মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে আবারও আলোচনার টেবিলে বসতে যাচ্ছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। বহুল প্রতীক্ষিত এই সংলাপকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের মার্কিন প্রতিনিধি দল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। এই সফরকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। রোববার সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ওয়াশিংটন থেকে প্রতিনিধি দলটি ইসলামাবাদের পথে রয়েছে। যদিও আলোচনার নির্দিষ্ট সময় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি, তবে মঙ্গলবার দুই দেশের প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠক হওয়ার জোর সম্ভাবনা রয়েছে। এই বৈঠককে দ্বিতীয় দফার গুরুত্বপূর্ণ সংলাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এদিকে এই বৈঠককে ঘিরে ইসলামাবাদ শহরজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে শহরের রেড জোন ও বর্ধিত রেড জোন এলাকায় সব ধরনের যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তার কারণে রাওয়ালপিণ্ডিসহ আশপাশের এলাকাতেও গণপরিবহন ও পণ্যবাহী যান চলাচলে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১০ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। শহরের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথে ৬০০টির বেশি বিশেষ চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এলিট ফোর্স, স্নাইপার ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। নিরাপত্তার এই কঠোর ব্যবস্থা থেকেই বোঝা যাচ্ছে বৈঠকটিকে কতটা গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষ দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় ১০ ও ১১ এপ্রিল প্রথম দফার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে কিছু বিষয়ে অগ্রগতি হলেও এখনো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু অমীমাংসিত রয়েছে বলে জানা গেছে। এরও আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা দ্রুত বেড়ে যায়। ওই ঘটনার পর থেকেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। আন্তর্জাতিক মহল তখন থেকেই দুই পক্ষকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়ে আসছে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, আলোচনায় কিছু ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে ঠিকই, তবে এখনো বেশ কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আলোচনা ‘খুবই ফলপ্রসূ’ হচ্ছে। তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যেন নতুন করে কোনো উত্তেজনা তৈরি না করে। বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামাবাদে এই সংলাপ আয়োজন হওয়া নিজেই একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। কারণ পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংকট পরিস্থিতিতে মধ্যস্থতার চেষ্টা করে আসছে। অতীতেও ইসলামাবাদে একাধিক আঞ্চলিক বৈঠক হয়েছে, যেখানে উত্তেজনা কমাতে আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, দ্বিতীয় দফার এই সংলাপকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। তবে স্থায়ী সমাধানে পৌঁছাতে হলে এখনো দুই পক্ষকে কয়েকটি বড় বাধা পার হতে হবে। তবুও আলোচনা চলতে থাকাটা পরিস্থিতি শান্ত করার পথে ইতিবাচক একটি ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ এপ্রিল ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে আবারও আলোচনার টেবিলে বসতে যাচ্ছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। বহুল প্রতীক্ষিত এই সংলাপকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের মার্কিন প্রতিনিধি দল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। এই সফরকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। রোববার সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ওয়াশিংটন থেকে প্রতিনিধি দলটি ইসলামাবাদের পথে রয়েছে। যদিও আলোচনার নির্দিষ্ট সময় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি, তবে মঙ্গলবার দুই দেশের প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠক হওয়ার জোর সম্ভাবনা রয়েছে। এই বৈঠককে দ্বিতীয় দফার গুরুত্বপূর্ণ সংলাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এদিকে এই বৈঠককে ঘিরে ইসলামাবাদ শহরজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে শহরের রেড জোন ও বর্ধিত রেড জোন এলাকায় সব ধরনের যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তার কারণে রাওয়ালপিণ্ডিসহ আশপাশের এলাকাতেও গণপরিবহন ও পণ্যবাহী যান চলাচলে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১০ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। শহরের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথে ৬০০টির বেশি বিশেষ চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এলিট ফোর্স, স্নাইপার ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। নিরাপত্তার এই কঠোর ব্যবস্থা থেকেই বোঝা যাচ্ছে বৈঠকটিকে কতটা গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষ দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় ১০ ও ১১ এপ্রিল প্রথম দফার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে কিছু বিষয়ে অগ্রগতি হলেও এখনো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু অমীমাংসিত রয়েছে বলে জানা গেছে। এরও আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা দ্রুত বেড়ে যায়। ওই ঘটনার পর থেকেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। আন্তর্জাতিক মহল তখন থেকেই দুই পক্ষকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়ে আসছে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, আলোচনায় কিছু ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে ঠিকই, তবে এখনো বেশ কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আলোচনা ‘খুবই ফলপ্রসূ’ হচ্ছে। তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যেন নতুন করে কোনো উত্তেজনা তৈরি না করে। বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামাবাদে এই সংলাপ আয়োজন হওয়া নিজেই একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। কারণ পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংকট পরিস্থিতিতে মধ্যস্থতার চেষ্টা করে আসছে। অতীতেও ইসলামাবাদে একাধিক আঞ্চলিক বৈঠক হয়েছে, যেখানে উত্তেজনা কমাতে আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, দ্বিতীয় দফার এই সংলাপকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। তবে স্থায়ী সমাধানে পৌঁছাতে হলে এখনো দুই পক্ষকে কয়েকটি বড় বাধা পার হতে হবে। তবুও আলোচনা চলতে থাকাটা পরিস্থিতি শান্ত করার পথে ইতিবাচক একটি ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।

আপনার মতামত লিখুন