দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
আপডেট : সোমবার, ০৪ মে ২০২৬

জুনের মধ্যেই মাঠ থেকে সেনা প্রত্যাহার: আইনশৃঙ্খলায় নতুন কৌশল, কী প্রভাব পড়বে?

জুনের মধ্যেই মাঠ থেকে সেনা প্রত্যাহার: আইনশৃঙ্খলায় নতুন কৌশল, কী প্রভাব পড়বে?

গণমাধ্যমে পেশাদারিত্ব বাড়ালে কমবে সংকট: নীতিমালা আধুনিকায়নের ইঙ্গিত তথ্যমন্ত্রীর

নাসির–তামিমা মামলা: ১০ জুন রায়, শেষ পর্যায়ে বহুল আলোচিত বিচার

ঈদুল আজহা ২৭ নাকি ২৮ মে? চাঁদ দেখার অপেক্ষায় বাংলাদেশসহ বিশ্ব মুসলিম

খাস জমি উদ্ধারে জিরো টলারেন্স: প্রভাবশালীদেরও ছাড় নয়—ভূমিমন্ত্রীর কঠোর বার্তা

এক বছরের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন: প্রস্তুতি শুরু, জোর দেওয়া হচ্ছে সমন্বয় ও স্বচ্ছতায়

হরমুজে উত্তেজনা: মার্কিন সামরিক পাহারায় বাণিজ্যিক জাহাজ পার, নতুন করে বাড়ছে বৈশ্বিক উদ্বেগ

চলচ্চিত্র বদলায় চিন্তার কাঠামো: জাবিতে ‘সত্যজিৎ রায় উৎসব-২০২৬’-এ তথ্যমন্ত্রীর গুরুত্বারোপ

হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুঁশিয়ারি ইরানের, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনা চরমে

হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুঁশিয়ারি ইরানের, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনা চরমে
-ছবি: সংগৃহীত

নিজেদের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা হলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়ার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যের জবাবে এই পাল্টা সতর্কবার্তা দেয় তেহরান, যা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকে নতুন মাত্রায় পৌঁছে দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

আইআরজিসির কঠোর অবস্থান

রবিবার ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানায়, দেশটির পারমাণবিক স্থাপনায় কোনো ধরনের হামলা হলে হরমুজ প্রণালি “সম্পূর্ণভাবে” বন্ধ করে দেওয়া হবে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হামলার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পুনর্নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত এই অবস্থা বহাল থাকবে।


পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি

আইআরজিসি আরও কঠোর ভাষায় জানায়, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় আঘাত এলে ইসরায়েলের বিদ্যুৎ কেন্দ্র, জ্বালানি অবকাঠামো এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রযুক্তি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানো হবে।

এছাড়া এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন বিভিন্ন কোম্পানিও সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

মার্কিন ঘাঁটি থাকা দেশগুলো নিয়েও সতর্কতা

বিবৃতিতে বলা হয়, যেসব দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেসব দেশের বিদ্যুৎ ও অবকাঠামোও হামলার ঝুঁকিতে থাকতে পারে।

এই বক্তব্যকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বড় ধরনের সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

হরমুজ প্রণালির কৌশলগত গুরুত্ব

হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট। মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানির বড় একটি অংশ এই পথ দিয়েই বিশ্ববাজারে পৌঁছে।

ফলে এখানে কোনো ধরনের অস্থিরতা দেখা দিলে তা সরাসরি আন্তর্জাতিক তেল বাজারে প্রভাব ফেলে।

উত্তেজনার পেছনের প্রেক্ষাপট

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকেই এই অঞ্চলে উত্তেজনা বেড়ে যায়। এরপর থেকে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর হয়েছে বলে জানা যায়।

বর্তমানে দেশটির অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ বা তেলবাহী ট্যাংকার এই রুট ব্যবহার করতে পারছে না বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং অপরিশোধিত তেলের দামও বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

নৌপথ নিয়ে নতুন সংকট

ইরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, হামলা বন্ধ না হলে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং তাদের মিত্র দেশের জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করতে পারবে না।

নিয়ম অমান্য করলে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছে তেহরান।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া

অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ন্যাটো মিত্রদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি সচল রাখতে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করতে।

তবে বর্তমান পরিস্থিতিকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে অনেক দেশ এই আহ্বানে সরাসরি সাড়া দিতে অনীহা প্রকাশ করেছে বলে জানা গেছে।


বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রভাবের শঙ্কা

বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা লাগতে পারে। কারণ বিশ্বে ব্যবহৃত জ্বালানির একটি বড় অংশ এই রুট দিয়েই পরিবহন হয়।

তেল সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হলে জ্বালানির দাম আরও বেড়ে যেতে পারে, যার প্রভাব পড়বে বিশ্ববাজারে পণ্যমূল্যেও।

উপসংহার

সব মিলিয়ে ইরানের এই হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। পারমাণবিক স্থাপনা, সামরিক ঘাঁটি এবং গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথকে ঘিরে যে অবস্থান তৈরি হয়েছে, তা দ্রুত শান্ত না হলে বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।


বিষয় : হরমুজ প্রণালি সংকট ইরান যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা ২০২৬ পারমাণবিক স্থাপনা হামলা হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ পরিস্থিতি

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬


হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুঁশিয়ারি ইরানের, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনা চরমে

প্রকাশের তারিখ : ২২ মার্চ ২০২৬

featured Image

নিজেদের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা হলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়ার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যের জবাবে এই পাল্টা সতর্কবার্তা দেয় তেহরান, যা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকে নতুন মাত্রায় পৌঁছে দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

আইআরজিসির কঠোর অবস্থান

রবিবার ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানায়, দেশটির পারমাণবিক স্থাপনায় কোনো ধরনের হামলা হলে হরমুজ প্রণালি “সম্পূর্ণভাবে” বন্ধ করে দেওয়া হবে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হামলার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পুনর্নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত এই অবস্থা বহাল থাকবে।


পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি

আইআরজিসি আরও কঠোর ভাষায় জানায়, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় আঘাত এলে ইসরায়েলের বিদ্যুৎ কেন্দ্র, জ্বালানি অবকাঠামো এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রযুক্তি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানো হবে।

এছাড়া এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন বিভিন্ন কোম্পানিও সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

মার্কিন ঘাঁটি থাকা দেশগুলো নিয়েও সতর্কতা

বিবৃতিতে বলা হয়, যেসব দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেসব দেশের বিদ্যুৎ ও অবকাঠামোও হামলার ঝুঁকিতে থাকতে পারে।

এই বক্তব্যকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বড় ধরনের সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

হরমুজ প্রণালির কৌশলগত গুরুত্ব

হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট। মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানির বড় একটি অংশ এই পথ দিয়েই বিশ্ববাজারে পৌঁছে।

ফলে এখানে কোনো ধরনের অস্থিরতা দেখা দিলে তা সরাসরি আন্তর্জাতিক তেল বাজারে প্রভাব ফেলে।

উত্তেজনার পেছনের প্রেক্ষাপট

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকেই এই অঞ্চলে উত্তেজনা বেড়ে যায়। এরপর থেকে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর হয়েছে বলে জানা যায়।

বর্তমানে দেশটির অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ বা তেলবাহী ট্যাংকার এই রুট ব্যবহার করতে পারছে না বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং অপরিশোধিত তেলের দামও বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

নৌপথ নিয়ে নতুন সংকট

ইরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, হামলা বন্ধ না হলে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং তাদের মিত্র দেশের জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করতে পারবে না।

নিয়ম অমান্য করলে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছে তেহরান।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া

অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ন্যাটো মিত্রদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি সচল রাখতে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করতে।

তবে বর্তমান পরিস্থিতিকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে অনেক দেশ এই আহ্বানে সরাসরি সাড়া দিতে অনীহা প্রকাশ করেছে বলে জানা গেছে।


বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রভাবের শঙ্কা

বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা লাগতে পারে। কারণ বিশ্বে ব্যবহৃত জ্বালানির একটি বড় অংশ এই রুট দিয়েই পরিবহন হয়।

তেল সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হলে জ্বালানির দাম আরও বেড়ে যেতে পারে, যার প্রভাব পড়বে বিশ্ববাজারে পণ্যমূল্যেও।

উপসংহার

সব মিলিয়ে ইরানের এই হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। পারমাণবিক স্থাপনা, সামরিক ঘাঁটি এবং গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথকে ঘিরে যে অবস্থান তৈরি হয়েছে, তা দ্রুত শান্ত না হলে বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।



দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর