ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার সম্ভাব্য শান্তি আলোচনায় ইরান অংশ নেবে কি না—এই প্রশ্নে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো জবাব পায়নি পাকিস্তান। যুদ্ধবিরতির সময়সীমা শেষ হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে এই অনিশ্চয়তা আঞ্চলিক পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।
মঙ্গলবার পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে জানান, পাকিস্তান ইরানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। তবে পাকিস্তান সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত ইসলামাবাদে নির্ধারিত শান্তি আলোচনায় অংশ নেওয়ার বিষয়ে তেহরানের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ইরানের সিদ্ধান্ত পাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চলছে। এই যুদ্ধবিরতি শুরু হয়েছিল ৮ এপ্রিল থেকে, যা শেষ হওয়ার কথা ২২ এপ্রিল ভোরে। যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নতুন করে আলোচনা শুরু না হলে আবার সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই পাকিস্তান এই সংলাপ আয়োজনকে খুব গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।
এদিকে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান—দুই দেশকেই যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি মনে করেন, উত্তেজনা কমাতে সংলাপই সবচেয়ে কার্যকর পথ। যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত কূটনৈতিক প্রতিনিধি নাটালি বেকারের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এই আহ্বান জানান।
ওই বৈঠকে ইশাক দার স্পষ্ট করে বলেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরাসরি কূটনৈতিক যোগাযোগ খুব জরুরি। দীর্ঘমেয়াদি শান্তি নিশ্চিত করতে হলে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত আলোচনার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়ই এই সুযোগ কাজে লাগাবে।
অন্যদিকে নাটালি বেকার পাকিস্তানের ভূমিকাকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে এবং আলোচনার পরিবেশ তৈরি করতে পাকিস্তান যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা প্রশংসার যোগ্য। যুক্তরাষ্ট্রও এই প্রচেষ্টাকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
এরই মধ্যে খবর পাওয়া গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সসহ একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদের উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন। ধারণা করা হচ্ছে, তারা পাকিস্তানে পৌঁছানোর পর ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনার বিষয়ে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নেবেন। তবে সবকিছু এখন নির্ভর করছে ইরানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর।
এদিকে ইরানের অবস্থান এখনো কঠোর। দেশটি আগেই জানিয়েছে, হুমকির মুখে তারা কোনো আলোচনায় বসবে না। বরং যুদ্ধ আবার শুরু হলে নতুন কৌশল নিয়ে প্রতিপক্ষের মোকাবিলা করতে প্রস্তুত রয়েছে। এই বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে এবং আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে।
পটভূমি হিসেবে বলা যায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই নানা ইস্যুতে উত্তেজনা চলছে। বিশেষ করে পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক বারবার খারাপ হয়েছে। এর আগে বিভিন্ন সময় ওমানসহ কয়েকটি দেশ মধ্যস্থতা করে দুই পক্ষকে আলোচনার টেবিলে বসানোর চেষ্টা করেছিল।
এবার পাকিস্তান সেই ধরনের একটি মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা পালন করছে। দক্ষিণ এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ হিসেবে পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই আঞ্চলিক কূটনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে চায়। ইসলামাবাদে সম্ভাব্য এই বৈঠক সফল হলে তা শুধু দুই দেশের সম্পর্ক নয়, পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, যুদ্ধবিরতির সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে ইরানের সিদ্ধান্ত এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আলোচনায় বসলে উত্তেজনা কমার সম্ভাবনা রয়েছে, আর সিদ্ধান্ত না এলে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার ঝুঁকি থেকেই যাবে। তাই আন্তর্জাতিক মহলও এখন এই পরিস্থিতির দিকে সতর্ক নজর রাখছে।

মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ এপ্রিল ২০২৬
ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার সম্ভাব্য শান্তি আলোচনায় ইরান অংশ নেবে কি না—এই প্রশ্নে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো জবাব পায়নি পাকিস্তান। যুদ্ধবিরতির সময়সীমা শেষ হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে এই অনিশ্চয়তা আঞ্চলিক পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।
মঙ্গলবার পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে জানান, পাকিস্তান ইরানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। তবে পাকিস্তান সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত ইসলামাবাদে নির্ধারিত শান্তি আলোচনায় অংশ নেওয়ার বিষয়ে তেহরানের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ইরানের সিদ্ধান্ত পাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চলছে। এই যুদ্ধবিরতি শুরু হয়েছিল ৮ এপ্রিল থেকে, যা শেষ হওয়ার কথা ২২ এপ্রিল ভোরে। যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নতুন করে আলোচনা শুরু না হলে আবার সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই পাকিস্তান এই সংলাপ আয়োজনকে খুব গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।
এদিকে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান—দুই দেশকেই যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি মনে করেন, উত্তেজনা কমাতে সংলাপই সবচেয়ে কার্যকর পথ। যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত কূটনৈতিক প্রতিনিধি নাটালি বেকারের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এই আহ্বান জানান।
ওই বৈঠকে ইশাক দার স্পষ্ট করে বলেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরাসরি কূটনৈতিক যোগাযোগ খুব জরুরি। দীর্ঘমেয়াদি শান্তি নিশ্চিত করতে হলে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত আলোচনার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়ই এই সুযোগ কাজে লাগাবে।
অন্যদিকে নাটালি বেকার পাকিস্তানের ভূমিকাকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে এবং আলোচনার পরিবেশ তৈরি করতে পাকিস্তান যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা প্রশংসার যোগ্য। যুক্তরাষ্ট্রও এই প্রচেষ্টাকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
এরই মধ্যে খবর পাওয়া গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সসহ একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদের উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন। ধারণা করা হচ্ছে, তারা পাকিস্তানে পৌঁছানোর পর ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনার বিষয়ে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নেবেন। তবে সবকিছু এখন নির্ভর করছে ইরানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর।
এদিকে ইরানের অবস্থান এখনো কঠোর। দেশটি আগেই জানিয়েছে, হুমকির মুখে তারা কোনো আলোচনায় বসবে না। বরং যুদ্ধ আবার শুরু হলে নতুন কৌশল নিয়ে প্রতিপক্ষের মোকাবিলা করতে প্রস্তুত রয়েছে। এই বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে এবং আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে।
পটভূমি হিসেবে বলা যায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই নানা ইস্যুতে উত্তেজনা চলছে। বিশেষ করে পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক বারবার খারাপ হয়েছে। এর আগে বিভিন্ন সময় ওমানসহ কয়েকটি দেশ মধ্যস্থতা করে দুই পক্ষকে আলোচনার টেবিলে বসানোর চেষ্টা করেছিল।
এবার পাকিস্তান সেই ধরনের একটি মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা পালন করছে। দক্ষিণ এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ হিসেবে পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই আঞ্চলিক কূটনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে চায়। ইসলামাবাদে সম্ভাব্য এই বৈঠক সফল হলে তা শুধু দুই দেশের সম্পর্ক নয়, পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, যুদ্ধবিরতির সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে ইরানের সিদ্ধান্ত এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আলোচনায় বসলে উত্তেজনা কমার সম্ভাবনা রয়েছে, আর সিদ্ধান্ত না এলে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার ঝুঁকি থেকেই যাবে। তাই আন্তর্জাতিক মহলও এখন এই পরিস্থিতির দিকে সতর্ক নজর রাখছে।

আপনার মতামত লিখুন