গাজীপুর জেলা সদর ভাওয়ালগড় এলাকায় অবস্থিত ‘ভাওয়াল রিসোর্ট এন্ড স্পা’ সেন্টারে অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও দেহ ব্যবসার অভিযোগে শুক্রবার রাতে অভিযান চালায় জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালত। অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবুবকর সিদ্দিক ও মো. ফয়সাল। রাতভর চলা এ অভিযানে বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকে ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
অভিযান চলাকালে রিসোর্টের বিভিন্ন কক্ষ তল্লাশি করে কুশ, ক্যানাবিস চকলেট, বিয়ার (ক্যান), অ্যালকোহলসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও বিদেশি ব্র্যান্ডের মদও জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। অভিযানের সময় রিসোর্টের ভেতরে অনুমোদন ছাড়াই ডিজে পার্টি চলছিল বলেও জানা গেছে।
গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—জাহিদুল আলম জয় (৩৪), ফয়জুল ইসলাম খান লাবিব (৩৬), ইফতিয়ার কাসেম চালী (৩০), জিহাদ আহম্মেদ রাফি (১৯), রেদোয়ান হাসান চৌধুরী (৩৩) এবং মো. আবির হোসেন (২৩)। তাদের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য আইনে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবুবকর সিদ্দিক সাংবাদিকদের বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে ওই রিসোর্টে অনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং অবৈধ পার্টির আয়োজনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। বিষয়টি যাচাই করতে প্রশাসন নজরদারি চালানোর পর শুক্রবার রাতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরাও অংশ নেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুরের ভাওয়াল এলাকা দীর্ঘদিন ধরে পর্যটন ও বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। ঢাকার কাছাকাছি হওয়ায় অনেকেই অবকাশ যাপনের জন্য এ এলাকায় রিসোর্টে যান। তবে মাঝে মধ্যে কিছু রিসোর্টে অনুমোদনহীন পার্টি বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠায় প্রশাসন নিয়মিত অভিযান চালিয়ে থাকে। এসব অভিযানের লক্ষ্য হচ্ছে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা। এদিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা জানিয়েছেন, সম্প্রতি বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্র ও রিসোর্টে মাদক ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতেই নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। তরুণদের মধ্যে মাদক বিস্তার ঠেকাতে এসব অভিযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই এই অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, এ ধরনের অভিযান নিয়মিত হলে এলাকায় অপরাধ প্রবণতা কমবে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ বাড়বে।
সব মিলিয়ে প্রশাসনের এই অভিযান শুধু একটি রিসোর্টে সীমাবদ্ধ নয়, বরং অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে চলমান কঠোর অবস্থানেরই একটি অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভবিষ্যতেও এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে, যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী থাকে এবং বিনোদনকেন্দ্রগুলো নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখতে বাধ্য হয়।

রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬
গাজীপুর জেলা সদর ভাওয়ালগড় এলাকায় অবস্থিত ‘ভাওয়াল রিসোর্ট এন্ড স্পা’ সেন্টারে অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও দেহ ব্যবসার অভিযোগে শুক্রবার রাতে অভিযান চালায় জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালত। অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবুবকর সিদ্দিক ও মো. ফয়সাল। রাতভর চলা এ অভিযানে বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকে ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
অভিযান চলাকালে রিসোর্টের বিভিন্ন কক্ষ তল্লাশি করে কুশ, ক্যানাবিস চকলেট, বিয়ার (ক্যান), অ্যালকোহলসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও বিদেশি ব্র্যান্ডের মদও জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। অভিযানের সময় রিসোর্টের ভেতরে অনুমোদন ছাড়াই ডিজে পার্টি চলছিল বলেও জানা গেছে।
গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—জাহিদুল আলম জয় (৩৪), ফয়জুল ইসলাম খান লাবিব (৩৬), ইফতিয়ার কাসেম চালী (৩০), জিহাদ আহম্মেদ রাফি (১৯), রেদোয়ান হাসান চৌধুরী (৩৩) এবং মো. আবির হোসেন (২৩)। তাদের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য আইনে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবুবকর সিদ্দিক সাংবাদিকদের বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে ওই রিসোর্টে অনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং অবৈধ পার্টির আয়োজনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। বিষয়টি যাচাই করতে প্রশাসন নজরদারি চালানোর পর শুক্রবার রাতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরাও অংশ নেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুরের ভাওয়াল এলাকা দীর্ঘদিন ধরে পর্যটন ও বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। ঢাকার কাছাকাছি হওয়ায় অনেকেই অবকাশ যাপনের জন্য এ এলাকায় রিসোর্টে যান। তবে মাঝে মধ্যে কিছু রিসোর্টে অনুমোদনহীন পার্টি বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠায় প্রশাসন নিয়মিত অভিযান চালিয়ে থাকে। এসব অভিযানের লক্ষ্য হচ্ছে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা। এদিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা জানিয়েছেন, সম্প্রতি বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্র ও রিসোর্টে মাদক ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতেই নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। তরুণদের মধ্যে মাদক বিস্তার ঠেকাতে এসব অভিযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই এই অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, এ ধরনের অভিযান নিয়মিত হলে এলাকায় অপরাধ প্রবণতা কমবে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ বাড়বে।
সব মিলিয়ে প্রশাসনের এই অভিযান শুধু একটি রিসোর্টে সীমাবদ্ধ নয়, বরং অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে চলমান কঠোর অবস্থানেরই একটি অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভবিষ্যতেও এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে, যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী থাকে এবং বিনোদনকেন্দ্রগুলো নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখতে বাধ্য হয়।

আপনার মতামত লিখুন