দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশে এলো প্রথম বৈদ্যুতিক পাওয়ার টিলার, কৃষিতে খরচ কমবে ৬০%

বাংলাদেশে এলো প্রথম বৈদ্যুতিক পাওয়ার টিলার, কৃষিতে খরচ কমবে ৬০%

এবার মোবাইল নেটওয়ার্কে বন্ধ ফেসবুক

আইফোন ১৬-র লাইভ ইমেজ ফাঁস, পাল্টে গেল ডিজাইন!

১৪ দিন পর দেশে চালু হলো ফেসবুক

বাংলাদেশে এলো প্রথম বৈদ্যুতিক পাওয়ার টিলার, কৃষিতে খরচ কমবে ৬০%

বাংলাদেশে এলো প্রথম বৈদ্যুতিক পাওয়ার টিলার, কৃষিতে খরচ কমবে ৬০%
-ফাইল ফটো

দেশে প্রথমবারের মতো চালু হলো বৈদ্যুতিক পাওয়ার টিলার। এই টিলার ব্যবহারে কৃষকদের জ্বালানি খরচ প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি দেশের পরিবেশবান্ধব কৃষির পথে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। 

রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল এক্সিবিশন অন ইলেক্ট্রিক ভেহিক্যাল অ্যান্ড মবিলিটি ইন্ডাস্ট্রি (বিইভিএমএক্স) ২০২৪-এ এই নতুন বৈদ্যুতিক পাওয়ার টিলারের আনুষ্ঠানিক উন্মোচন করা হয়। এই উদ্যোগটি যৌথভাবে বাস্তবায়ন করেছে পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান ফার্মার্স মার্কেট এশিয়া এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ক্যাসেটেক্স।

অনুষ্ঠানে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়। এতে অংশ নেন ক্যাসেটেক্সের কো-ফাউন্ডার ও চিফ টেকনোলজি অফিসার গোপাল কুমার মহত এবং ফার্মার্স মার্কেট এশিয়ার প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারিকুল ইসলাম। এই সমঝোতার মাধ্যমে দেশে আধুনিক বৈদ্যুতিক কৃষি যন্ত্র ব্যবহারের পথ আরও সহজ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

ক্যাসেটেক্সের গবেষণা দল প্রচলিত ডিজেলচালিত পাওয়ার টিলারের বিকল্প হিসেবে এই নতুন ব্যাটারি চালিত টিলার তৈরি করেছে। এতে উচ্চ ক্ষমতার বৈদ্যুতিক মোটর ব্যবহার করা হয়েছে, যা কম খরচে বেশি কাজ করতে সক্ষম। বিশেষ করে গ্রামীণ কৃষকদের জন্য এটি একটি বড় সুবিধা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এই বৈদ্যুতিক পাওয়ার টিলারের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো ব্যাটারি সোয়াপিং প্রযুক্তি। এর ফলে কৃষকদের দীর্ঘ সময় চার্জের জন্য অপেক্ষা করতে হবে না। প্রয়োজন হলে দ্রুত ব্যাটারি পরিবর্তন করে কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন তারা। এতে মাঠের কাজ থেমে থাকার ঝামেলা অনেক কমে যাবে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পরিবেশ সুরক্ষা। ডিজেলচালিত যন্ত্রের তুলনায় বৈদ্যুতিক টিলার ব্যবহার করলে কার্বন নিঃসরণ অনেক কম হয়। এতে বায়ুদূষণ কমবে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়বে। বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার লক্ষ্যের সঙ্গে এটি ভালোভাবে মিল রেখে এগিয়ে যাবে।

বাংলাদেশে বর্তমানে কৃষিকাজে এখনও বিপুল সংখ্যক ডিজেলচালিত পাওয়ার টিলার ব্যবহার করা হয়। এতে প্রতি মৌসুমে কৃষকদের বড় অঙ্কের জ্বালানি খরচ বহন করতে হয়। নতুন এই প্রযুক্তি চালু হলে সেই খরচ কমে কৃষকরা উৎপাদনে আরও বেশি বিনিয়োগ করতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

ফার্মার্স মার্কেট এশিয়া জানিয়েছে, শুধু বাংলাদেশ নয়—এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা এবং আফ্রিকার বিভিন্ন দেশেও এই প্রযুক্তি ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, সুদান ও পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশে এই উদ্যোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে ক্যাসেটেক্স ইতোমধ্যে দেশের প্রথম ব্যাটারি সোয়াপিং নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে। এই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে কৃষকদের জন্য ভাড়ায় ব্যাটারি দেওয়ার সুবিধাও রাখা হয়েছে। ফলে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করা তাদের জন্য আরও সহজ হবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ক্যাসেটেক্সের কো-ফাউন্ডার ও চিফ বিজনেস অফিসার তৌসিফ আনোয়ার, কো-ফাউন্ডার ও চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার আহমদ আদ এবং ফার্মার্স মার্কেট এশিয়ার হেড অব স্ট্রাটেজি মনজুর রাকিব ভূঁইয়া। এছাড়াও সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, শিক্ষার্থী, উদ্ভাবক ও সাংবাদিকরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বৈদ্যুতিক পাওয়ার টিলার চালু হওয়া বাংলাদেশের কৃষি যান্ত্রিকীকরণের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এতে কৃষকদের খরচ কমবে, উৎপাদন বাড়বে এবং পরিবেশও উপকৃত হবে। সব মিলিয়ে এটি দেশের টেকসই কৃষি ব্যবস্থার দিকে একটি আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬


বাংলাদেশে এলো প্রথম বৈদ্যুতিক পাওয়ার টিলার, কৃষিতে খরচ কমবে ৬০%

প্রকাশের তারিখ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

দেশে প্রথমবারের মতো চালু হলো বৈদ্যুতিক পাওয়ার টিলার। এই টিলার ব্যবহারে কৃষকদের জ্বালানি খরচ প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি দেশের পরিবেশবান্ধব কৃষির পথে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। 

রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল এক্সিবিশন অন ইলেক্ট্রিক ভেহিক্যাল অ্যান্ড মবিলিটি ইন্ডাস্ট্রি (বিইভিএমএক্স) ২০২৪-এ এই নতুন বৈদ্যুতিক পাওয়ার টিলারের আনুষ্ঠানিক উন্মোচন করা হয়। এই উদ্যোগটি যৌথভাবে বাস্তবায়ন করেছে পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান ফার্মার্স মার্কেট এশিয়া এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ক্যাসেটেক্স।

অনুষ্ঠানে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়। এতে অংশ নেন ক্যাসেটেক্সের কো-ফাউন্ডার ও চিফ টেকনোলজি অফিসার গোপাল কুমার মহত এবং ফার্মার্স মার্কেট এশিয়ার প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারিকুল ইসলাম। এই সমঝোতার মাধ্যমে দেশে আধুনিক বৈদ্যুতিক কৃষি যন্ত্র ব্যবহারের পথ আরও সহজ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

ক্যাসেটেক্সের গবেষণা দল প্রচলিত ডিজেলচালিত পাওয়ার টিলারের বিকল্প হিসেবে এই নতুন ব্যাটারি চালিত টিলার তৈরি করেছে। এতে উচ্চ ক্ষমতার বৈদ্যুতিক মোটর ব্যবহার করা হয়েছে, যা কম খরচে বেশি কাজ করতে সক্ষম। বিশেষ করে গ্রামীণ কৃষকদের জন্য এটি একটি বড় সুবিধা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এই বৈদ্যুতিক পাওয়ার টিলারের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো ব্যাটারি সোয়াপিং প্রযুক্তি। এর ফলে কৃষকদের দীর্ঘ সময় চার্জের জন্য অপেক্ষা করতে হবে না। প্রয়োজন হলে দ্রুত ব্যাটারি পরিবর্তন করে কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন তারা। এতে মাঠের কাজ থেমে থাকার ঝামেলা অনেক কমে যাবে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পরিবেশ সুরক্ষা। ডিজেলচালিত যন্ত্রের তুলনায় বৈদ্যুতিক টিলার ব্যবহার করলে কার্বন নিঃসরণ অনেক কম হয়। এতে বায়ুদূষণ কমবে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়বে। বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার লক্ষ্যের সঙ্গে এটি ভালোভাবে মিল রেখে এগিয়ে যাবে।

বাংলাদেশে বর্তমানে কৃষিকাজে এখনও বিপুল সংখ্যক ডিজেলচালিত পাওয়ার টিলার ব্যবহার করা হয়। এতে প্রতি মৌসুমে কৃষকদের বড় অঙ্কের জ্বালানি খরচ বহন করতে হয়। নতুন এই প্রযুক্তি চালু হলে সেই খরচ কমে কৃষকরা উৎপাদনে আরও বেশি বিনিয়োগ করতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

ফার্মার্স মার্কেট এশিয়া জানিয়েছে, শুধু বাংলাদেশ নয়—এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা এবং আফ্রিকার বিভিন্ন দেশেও এই প্রযুক্তি ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, সুদান ও পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশে এই উদ্যোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে ক্যাসেটেক্স ইতোমধ্যে দেশের প্রথম ব্যাটারি সোয়াপিং নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে। এই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে কৃষকদের জন্য ভাড়ায় ব্যাটারি দেওয়ার সুবিধাও রাখা হয়েছে। ফলে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করা তাদের জন্য আরও সহজ হবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ক্যাসেটেক্সের কো-ফাউন্ডার ও চিফ বিজনেস অফিসার তৌসিফ আনোয়ার, কো-ফাউন্ডার ও চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার আহমদ আদ এবং ফার্মার্স মার্কেট এশিয়ার হেড অব স্ট্রাটেজি মনজুর রাকিব ভূঁইয়া। এছাড়াও সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, শিক্ষার্থী, উদ্ভাবক ও সাংবাদিকরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বৈদ্যুতিক পাওয়ার টিলার চালু হওয়া বাংলাদেশের কৃষি যান্ত্রিকীকরণের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এতে কৃষকদের খরচ কমবে, উৎপাদন বাড়বে এবং পরিবেশও উপকৃত হবে। সব মিলিয়ে এটি দেশের টেকসই কৃষি ব্যবস্থার দিকে একটি আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর