দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

কাজের ক্ষেত্র নিয়ে সংকীর্ণতা নয়, অভিনয়ই ছিল পূর্ণিমার আসল পরিচয়

কাজের ক্ষেত্র নিয়ে সংকীর্ণতা নয়, অভিনয়ই ছিল পূর্ণিমার আসল পরিচয়

বিশ্বকে হুমকি দেওয়া প্রেসিডেন্টের টুইট নিয়ে উদ্বেগ: নিরাপত্তা পরিষদের ভূমিকা বদলের আহ্বান লুলার

বীরগঞ্জে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান মেলা, নতুন স্বপ্ন দেখাল ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের সতর্কবার্তা: প্রথম ধাক্কা খেতে পারে বাংলাদেশসহ এশিয়ার দেশগুলো

ডিএমপির মার্চের অপরাধ সভায় শ্রেষ্ঠ মিরপুর বিভাগ, সেরা থানা হাজারীবাগ

বাংলাদেশে এলো প্রথম বৈদ্যুতিক পাওয়ার টিলার, কৃষিতে খরচ কমবে ৬০%

এবার মোবাইল নেটওয়ার্কে বন্ধ ফেসবুক

আইফোন ১৬-র লাইভ ইমেজ ফাঁস, পাল্টে গেল ডিজাইন!

কাজের ক্ষেত্র নিয়ে সংকীর্ণতা নয়, অভিনয়ই ছিল পূর্ণিমার আসল পরিচয়

কাজের ক্ষেত্র নিয়ে সংকীর্ণতা নয়, অভিনয়ই ছিল পূর্ণিমার আসল পরিচয়
-ছবি: সংগৃহীত

 চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী দিলারা হানিফ পূর্ণিমা আবারও আলোচনায়। সম্প্রতি দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, অভিনয়ের ক্ষেত্র নিয়ে কখনো সংকীর্ণ ভাবনায় বিশ্বাস করেননি। সিনেমার পাশাপাশি নাটক ও টেলিফিল্মে কাজ করার কারণে একসময় নানা মন্তব্য শুনতে হলেও নিজের সিদ্ধান্তে তিনি ছিলেন দৃঢ়। 

সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া তার অভিনীত চলচ্চিত্র আহারে জীবন–কে ঘিরেও দর্শকদের আগ্রহ নতুন করে বেড়েছে। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে কিছুটা পর্দা থেকে দূরে থাকলেও দর্শকের ভালোবাসা যে একটুও কমেনি, তা আবারও প্রমাণ হয়েছে তার সাম্প্রতিক উপস্থিতিতে।

পূর্ণিমা জানান, চলচ্চিত্রের পাশাপাশি যখন তিনি নাটক ও টেলিফিল্মে অভিনয় শুরু করেন, তখন অনেকেই তাকে নিরুৎসাহিত করেছিলেন। কেউ কেউ বলেছিলেন, সিনেমার নায়িকা হয়ে নাটকে কাজ করলে দর্শকের কাছে তার আলাদা আকর্ষণ কমে যাবে।

এই প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, তার কাছে অভিনয়ই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কাজের মাধ্যম নয়, বরং গল্প ও চরিত্রই তাকে বেশি টেনেছে। বিশেষ করে ঈদকে কেন্দ্র করে ভালো গল্প পেলে নাটক বা টেলিফিল্মে কাজ করতে তিনি সবসময় আগ্রহী ছিলেন। তার মতে, অভিনয়ের প্রতিটি মাধ্যমই শিল্পীর জন্য শেখার নতুন সুযোগ তৈরি করে।

খুব অল্প বয়সেই চলচ্চিত্রে পথচলা শুরু করেন পূর্ণিমা। মাত্র ১৫ বছর বয়সে এ জীবন তোমার আমার সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় তার অভিষেক ঘটে। এরপর খুব দ্রুতই তিনি দর্শকের কাছে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন।

এরপর একের পর এক জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে অভিনয় করে নিজের অবস্থান শক্ত করেন। বিশেষ করে নব্বই দশকের শেষ দিক থেকে ২০০০ দশকের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত তিনি ছিলেন দেশের অন্যতম ব্যস্ত ও জনপ্রিয় নায়িকা।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি দেশের শীর্ষ নায়কদের সঙ্গে কাজ করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য রিয়াজ, মান্না, শাকিব খান, রুবেলআমিন খান। তাদের সঙ্গে একাধিক সফল চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি দর্শকের মনে স্থায়ী জায়গা করে নেন।

প্রায় শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করা এই অভিনেত্রীর জনপ্রিয় সিনেমার তালিকাও বেশ দীর্ঘ। রোমান্টিক, পারিবারিক ও সামাজিক—বিভিন্ন ধরনের গল্পে তার অভিনয় দর্শকদের কাছে সমানভাবে গ্রহণযোগ্য হয়েছে।

পূর্ণিমার অভিনয় জীবনের বড় অর্জনের মধ্যে রয়েছে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। ওরা আমাকে ভালো হতে দিলো না সিনেমায় অভিনয়ের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর সম্মাননা পান। এই পুরস্কার তার অভিনয় দক্ষতার একটি বড় স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হয়। 

বাংলাদেশের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতিগুলোর একটি। প্রতি বছর সেরা অভিনয়, পরিচালনা ও কারিগরি অবদানের জন্য এই পুরস্কার দেওয়া হয়, যা একজন শিল্পীর ক্যারিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে ধরা হয়।

বর্তমানে দেশের বিনোদন জগতে ওটিটি প্ল্যাটফর্মের জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে। অনেক চলচ্চিত্র তারকাই এখন এই মাধ্যমে কাজ করছেন। পূর্ণিমাও সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এই মাধ্যমেও কাজ করেছেন, যা নতুন প্রজন্মের দর্শকের কাছে তাকে আরও কাছাকাছি নিয়ে এসেছে।

বাংলাদেশে গত কয়েক বছরে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নাটক ও সিনেমার বিকল্প একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে গড়ে উঠেছে। ফলে অভিজ্ঞ শিল্পীদের জন্যও এখানে কাজের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।

দুই দশকেরও বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গেলেও পূর্ণিমা সবসময় নিজের অভিনয়কে প্রাধান্য দিয়েছেন। কাজের ক্ষেত্র নিয়ে সংকীর্ণ চিন্তার বাইরে থেকে তিনি যে পথচলা চালিয়ে গেছেন, সেটিই আজ তাকে আলাদা জায়গায় দাঁড় করিয়েছে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, সময় বদলেছে, মাধ্যম বদলেছে—কিন্তু অভিনয়ের প্রতি তার ভালোবাসা বদলায়নি। আর সেই ভালোবাসাই তাকে এখনও দর্শকের কাছে সমানভাবে প্রিয় করে রেখেছে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬


কাজের ক্ষেত্র নিয়ে সংকীর্ণতা নয়, অভিনয়ই ছিল পূর্ণিমার আসল পরিচয়

প্রকাশের তারিখ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

 চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী দিলারা হানিফ পূর্ণিমা আবারও আলোচনায়। সম্প্রতি দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, অভিনয়ের ক্ষেত্র নিয়ে কখনো সংকীর্ণ ভাবনায় বিশ্বাস করেননি। সিনেমার পাশাপাশি নাটক ও টেলিফিল্মে কাজ করার কারণে একসময় নানা মন্তব্য শুনতে হলেও নিজের সিদ্ধান্তে তিনি ছিলেন দৃঢ়। 

সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া তার অভিনীত চলচ্চিত্র আহারে জীবন–কে ঘিরেও দর্শকদের আগ্রহ নতুন করে বেড়েছে। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে কিছুটা পর্দা থেকে দূরে থাকলেও দর্শকের ভালোবাসা যে একটুও কমেনি, তা আবারও প্রমাণ হয়েছে তার সাম্প্রতিক উপস্থিতিতে।

পূর্ণিমা জানান, চলচ্চিত্রের পাশাপাশি যখন তিনি নাটক ও টেলিফিল্মে অভিনয় শুরু করেন, তখন অনেকেই তাকে নিরুৎসাহিত করেছিলেন। কেউ কেউ বলেছিলেন, সিনেমার নায়িকা হয়ে নাটকে কাজ করলে দর্শকের কাছে তার আলাদা আকর্ষণ কমে যাবে।

এই প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, তার কাছে অভিনয়ই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কাজের মাধ্যম নয়, বরং গল্প ও চরিত্রই তাকে বেশি টেনেছে। বিশেষ করে ঈদকে কেন্দ্র করে ভালো গল্প পেলে নাটক বা টেলিফিল্মে কাজ করতে তিনি সবসময় আগ্রহী ছিলেন। তার মতে, অভিনয়ের প্রতিটি মাধ্যমই শিল্পীর জন্য শেখার নতুন সুযোগ তৈরি করে।

খুব অল্প বয়সেই চলচ্চিত্রে পথচলা শুরু করেন পূর্ণিমা। মাত্র ১৫ বছর বয়সে এ জীবন তোমার আমার সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় তার অভিষেক ঘটে। এরপর খুব দ্রুতই তিনি দর্শকের কাছে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন।

এরপর একের পর এক জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে অভিনয় করে নিজের অবস্থান শক্ত করেন। বিশেষ করে নব্বই দশকের শেষ দিক থেকে ২০০০ দশকের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত তিনি ছিলেন দেশের অন্যতম ব্যস্ত ও জনপ্রিয় নায়িকা।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি দেশের শীর্ষ নায়কদের সঙ্গে কাজ করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য রিয়াজ, মান্না, শাকিব খান, রুবেলআমিন খান। তাদের সঙ্গে একাধিক সফল চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি দর্শকের মনে স্থায়ী জায়গা করে নেন।

প্রায় শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করা এই অভিনেত্রীর জনপ্রিয় সিনেমার তালিকাও বেশ দীর্ঘ। রোমান্টিক, পারিবারিক ও সামাজিক—বিভিন্ন ধরনের গল্পে তার অভিনয় দর্শকদের কাছে সমানভাবে গ্রহণযোগ্য হয়েছে।

পূর্ণিমার অভিনয় জীবনের বড় অর্জনের মধ্যে রয়েছে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। ওরা আমাকে ভালো হতে দিলো না সিনেমায় অভিনয়ের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর সম্মাননা পান। এই পুরস্কার তার অভিনয় দক্ষতার একটি বড় স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হয়। 

বাংলাদেশের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতিগুলোর একটি। প্রতি বছর সেরা অভিনয়, পরিচালনা ও কারিগরি অবদানের জন্য এই পুরস্কার দেওয়া হয়, যা একজন শিল্পীর ক্যারিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে ধরা হয়।

বর্তমানে দেশের বিনোদন জগতে ওটিটি প্ল্যাটফর্মের জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে। অনেক চলচ্চিত্র তারকাই এখন এই মাধ্যমে কাজ করছেন। পূর্ণিমাও সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এই মাধ্যমেও কাজ করেছেন, যা নতুন প্রজন্মের দর্শকের কাছে তাকে আরও কাছাকাছি নিয়ে এসেছে।

বাংলাদেশে গত কয়েক বছরে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নাটক ও সিনেমার বিকল্প একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে গড়ে উঠেছে। ফলে অভিজ্ঞ শিল্পীদের জন্যও এখানে কাজের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।

দুই দশকেরও বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গেলেও পূর্ণিমা সবসময় নিজের অভিনয়কে প্রাধান্য দিয়েছেন। কাজের ক্ষেত্র নিয়ে সংকীর্ণ চিন্তার বাইরে থেকে তিনি যে পথচলা চালিয়ে গেছেন, সেটিই আজ তাকে আলাদা জায়গায় দাঁড় করিয়েছে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, সময় বদলেছে, মাধ্যম বদলেছে—কিন্তু অভিনয়ের প্রতি তার ভালোবাসা বদলায়নি। আর সেই ভালোবাসাই তাকে এখনও দর্শকের কাছে সমানভাবে প্রিয় করে রেখেছে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর