দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

‘আমি মনোনয়ন চাইনি’—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভ্রান্তি নিয়ে মুখ খুললেন আফরোজা আব্বাস

‘আমি মনোনয়ন চাইনি’—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভ্রান্তি নিয়ে মুখ খুললেন আফরোজা আব্বাস

আওয়ামী লীগ নেত্রীর মেয়ে এবার বিএনপির নারী এমপি প্রার্থী, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আলোচনা তুঙ্গে

আওয়ামী লীগ নেত্রী সুবর্ণা ঠাকুর পেলেন বিএনপির নারী আসনের মনোনয়ন, গোপালগঞ্জে তোলপাড়

ছাত্রলীগ-ছাত্রদল-শিবির—যেখান থেকেই আসুক, যোগ দিতে পারবেন এনসিপিতে: নাহিদ

তারেক রহমানকে নিয়ে মন্তব্যের জেরে উত্তাপ: রাশেদ প্রধানের পিএসকে জিজ্ঞাসাবাদ

জাতীয় নারীশক্তির কমিটিতে নাম আসতেই পদত্যাগের ঘোষণা এনসিপি নেত্রী ফারাহার

বাংলাদেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে যেতে পারে মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি: বাতিলের দাবি গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির

রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় ৯ দফা প্রস্তাবনা জামায়াতের

‘আমি মনোনয়ন চাইনি’—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভ্রান্তি নিয়ে মুখ খুললেন আফরোজা আব্বাস

‘আমি মনোনয়ন চাইনি’—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভ্রান্তি নিয়ে মুখ খুললেন আফরোজা আব্বাস
-ছবি: সংগৃহীত

ক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন চাননি আফরোজা আব্বাস, গুজব ছড়ানো বন্ধের আহ্বান 

Afroza Abbas স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তিনি কখনোই সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য হওয়ার জন্য মনোনয়ন চাননি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার নাম জড়িয়ে যে ধরনের তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, তা বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

সোমবার নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্টে দেওয়া এক রাজনৈতিক বিবৃতিতে তিনি বিষয়টি পরিষ্কার করেন। সেখানে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে তার নাম নিয়ে যে আলোচনা চলছে, তা বাস্তবতার সঙ্গে মিল নেই। তিনি এ ধরনের তথ্য প্রচার থেকে সবাইকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

বিবৃতির শুরুতেই তিনি নিজের পরিচয় তুলে ধরে লেখেন, তিনি মূলত Mirza Abbas–এর স্ত্রী হিসেবে পরিচিত। এরপর সাম্প্রতিক নির্বাচনী প্রক্রিয়া ঘিরে তৈরি হওয়া নানা আলোচনা ও গুজবের প্রেক্ষাপটে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন।

তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন চাওয়ার কোনো উদ্যোগ তিনি নেননি। তবে দল থেকে এমন একটি প্রস্তাব দেওয়ার জন্য Mirza Fakhrul Islam Alamgir–এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তার নাম জড়িয়ে যেসব তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, তা তার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর বলেও উল্লেখ করেন।

ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও জানান, বর্তমানে তার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে তার স্বামীর চিকিৎসা ও সুস্থতা। স্বামীর অসুস্থতার কারণে তিনি মানসিকভাবে কঠিন সময় পার করছেন বলেও উল্লেখ করেন।

এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক কোনো বিষয়ে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়ার মতো অবস্থায় তিনি নেই বলেই ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, পরিবারের এই কঠিন সময় তার কাছে এখন সবচেয়ে বড় বাস্তবতা।

নিজে মনোনয়ন না চাইলেও নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া নারী নেত্রীদের প্রতি শুভকামনা জানিয়েছেন আফরোজা আব্বাস। তিনি বলেন, যারা সাহস করে সামনে এসেছেন, তারা পরিবর্তনের প্রতীক।

তিনি আরও বলেন, যারা নির্বাচিত হননি, তাদের হতাশ না হয়ে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান। তার মতে, রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ ধীরে ধীরে বাড়ছে, যা দেশের জন্য ইতিবাচক একটি লক্ষণ

নির্বাচিত নারী প্রতিনিধিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তাদের প্রতিটি পদক্ষেপ এখন অনেক কিশোরী ও তরুণীর কাছে অনুপ্রেরণা। তাদের নিরাপত্তা, শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ স্বপ্ন বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার দায়িত্ব এখন এই প্রতিনিধিদের ওপর রয়েছে।

তিনি মনে করেন, নারীর অধিকার নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক অবস্থান যাই হোক না কেন, সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

লাদেশের জাতীয় সংসদে বর্তমানে সংরক্ষিত নারী আসন একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এসব আসনে সরাসরি ভোট না হলেও রাজনৈতিক দলগুলো তাদের নারী নেত্রীদের সংসদে প্রতিনিধিত্বের সুযোগ দেয়। এর মাধ্যমে সংসদে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোই মূল লক্ষ্য ????????

বিগত কয়েকটি সংসদে দেখা গেছে, সংরক্ষিত নারী আসনের মাধ্যমে অনেক নারী নেত্রী জাতীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। ফলে এই আসনগুলো নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনা প্রায়ই জনমনে আগ্রহ তৈরি করে।

Bangladesh Nationalist Party–এর সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি হিসেবে আফরোজা আব্বাস দীর্ঘদিন ধরে নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়াতে কাজ করছেন। দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে তার সক্রিয় উপস্থিতি তাকে একটি পরিচিত রাজনৈতিক মুখ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

এই কারণেই সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে তার নাম সামনে আসায় অনেকের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছিল বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা।

ফেসবুক পোস্টের শেষ অংশে আফরোজা আব্বাস বলেন, দলমত নির্বিশেষে দেশের সব নারীর জন্য সমান অধিকার, ন্যায়বিচার ও নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব। ব্যক্তিগত কষ্টের মধ্যেও তিনি বিশ্বাস করেন, নারীর শক্তিকে থামিয়ে রাখা যায় না।

তার এই বক্তব্য একদিকে যেমন রাজনৈতিক অবস্থান পরিষ্কার করেছে, অন্যদিকে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে একটি ইতিবাচক বার্তাও দিয়েছে। ফলে বিষয়টি নিয়ে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি অনেকটাই দূর হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬


‘আমি মনোনয়ন চাইনি’—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভ্রান্তি নিয়ে মুখ খুললেন আফরোজা আব্বাস

প্রকাশের তারিখ : ২১ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

ক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন চাননি আফরোজা আব্বাস, গুজব ছড়ানো বন্ধের আহ্বান 

Afroza Abbas স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তিনি কখনোই সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য হওয়ার জন্য মনোনয়ন চাননি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার নাম জড়িয়ে যে ধরনের তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, তা বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

সোমবার নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্টে দেওয়া এক রাজনৈতিক বিবৃতিতে তিনি বিষয়টি পরিষ্কার করেন। সেখানে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে তার নাম নিয়ে যে আলোচনা চলছে, তা বাস্তবতার সঙ্গে মিল নেই। তিনি এ ধরনের তথ্য প্রচার থেকে সবাইকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

বিবৃতির শুরুতেই তিনি নিজের পরিচয় তুলে ধরে লেখেন, তিনি মূলত Mirza Abbas–এর স্ত্রী হিসেবে পরিচিত। এরপর সাম্প্রতিক নির্বাচনী প্রক্রিয়া ঘিরে তৈরি হওয়া নানা আলোচনা ও গুজবের প্রেক্ষাপটে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন।

তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন চাওয়ার কোনো উদ্যোগ তিনি নেননি। তবে দল থেকে এমন একটি প্রস্তাব দেওয়ার জন্য Mirza Fakhrul Islam Alamgir–এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তার নাম জড়িয়ে যেসব তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, তা তার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর বলেও উল্লেখ করেন।

ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও জানান, বর্তমানে তার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে তার স্বামীর চিকিৎসা ও সুস্থতা। স্বামীর অসুস্থতার কারণে তিনি মানসিকভাবে কঠিন সময় পার করছেন বলেও উল্লেখ করেন।

এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক কোনো বিষয়ে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়ার মতো অবস্থায় তিনি নেই বলেই ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, পরিবারের এই কঠিন সময় তার কাছে এখন সবচেয়ে বড় বাস্তবতা।

নিজে মনোনয়ন না চাইলেও নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া নারী নেত্রীদের প্রতি শুভকামনা জানিয়েছেন আফরোজা আব্বাস। তিনি বলেন, যারা সাহস করে সামনে এসেছেন, তারা পরিবর্তনের প্রতীক।

তিনি আরও বলেন, যারা নির্বাচিত হননি, তাদের হতাশ না হয়ে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান। তার মতে, রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ ধীরে ধীরে বাড়ছে, যা দেশের জন্য ইতিবাচক একটি লক্ষণ

নির্বাচিত নারী প্রতিনিধিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তাদের প্রতিটি পদক্ষেপ এখন অনেক কিশোরী ও তরুণীর কাছে অনুপ্রেরণা। তাদের নিরাপত্তা, শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ স্বপ্ন বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার দায়িত্ব এখন এই প্রতিনিধিদের ওপর রয়েছে।

তিনি মনে করেন, নারীর অধিকার নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক অবস্থান যাই হোক না কেন, সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

লাদেশের জাতীয় সংসদে বর্তমানে সংরক্ষিত নারী আসন একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এসব আসনে সরাসরি ভোট না হলেও রাজনৈতিক দলগুলো তাদের নারী নেত্রীদের সংসদে প্রতিনিধিত্বের সুযোগ দেয়। এর মাধ্যমে সংসদে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোই মূল লক্ষ্য ????????

বিগত কয়েকটি সংসদে দেখা গেছে, সংরক্ষিত নারী আসনের মাধ্যমে অনেক নারী নেত্রী জাতীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। ফলে এই আসনগুলো নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনা প্রায়ই জনমনে আগ্রহ তৈরি করে।

Bangladesh Nationalist Party–এর সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি হিসেবে আফরোজা আব্বাস দীর্ঘদিন ধরে নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়াতে কাজ করছেন। দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে তার সক্রিয় উপস্থিতি তাকে একটি পরিচিত রাজনৈতিক মুখ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

এই কারণেই সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে তার নাম সামনে আসায় অনেকের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছিল বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা।

ফেসবুক পোস্টের শেষ অংশে আফরোজা আব্বাস বলেন, দলমত নির্বিশেষে দেশের সব নারীর জন্য সমান অধিকার, ন্যায়বিচার ও নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব। ব্যক্তিগত কষ্টের মধ্যেও তিনি বিশ্বাস করেন, নারীর শক্তিকে থামিয়ে রাখা যায় না।

তার এই বক্তব্য একদিকে যেমন রাজনৈতিক অবস্থান পরিষ্কার করেছে, অন্যদিকে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে একটি ইতিবাচক বার্তাও দিয়েছে। ফলে বিষয়টি নিয়ে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি অনেকটাই দূর হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর