দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ১ লাখ ৮১ হাজার ৮৫৪ জন শিক্ষার্থী। আগামী মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) থেকে সারাদেশের মতো রংপুর বিভাগের আট জেলাতেও একযোগে শুরু হচ্ছে এই গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক পরীক্ষা। পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের জন্য ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করেছে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড। শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এবার পরীক্ষার্থীর সংখ্যা গত বছরের তুলনায় সামান্য কম। গত বছর এই বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ১ লাখ ৮২ হাজার ৪২০ জন। তবে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমলেও পরীক্ষার প্রস্তুতিতে কোনো ধরনের ঘাটতি রাখা হয়নি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এবারের পরীক্ষায় রংপুর বিভাগের আটটি জেলার ২ হাজার ৮১০টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেবে। এসব শিক্ষার্থীর জন্য মোট ২৮৩টি কেন্দ্রে পরীক্ষা নেওয়া হবে। মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র ৯২ হাজার ৬৯২ জন এবং ছাত্রী ৮৯ হাজার ১৬২ জন। সংখ্যার দিক থেকে ছেলে-মেয়ের অংশগ্রহণ প্রায় সমান হওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। পরীক্ষার্থীদের ধরন অনুযায়ী দেখা যায়, নিয়মিত পরীক্ষার্থী রয়েছে ১ লাখ ৩৭ হাজার ২৮৬ জন। অনিয়মিত পরীক্ষার্থী ৪৪ হাজার ৫৬৮ জন এবং জিপিএ উন্নয়ন পরীক্ষার্থী রয়েছে ১৯০ জন। এসব শিক্ষার্থীর জন্য প্রশ্নপত্রসহ প্রয়োজনীয় সব উপকরণ ইতোমধ্যে কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। বিভাগভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, বিজ্ঞান বিভাগে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। এই বিভাগে পরীক্ষার্থী সংখ্যা ৯৯ হাজার ৬৭১ জন। মানবিক বিভাগে রয়েছে ৮০ হাজার ২০৮ জন শিক্ষার্থী। আর ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে অংশ নিচ্ছে ১ হাজার ৯৭৫ জন। বিশেষ করে বিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়াকে এই অঞ্চলে বিজ্ঞান শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়ার একটি ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে। দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. তৌহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। কেন্দ্র সচিবের কক্ষ থেকেই প্রতিটি কক্ষের পরিস্থিতি নজরে রাখা হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম ধরা পড়লে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা পরীক্ষা চলাকালীন মাঠে দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া পরীক্ষা চলাকালীন সময় বোর্ডের নিজস্ব কর্মকর্তা ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সমন্বয়ে সাতটি বিশেষ ভিজিল্যান্স টিম গঠন করা হয়েছে। এই টিমগুলো হঠাৎ করে যেকোনো কেন্দ্রে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে। কেন্দ্রের আশপাশের ২০০ গজ এলাকায় অপ্রয়োজনীয় চলাচল বন্ধ রাখতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগেই মাইকিং করে সচেতনতা বাড়ানো হয়েছে পটভূমি হিসেবে জানা যায়, দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড ২০০৬ সালে কার্যক্রম শুরু করে। উত্তরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার চাপ কমানো এবং স্থানীয় পর্যায়ে শিক্ষা ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করতে এই বোর্ড গঠন করা হয়েছিল। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ধীরে ধীরে পরীক্ষার্থী সংখ্যা বেড়েছে এবং অবকাঠামোগত ব্যবস্থাও উন্নত হয়েছে। এবারের এসএসসি পরীক্ষা দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১৮তম আয়োজন হতে যাচ্ছে। বোর্ড কর্তৃপক্ষ আশা করছে, সবার সম্মিলিত সহযোগিতায় পরীক্ষা শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে শেষ করা সম্ভব হবে। সব মিলিয়ে বলা যায়, পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে প্রশাসন, শিক্ষা বোর্ড এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত প্রস্তুতি শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করবে। এখন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রত্যাশা—পরীক্ষা হবে নির্বিঘ্ন, আর ফলাফল হবে তাদের দীর্ঘ প্রস্তুতির যথাযথ প্রতিফলন।

সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ এপ্রিল ২০২৬
দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ১ লাখ ৮১ হাজার ৮৫৪ জন শিক্ষার্থী। আগামী মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) থেকে সারাদেশের মতো রংপুর বিভাগের আট জেলাতেও একযোগে শুরু হচ্ছে এই গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক পরীক্ষা। পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের জন্য ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করেছে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড। শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এবার পরীক্ষার্থীর সংখ্যা গত বছরের তুলনায় সামান্য কম। গত বছর এই বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ১ লাখ ৮২ হাজার ৪২০ জন। তবে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমলেও পরীক্ষার প্রস্তুতিতে কোনো ধরনের ঘাটতি রাখা হয়নি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এবারের পরীক্ষায় রংপুর বিভাগের আটটি জেলার ২ হাজার ৮১০টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেবে। এসব শিক্ষার্থীর জন্য মোট ২৮৩টি কেন্দ্রে পরীক্ষা নেওয়া হবে। মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র ৯২ হাজার ৬৯২ জন এবং ছাত্রী ৮৯ হাজার ১৬২ জন। সংখ্যার দিক থেকে ছেলে-মেয়ের অংশগ্রহণ প্রায় সমান হওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। পরীক্ষার্থীদের ধরন অনুযায়ী দেখা যায়, নিয়মিত পরীক্ষার্থী রয়েছে ১ লাখ ৩৭ হাজার ২৮৬ জন। অনিয়মিত পরীক্ষার্থী ৪৪ হাজার ৫৬৮ জন এবং জিপিএ উন্নয়ন পরীক্ষার্থী রয়েছে ১৯০ জন। এসব শিক্ষার্থীর জন্য প্রশ্নপত্রসহ প্রয়োজনীয় সব উপকরণ ইতোমধ্যে কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। বিভাগভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, বিজ্ঞান বিভাগে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। এই বিভাগে পরীক্ষার্থী সংখ্যা ৯৯ হাজার ৬৭১ জন। মানবিক বিভাগে রয়েছে ৮০ হাজার ২০৮ জন শিক্ষার্থী। আর ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে অংশ নিচ্ছে ১ হাজার ৯৭৫ জন। বিশেষ করে বিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়াকে এই অঞ্চলে বিজ্ঞান শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়ার একটি ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে। দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. তৌহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। কেন্দ্র সচিবের কক্ষ থেকেই প্রতিটি কক্ষের পরিস্থিতি নজরে রাখা হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম ধরা পড়লে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা পরীক্ষা চলাকালীন মাঠে দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া পরীক্ষা চলাকালীন সময় বোর্ডের নিজস্ব কর্মকর্তা ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সমন্বয়ে সাতটি বিশেষ ভিজিল্যান্স টিম গঠন করা হয়েছে। এই টিমগুলো হঠাৎ করে যেকোনো কেন্দ্রে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে। কেন্দ্রের আশপাশের ২০০ গজ এলাকায় অপ্রয়োজনীয় চলাচল বন্ধ রাখতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগেই মাইকিং করে সচেতনতা বাড়ানো হয়েছে পটভূমি হিসেবে জানা যায়, দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড ২০০৬ সালে কার্যক্রম শুরু করে। উত্তরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার চাপ কমানো এবং স্থানীয় পর্যায়ে শিক্ষা ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করতে এই বোর্ড গঠন করা হয়েছিল। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ধীরে ধীরে পরীক্ষার্থী সংখ্যা বেড়েছে এবং অবকাঠামোগত ব্যবস্থাও উন্নত হয়েছে। এবারের এসএসসি পরীক্ষা দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১৮তম আয়োজন হতে যাচ্ছে। বোর্ড কর্তৃপক্ষ আশা করছে, সবার সম্মিলিত সহযোগিতায় পরীক্ষা শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে শেষ করা সম্ভব হবে। সব মিলিয়ে বলা যায়, পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে প্রশাসন, শিক্ষা বোর্ড এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত প্রস্তুতি শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করবে। এখন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রত্যাশা—পরীক্ষা হবে নির্বিঘ্ন, আর ফলাফল হবে তাদের দীর্ঘ প্রস্তুতির যথাযথ প্রতিফলন।

আপনার মতামত লিখুন