যশোর সীমান্তে অভিযান চালিয়ে ভারতীয় বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য ও চোরাচালানি মালামাল জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে ৪৯ বিজিবির বিশেষ অভিযানে উদ্ধার হওয়া এসব পণ্যের বাজারমূল্য প্রায় ২ লক্ষ ১৬ হাজার ১০০ টাকা। সীমান্তে অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধে বিজিবির এই ধারাবাহিক সাফল্য জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।
শনিবার সকালে যশোর ব্যাটালিয়নের (৪৯ বিজিবি) আওতায় হিজলী বিওপি এবং বেনাপোল আইসিপি এলাকার সীমান্তবর্তী বিভিন্ন স্থানে এই অভিযান চালানো হয়। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবি সদস্যরা ওই এলাকায় টহল জোরদার করলে পাচারকারীরা মালামাল ফেলে পালিয়ে যায়। জব্দ করা পণ্যের মধ্যে রয়েছে ভারতীয় ৫০ বোতল ইস্কাফ (Eskuf) সিরাপ, ৫০ বোতল উইনসেরেক্স (WINCEREX) কফ সিরাপ, ১১টি দামী শাড়ি, এক কেজি জিরা, ১১ প্যাকেট পাতার বিড়ি, ৩ প্যাকেট সন পাপড়ী, ১ হাজার ৯৪২টি চকলেট এবং ১৭৩টি কসমেটিকস সামগ্রী।
আটককৃত এই মালামালগুলো বর্তমানে যশোর ব্যাটালিয়নের হেফাজতে রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে আইন অনুযায়ী এসব মাদকদ্রব্য ও অবৈধ মালামাল ধ্বংস বা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
যশোর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান, পিএসসি জানিয়েছেন, সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে মাদক ও চোরাচালান রোধে বিজিবি সবসময় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের গোয়েন্দা নজরদারি এবং বিশেষ পরিকল্পনা অনুযায়ী নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। মাদক পাচারকারীদের আইনের আওতায় আনতে আমরা বদ্ধপরিকর। সীমান্তে অপরাধ দমনে বিজিবির এই ধরনের কার্যক্রম কোনোভাবেই শিথিল করা হবে না।”
সীমান্তের বর্তমান প্রেক্ষাপট ও পটভূমি যশোর ও বেনাপোল সীমান্ত এলাকা ঐতিহাসিকভাবেই অত্যন্ত সংবেদনশীল। এক সময় এই পথ দিয়ে অবাধে মাদক ও চোরাচালানি পণ্য প্রবেশ করত, যা স্থানীয় তরুণ প্রজন্মের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তবে গত কয়েক বছরে বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে পাচারের মোড় অনেকটা বদলেছে। সাধারণত চোরাকারবারিরা রাতের অন্ধকার বা ঘন কুয়াশার সুযোগ নিয়ে নদীপথ ও ফসলের মাঠ ব্যবহার করে পণ্য পাচারের চেষ্টা চালায়। বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, কেবল মাদক নয়, সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে আনা শাড়ি বা কসমেটিকস দেশীয় ব্যবসার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। তাই সরকারকে রাজস্ব দিতে এবং সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিজিবি কেবল মাদক নয়, সব ধরনের চোরাচালানি পণ্যের বিরুদ্ধেই জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।
বিজিবির এই ধরনের তৎপরতাকে সাধারণ মানুষ ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। স্থানীয়দের মতে, সীমান্তে কঠোর নজরদারি থাকলে পাচারকারীরা সক্রিয় হতে পারে না। তবে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে পাচারকারীরা স্থানীয় কিছু মানুষকে অর্থের বিনিময়ে ব্যবহার করে, যা বিজিবির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তাই সীমান্ত এলাকাকে পুরোপুরি মাদকমুক্ত করতে স্থানীয় জনগণের সচেতনতা ও সহযোগিতা বৃদ্ধি করা জরুরি।
সবশেষে বলা যায়, যশোর সীমান্তের নিরাপত্তা রক্ষায় ৪৯ বিজিবির এই অভিযান একটি ইতিবাচক বার্তা। নিয়মিত টহল এবং গোয়েন্দা তথ্যের সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমে যদি এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকে, তবে সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পাচারের প্রবণতা অনেকটাই কমে আসবে। সীমান্ত সুরক্ষা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় বিজিবির এই অগ্রযাত্রা আগামী দিনগুলোতেও বজায় থাকবে—এমনটাই প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬
যশোর সীমান্তে অভিযান চালিয়ে ভারতীয় বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য ও চোরাচালানি মালামাল জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে ৪৯ বিজিবির বিশেষ অভিযানে উদ্ধার হওয়া এসব পণ্যের বাজারমূল্য প্রায় ২ লক্ষ ১৬ হাজার ১০০ টাকা। সীমান্তে অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধে বিজিবির এই ধারাবাহিক সাফল্য জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।
শনিবার সকালে যশোর ব্যাটালিয়নের (৪৯ বিজিবি) আওতায় হিজলী বিওপি এবং বেনাপোল আইসিপি এলাকার সীমান্তবর্তী বিভিন্ন স্থানে এই অভিযান চালানো হয়। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবি সদস্যরা ওই এলাকায় টহল জোরদার করলে পাচারকারীরা মালামাল ফেলে পালিয়ে যায়। জব্দ করা পণ্যের মধ্যে রয়েছে ভারতীয় ৫০ বোতল ইস্কাফ (Eskuf) সিরাপ, ৫০ বোতল উইনসেরেক্স (WINCEREX) কফ সিরাপ, ১১টি দামী শাড়ি, এক কেজি জিরা, ১১ প্যাকেট পাতার বিড়ি, ৩ প্যাকেট সন পাপড়ী, ১ হাজার ৯৪২টি চকলেট এবং ১৭৩টি কসমেটিকস সামগ্রী।
আটককৃত এই মালামালগুলো বর্তমানে যশোর ব্যাটালিয়নের হেফাজতে রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে আইন অনুযায়ী এসব মাদকদ্রব্য ও অবৈধ মালামাল ধ্বংস বা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
যশোর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান, পিএসসি জানিয়েছেন, সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে মাদক ও চোরাচালান রোধে বিজিবি সবসময় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের গোয়েন্দা নজরদারি এবং বিশেষ পরিকল্পনা অনুযায়ী নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। মাদক পাচারকারীদের আইনের আওতায় আনতে আমরা বদ্ধপরিকর। সীমান্তে অপরাধ দমনে বিজিবির এই ধরনের কার্যক্রম কোনোভাবেই শিথিল করা হবে না।”
সীমান্তের বর্তমান প্রেক্ষাপট ও পটভূমি যশোর ও বেনাপোল সীমান্ত এলাকা ঐতিহাসিকভাবেই অত্যন্ত সংবেদনশীল। এক সময় এই পথ দিয়ে অবাধে মাদক ও চোরাচালানি পণ্য প্রবেশ করত, যা স্থানীয় তরুণ প্রজন্মের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তবে গত কয়েক বছরে বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে পাচারের মোড় অনেকটা বদলেছে। সাধারণত চোরাকারবারিরা রাতের অন্ধকার বা ঘন কুয়াশার সুযোগ নিয়ে নদীপথ ও ফসলের মাঠ ব্যবহার করে পণ্য পাচারের চেষ্টা চালায়। বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, কেবল মাদক নয়, সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে আনা শাড়ি বা কসমেটিকস দেশীয় ব্যবসার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। তাই সরকারকে রাজস্ব দিতে এবং সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিজিবি কেবল মাদক নয়, সব ধরনের চোরাচালানি পণ্যের বিরুদ্ধেই জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।
বিজিবির এই ধরনের তৎপরতাকে সাধারণ মানুষ ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। স্থানীয়দের মতে, সীমান্তে কঠোর নজরদারি থাকলে পাচারকারীরা সক্রিয় হতে পারে না। তবে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে পাচারকারীরা স্থানীয় কিছু মানুষকে অর্থের বিনিময়ে ব্যবহার করে, যা বিজিবির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তাই সীমান্ত এলাকাকে পুরোপুরি মাদকমুক্ত করতে স্থানীয় জনগণের সচেতনতা ও সহযোগিতা বৃদ্ধি করা জরুরি।
সবশেষে বলা যায়, যশোর সীমান্তের নিরাপত্তা রক্ষায় ৪৯ বিজিবির এই অভিযান একটি ইতিবাচক বার্তা। নিয়মিত টহল এবং গোয়েন্দা তথ্যের সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমে যদি এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকে, তবে সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পাচারের প্রবণতা অনেকটাই কমে আসবে। সীমান্ত সুরক্ষা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় বিজিবির এই অগ্রযাত্রা আগামী দিনগুলোতেও বজায় থাকবে—এমনটাই প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

আপনার মতামত লিখুন