দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

যুদ্ধবিরতির শর্তে হরমুজ প্রণালী খোলা রাখবে ইরান, সামরিক জাহাজে নিষেধাজ্ঞা

যুদ্ধবিরতির শর্তে হরমুজ প্রণালী খোলা রাখবে ইরান, সামরিক জাহাজে নিষেধাজ্ঞা

লেবাননে যুদ্ধবিরতির মধ্যে ১০ দিনের জন্য হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার ঘোষণা ইরানের

তুরস্কে স্কুলে ভয়াবহ বন্দুক হামলা: ৮ শিক্ষার্থীসহ নিহত ৯, আহত ১৩

গণতন্ত্র ছাড়া দেশের অগ্রগতি সম্ভব নয়: স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ

প্রবাসীদের অধিকার আদায়ে নিউক্যাসেলে ঐক্যের ডাক

যুদ্ধ থামেনি, তবু আলোচনা শুরু: তিন দশক পর এক টেবিলে ইসরায়েল ও লেবানন

শাপলা চত্বর মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় সাবেক আইজিপি মামুনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে ট্রাইব্যুনাল

ভারতের বিদ্যুৎকেন্দ্রে ভয়াবহ বিস্ফোরণ: পাইপলাইন ফেটে ছড়িয়ে পড়ে অতিগরম বাষ্প

যুদ্ধবিরতির শর্তে হরমুজ প্রণালী খোলা রাখবে ইরান, সামরিক জাহাজে নিষেধাজ্ঞা

যুদ্ধবিরতির শর্তে হরমুজ প্রণালী খোলা রাখবে ইরান, সামরিক জাহাজে নিষেধাজ্ঞা
-ফাইল ফটো

হরমুজ প্রণালী এখনই পুরোপুরি স্বাভাবিকভাবে চালু হচ্ছে না—শুধু যুদ্ধবিরতির শর্তে সীমিতভাবে এটি খোলা রাখা হবে বলে জানিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে শত্রু শক্তির সঙ্গে যুক্ত সামরিক জাহাজের চলাচলে কঠোর নিষেধাজ্ঞার কথাও স্পষ্ট করে দিয়েছে দেশটি।ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজা তালায়ে-নিক বলেছেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে সব ধরনের জাহাজ চলাচল আগের মতো হবে না। বিশেষ করে সামরিক জাহাজ এবং যেসব জাহাজ শত্রুপক্ষের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে বিবেচিত হবে, তাদের এই গুরুত্বপূর্ণ পানিপথ ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়া হবে না। ইরানের আধা-সরকারি বার্তাসংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি তার এই বক্তব্য প্রকাশ করেছে।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে যে পরিস্থিতিতে প্রণালী আংশিকভাবে খোলা রাখা হয়েছে, সেটি স্থায়ী নয়। বরং এটি পুরোপুরি নির্ভর করছে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর, বিশেষ করে লেবাননের চলমান পরিস্থিতির পরিবর্তনের ওপর। যদি পরিস্থিতি আবার খারাপের দিকে যায়, তাহলে যেকোনো সময় প্রণালী আবার বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘোষণা শুধু একটি সামরিক সতর্কতা নয়, বরং এটি একটি কৌশলগত বার্তাও। ইরান বোঝাতে চাইছে যে, আঞ্চলিক সংঘাতের প্রভাব শুধু স্থলভাগে সীমাবদ্ধ থাকবে না—সমুদ্রপথেও তার প্রতিফলন দেখা যেতে পারেহরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ। প্রতিদিন বিশ্বের বড় একটি অংশের তেল এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে রপ্তানি হওয়া তেলের বড় অংশ এই পথেই আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে। তাই এখানে সামান্য উত্তেজনাও বিশ্ববাজারে তেলের দামের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।

এর আগে বিভিন্ন সময় আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়লে হরমুজ প্রণালী নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ইরান ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক খারাপ হলে এই প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা তৈরি হয়।

বর্তমান পরিস্থিতিতে লেবাননকে ঘিরে যে উত্তেজনা চলছে, সেটিও এই সিদ্ধান্তের পেছনে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরান ইঙ্গিত দিয়েছে, লেবাননের পরিস্থিতি যদি আরও জটিল হয়, তাহলে তারা আবারও কঠোর অবস্থানে যেতে পারে। অর্থাৎ হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা এখন সরাসরি আঞ্চলিক রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতির সঙ্গে জড়িয়ে গেছে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের ঘোষণা সাধারণত চাপ সৃষ্টি করার কৌশল হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। এতে একদিকে নিজের নিরাপত্তা অবস্থান স্পষ্ট করা যায়, অন্যদিকে প্রতিপক্ষকে সতর্ক বার্তাও দেওয়া হয়।

সব মিলিয়ে বলা যায়, হরমুজ প্রণালী আপাতত পুরোপুরি স্বাভাবিক নয়, বরং একটি শর্তসাপেক্ষ পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। ভবিষ্যতে আঞ্চলিক সংঘাতের গতিপ্রকৃতি কী দিকে যায়, তার ওপরই নির্ভর করবে এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথের পরবর্তী অবস্থা।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬


যুদ্ধবিরতির শর্তে হরমুজ প্রণালী খোলা রাখবে ইরান, সামরিক জাহাজে নিষেধাজ্ঞা

প্রকাশের তারিখ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

হরমুজ প্রণালী এখনই পুরোপুরি স্বাভাবিকভাবে চালু হচ্ছে না—শুধু যুদ্ধবিরতির শর্তে সীমিতভাবে এটি খোলা রাখা হবে বলে জানিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে শত্রু শক্তির সঙ্গে যুক্ত সামরিক জাহাজের চলাচলে কঠোর নিষেধাজ্ঞার কথাও স্পষ্ট করে দিয়েছে দেশটি।ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজা তালায়ে-নিক বলেছেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে সব ধরনের জাহাজ চলাচল আগের মতো হবে না। বিশেষ করে সামরিক জাহাজ এবং যেসব জাহাজ শত্রুপক্ষের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে বিবেচিত হবে, তাদের এই গুরুত্বপূর্ণ পানিপথ ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়া হবে না। ইরানের আধা-সরকারি বার্তাসংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি তার এই বক্তব্য প্রকাশ করেছে।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে যে পরিস্থিতিতে প্রণালী আংশিকভাবে খোলা রাখা হয়েছে, সেটি স্থায়ী নয়। বরং এটি পুরোপুরি নির্ভর করছে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর, বিশেষ করে লেবাননের চলমান পরিস্থিতির পরিবর্তনের ওপর। যদি পরিস্থিতি আবার খারাপের দিকে যায়, তাহলে যেকোনো সময় প্রণালী আবার বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘোষণা শুধু একটি সামরিক সতর্কতা নয়, বরং এটি একটি কৌশলগত বার্তাও। ইরান বোঝাতে চাইছে যে, আঞ্চলিক সংঘাতের প্রভাব শুধু স্থলভাগে সীমাবদ্ধ থাকবে না—সমুদ্রপথেও তার প্রতিফলন দেখা যেতে পারেহরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ। প্রতিদিন বিশ্বের বড় একটি অংশের তেল এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে রপ্তানি হওয়া তেলের বড় অংশ এই পথেই আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে। তাই এখানে সামান্য উত্তেজনাও বিশ্ববাজারে তেলের দামের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।

এর আগে বিভিন্ন সময় আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়লে হরমুজ প্রণালী নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ইরান ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক খারাপ হলে এই প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা তৈরি হয়।

বর্তমান পরিস্থিতিতে লেবাননকে ঘিরে যে উত্তেজনা চলছে, সেটিও এই সিদ্ধান্তের পেছনে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরান ইঙ্গিত দিয়েছে, লেবাননের পরিস্থিতি যদি আরও জটিল হয়, তাহলে তারা আবারও কঠোর অবস্থানে যেতে পারে। অর্থাৎ হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা এখন সরাসরি আঞ্চলিক রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতির সঙ্গে জড়িয়ে গেছে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের ঘোষণা সাধারণত চাপ সৃষ্টি করার কৌশল হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। এতে একদিকে নিজের নিরাপত্তা অবস্থান স্পষ্ট করা যায়, অন্যদিকে প্রতিপক্ষকে সতর্ক বার্তাও দেওয়া হয়।

সব মিলিয়ে বলা যায়, হরমুজ প্রণালী আপাতত পুরোপুরি স্বাভাবিক নয়, বরং একটি শর্তসাপেক্ষ পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। ভবিষ্যতে আঞ্চলিক সংঘাতের গতিপ্রকৃতি কী দিকে যায়, তার ওপরই নির্ভর করবে এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথের পরবর্তী অবস্থা।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর