দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

হুথিদের হুমকির পর সতর্ক ইউরোপ: কমবে যাতায়াত, বাড়বে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার

হুথিদের হুমকির পর সতর্ক ইউরোপ: কমবে যাতায়াত, বাড়বে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার

যুক্তরাষ্ট্রকে শর্ত দিয়ে হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার ঘোষণা ইরানের

যুদ্ধবিরতির শর্তে হরমুজ প্রণালী খোলা রাখবে ইরান, সামরিক জাহাজে নিষেধাজ্ঞা

লেবাননে যুদ্ধবিরতির মধ্যে ১০ দিনের জন্য হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার ঘোষণা ইরানের

তুরস্কে স্কুলে ভয়াবহ বন্দুক হামলা: ৮ শিক্ষার্থীসহ নিহত ৯, আহত ১৩

গণতন্ত্র ছাড়া দেশের অগ্রগতি সম্ভব নয়: স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ

প্রবাসীদের অধিকার আদায়ে নিউক্যাসেলে ঐক্যের ডাক

যুদ্ধ থামেনি, তবু আলোচনা শুরু: তিন দশক পর এক টেবিলে ইসরায়েল ও লেবানন

যুদ্ধবিরতির মাঝেও হামলা থামেনি: গাজায় একদিনে প্রাণ গেল ১১ জনের

যুদ্ধবিরতির মাঝেও হামলা থামেনি: গাজায় একদিনে প্রাণ গেল ১১ জনের
-ছবি: সংগৃহীত

গাজার আকাশে আবারও বোমার শব্দ। যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর থাকলেও নতুন করে হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১১ জন, যাদের মধ্যে রয়েছে দুই শিশু। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দিনের বিভিন্ন সময়ে পৃথক হামলায় এই হতাহতের ঘটনা ঘটে, যা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে পুরো অঞ্চলে।

স্থানীয় বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ ও আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, গাজার উত্তরাঞ্চল ও গাজা শহরের বিভিন্ন এলাকায় এসব হামলা চালানো হয়। নিহতদের মধ্যে তিন বছর ও ১৪ বছর বয়সী দুই শিশুও রয়েছে। শিশুদের মৃত্যু সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষার মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল জানান, গাজা শহরের একটি এলাকায় পুলিশের একটি গাড়িকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এই হামলায় অন্তত চারজন নিহত হন, যাদের মধ্যে একটি ছোট শিশুও ছিল। হামলার সময় আশপাশে থাকা সাধারণ মানুষও ক্ষতিগ্রস্ত হন।

গাজার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, একটি যুদ্ধবিমান শহরের কেন্দ্রস্থলে ওই গাড়িটিকে লক্ষ্য করে আঘাত হানে। এতে একজন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন এবং অন্তত নয়জন পথচারী আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।

এছাড়া দিনের শুরুতেই উত্তর গাজার বেইত লাহিয়া এলাকায় গুলিবর্ষণের ঘটনায় আরও একজন নিহত হন। সন্ধ্যার দিকে গাজা শহরের শাতি শরণার্থী শিবিরেও ভয়াবহ হামলার খবর পাওয়া যায়। একটি চৌরাস্তার কাছে চালানো এই হামলায় একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয় বলে জানা গেছে।

আল-শিফা হাসপাতালের চিকিৎসকরা পরে নিশ্চিত করেন, শাতি শিবিরে হামলার পর পাঁচজনের মরদেহ হাসপাতালে আনা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একটি ক্যাফের কাছাকাছি এলাকায় এই হামলা হয়, ফলে সেখানে উপস্থিত অনেক সাধারণ মানুষ আহত হন।

পটভূমি হিসেবে জানা যায়, গাজা উপত্যকা দীর্ঘদিন ধরেই অবরুদ্ধ একটি অঞ্চল, যেখানে প্রায় ২০ লাখের বেশি মানুষ বাস করে। স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য ও নিরাপত্তা—সব ক্ষেত্রেই এই এলাকার মানুষ নানা সংকটে থাকে। অন্যদিকে হামাস এবং ইসরাইল এর মধ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাত নতুন করে তীব্র আকার নেয় ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তি থাকলেও বাস্তবে হামলা বন্ধ হয়নি। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধবিরতির পর থেকেই প্রায় ৭৬০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও দুই হাজারের বেশি মানুষ। আর ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে মোট নিহতের সংখ্যা ৭২ হাজার ছাড়িয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ তৈরি করেছে। বারবার যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানো হলেও মাঠপর্যায়ে তার প্রভাব খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, বিশেষ করে নারী ও শিশুরা।

সব মিলিয়ে, গাজায় চলমান এই সহিংসতা আবারও প্রমাণ করছে যে, স্থায়ী শান্তির পথ এখনও অনেক দূরে। প্রতিদিনের প্রাণহানি শুধু সংখ্যা বাড়াচ্ছে না, বরং একটি পুরো প্রজন্মকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে। এখন প্রশ্ন—এই সহিংসতা থামাতে কার্যকর পদক্ষেপ কবে নেওয়া হবে?

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬


যুদ্ধবিরতির মাঝেও হামলা থামেনি: গাজায় একদিনে প্রাণ গেল ১১ জনের

প্রকাশের তারিখ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

গাজার আকাশে আবারও বোমার শব্দ। যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর থাকলেও নতুন করে হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১১ জন, যাদের মধ্যে রয়েছে দুই শিশু। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দিনের বিভিন্ন সময়ে পৃথক হামলায় এই হতাহতের ঘটনা ঘটে, যা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে পুরো অঞ্চলে।

স্থানীয় বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ ও আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, গাজার উত্তরাঞ্চল ও গাজা শহরের বিভিন্ন এলাকায় এসব হামলা চালানো হয়। নিহতদের মধ্যে তিন বছর ও ১৪ বছর বয়সী দুই শিশুও রয়েছে। শিশুদের মৃত্যু সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষার মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল জানান, গাজা শহরের একটি এলাকায় পুলিশের একটি গাড়িকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এই হামলায় অন্তত চারজন নিহত হন, যাদের মধ্যে একটি ছোট শিশুও ছিল। হামলার সময় আশপাশে থাকা সাধারণ মানুষও ক্ষতিগ্রস্ত হন।

গাজার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, একটি যুদ্ধবিমান শহরের কেন্দ্রস্থলে ওই গাড়িটিকে লক্ষ্য করে আঘাত হানে। এতে একজন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন এবং অন্তত নয়জন পথচারী আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।

এছাড়া দিনের শুরুতেই উত্তর গাজার বেইত লাহিয়া এলাকায় গুলিবর্ষণের ঘটনায় আরও একজন নিহত হন। সন্ধ্যার দিকে গাজা শহরের শাতি শরণার্থী শিবিরেও ভয়াবহ হামলার খবর পাওয়া যায়। একটি চৌরাস্তার কাছে চালানো এই হামলায় একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয় বলে জানা গেছে।

আল-শিফা হাসপাতালের চিকিৎসকরা পরে নিশ্চিত করেন, শাতি শিবিরে হামলার পর পাঁচজনের মরদেহ হাসপাতালে আনা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একটি ক্যাফের কাছাকাছি এলাকায় এই হামলা হয়, ফলে সেখানে উপস্থিত অনেক সাধারণ মানুষ আহত হন।

পটভূমি হিসেবে জানা যায়, গাজা উপত্যকা দীর্ঘদিন ধরেই অবরুদ্ধ একটি অঞ্চল, যেখানে প্রায় ২০ লাখের বেশি মানুষ বাস করে। স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য ও নিরাপত্তা—সব ক্ষেত্রেই এই এলাকার মানুষ নানা সংকটে থাকে। অন্যদিকে হামাস এবং ইসরাইল এর মধ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাত নতুন করে তীব্র আকার নেয় ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তি থাকলেও বাস্তবে হামলা বন্ধ হয়নি। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধবিরতির পর থেকেই প্রায় ৭৬০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও দুই হাজারের বেশি মানুষ। আর ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে মোট নিহতের সংখ্যা ৭২ হাজার ছাড়িয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ তৈরি করেছে। বারবার যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানো হলেও মাঠপর্যায়ে তার প্রভাব খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, বিশেষ করে নারী ও শিশুরা।

সব মিলিয়ে, গাজায় চলমান এই সহিংসতা আবারও প্রমাণ করছে যে, স্থায়ী শান্তির পথ এখনও অনেক দূরে। প্রতিদিনের প্রাণহানি শুধু সংখ্যা বাড়াচ্ছে না, বরং একটি পুরো প্রজন্মকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে। এখন প্রশ্ন—এই সহিংসতা থামাতে কার্যকর পদক্ষেপ কবে নেওয়া হবে?


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর