যুক্তরাজ্যের নিউক্যাসেল শহরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জোরালো আহ্বান জানানো হয়েছে। গত ১৪ এপ্রিল অনুষ্ঠিত এক সভায় দেশবন্ধু রেমিটেন্স যোদ্ধা সংসদের নেতারা বলেন, প্রবাসীদের ন্যায্য দাবি আদায়ে সবাইকে এক প্ল্যাটফর্মে আসতে হবে।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এ এন এম ঈসা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “ঐক্যই আমাদের শক্তি। সবাই এক হলে অধিকার আদায় করা সম্ভব।” তিনি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর বিখ্যাত উক্তির উদাহরণ টেনে বলেন, ঐক্য ছাড়া কোনো বড় অর্জন সম্ভব নয়। তার ভাষায়, প্রবাসীদের কষ্টার্জিত অর্থ কেউ অন্যায়ভাবে ব্যবহার করলে তা মেনে নেওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, দেশের স্বার্থ রক্ষা করেই প্রবাসীদের অধিকার আদায় করতে হবে। “আমরা এমনভাবে এগোবো, যাতে দেশের ক্ষতি না হয়, আবার প্রবাসীদের ন্যায্য দাবিও উপেক্ষিত না হয়”—এমন বার্তাই দেন তিনি। তার বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল, সংগঠনটি কোনো সংঘাত নয়, বরং সচেতন ও সংগঠিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে দাবি আদায়ের পক্ষে।
এই বক্তব্যের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে কাতার থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সংগঠনের সদস্য সচিব এম এ রউফ বলেন, “বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা রেমিটেন্স যোদ্ধাদের একসাথে কাজ করতে হবে। একতা ছাড়া আমাদের অবস্থান শক্ত হবে না।” তিনি আরও যোগ করেন, বিভক্ত হয়ে নয়, বরং পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখে এগিয়ে গেলে প্রবাসীদের মর্যাদা নিশ্চিত করা সম্ভব।
সভায় বক্তারা আরও বলেন, “আমারটা আমার, আপনারটা আপনার”—এই ন্যায়ের ভিত্তিতেই তারা নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চান। একইসঙ্গে তারা সবাইকে বিভাজনের রাজনীতি থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান।
এই সভা থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সংগঠনের কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যদের শুভেচ্ছা ও সালাম জানানো হয়, যা প্রবাসীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদার করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পটভূমি হিসেবে জানা যায়, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ রেমিটেন্স নির্ভর দেশ। মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে কর্মরত লাখো প্রবাসী প্রতিবছর দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখছেন। এই রেমিটেন্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে অনেক সময় প্রবাসীরা নানা প্রশাসনিক জটিলতা, হয়রানি এবং অধিকার বঞ্চনার অভিযোগ তুলে আসছেন।
দেশবন্ধু রেমিটেন্স যোদ্ধা সংসদ মূলত এসব সমস্যার সমাধান এবং প্রবাসীদের অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই কাজ করছে বলে সংগঠনটির নেতারা জানিয়েছেন। তারা দাবি করেন, একটি সংগঠিত প্ল্যাটফর্ম থাকলে প্রবাসীদের কণ্ঠ আরও জোরালোভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে।
সব মিলিয়ে, নিউক্যাসেলের এই সভা প্রবাসীদের মধ্যে ঐক্যের বার্তা আরও শক্তিশালী করেছে। বক্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, ভবিষ্যতে এই ঐক্যই প্রবাসী বাংলাদেশিদের অধিকার আদায়ে বড় ভূমিকা রাখবে।

বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬
যুক্তরাজ্যের নিউক্যাসেল শহরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জোরালো আহ্বান জানানো হয়েছে। গত ১৪ এপ্রিল অনুষ্ঠিত এক সভায় দেশবন্ধু রেমিটেন্স যোদ্ধা সংসদের নেতারা বলেন, প্রবাসীদের ন্যায্য দাবি আদায়ে সবাইকে এক প্ল্যাটফর্মে আসতে হবে।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এ এন এম ঈসা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “ঐক্যই আমাদের শক্তি। সবাই এক হলে অধিকার আদায় করা সম্ভব।” তিনি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর বিখ্যাত উক্তির উদাহরণ টেনে বলেন, ঐক্য ছাড়া কোনো বড় অর্জন সম্ভব নয়। তার ভাষায়, প্রবাসীদের কষ্টার্জিত অর্থ কেউ অন্যায়ভাবে ব্যবহার করলে তা মেনে নেওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, দেশের স্বার্থ রক্ষা করেই প্রবাসীদের অধিকার আদায় করতে হবে। “আমরা এমনভাবে এগোবো, যাতে দেশের ক্ষতি না হয়, আবার প্রবাসীদের ন্যায্য দাবিও উপেক্ষিত না হয়”—এমন বার্তাই দেন তিনি। তার বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল, সংগঠনটি কোনো সংঘাত নয়, বরং সচেতন ও সংগঠিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে দাবি আদায়ের পক্ষে।
এই বক্তব্যের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে কাতার থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সংগঠনের সদস্য সচিব এম এ রউফ বলেন, “বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা রেমিটেন্স যোদ্ধাদের একসাথে কাজ করতে হবে। একতা ছাড়া আমাদের অবস্থান শক্ত হবে না।” তিনি আরও যোগ করেন, বিভক্ত হয়ে নয়, বরং পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখে এগিয়ে গেলে প্রবাসীদের মর্যাদা নিশ্চিত করা সম্ভব।
সভায় বক্তারা আরও বলেন, “আমারটা আমার, আপনারটা আপনার”—এই ন্যায়ের ভিত্তিতেই তারা নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চান। একইসঙ্গে তারা সবাইকে বিভাজনের রাজনীতি থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান।
এই সভা থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সংগঠনের কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যদের শুভেচ্ছা ও সালাম জানানো হয়, যা প্রবাসীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদার করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পটভূমি হিসেবে জানা যায়, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ রেমিটেন্স নির্ভর দেশ। মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে কর্মরত লাখো প্রবাসী প্রতিবছর দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখছেন। এই রেমিটেন্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে অনেক সময় প্রবাসীরা নানা প্রশাসনিক জটিলতা, হয়রানি এবং অধিকার বঞ্চনার অভিযোগ তুলে আসছেন।
দেশবন্ধু রেমিটেন্স যোদ্ধা সংসদ মূলত এসব সমস্যার সমাধান এবং প্রবাসীদের অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই কাজ করছে বলে সংগঠনটির নেতারা জানিয়েছেন। তারা দাবি করেন, একটি সংগঠিত প্ল্যাটফর্ম থাকলে প্রবাসীদের কণ্ঠ আরও জোরালোভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে।
সব মিলিয়ে, নিউক্যাসেলের এই সভা প্রবাসীদের মধ্যে ঐক্যের বার্তা আরও শক্তিশালী করেছে। বক্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, ভবিষ্যতে এই ঐক্যই প্রবাসী বাংলাদেশিদের অধিকার আদায়ে বড় ভূমিকা রাখবে।

আপনার মতামত লিখুন