দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে যেতে পারে মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি: বাতিলের দাবি গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির

বাংলাদেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে যেতে পারে মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি: বাতিলের দাবি গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির

রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় ৯ দফা প্রস্তাবনা জামায়াতের

২০২৯ সালের মধ্যে চার লেনে উঠছে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক

ভবন নির্মাণ থেমে আছে, চিকিৎসক নেই—সরাইলের স্বাস্থ্যসেবার বেহাল চিত্র সংসদে

ইন্টারনেট বন্ধের কারণ নিয়ে পলকের বক্তব্য ‘রাজনৈতিক’—ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য

জুলাই আন্দোলনের আসামিদের জামিন নিয়ে প্রশ্ন তুললেন সারজিস, সতর্কবার্তা বিএনপিকে

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে চীন সফরে বিএনপির শীর্ষ নেতারা

ইসিতে আপিল শুনানির ষষ্ঠ দিন শুরু: পাঁচ দিনে মঞ্জুর ২৭৭, বাতিল ৮১

বাংলাদেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে যেতে পারে মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি: বাতিলের দাবি গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির

বাংলাদেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে যেতে পারে মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি: বাতিলের দাবি গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির
-ফাইল ফটো

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি দেশের স্বার্থের পরিপন্থি হতে পারে: আনু মুহাম্মদ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য বাণিজ্যচুক্তি দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। তার মতে, এ ধরনের চুক্তি শুধু বাণিজ্যের বিষয় নয়, বরং দেশের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাজধানীর শাহবাগে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এক সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রস্তাবিত বাণিজ্যচুক্তি বাতিলের দাবিতে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

সমাবেশে আনু মুহাম্মদ বলেন, এ ধরনের চুক্তি কার্যকর হলে বাংলাদেশকে এমন কিছু পণ্য আমদানি করতে চাপ দেওয়া হতে পারে, যেগুলো দেশের জন্য খুব প্রয়োজনীয় নয়। আবার অনেক ক্ষেত্রে অন্য দেশ থেকে কম দামে পাওয়া পণ্যও নির্দিষ্ট একটি উৎস থেকে বেশি দামে কিনতে বাধ্য হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এতে দেশের অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ পড়বে এবং বাজারের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকবে।

তিনি আরও বলেন, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী বাংলাদেশের স্বাধীনভাবে বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ কমে যেতে পারে। কোন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য করা হবে বা কোথা থেকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনা হবে—এসব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তেও বাইরের প্রভাব তৈরি হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

সমাবেশে বক্তব্য দেন চিকিৎসক ডা. হারুন-অর-রশীদ। তিনি বলেন, সম্ভাব্য এই বাণিজ্যচুক্তি দেশের ওষুধ শিল্পের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। বর্তমানে বাংলাদেশে জেনেরিক ওষুধ উৎপাদনে যে সাফল্য এসেছে, তা অনেকটাই নমনীয় পেটেন্ট নীতির কারণে সম্ভব হয়েছে। কিন্তু কঠোর মেধাস্বত্ব সংক্রান্ত শর্ত আরোপ করা হলে দেশীয় ওষুধ কোম্পানিগুলোর জন্য জেনেরিক ওষুধ উৎপাদন কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

গবেষক মাহা মির্জা বলেন, এ ধরনের চুক্তি স্থানীয় শিল্পের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে পোল্ট্রি শিল্পসহ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প খাত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের জীবিকা হুমকির মুখে পড়তে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সমাবেশটি পরিচালনা করেন অধিকারকর্মী মাহতাবউদ্দিন আহমেদ। এতে আরও বক্তব্য দেন গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির ময়মনসিংহ জেলার প্রতিনিধি আবুল কালাম আল আজাদসহ অন্যরা।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণের জন্য একাধিক দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আলোচনা করছে। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে এসব চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে সরকার বিভিন্ন সময় মত দিয়েছে। তবে একই সঙ্গে অর্থনীতিবিদ ও গবেষকদের একটি অংশ এসব চুক্তির শর্ত নিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে আসছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বড় জেনেরিক ওষুধ রপ্তানিকারক দেশগুলোর একটি। তাই ওষুধ শিল্পের ওপর কোনো ধরনের কঠোর আন্তর্জাতিক শর্ত আরোপ হলে তা দেশের স্বাস্থ্যখাত ও রপ্তানি আয়ে প্রভাব ফেলতে পারে।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশের স্বার্থ বিবেচনায় রেখে যেকোনো আন্তর্জাতিক বাণিজ্যচুক্তি করা উচিত। তারা দাবি করেন, জনস্বার্থের বিষয়গুলো গুরুত্ব না দিলে এমন চুক্তি দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এ বিষয়ে সরকার ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে আরও আলোচনা প্রয়োজন বলেও তারা মত দেন।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬


বাংলাদেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে যেতে পারে মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি: বাতিলের দাবি গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির

প্রকাশের তারিখ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি দেশের স্বার্থের পরিপন্থি হতে পারে: আনু মুহাম্মদ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য বাণিজ্যচুক্তি দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। তার মতে, এ ধরনের চুক্তি শুধু বাণিজ্যের বিষয় নয়, বরং দেশের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাজধানীর শাহবাগে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এক সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রস্তাবিত বাণিজ্যচুক্তি বাতিলের দাবিতে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

সমাবেশে আনু মুহাম্মদ বলেন, এ ধরনের চুক্তি কার্যকর হলে বাংলাদেশকে এমন কিছু পণ্য আমদানি করতে চাপ দেওয়া হতে পারে, যেগুলো দেশের জন্য খুব প্রয়োজনীয় নয়। আবার অনেক ক্ষেত্রে অন্য দেশ থেকে কম দামে পাওয়া পণ্যও নির্দিষ্ট একটি উৎস থেকে বেশি দামে কিনতে বাধ্য হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এতে দেশের অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ পড়বে এবং বাজারের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকবে।

তিনি আরও বলেন, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী বাংলাদেশের স্বাধীনভাবে বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ কমে যেতে পারে। কোন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য করা হবে বা কোথা থেকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনা হবে—এসব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তেও বাইরের প্রভাব তৈরি হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

সমাবেশে বক্তব্য দেন চিকিৎসক ডা. হারুন-অর-রশীদ। তিনি বলেন, সম্ভাব্য এই বাণিজ্যচুক্তি দেশের ওষুধ শিল্পের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। বর্তমানে বাংলাদেশে জেনেরিক ওষুধ উৎপাদনে যে সাফল্য এসেছে, তা অনেকটাই নমনীয় পেটেন্ট নীতির কারণে সম্ভব হয়েছে। কিন্তু কঠোর মেধাস্বত্ব সংক্রান্ত শর্ত আরোপ করা হলে দেশীয় ওষুধ কোম্পানিগুলোর জন্য জেনেরিক ওষুধ উৎপাদন কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

গবেষক মাহা মির্জা বলেন, এ ধরনের চুক্তি স্থানীয় শিল্পের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে পোল্ট্রি শিল্পসহ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প খাত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের জীবিকা হুমকির মুখে পড়তে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সমাবেশটি পরিচালনা করেন অধিকারকর্মী মাহতাবউদ্দিন আহমেদ। এতে আরও বক্তব্য দেন গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির ময়মনসিংহ জেলার প্রতিনিধি আবুল কালাম আল আজাদসহ অন্যরা।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণের জন্য একাধিক দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আলোচনা করছে। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে এসব চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে সরকার বিভিন্ন সময় মত দিয়েছে। তবে একই সঙ্গে অর্থনীতিবিদ ও গবেষকদের একটি অংশ এসব চুক্তির শর্ত নিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে আসছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বড় জেনেরিক ওষুধ রপ্তানিকারক দেশগুলোর একটি। তাই ওষুধ শিল্পের ওপর কোনো ধরনের কঠোর আন্তর্জাতিক শর্ত আরোপ হলে তা দেশের স্বাস্থ্যখাত ও রপ্তানি আয়ে প্রভাব ফেলতে পারে।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশের স্বার্থ বিবেচনায় রেখে যেকোনো আন্তর্জাতিক বাণিজ্যচুক্তি করা উচিত। তারা দাবি করেন, জনস্বার্থের বিষয়গুলো গুরুত্ব না দিলে এমন চুক্তি দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এ বিষয়ে সরকার ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে আরও আলোচনা প্রয়োজন বলেও তারা মত দেন।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর