দীর্ঘ ১৫ বছর পর আবারও বাংলাদেশের মাটিতে ওয়ানডে সিরিজ খেলতে আসছে অস্ট্রেলিয়া। নতুন সূচি অনুযায়ী, আগামী জুন মাসে শুরু হবে বহুল প্রতীক্ষিত এই দ্বিপক্ষীয় সিরিজ, যেখানে ওয়ানডে ও টি–টোয়েন্টি মিলিয়ে মোট ছয়টি ম্যাচ খেলবে দুই দল। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) যৌথভাবে সফরের সময়সূচিতে কিছু পরিবর্তন এনে নতুন সূচি ঘোষণা করেছে। আগে জুনের শুরুতে অস্ট্রেলিয়া দলের ঢাকায় পৌঁছানোর কথা থাকলেও সেটি কিছুটা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। সংশোধিত সূচি অনুযায়ী, সফরের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ৯ জুন। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ম্যাচ যথাক্রমে ১১ ও ১৪ জুন অনুষ্ঠিত হবে। দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের মাটিতে এই ফরম্যাটে দুই দলের লড়াই ঘিরে ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে ইতোমধ্যেই বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ দলের উন্নত পারফরম্যান্স এই সিরিজকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলবে বলে মনে করা হচ্ছে। ওয়ানডে সিরিজ শেষ হওয়ার পর দুই দল মুখোমুখি হবে টি–টোয়েন্টি সিরিজে। তিন ম্যাচের এই সংক্ষিপ্ত সংস্করণের সবগুলো ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে। ম্যাচগুলো মাঠে গড়াবে ১৭, ১৯ ও ২১ জুন। সাগরিকায় অনুষ্ঠিত এসব ম্যাচে চার-ছক্কার লড়াই দেখার অপেক্ষায় এখন থেকেই মুখিয়ে আছেন সমর্থকরা। ঐতিহাসিক দিক থেকে এই সফরের গুরুত্ব অনেক। সবশেষ ২০১১ সালে মাইকেল ক্লার্কের নেতৃত্বে অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশে এসে ওয়ানডে সিরিজ খেলেছিল। সেই সিরিজে স্বাগতিকদের হোয়াইটওয়াশ করেছিল অজিরা। এর আগে ২০০৬ সালে রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বেও একই অভিজ্ঞতা হয়েছিল বাংলাদেশের। ফলে এবার নতুন করে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের বড় সুযোগ পাচ্ছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। তবে টি–টোয়েন্টি ফরম্যাটে বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস অনেক বেশি। ২০২১ সালে অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ সফরে এসে পাঁচ ম্যাচের টি–টোয়েন্টি সিরিজ খেলেছিল। সেই সিরিজে টাইগাররা ৪–১ ব্যবধানে দাপুটে জয় তুলে নেয়। ঘরের মাঠের কন্ডিশন কাজে লাগিয়ে আবারও একই ধরনের সাফল্য পাওয়ার আশা করছে দলটি। এই সিরিজকে ঘিরে দর্শকদের জন্যও রয়েছে সুখবর। গত কয়েক বছর ধরে সম্প্রচার সংক্রান্ত জটিলতার কারণে অস্ট্রেলিয়ার দর্শকরা বাংলাদেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচগুলো সরাসরি দেখতে পারছিলেন না। তবে নতুন সম্প্রচার চুক্তি সম্পন্ন হওয়ায় এবার সেই সমস্যা দূর হয়েছে। ফলে ২০১১ সালের পর প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত কোনো সাদা বলের সিরিজ অস্ট্রেলিয়ার টেলিভিশনে সরাসরি দেখানো হবে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড দেশের ক্রিকেট আয়োজন ও আন্তর্জাতিক সিরিজ পরিচালনার প্রধান দায়িত্ব পালন করে থাকে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিসিবি আন্তর্জাতিক দলগুলোর নিয়মিত সফর নিশ্চিত করতে কাজ করছে। এই সফরও সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে জুনের এই সিরিজটি শুধু দুই দলের জন্য নয়, বিশ্ব ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছেও বিশেষ আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। দীর্ঘ বিরতির পর ওয়ানডে সিরিজের প্রত্যাবর্তন, টি–টোয়েন্টির উত্তেজনা এবং সম্প্রচার সুবিধা—সবকিছু মিলিয়ে বাংলাদেশ–অস্ট্রেলিয়া সিরিজটি হতে যাচ্ছে এবারের মৌসুমের অন্যতম আকর্ষণীয় ক্রিকেট আয়োজন।৫ বছর পর বাংলাদেশে ওয়ানডে খেলতে আসছে অস্ট্রেলিয়া, প্রকাশ পেল নতুন সূচি

শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬
দীর্ঘ ১৫ বছর পর আবারও বাংলাদেশের মাটিতে ওয়ানডে সিরিজ খেলতে আসছে অস্ট্রেলিয়া। নতুন সূচি অনুযায়ী, আগামী জুন মাসে শুরু হবে বহুল প্রতীক্ষিত এই দ্বিপক্ষীয় সিরিজ, যেখানে ওয়ানডে ও টি–টোয়েন্টি মিলিয়ে মোট ছয়টি ম্যাচ খেলবে দুই দল। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) যৌথভাবে সফরের সময়সূচিতে কিছু পরিবর্তন এনে নতুন সূচি ঘোষণা করেছে। আগে জুনের শুরুতে অস্ট্রেলিয়া দলের ঢাকায় পৌঁছানোর কথা থাকলেও সেটি কিছুটা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। সংশোধিত সূচি অনুযায়ী, সফরের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ৯ জুন। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ম্যাচ যথাক্রমে ১১ ও ১৪ জুন অনুষ্ঠিত হবে। দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের মাটিতে এই ফরম্যাটে দুই দলের লড়াই ঘিরে ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে ইতোমধ্যেই বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ দলের উন্নত পারফরম্যান্স এই সিরিজকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলবে বলে মনে করা হচ্ছে। ওয়ানডে সিরিজ শেষ হওয়ার পর দুই দল মুখোমুখি হবে টি–টোয়েন্টি সিরিজে। তিন ম্যাচের এই সংক্ষিপ্ত সংস্করণের সবগুলো ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে। ম্যাচগুলো মাঠে গড়াবে ১৭, ১৯ ও ২১ জুন। সাগরিকায় অনুষ্ঠিত এসব ম্যাচে চার-ছক্কার লড়াই দেখার অপেক্ষায় এখন থেকেই মুখিয়ে আছেন সমর্থকরা। ঐতিহাসিক দিক থেকে এই সফরের গুরুত্ব অনেক। সবশেষ ২০১১ সালে মাইকেল ক্লার্কের নেতৃত্বে অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশে এসে ওয়ানডে সিরিজ খেলেছিল। সেই সিরিজে স্বাগতিকদের হোয়াইটওয়াশ করেছিল অজিরা। এর আগে ২০০৬ সালে রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বেও একই অভিজ্ঞতা হয়েছিল বাংলাদেশের। ফলে এবার নতুন করে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের বড় সুযোগ পাচ্ছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। তবে টি–টোয়েন্টি ফরম্যাটে বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস অনেক বেশি। ২০২১ সালে অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ সফরে এসে পাঁচ ম্যাচের টি–টোয়েন্টি সিরিজ খেলেছিল। সেই সিরিজে টাইগাররা ৪–১ ব্যবধানে দাপুটে জয় তুলে নেয়। ঘরের মাঠের কন্ডিশন কাজে লাগিয়ে আবারও একই ধরনের সাফল্য পাওয়ার আশা করছে দলটি। এই সিরিজকে ঘিরে দর্শকদের জন্যও রয়েছে সুখবর। গত কয়েক বছর ধরে সম্প্রচার সংক্রান্ত জটিলতার কারণে অস্ট্রেলিয়ার দর্শকরা বাংলাদেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচগুলো সরাসরি দেখতে পারছিলেন না। তবে নতুন সম্প্রচার চুক্তি সম্পন্ন হওয়ায় এবার সেই সমস্যা দূর হয়েছে। ফলে ২০১১ সালের পর প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত কোনো সাদা বলের সিরিজ অস্ট্রেলিয়ার টেলিভিশনে সরাসরি দেখানো হবে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড দেশের ক্রিকেট আয়োজন ও আন্তর্জাতিক সিরিজ পরিচালনার প্রধান দায়িত্ব পালন করে থাকে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিসিবি আন্তর্জাতিক দলগুলোর নিয়মিত সফর নিশ্চিত করতে কাজ করছে। এই সফরও সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে জুনের এই সিরিজটি শুধু দুই দলের জন্য নয়, বিশ্ব ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছেও বিশেষ আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। দীর্ঘ বিরতির পর ওয়ানডে সিরিজের প্রত্যাবর্তন, টি–টোয়েন্টির উত্তেজনা এবং সম্প্রচার সুবিধা—সবকিছু মিলিয়ে বাংলাদেশ–অস্ট্রেলিয়া সিরিজটি হতে যাচ্ছে এবারের মৌসুমের অন্যতম আকর্ষণীয় ক্রিকেট আয়োজন।৫ বছর পর বাংলাদেশে ওয়ানডে খেলতে আসছে অস্ট্রেলিয়া, প্রকাশ পেল নতুন সূচি

আপনার মতামত লিখুন