বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড তাদের এক ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছে, জাতীয় দলের হয়ে দীর্ঘ ১২ বছর নিষ্ঠার সঙ্গে খেলেছেন রুবেল হোসেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মোট ১৯৩টি উইকেট নেওয়া এই পেসার দেশের ক্রিকেটে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তাই বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড দ্বিতীয় ওয়ানডের আগে শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মান জানানো হবে।
রুবেলের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শুরু হয়েছিল ২০০৯ সালের ১৪ জানুয়ারি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে ম্যাচ দিয়ে। একই বছরের জুন ও জুলাই মাসে টি-টোয়েন্টি ও টেস্ট ফরম্যাটেও অভিষেক হয় তার। এরপর ধীরে ধীরে তিনি হয়ে ওঠেন বাংলাদেশের পেস আক্রমণের অন্যতম ভরসা।
জাতীয় দলের হয়ে তিনি খেলেছেন ২৭টি টেস্ট, ১০৪টি ওয়ানডে এবং ২৮টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। তিন সংস্করণ মিলিয়ে তার শিকার ১৯৩ উইকেট। এর মধ্যে টেস্টে ৩৬টি, ওয়ানডেতে ১২৯টি এবং টি-টোয়েন্টিতে ২৮টি উইকেট নিয়েছেন তিনি। দীর্ঘ সময় ধরে দলের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে তিনি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছেন।
বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে রুবেলের অন্যতম স্মরণীয় পারফরম্যান্স আসে ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে। সেই ম্যাচে শেষ দিকে গুরুত্বপূর্ণ দুই উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলে দেন তিনি। এই ম্যাচটি এখনো দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে বিশেষভাবে স্মরণীয়।
এছাড়া ২০১০ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে কাইল মিলসকে বোল্ড করে ‘বাংলাওয়াশ’ নিশ্চিত করার মুহূর্তেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তার। ২০১৩ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেই ওয়ানডে ক্রিকেটে হ্যাটট্রিক করেন রুবেল। যা বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে ধরা হয়।
গত কয়েক বছরে জাতীয় দলের বাইরে থাকলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত দেখা গেছে তাকে। সবশেষ ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে খুলনা টাইগার্সের হয়ে খেলেছেন তিনি। তবে ২০২৪ সালের এপ্রিলের পর আর ঢাকা প্রিমিয়ার লিগেও তাকে দেখা যায়নি। জাতীয় দলের হয়ে তার শেষ ম্যাচ ছিল ২০২১ সালের ১ এপ্রিল নিউজিল্যান্ড সফরে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় দলের সাবেক খেলোয়াড়দের অবদানের স্বীকৃতি দিতে বিভিন্ন সময় সংবর্ধনার আয়োজন করে থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক মাধ্যমে অবসর ঘোষণার পর আনুষ্ঠানিক বিদায়ী আয়োজনের একটি প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে, যেখানে তামিম ইকবাল ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের পথ অনুসরণ করেছেন রুবেলও।
সব মিলিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটে এক দশকের বেশি সময় অবদান রাখা রুবেল হোসেনের জন্য এই সম্মাননা তার ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হয়ে থাকবে। জাতীয় দলের জার্সিতে তার স্মরণীয় মুহূর্তগুলো ক্রিকেটভক্তদের মনে দীর্ঘদিন জায়গা করে নেবে।

রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড তাদের এক ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছে, জাতীয় দলের হয়ে দীর্ঘ ১২ বছর নিষ্ঠার সঙ্গে খেলেছেন রুবেল হোসেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মোট ১৯৩টি উইকেট নেওয়া এই পেসার দেশের ক্রিকেটে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তাই বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড দ্বিতীয় ওয়ানডের আগে শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মান জানানো হবে।
রুবেলের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শুরু হয়েছিল ২০০৯ সালের ১৪ জানুয়ারি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে ম্যাচ দিয়ে। একই বছরের জুন ও জুলাই মাসে টি-টোয়েন্টি ও টেস্ট ফরম্যাটেও অভিষেক হয় তার। এরপর ধীরে ধীরে তিনি হয়ে ওঠেন বাংলাদেশের পেস আক্রমণের অন্যতম ভরসা।
জাতীয় দলের হয়ে তিনি খেলেছেন ২৭টি টেস্ট, ১০৪টি ওয়ানডে এবং ২৮টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। তিন সংস্করণ মিলিয়ে তার শিকার ১৯৩ উইকেট। এর মধ্যে টেস্টে ৩৬টি, ওয়ানডেতে ১২৯টি এবং টি-টোয়েন্টিতে ২৮টি উইকেট নিয়েছেন তিনি। দীর্ঘ সময় ধরে দলের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে তিনি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছেন।
বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে রুবেলের অন্যতম স্মরণীয় পারফরম্যান্স আসে ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে। সেই ম্যাচে শেষ দিকে গুরুত্বপূর্ণ দুই উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলে দেন তিনি। এই ম্যাচটি এখনো দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে বিশেষভাবে স্মরণীয়।
এছাড়া ২০১০ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে কাইল মিলসকে বোল্ড করে ‘বাংলাওয়াশ’ নিশ্চিত করার মুহূর্তেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তার। ২০১৩ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেই ওয়ানডে ক্রিকেটে হ্যাটট্রিক করেন রুবেল। যা বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে ধরা হয়।
গত কয়েক বছরে জাতীয় দলের বাইরে থাকলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত দেখা গেছে তাকে। সবশেষ ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে খুলনা টাইগার্সের হয়ে খেলেছেন তিনি। তবে ২০২৪ সালের এপ্রিলের পর আর ঢাকা প্রিমিয়ার লিগেও তাকে দেখা যায়নি। জাতীয় দলের হয়ে তার শেষ ম্যাচ ছিল ২০২১ সালের ১ এপ্রিল নিউজিল্যান্ড সফরে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় দলের সাবেক খেলোয়াড়দের অবদানের স্বীকৃতি দিতে বিভিন্ন সময় সংবর্ধনার আয়োজন করে থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক মাধ্যমে অবসর ঘোষণার পর আনুষ্ঠানিক বিদায়ী আয়োজনের একটি প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে, যেখানে তামিম ইকবাল ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের পথ অনুসরণ করেছেন রুবেলও।
সব মিলিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটে এক দশকের বেশি সময় অবদান রাখা রুবেল হোসেনের জন্য এই সম্মাননা তার ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হয়ে থাকবে। জাতীয় দলের জার্সিতে তার স্মরণীয় মুহূর্তগুলো ক্রিকেটভক্তদের মনে দীর্ঘদিন জায়গা করে নেবে।

আপনার মতামত লিখুন