দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

হুথিদের হুমকির পর সতর্ক ইউরোপ: কমবে যাতায়াত, বাড়বে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার

হুথিদের হুমকির পর সতর্ক ইউরোপ: কমবে যাতায়াত, বাড়বে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার

যুক্তরাষ্ট্রকে শর্ত দিয়ে হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার ঘোষণা ইরানের

যুদ্ধবিরতির শর্তে হরমুজ প্রণালী খোলা রাখবে ইরান, সামরিক জাহাজে নিষেধাজ্ঞা

লেবাননে যুদ্ধবিরতির মধ্যে ১০ দিনের জন্য হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার ঘোষণা ইরানের

তুরস্কে স্কুলে ভয়াবহ বন্দুক হামলা: ৮ শিক্ষার্থীসহ নিহত ৯, আহত ১৩

গণতন্ত্র ছাড়া দেশের অগ্রগতি সম্ভব নয়: স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ

প্রবাসীদের অধিকার আদায়ে নিউক্যাসেলে ঐক্যের ডাক

যুদ্ধ থামেনি, তবু আলোচনা শুরু: তিন দশক পর এক টেবিলে ইসরায়েল ও লেবানন

হুথিদের হুমকির পর সতর্ক ইউরোপ: কমবে যাতায়াত, বাড়বে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার

হুথিদের হুমকির পর সতর্ক ইউরোপ: কমবে যাতায়াত, বাড়বে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার
-ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ Bab el-Mandeb Strait বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে Houthi movement। এর প্রভাব বিশ্ব জ্বালানি বাজারে পড়তে পারে—এই আশঙ্কায় আগাম প্রস্তুতি হিসেবে ইউরোপে জ্বালানি ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ ও বিকল্প ব্যবস্থার পরিকল্পনা নিচ্ছে European Commission

এই পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় কমিশন সদস্য দেশগুলোকে দূর থেকে কাজ (রিমোট ওয়ার্ক), গণপরিবহনে ভর্তুকি এবং নবায়নযোগ্য প্রযুক্তিতে কর ছাড়ের মতো পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত করার পরিকল্পনা করছে। লক্ষ্য—যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বাড়লে যাতে সাধারণ মানুষ ও শিল্প খাত বড় ধরনের ধাক্কা না খায়।

কমিশনের একটি অভ্যন্তরীণ নথি থেকে জানা গেছে, আগামী সপ্তাহেই এসব প্রস্তাব সদস্য দেশগুলোর সামনে উপস্থাপন করা হবে। এতে মূলত তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে—জ্বালানির ব্যবহার কমানো, জ্বালানি দক্ষতা বাড়ানো এবং দ্রুত পরিচ্ছন্ন জ্বালানির দিকে অগ্রসর হওয়া। কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, এসব পদক্ষেপ তাৎক্ষণিক স্বস্তি দিতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদেও লাভজনক হবে।

প্রস্তাবিত উদ্যোগগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো—যেখানে সম্ভব, সপ্তাহে অন্তত একদিন বাধ্যতামূলক রিমোট ওয়ার্ক চালু করা। এতে অফিসে যাতায়াত কমবে, ফলে জ্বালানি সাশ্রয় হবে। পাশাপাশি গণপরিবহন ব্যবহারে মানুষকে উৎসাহিত করতে ভর্তুকি দেওয়ার সুপারিশও রাখা হয়েছে। 

এছাড়া হিট পাম্প, আধুনিক বয়লার এবং সৌর প্যানেলের মতো প্রযুক্তিতে ভ্যাট কমানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ সহজে এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারবে এবং বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা বাড়বে, যা জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমাতে সাহায্য করবে।

কমিশন আরও একটি বড় লক্ষ্য ঠিক করতে যাচ্ছে—ইলেকট্রিফিকেশন বা বিদ্যুৎনির্ভর ব্যবস্থায় দ্রুত রূপান্তর। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সদস্য দেশগুলোকে সামাজিক লিজিং স্কিম চালুর সহায়তা দেওয়া হবে। এতে সাধারণ মানুষ কম খরচে হিট পাম্প, বৈদ্যুতিক গাড়ি ও ছোট ব্যাটারি সিস্টেম ব্যবহার করতে পারবে।

তবে কমিশনের কর্মকর্তারা পরিষ্কার করে বলেছেন, এসব পদক্ষেপ বাধ্যতামূলক নয়। এগুলো মূলত সুপারিশ হিসেবে দেওয়া হচ্ছে। একজন কর্মকর্তা বলেছেন, “জ্বালানি সংকট দেখা দিলে নাগরিকরা কীভাবে ব্যবহার কমাতে পারেন, সে বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। আমরা মানুষের জীবনযাত্রা নিয়ন্ত্রণ করছি না।”

এর আগে ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময়ও ইউরোপে একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তখন শীতকালে ঘরের তাপমাত্রা এক ডিগ্রি কম রাখার আহ্বান জানানো হয়েছিল, যা অনেক দেশে বাস্তবায়নও হয়েছিল এবং এতে উল্লেখযোগ্য জ্বালানি সাশ্রয় হয়েছিল।

অন্যদিকে Bab el-Mandeb প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ। লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে যুক্ত করা এই পথ দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজ চলাচল করে। এই পথ বন্ধ হয়ে গেলে ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। 

কমিশনের নথিতে আরও বলা হয়েছে, জ্বালানি খরচ কমানোর পাশাপাশি বিদ্যুৎ বাজারের নিয়মে কিছু পরিবর্তন আনা, জ্বালানি কেনায় দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং জেট ফুয়েলের সম্ভাব্য ঘাটতি মোকাবেলার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদ্যুতের করহার জীবাশ্ম জ্বালানির তুলনায় কম রাখার প্রস্তাবও বিবেচনায় রয়েছে।

সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা থেকে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় ইউরোপ আগাম সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে স্বল্পমেয়াদে চাপ কমবে, আর দীর্ঘমেয়াদে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির দিকে রূপান্তর আরও দ্রুত হবে—এমনটাই আশা করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬


হুথিদের হুমকির পর সতর্ক ইউরোপ: কমবে যাতায়াত, বাড়বে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার

প্রকাশের তারিখ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ Bab el-Mandeb Strait বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে Houthi movement। এর প্রভাব বিশ্ব জ্বালানি বাজারে পড়তে পারে—এই আশঙ্কায় আগাম প্রস্তুতি হিসেবে ইউরোপে জ্বালানি ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ ও বিকল্প ব্যবস্থার পরিকল্পনা নিচ্ছে European Commission

এই পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় কমিশন সদস্য দেশগুলোকে দূর থেকে কাজ (রিমোট ওয়ার্ক), গণপরিবহনে ভর্তুকি এবং নবায়নযোগ্য প্রযুক্তিতে কর ছাড়ের মতো পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত করার পরিকল্পনা করছে। লক্ষ্য—যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বাড়লে যাতে সাধারণ মানুষ ও শিল্প খাত বড় ধরনের ধাক্কা না খায়।

কমিশনের একটি অভ্যন্তরীণ নথি থেকে জানা গেছে, আগামী সপ্তাহেই এসব প্রস্তাব সদস্য দেশগুলোর সামনে উপস্থাপন করা হবে। এতে মূলত তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে—জ্বালানির ব্যবহার কমানো, জ্বালানি দক্ষতা বাড়ানো এবং দ্রুত পরিচ্ছন্ন জ্বালানির দিকে অগ্রসর হওয়া। কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, এসব পদক্ষেপ তাৎক্ষণিক স্বস্তি দিতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদেও লাভজনক হবে।

প্রস্তাবিত উদ্যোগগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো—যেখানে সম্ভব, সপ্তাহে অন্তত একদিন বাধ্যতামূলক রিমোট ওয়ার্ক চালু করা। এতে অফিসে যাতায়াত কমবে, ফলে জ্বালানি সাশ্রয় হবে। পাশাপাশি গণপরিবহন ব্যবহারে মানুষকে উৎসাহিত করতে ভর্তুকি দেওয়ার সুপারিশও রাখা হয়েছে। 

এছাড়া হিট পাম্প, আধুনিক বয়লার এবং সৌর প্যানেলের মতো প্রযুক্তিতে ভ্যাট কমানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ সহজে এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারবে এবং বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা বাড়বে, যা জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমাতে সাহায্য করবে।

কমিশন আরও একটি বড় লক্ষ্য ঠিক করতে যাচ্ছে—ইলেকট্রিফিকেশন বা বিদ্যুৎনির্ভর ব্যবস্থায় দ্রুত রূপান্তর। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সদস্য দেশগুলোকে সামাজিক লিজিং স্কিম চালুর সহায়তা দেওয়া হবে। এতে সাধারণ মানুষ কম খরচে হিট পাম্প, বৈদ্যুতিক গাড়ি ও ছোট ব্যাটারি সিস্টেম ব্যবহার করতে পারবে।

তবে কমিশনের কর্মকর্তারা পরিষ্কার করে বলেছেন, এসব পদক্ষেপ বাধ্যতামূলক নয়। এগুলো মূলত সুপারিশ হিসেবে দেওয়া হচ্ছে। একজন কর্মকর্তা বলেছেন, “জ্বালানি সংকট দেখা দিলে নাগরিকরা কীভাবে ব্যবহার কমাতে পারেন, সে বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। আমরা মানুষের জীবনযাত্রা নিয়ন্ত্রণ করছি না।”

এর আগে ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময়ও ইউরোপে একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তখন শীতকালে ঘরের তাপমাত্রা এক ডিগ্রি কম রাখার আহ্বান জানানো হয়েছিল, যা অনেক দেশে বাস্তবায়নও হয়েছিল এবং এতে উল্লেখযোগ্য জ্বালানি সাশ্রয় হয়েছিল।

অন্যদিকে Bab el-Mandeb প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ। লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে যুক্ত করা এই পথ দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজ চলাচল করে। এই পথ বন্ধ হয়ে গেলে ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। 

কমিশনের নথিতে আরও বলা হয়েছে, জ্বালানি খরচ কমানোর পাশাপাশি বিদ্যুৎ বাজারের নিয়মে কিছু পরিবর্তন আনা, জ্বালানি কেনায় দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং জেট ফুয়েলের সম্ভাব্য ঘাটতি মোকাবেলার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদ্যুতের করহার জীবাশ্ম জ্বালানির তুলনায় কম রাখার প্রস্তাবও বিবেচনায় রয়েছে।

সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা থেকে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় ইউরোপ আগাম সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে স্বল্পমেয়াদে চাপ কমবে, আর দীর্ঘমেয়াদে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির দিকে রূপান্তর আরও দ্রুত হবে—এমনটাই আশা করছে সংশ্লিষ্ট মহল।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর