লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার্থীদের সহায়তায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির। পরীক্ষার প্রথম দিন থেকেই শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য একটি হেল্প ডেস্ক চালু করা হয়েছে, যা ইতোমধ্যেই পরীক্ষার্থীদের মধ্যে স্বস্তি এনে দিয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে পরীক্ষা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রায়পুর এলএম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে এই হেল্প ডেস্ক কার্যক্রম চালু হয়। এখানে পরীক্ষার্থীদের জন্য রাখা হয়েছে প্রয়োজনীয় নানা উপকরণ। যারা তাড়াহুড়ো করে এসে কলম আনতে ভুলে গেছে কিংবা গরমে অসুস্থ বোধ করছে—তাদের জন্য বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে কলম, বিশুদ্ধ পানি, টিস্যু এবং স্যালাইন। অনেক শিক্ষার্থী জানায়, এমন উদ্যোগ তাদের চাপ কমাতে সাহায্য করেছে।
পরীক্ষার সময় সাধারণত শিক্ষার্থীরা বেশ মানসিক চাপে থাকে। অনেকেই দূর-দূরান্ত থেকে পরীক্ষা কেন্দ্রে আসে, ফলে পথে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। এমন অবস্থায় হেল্প ডেস্ক থেকে তাৎক্ষণিক সহায়তা পাওয়ায় শিক্ষার্থীরা বেশ খুশি। কেউ পানি খেয়ে সতেজ হয়েছে, আবার কেউ প্রয়োজনীয় স্টেশনারি পেয়ে নির্ভার মনে পরীক্ষার হলে ঢুকতে পেরেছে।
এই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে পরীক্ষার আগেই একটি দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থীর মাঝে রুটিন, ফাইল, স্কেল ও কলমসহ বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়। আয়োজকদের মতে, শিক্ষার্থীদের সফলতা কামনা করে এমন আয়োজন তাদের উৎসাহ বাড়াতে সাহায্য করে।
জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের শিবিরের নেতাকর্মীরা এই কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন। তারা শুধু একটি কেন্দ্রে নয়, উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনেও একই ধরনের সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। এতে করে আরও বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থী এই উদ্যোগের সুফল পেয়েছে।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এমন উদ্যোগ তাদের কাছে বেশ ইতিবাচক মনে হয়েছে। এক পরীক্ষার্থী বলেন, “পরীক্ষার সময় আমরা খুব টেনশনে থাকি। এখানে এসে পানি আর কলম পেয়ে অনেক উপকার হয়েছে। এটা আমাদের জন্য সত্যিই ভালো একটা উদ্যোগ।” আরেকজন শিক্ষার্থী বলেন, “অনেক সময় ছোট ছোট জিনিস না থাকলে বড় সমস্যা হয়ে যায়। এখানে সবকিছু একসাথে পাওয়া যাচ্ছে।”
জেলা সভাপতি মো. আরমান হোসেন বলেন, “পরীক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব। তারা যেন স্বস্তিতে পরীক্ষা দিতে পারে, সেটাই আমাদের লক্ষ্য। ভবিষ্যতেও আমরা এমন কার্যক্রম চালিয়ে যাব।” তিনি আরও জানান, সমাজের বিভিন্ন স্তরে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে শিক্ষার্থীদের পাশে থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
পটভূমি হিসেবে বলা যায়, ইসলামী ছাত্রশিবির দেশের বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষামূলক ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। বিশেষ করে পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীদের সহায়তায় তারা প্রায়ই এমন উদ্যোগ নেয়। এর আগে বিভিন্ন জেলায় তারা একই ধরনের হেল্প ডেস্ক চালু করে প্রশংসা কুড়িয়েছে।
সামগ্রিকভাবে দেখা যায়, রায়পুরে এই হেল্প ডেস্ক উদ্যোগ শুধু শিক্ষার্থীদের তাৎক্ষণিক সহায়তাই দিচ্ছে না, বরং একটি সহমর্মিতার বার্তাও ছড়িয়ে দিচ্ছে। ছোট একটি উদ্যোগ কিভাবে বড় প্রভাব ফেলতে পারে, তার একটি ভালো উদাহরণ এটি। পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এমন সহায়তা শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং তাদের মানসিক চাপ কিছুটা হলেও কমিয়ে দেয়—যা সত্যিই প্রশংসনীয়।

মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ এপ্রিল ২০২৬
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার্থীদের সহায়তায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির। পরীক্ষার প্রথম দিন থেকেই শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য একটি হেল্প ডেস্ক চালু করা হয়েছে, যা ইতোমধ্যেই পরীক্ষার্থীদের মধ্যে স্বস্তি এনে দিয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে পরীক্ষা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রায়পুর এলএম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে এই হেল্প ডেস্ক কার্যক্রম চালু হয়। এখানে পরীক্ষার্থীদের জন্য রাখা হয়েছে প্রয়োজনীয় নানা উপকরণ। যারা তাড়াহুড়ো করে এসে কলম আনতে ভুলে গেছে কিংবা গরমে অসুস্থ বোধ করছে—তাদের জন্য বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে কলম, বিশুদ্ধ পানি, টিস্যু এবং স্যালাইন। অনেক শিক্ষার্থী জানায়, এমন উদ্যোগ তাদের চাপ কমাতে সাহায্য করেছে।
পরীক্ষার সময় সাধারণত শিক্ষার্থীরা বেশ মানসিক চাপে থাকে। অনেকেই দূর-দূরান্ত থেকে পরীক্ষা কেন্দ্রে আসে, ফলে পথে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। এমন অবস্থায় হেল্প ডেস্ক থেকে তাৎক্ষণিক সহায়তা পাওয়ায় শিক্ষার্থীরা বেশ খুশি। কেউ পানি খেয়ে সতেজ হয়েছে, আবার কেউ প্রয়োজনীয় স্টেশনারি পেয়ে নির্ভার মনে পরীক্ষার হলে ঢুকতে পেরেছে।
এই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে পরীক্ষার আগেই একটি দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থীর মাঝে রুটিন, ফাইল, স্কেল ও কলমসহ বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়। আয়োজকদের মতে, শিক্ষার্থীদের সফলতা কামনা করে এমন আয়োজন তাদের উৎসাহ বাড়াতে সাহায্য করে।
জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের শিবিরের নেতাকর্মীরা এই কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন। তারা শুধু একটি কেন্দ্রে নয়, উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনেও একই ধরনের সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। এতে করে আরও বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থী এই উদ্যোগের সুফল পেয়েছে।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এমন উদ্যোগ তাদের কাছে বেশ ইতিবাচক মনে হয়েছে। এক পরীক্ষার্থী বলেন, “পরীক্ষার সময় আমরা খুব টেনশনে থাকি। এখানে এসে পানি আর কলম পেয়ে অনেক উপকার হয়েছে। এটা আমাদের জন্য সত্যিই ভালো একটা উদ্যোগ।” আরেকজন শিক্ষার্থী বলেন, “অনেক সময় ছোট ছোট জিনিস না থাকলে বড় সমস্যা হয়ে যায়। এখানে সবকিছু একসাথে পাওয়া যাচ্ছে।”
জেলা সভাপতি মো. আরমান হোসেন বলেন, “পরীক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব। তারা যেন স্বস্তিতে পরীক্ষা দিতে পারে, সেটাই আমাদের লক্ষ্য। ভবিষ্যতেও আমরা এমন কার্যক্রম চালিয়ে যাব।” তিনি আরও জানান, সমাজের বিভিন্ন স্তরে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে শিক্ষার্থীদের পাশে থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
পটভূমি হিসেবে বলা যায়, ইসলামী ছাত্রশিবির দেশের বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষামূলক ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। বিশেষ করে পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীদের সহায়তায় তারা প্রায়ই এমন উদ্যোগ নেয়। এর আগে বিভিন্ন জেলায় তারা একই ধরনের হেল্প ডেস্ক চালু করে প্রশংসা কুড়িয়েছে।
সামগ্রিকভাবে দেখা যায়, রায়পুরে এই হেল্প ডেস্ক উদ্যোগ শুধু শিক্ষার্থীদের তাৎক্ষণিক সহায়তাই দিচ্ছে না, বরং একটি সহমর্মিতার বার্তাও ছড়িয়ে দিচ্ছে। ছোট একটি উদ্যোগ কিভাবে বড় প্রভাব ফেলতে পারে, তার একটি ভালো উদাহরণ এটি। পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এমন সহায়তা শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং তাদের মানসিক চাপ কিছুটা হলেও কমিয়ে দেয়—যা সত্যিই প্রশংসনীয়।

আপনার মতামত লিখুন