ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয়ের মা ও মেয়েকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। জেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত এক নেত্রীর মেয়ে এবার বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে কৌতূহল ও নানা মন্তব্য দেখা যাচ্ছে।
জানা গেছে, বিজয়নগর উপজেলার বাসিন্দা নাদিয়া পাঠান পাপন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্বাক্ষরিত তালিকায় তার নাম ৩২ নম্বরে রয়েছে। বর্তমানে তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দলীয় পর্যায়ে তার এই মনোনয়ন স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
নাদিয়া পাঠান পাপন বিজয়নগরের চান্দুরা ইউনিয়নের চান্দুরা গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেনের মেয়ে। তবে তার মনোনয়ন ঘিরে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে তার পারিবারিক রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে। কারণ তার মা সৈয়দা নাখলু আক্তার দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, সৈয়দা নাখলু আক্তার একসময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কৃষক লীগের সহসভাপতি ছিলেন। এছাড়া তিনি বিজয়নগর উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। একই সঙ্গে উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান এবং জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন। স্থানীয় পর্যায়ে তিনি একজন পরিচিত রাজনৈতিক মুখ হিসেবে পরিচিত।
তবে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সৈয়দা নাখলু আক্তার বলেন, তিনি এখন কোনো দলীয় পদে নেই। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মেয়ের রাজনৈতিক মনোনয়ন তার নিজের রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। তিনি এটিকে সম্পূর্ণ আলাদা বিষয় হিসেবে দেখছেন।
অন্যদিকে বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন বিজয়নগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর মৃধা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, সৈয়দা নাখলু আক্তার এখনো উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে তিনি নাদিয়া পাঠান পাপনের মনোনয়ন নিয়ে কিছুটা ভিন্নধর্মী প্রতিক্রিয়াও জানান, যা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা আরও বেড়েছে।
এই বিষয়ে নাদিয়া পাঠান পাপনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার ব্যক্তিগত অবস্থান বা প্রতিক্রিয়া জানা সম্ভব হয়নি।
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনগুলো সরাসরি ভোটে নয়, বরং সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর মনোনয়নের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়। ফলে এসব আসনে মনোনয়ন পাওয়া দলীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক স্বীকৃতি হিসেবে ধরা হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকা হিসেবে পরিচিত। এখানে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা বরাবরই দৃশ্যমান। এমন প্রেক্ষাপটে একই পরিবারের দুই প্রজন্মের ভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয় নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
সব মিলিয়ে, নাদিয়া পাঠান পাপনের মনোনয়ন স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন একটি আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিষয়টি ভবিষ্যতে কী ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব ফেলবে, তা এখনই বলা কঠিন। তবে মা ও মেয়ের ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান ঘিরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে, তা আগামী দিনগুলোতেও আলোচনায় থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ এপ্রিল ২০২৬
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয়ের মা ও মেয়েকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। জেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত এক নেত্রীর মেয়ে এবার বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে কৌতূহল ও নানা মন্তব্য দেখা যাচ্ছে।
জানা গেছে, বিজয়নগর উপজেলার বাসিন্দা নাদিয়া পাঠান পাপন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্বাক্ষরিত তালিকায় তার নাম ৩২ নম্বরে রয়েছে। বর্তমানে তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দলীয় পর্যায়ে তার এই মনোনয়ন স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
নাদিয়া পাঠান পাপন বিজয়নগরের চান্দুরা ইউনিয়নের চান্দুরা গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেনের মেয়ে। তবে তার মনোনয়ন ঘিরে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে তার পারিবারিক রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে। কারণ তার মা সৈয়দা নাখলু আক্তার দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, সৈয়দা নাখলু আক্তার একসময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কৃষক লীগের সহসভাপতি ছিলেন। এছাড়া তিনি বিজয়নগর উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। একই সঙ্গে উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান এবং জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন। স্থানীয় পর্যায়ে তিনি একজন পরিচিত রাজনৈতিক মুখ হিসেবে পরিচিত।
তবে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সৈয়দা নাখলু আক্তার বলেন, তিনি এখন কোনো দলীয় পদে নেই। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মেয়ের রাজনৈতিক মনোনয়ন তার নিজের রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। তিনি এটিকে সম্পূর্ণ আলাদা বিষয় হিসেবে দেখছেন।
অন্যদিকে বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন বিজয়নগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর মৃধা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, সৈয়দা নাখলু আক্তার এখনো উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে তিনি নাদিয়া পাঠান পাপনের মনোনয়ন নিয়ে কিছুটা ভিন্নধর্মী প্রতিক্রিয়াও জানান, যা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা আরও বেড়েছে।
এই বিষয়ে নাদিয়া পাঠান পাপনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার ব্যক্তিগত অবস্থান বা প্রতিক্রিয়া জানা সম্ভব হয়নি।
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনগুলো সরাসরি ভোটে নয়, বরং সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর মনোনয়নের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়। ফলে এসব আসনে মনোনয়ন পাওয়া দলীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক স্বীকৃতি হিসেবে ধরা হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকা হিসেবে পরিচিত। এখানে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা বরাবরই দৃশ্যমান। এমন প্রেক্ষাপটে একই পরিবারের দুই প্রজন্মের ভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয় নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
সব মিলিয়ে, নাদিয়া পাঠান পাপনের মনোনয়ন স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন একটি আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিষয়টি ভবিষ্যতে কী ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব ফেলবে, তা এখনই বলা কঠিন। তবে মা ও মেয়ের ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান ঘিরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে, তা আগামী দিনগুলোতেও আলোচনায় থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন