দেশে জ্বালানি তেলের চাপের মধ্যে ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে আরও ৫ হাজার মেট্রিক টন পরিশোধিত ডিজেল এসেছে। এতে চলতি এপ্রিল মাসে দুই দফায় মোট ১৩ হাজার টন ডিজেল দেশে পৌঁছেছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এ মাসে মোট ২৫ হাজার টন ডিজেল ভারত থেকে আমদানি করা হবে, যা বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ম্যানেজার (অপারেশন্স) কাজী মো. রবিউল আলম জানিয়েছেন, শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল পার্বতীপুর ডিপোতে এসে পৌঁছেছে। এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড থেকে এই ডিজেল সরবরাহের পাম্পিং কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এপ্রিল মাসে চার ধাপে ভারত থেকে মোট ২৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এর মধ্যে প্রথম চালানে গত ১১ এপ্রিল ৮ হাজার টন ডিজেল দেশে আসে। এরপর দ্বিতীয় চালানের ৫ হাজার টন ডিজেল সম্প্রতি পার্বতীপুর ডিপোতে পৌঁছেছে। এখন পর্যন্ত মোট ১৩ হাজার টন ডিজেল এসে গেছে এবং বাকি ১২ হাজার টন দ্রুত দুই দফায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এর মধ্যে শিগগিরই আরও ৭ হাজার টনের একটি চালানের পাম্পিং শুরু হবে। জ্বালানি তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার শুধু মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ওপর নির্ভর না করে প্রতিবেশী ভারত থেকেও নিয়মিত ডিজেল আমদানি করছে। বিশেষ করে পাইপলাইনের মাধ্যমে সরাসরি ডিজেল আসায় পরিবহন খরচ কমে এবং দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। এতে দেশের উত্তরাঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহ আরও সহজ হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে ২০২৩ সালের মার্চ মাসে প্রথমবারের মতো দেশে সরাসরি ডিজেল আমদানি শুরু হয়। এই পাইপলাইন চালু হওয়ার ফলে উত্তরাঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসে। আগে এসব এলাকায় ট্রাক ও রেলপথে তেল পরিবহন করতে বেশি সময় ও খরচ লাগত। এখন পাইপলাইনের মাধ্যমে তুলনামূলক দ্রুত এবং নিরাপদভাবে তেল পৌঁছানো যাচ্ছে। ???????? জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিবহন ও কৃষি খাতে ডিজেলের চাহিদা অনেক বেশি। বিশেষ করে সেচ মৌসুমে ডিজেলের ব্যবহার বেড়ে যায়। তাই এই সময় নিয়মিত আমদানি নিশ্চিত করা খুবই জরুরি। ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে জ্বালানি ব্যবস্থাপনা আরও স্থিতিশীল হতে পারে। এদিকে বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকার ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে। রোববার (১৯ এপ্রিল) থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। নতুন দরে প্রতি লিটার ডিজেল ১০০ টাকা থেকে বেড়ে ১১৫ টাকা, অকটেন ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১১৬ থেকে ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১১২ থেকে ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ ভোক্তাদের এখন প্রতিলিটার ডিজেল ১৫ টাকা, অকটেন ২০ টাকা, পেট্রোল ১৯ টাকা এবং কেরোসিন ১৮ টাকা বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে, একদিকে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার চাপ থাকলেও অন্যদিকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ধারাবাহিক ডিজেল আমদানি দেশের সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাকি চালানগুলোও পৌঁছালে বাজারে জ্বালানি সরবরাহ আরও স্থিতিশীল থাকবে।

রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬
দেশে জ্বালানি তেলের চাপের মধ্যে ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে আরও ৫ হাজার মেট্রিক টন পরিশোধিত ডিজেল এসেছে। এতে চলতি এপ্রিল মাসে দুই দফায় মোট ১৩ হাজার টন ডিজেল দেশে পৌঁছেছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এ মাসে মোট ২৫ হাজার টন ডিজেল ভারত থেকে আমদানি করা হবে, যা বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ম্যানেজার (অপারেশন্স) কাজী মো. রবিউল আলম জানিয়েছেন, শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল পার্বতীপুর ডিপোতে এসে পৌঁছেছে। এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড থেকে এই ডিজেল সরবরাহের পাম্পিং কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এপ্রিল মাসে চার ধাপে ভারত থেকে মোট ২৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এর মধ্যে প্রথম চালানে গত ১১ এপ্রিল ৮ হাজার টন ডিজেল দেশে আসে। এরপর দ্বিতীয় চালানের ৫ হাজার টন ডিজেল সম্প্রতি পার্বতীপুর ডিপোতে পৌঁছেছে। এখন পর্যন্ত মোট ১৩ হাজার টন ডিজেল এসে গেছে এবং বাকি ১২ হাজার টন দ্রুত দুই দফায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এর মধ্যে শিগগিরই আরও ৭ হাজার টনের একটি চালানের পাম্পিং শুরু হবে। জ্বালানি তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার শুধু মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ওপর নির্ভর না করে প্রতিবেশী ভারত থেকেও নিয়মিত ডিজেল আমদানি করছে। বিশেষ করে পাইপলাইনের মাধ্যমে সরাসরি ডিজেল আসায় পরিবহন খরচ কমে এবং দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। এতে দেশের উত্তরাঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহ আরও সহজ হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে ২০২৩ সালের মার্চ মাসে প্রথমবারের মতো দেশে সরাসরি ডিজেল আমদানি শুরু হয়। এই পাইপলাইন চালু হওয়ার ফলে উত্তরাঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসে। আগে এসব এলাকায় ট্রাক ও রেলপথে তেল পরিবহন করতে বেশি সময় ও খরচ লাগত। এখন পাইপলাইনের মাধ্যমে তুলনামূলক দ্রুত এবং নিরাপদভাবে তেল পৌঁছানো যাচ্ছে। ???????? জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিবহন ও কৃষি খাতে ডিজেলের চাহিদা অনেক বেশি। বিশেষ করে সেচ মৌসুমে ডিজেলের ব্যবহার বেড়ে যায়। তাই এই সময় নিয়মিত আমদানি নিশ্চিত করা খুবই জরুরি। ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে জ্বালানি ব্যবস্থাপনা আরও স্থিতিশীল হতে পারে। এদিকে বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকার ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে। রোববার (১৯ এপ্রিল) থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। নতুন দরে প্রতি লিটার ডিজেল ১০০ টাকা থেকে বেড়ে ১১৫ টাকা, অকটেন ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১১৬ থেকে ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১১২ থেকে ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ ভোক্তাদের এখন প্রতিলিটার ডিজেল ১৫ টাকা, অকটেন ২০ টাকা, পেট্রোল ১৯ টাকা এবং কেরোসিন ১৮ টাকা বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে, একদিকে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার চাপ থাকলেও অন্যদিকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ধারাবাহিক ডিজেল আমদানি দেশের সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাকি চালানগুলোও পৌঁছালে বাজারে জ্বালানি সরবরাহ আরও স্থিতিশীল থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন