মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে বড় এক ঘোষণায় স্বস্তির বার্তা দিয়েছে ইরান। দেশটি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে আগামী ১০ দিন সব বাণিজ্যিক জাহাজ নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে লেবাননে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির সময়কে কেন্দ্র করে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, লেবাননে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির সময় হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি উন্মুক্ত থাকবে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলো স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারবে।
এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প লেবাননে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। বাংলাদেশ সময় শুক্রবার ভোর ৩টা থেকে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে বলে জানানো হয়। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরপরই ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার ঘোষণা আসে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইরান শুরু থেকেই লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার দাবি জানিয়ে আসছিল। তাদের বক্তব্য ছিল, আগে ঘোষিত যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবাননও থাকা উচিত। এ বিষয়ে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানও একই ধরনের অবস্থান জানিয়েছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল প্রথমদিকে এই দাবিকে স্বীকার করেনি। ফলে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও লেবাননে হামলার ঘটনা চলতে থাকে।
পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে যখন ইরান দ্বিতীয় দফায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসার সিদ্ধান্ত নেয়। এরপরই লেবাননে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসে। এই প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার ঘোষণা আঞ্চলিক উত্তেজনা কিছুটা কমাতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানির প্রধান করিডোর। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের একটি বড় অংশ প্রতিদিন এই পথ দিয়ে বিভিন্ন দেশে যায়। ফলে এই প্রণালিতে উত্তেজনা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই প্রণালিটি উন্মুক্ত রাখার ঘোষণা বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য ইতিবাচক বার্তা হিসেবে ধরা হচ্ছে
এ অঞ্চলে আগে একাধিকবার উত্তেজনা তৈরি হলে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা গেছে। বিশেষ করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক খারাপ হলে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল ঝুঁকির মুখে পড়ে। তাই এবার সাময়িক হলেও প্রণালি উন্মুক্ত রাখার ঘোষণা পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ????
বিশ্লেষকদের মতে, লেবাননে যুদ্ধবিরতির এই ১০ দিন মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি শান্ত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে কাজ করবে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত ভবিষ্যৎ আলোচনার পথও সহজ করতে পারে। এখন দেখার বিষয়, এই যুদ্ধবিরতি স্থায়ী শান্তির দিকে এগোয় কিনা এবং প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল কতদিন ধরে বজায় থাকে।

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে বড় এক ঘোষণায় স্বস্তির বার্তা দিয়েছে ইরান। দেশটি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে আগামী ১০ দিন সব বাণিজ্যিক জাহাজ নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে লেবাননে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির সময়কে কেন্দ্র করে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, লেবাননে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির সময় হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি উন্মুক্ত থাকবে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলো স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারবে।
এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প লেবাননে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। বাংলাদেশ সময় শুক্রবার ভোর ৩টা থেকে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে বলে জানানো হয়। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরপরই ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার ঘোষণা আসে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইরান শুরু থেকেই লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার দাবি জানিয়ে আসছিল। তাদের বক্তব্য ছিল, আগে ঘোষিত যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবাননও থাকা উচিত। এ বিষয়ে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানও একই ধরনের অবস্থান জানিয়েছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল প্রথমদিকে এই দাবিকে স্বীকার করেনি। ফলে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও লেবাননে হামলার ঘটনা চলতে থাকে।
পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে যখন ইরান দ্বিতীয় দফায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসার সিদ্ধান্ত নেয়। এরপরই লেবাননে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসে। এই প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার ঘোষণা আঞ্চলিক উত্তেজনা কিছুটা কমাতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানির প্রধান করিডোর। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের একটি বড় অংশ প্রতিদিন এই পথ দিয়ে বিভিন্ন দেশে যায়। ফলে এই প্রণালিতে উত্তেজনা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই প্রণালিটি উন্মুক্ত রাখার ঘোষণা বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য ইতিবাচক বার্তা হিসেবে ধরা হচ্ছে
এ অঞ্চলে আগে একাধিকবার উত্তেজনা তৈরি হলে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা গেছে। বিশেষ করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক খারাপ হলে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল ঝুঁকির মুখে পড়ে। তাই এবার সাময়িক হলেও প্রণালি উন্মুক্ত রাখার ঘোষণা পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ????
বিশ্লেষকদের মতে, লেবাননে যুদ্ধবিরতির এই ১০ দিন মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি শান্ত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে কাজ করবে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত ভবিষ্যৎ আলোচনার পথও সহজ করতে পারে। এখন দেখার বিষয়, এই যুদ্ধবিরতি স্থায়ী শান্তির দিকে এগোয় কিনা এবং প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল কতদিন ধরে বজায় থাকে।

আপনার মতামত লিখুন