউনিট, বিশেষায়িত শাখা ও সদর দপ্তরের কর্মকর্তারা অংশ নেন এবং সাম্প্রতিক অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

আইজিপি বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামগ্রিকভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশের সম্মিলিত প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক একটি সফল জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন করার মধ্য দিয়ে পুলিশ সদস্যদের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে এবং জনগণের কাছ থেকেও তারা প্রশংসা পেয়েছেন। তিনি মনে করেন, এই ইতিবাচক অভিজ্ঞতা সামনে রেখে পুলিশ বাহিনী আরও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারবে। 

তিনি আরও বলেন, অপরাধ তদন্তের ক্ষেত্রে সিআইডি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে। জটিল ও সংবেদনশীল মামলার তদন্তে সিআইডির দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বিচার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করছে। তাই তদন্তের গতি বাড়ানো, মান উন্নত করা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মামলার নিষ্পত্তি নিশ্চিত করার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেন।

আইজিপি স্পষ্টভাবে বলেন, কোনো কর্মকর্তা বা সদস্যের ব্যক্তিগত অনিয়ম বা অসততা পুরো পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই প্রত্যেক সদস্যকে সততা, দায়িত্ববোধ ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখে কাজ করতে হবে। তিনি সবাইকে নিজ নিজ কর্মস্থলকে শুধু দায়িত্ব নয়, সুযোগ হিসেবেও দেখার আহ্বান জানান।

এ সময় তিনি অপরাধের মূল কারণ বিশ্লেষণের ওপর গুরুত্ব দেন। তার মতে, শুধু অপরাধ ঘটার পর ব্যবস্থা নিলেই হবে না, বরং কেন অপরাধ ঘটছে তা বুঝে আগাম পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি দ্রুত সাড়া দেওয়ার জন্য রেসপন্স টিমকে সব সময় প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেন তিনি।

সভায় সভাপতিত্ব করেন সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, দুই দিনের এই সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন ইউনিট তাদের কাজের অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেছে। এসব আলোচনা থেকে পাওয়া সুপারিশের ভিত্তিতে আগামী তিন মাসের জন্য একটি বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময় নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে পুলিশ বাহিনী সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছে। একটি জাতীয় নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়া তার বড় উদাহরণ। এখন সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নতুন উদ্যমে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে।

সভায় ক্রাইম সিন ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে দ্রুত প্রতিক্রিয়া টিম গঠন এবং বিজ্ঞানভিত্তিক তদন্ত পদ্ধতি অনুসরণের নির্দেশনাও দেওয়া হয়। তদন্তের ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়। বর্তমানে সাইবার অপরাধ দ্রুত বাড়ছে, তাই এ ধরনের অপরাধ মোকাবিলায় প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়ানো জরুরি বলেও মত দেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। 

প্রসঙ্গত, সিআইডি বাংলাদেশ পুলিশের একটি বিশেষায়িত তদন্ত সংস্থা, যা সাধারণত জটিল হত্যা, আর্থিক জালিয়াতি, সাইবার অপরাধ ও আন্তঃজেলা অপরাধের মতো গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্ত করে থাকে। অনেক সময় স্থানীয় থানার পক্ষে যেসব মামলার তদন্ত কঠিন হয়ে পড়ে, সেগুলো সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়।

অন্যদিকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশে সাইবার অপরাধের ধরন ও সংখ্যা বেড়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। অনলাইন প্রতারণা, তথ্য চুরি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে অপরাধ সংগঠনের মতো ঘটনা বাড়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর দায়িত্বও বেড়েছে।

অনুষ্ঠানের শেষে সিআইডির বিভিন্ন ইউনিটের কর্মকর্তাদের সাহসী ও ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পুরস্কার দেওয়া হয়। এতে সদস্যদের মধ্যে উৎসাহ আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সব মিলিয়ে সভায় উঠে আসা আলোচনা ও নির্দেশনা থেকে স্পষ্ট হয়েছে, মাদক ও সাইবার অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থান বজায় রেখে আধুনিক, দ্রুত এবং স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করার মাধ্যমে পুলিশ বাহিনীকে আরও জনবান্ধব ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর