বাংলাদেশে নতুন শিল্প স্থাপন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার—এ কথা আবারও স্পষ্ট করে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। একই সঙ্গে তিনি নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে, বিশেষ করে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনে, অস্ট্রেলিয়ার বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইলের সঙ্গে এক সৌজন্য বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য, শিক্ষা ও বিনিয়োগ সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পায়। বৈঠকে উভয় পক্ষই ভবিষ্যতে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে।
বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার বর্তমানে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে কাজ করছে। দেশের শিল্প খাতকে আরও গতিশীল করা এবং নতুন নতুন শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে তরুণদের জন্য বেশি কর্মসংস্থান তৈরি করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। তিনি জানান, প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলারের সম্পদসমৃদ্ধ শিল্প খাতকে আরও কার্যকর ও উৎপাদনমুখী করতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এ সময় তিনি বিশেষভাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিদেশি বিনিয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরেন। বাংলাদেশের বিদ্যুৎ চাহিদা দ্রুত বাড়ছে, তাই সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি বলে তিনি উল্লেখ করেন। এ ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে প্রায় ৫ দশমিক ১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাণিজ্য হচ্ছে এবং এই পরিমাণ ধীরে ধীরে বাড়ছে। তিনি জানান, বিশেষ করে সবুজ জ্বালানি, উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগের ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। এই সম্ভাবনা যাচাই করতে অস্ট্রেলিয়ার একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।
তিনি আরও জানান, অস্ট্রেলিয়ায় বর্তমানে প্রায় ২৮ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। এই শিক্ষার্থীরা দুই দেশের মধ্যে শিক্ষা সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ফলে অস্ট্রেলিয়া এখন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণের পাশাপাশি শিক্ষা ও বৃত্তি কার্যক্রম বাড়ানো, দক্ষতা উন্নয়ন এবং অবকাঠামো খাতে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়েও আলোচনা হয়। উভয় পক্ষই এসব খাতে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করে।
পটভূমি হিসেবে জানা যায়, বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক, চামড়াজাত পণ্য ও কৃষিপণ্য অস্ট্রেলিয়ায় রপ্তানি হয়। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া থেকে গম, শিক্ষা সেবা ও প্রযুক্তিগত সহায়তা বাংলাদেশে আসে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শিক্ষা খাতে দুই দেশের যোগাযোগ দ্রুত বেড়েছে।
এছাড়া বাংলাদেশ বর্তমানে ধীরে ধীরে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে। সরকার ২০৪১ সালের মধ্যে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। তাই সৌর বিদ্যুৎসহ সবুজ জ্বালানি খাতে বিদেশি বিনিয়োগ এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সব মিলিয়ে এই বৈঠক থেকে স্পষ্ট হয়েছে, বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে বাণিজ্য, শিক্ষা ও প্রযুক্তি সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে শিল্প স্থাপন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে যৌথ উদ্যোগ ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ এপ্রিল ২০২৬
বাংলাদেশে নতুন শিল্প স্থাপন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার—এ কথা আবারও স্পষ্ট করে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। একই সঙ্গে তিনি নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে, বিশেষ করে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনে, অস্ট্রেলিয়ার বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইলের সঙ্গে এক সৌজন্য বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য, শিক্ষা ও বিনিয়োগ সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পায়। বৈঠকে উভয় পক্ষই ভবিষ্যতে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে।
বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার বর্তমানে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে কাজ করছে। দেশের শিল্প খাতকে আরও গতিশীল করা এবং নতুন নতুন শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে তরুণদের জন্য বেশি কর্মসংস্থান তৈরি করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। তিনি জানান, প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলারের সম্পদসমৃদ্ধ শিল্প খাতকে আরও কার্যকর ও উৎপাদনমুখী করতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এ সময় তিনি বিশেষভাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিদেশি বিনিয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরেন। বাংলাদেশের বিদ্যুৎ চাহিদা দ্রুত বাড়ছে, তাই সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি বলে তিনি উল্লেখ করেন। এ ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে প্রায় ৫ দশমিক ১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাণিজ্য হচ্ছে এবং এই পরিমাণ ধীরে ধীরে বাড়ছে। তিনি জানান, বিশেষ করে সবুজ জ্বালানি, উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগের ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। এই সম্ভাবনা যাচাই করতে অস্ট্রেলিয়ার একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।
তিনি আরও জানান, অস্ট্রেলিয়ায় বর্তমানে প্রায় ২৮ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। এই শিক্ষার্থীরা দুই দেশের মধ্যে শিক্ষা সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ফলে অস্ট্রেলিয়া এখন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণের পাশাপাশি শিক্ষা ও বৃত্তি কার্যক্রম বাড়ানো, দক্ষতা উন্নয়ন এবং অবকাঠামো খাতে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়েও আলোচনা হয়। উভয় পক্ষই এসব খাতে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করে।
পটভূমি হিসেবে জানা যায়, বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক, চামড়াজাত পণ্য ও কৃষিপণ্য অস্ট্রেলিয়ায় রপ্তানি হয়। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া থেকে গম, শিক্ষা সেবা ও প্রযুক্তিগত সহায়তা বাংলাদেশে আসে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শিক্ষা খাতে দুই দেশের যোগাযোগ দ্রুত বেড়েছে।
এছাড়া বাংলাদেশ বর্তমানে ধীরে ধীরে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে। সরকার ২০৪১ সালের মধ্যে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। তাই সৌর বিদ্যুৎসহ সবুজ জ্বালানি খাতে বিদেশি বিনিয়োগ এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সব মিলিয়ে এই বৈঠক থেকে স্পষ্ট হয়েছে, বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে বাণিজ্য, শিক্ষা ও প্রযুক্তি সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে শিল্প স্থাপন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে যৌথ উদ্যোগ ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন