যুক্তরাজ্যের নিউক্যাসেল শহরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। দেশবন্ধু রেমিটেন্স যোদ্ধা সংসদের উদ্যোগে আয়োজিত এক সভায় বক্তারা বলেন, বিভক্ত অবস্থায় নয়—একক প্ল্যাটফর্মেই প্রবাসীদের শক্তি ও দাবি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
গত ১৪ এপ্রিল নিউক্যাসেলে অনুষ্ঠিত এই সভায় যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের অধিকার, সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভায় অংশগ্রহণকারী বক্তারা মনে করেন, প্রবাসীদের অবদান দেশের অর্থনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও অনেক ক্ষেত্রে তাদের ন্যায্য দাবি ও প্রাপ্য মর্যাদা নিশ্চিত হয় না। তাই এই বাস্তবতায় সংগঠিত হওয়া সময়ের দাবি।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে দেশবন্ধু রেমিটেন্স যোদ্ধা সংসদের প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এ এন এম ঈসা ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, “ঐক্যই আমাদের শক্তি। আমরা যদি সবাই একসাথে থাকতে পারি, তাহলে আমাদের অধিকার আদায় করা সম্ভব।”
তার বক্তব্যে ইতিহাসের উদাহরণ টেনে তিনি বোঝাতে চেষ্টা করেন, বড় কোনো লক্ষ্য অর্জনের জন্য সম্মিলিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য। তিনি আরও বলেন, প্রবাসীদের কষ্টার্জিত অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে এবং কোনো ধরনের অনিয়ম মেনে নেওয়া হবে না।
অ্যাডভোকেট ঈসা তার বক্তব্যে স্পষ্ট করেন, প্রবাসীদের অধিকার আদায়ের লড়াই যেন দেশের স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হয়।
তিনি বলেন, “আমরা এমনভাবে এগোবো, যাতে দেশের ক্ষতি না হয়, আবার প্রবাসীদের ন্যায্য দাবিও উপেক্ষিত না হয়।”
তার এই বক্তব্যে বোঝা যায়, সংগঠনটি সংঘাত নয় বরং সমন্বিত ও দায়িত্বশীল পদ্ধতিতে দাবিদাওয়া তুলে ধরতে চায়।
সভায় কাতার থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সংগঠনের সদস্য সচিব এম এ রউফ প্রবাসীদের মধ্যে বৈশ্বিক সংযোগ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, “বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা রেমিটেন্স যোদ্ধাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে। একতা ছাড়া আমাদের অবস্থান শক্তিশালী হবে না।”
তিনি আরও যোগ করেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে এগিয়ে গেলে প্রবাসীদের মর্যাদা এবং অধিকার আরও সুসংহত হবে।
সভায় বক্তারা একাধিকবার বিভক্তির রাজনীতি থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান। তারা বলেন, “আমারটা আমার, আপনারটা আপনার”—এই ন্যায়ের ভিত্তিতেই অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
বক্তাদের মতে, অভ্যন্তরীণ বিভাজন প্রবাসীদের শক্তিকে দুর্বল করে। তাই সকল মতপার্থক্য ভুলে একটি সাধারণ লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এই সভা থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সংগঠনের কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
নেতারা মনে করেন, একটি শক্তিশালী ও সুসংগঠিত প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে পারলে প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
সভায় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের প্রতি শুভেচ্ছা ও সংহতি জানানো হয়, যা ভবিষ্যতে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অবদান দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ। মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত লাখো বাংলাদেশি প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশে পাঠান।
এই রেমিটেন্স দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তবে বিভিন্ন সময়ে প্রবাসীরা প্রশাসনিক জটিলতা, সেবাপ্রাপ্তিতে ভোগান্তি এবং অধিকার বঞ্চনার অভিযোগ তুলে আসছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রবাসীদের সংগঠিত প্ল্যাটফর্ম গড়ে ওঠা তাদের দাবি আদায়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
একদিকে যেমন এটি তাদের সমস্যাগুলোকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতে সহায়তা করবে, অন্যদিকে দেশের নীতিনির্ধারকদের কাছেও বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
তবে সংগঠনগুলোকে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং ইতিবাচক কার্যক্রম বজায় রাখতে হবে—এমন মতও উঠে এসেছে বিভিন্ন মহল থেকে।
সব মিলিয়ে, নিউক্যাসেলে অনুষ্ঠিত এই সভা প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ঐক্যের বার্তাকে আরও শক্তিশালী করেছে।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই ঐক্য ভবিষ্যতে প্রবাসীদের অধিকার আদায়, মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং দেশের উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

রোববার, ৩১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬
যুক্তরাজ্যের নিউক্যাসেল শহরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। দেশবন্ধু রেমিটেন্স যোদ্ধা সংসদের উদ্যোগে আয়োজিত এক সভায় বক্তারা বলেন, বিভক্ত অবস্থায় নয়—একক প্ল্যাটফর্মেই প্রবাসীদের শক্তি ও দাবি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
গত ১৪ এপ্রিল নিউক্যাসেলে অনুষ্ঠিত এই সভায় যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের অধিকার, সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভায় অংশগ্রহণকারী বক্তারা মনে করেন, প্রবাসীদের অবদান দেশের অর্থনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও অনেক ক্ষেত্রে তাদের ন্যায্য দাবি ও প্রাপ্য মর্যাদা নিশ্চিত হয় না। তাই এই বাস্তবতায় সংগঠিত হওয়া সময়ের দাবি।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে দেশবন্ধু রেমিটেন্স যোদ্ধা সংসদের প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এ এন এম ঈসা ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, “ঐক্যই আমাদের শক্তি। আমরা যদি সবাই একসাথে থাকতে পারি, তাহলে আমাদের অধিকার আদায় করা সম্ভব।”
তার বক্তব্যে ইতিহাসের উদাহরণ টেনে তিনি বোঝাতে চেষ্টা করেন, বড় কোনো লক্ষ্য অর্জনের জন্য সম্মিলিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য। তিনি আরও বলেন, প্রবাসীদের কষ্টার্জিত অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে এবং কোনো ধরনের অনিয়ম মেনে নেওয়া হবে না।
অ্যাডভোকেট ঈসা তার বক্তব্যে স্পষ্ট করেন, প্রবাসীদের অধিকার আদায়ের লড়াই যেন দেশের স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হয়।
তিনি বলেন, “আমরা এমনভাবে এগোবো, যাতে দেশের ক্ষতি না হয়, আবার প্রবাসীদের ন্যায্য দাবিও উপেক্ষিত না হয়।”
তার এই বক্তব্যে বোঝা যায়, সংগঠনটি সংঘাত নয় বরং সমন্বিত ও দায়িত্বশীল পদ্ধতিতে দাবিদাওয়া তুলে ধরতে চায়।
সভায় কাতার থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সংগঠনের সদস্য সচিব এম এ রউফ প্রবাসীদের মধ্যে বৈশ্বিক সংযোগ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, “বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা রেমিটেন্স যোদ্ধাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে। একতা ছাড়া আমাদের অবস্থান শক্তিশালী হবে না।”
তিনি আরও যোগ করেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে এগিয়ে গেলে প্রবাসীদের মর্যাদা এবং অধিকার আরও সুসংহত হবে।
সভায় বক্তারা একাধিকবার বিভক্তির রাজনীতি থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান। তারা বলেন, “আমারটা আমার, আপনারটা আপনার”—এই ন্যায়ের ভিত্তিতেই অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
বক্তাদের মতে, অভ্যন্তরীণ বিভাজন প্রবাসীদের শক্তিকে দুর্বল করে। তাই সকল মতপার্থক্য ভুলে একটি সাধারণ লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এই সভা থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সংগঠনের কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
নেতারা মনে করেন, একটি শক্তিশালী ও সুসংগঠিত প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে পারলে প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
সভায় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের প্রতি শুভেচ্ছা ও সংহতি জানানো হয়, যা ভবিষ্যতে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অবদান দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ। মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত লাখো বাংলাদেশি প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশে পাঠান।
এই রেমিটেন্স দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তবে বিভিন্ন সময়ে প্রবাসীরা প্রশাসনিক জটিলতা, সেবাপ্রাপ্তিতে ভোগান্তি এবং অধিকার বঞ্চনার অভিযোগ তুলে আসছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রবাসীদের সংগঠিত প্ল্যাটফর্ম গড়ে ওঠা তাদের দাবি আদায়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
একদিকে যেমন এটি তাদের সমস্যাগুলোকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতে সহায়তা করবে, অন্যদিকে দেশের নীতিনির্ধারকদের কাছেও বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
তবে সংগঠনগুলোকে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং ইতিবাচক কার্যক্রম বজায় রাখতে হবে—এমন মতও উঠে এসেছে বিভিন্ন মহল থেকে।
সব মিলিয়ে, নিউক্যাসেলে অনুষ্ঠিত এই সভা প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ঐক্যের বার্তাকে আরও শক্তিশালী করেছে।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই ঐক্য ভবিষ্যতে প্রবাসীদের অধিকার আদায়, মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং দেশের উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

আপনার মতামত লিখুন