দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬

হরমুজে উত্তেজনা: মার্কিন সামরিক পাহারায় বাণিজ্যিক জাহাজ পার, নতুন করে বাড়ছে বৈশ্বিক উদ্বেগ

হরমুজে উত্তেজনা: মার্কিন সামরিক পাহারায় বাণিজ্যিক জাহাজ পার, নতুন করে বাড়ছে বৈশ্বিক উদ্বেগ

চলচ্চিত্র বদলায় চিন্তার কাঠামো: জাবিতে ‘সত্যজিৎ রায় উৎসব-২০২৬’-এ তথ্যমন্ত্রীর গুরুত্বারোপ

নাটোরে পারিবারিক কলহের জেরে মৎস্য ব্যবসায়ী হত্যার অভিযোগ, স্ত্রী ও ছেলে আটক

বন্ধ কারখানায় নতুন প্রাণ: শিল্প খাত পুনরুজ্জীবনে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগ

পুলিশের পোশাকে নতুন ছোঁয়া: শার্ট আগের মতো, প্যান্টে ফিরছে খাকি রঙ

শাহজালাল বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে তুরস্কের আগ্রহ, বাড়ছে নতুন সম্ভাবনা

শাপলা চত্বর ২০১৩: তদন্তে নতুন তথ্য—শুধু ঢাকাতেই ৩২ জন নিহতের প্রমাণ

ইরানে গণসমাবেশে শক্তির বার্তা: “কোনো শক্তিই আমাদের দুর্বল করতে পারবে না”

চলচ্চিত্র বদলায় চিন্তার কাঠামো: জাবিতে ‘সত্যজিৎ রায় উৎসব-২০২৬’-এ তথ্যমন্ত্রীর গুরুত্বারোপ

চলচ্চিত্র বদলায় চিন্তার কাঠামো: জাবিতে ‘সত্যজিৎ রায় উৎসব-২০২৬’-এ তথ্যমন্ত্রীর গুরুত্বারোপ
-ছবি: সংগৃহীত

ইন্ট্রো:
চলচ্চিত্র কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়—মানুষের চিন্তাধারা ও মনোজগৎ গঠনের শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবেই এটি কাজ করে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ‘সত্যজিৎ রায় উৎসব-২০২৬’-এ অংশ নিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন, যা তরুণদের মধ্যে সৃষ্টিশীলতা ও সমালোচনামূলক চিন্তার গুরুত্ব নতুনভাবে সামনে এনেছে।


চলচ্চিত্রের প্রভাব: বিনোদনের বাইরে এক শক্তিশালী মাধ্যম

সোমবার দুপুরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘সত্যজিৎ রায় উৎসব-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী বলেন, চলচ্চিত্র মানুষের মানসিক গঠন ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি নির্মাণে গভীর প্রভাব ফেলে। তার ভাষায়, একটি ভালো চলচ্চিত্র কিংবা বই মানুষের চিন্তায় দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন আনতে পারে।


তিনি আরও উল্লেখ করেন, সৃষ্টিশীল মাধ্যমগুলোর শক্তি শুধু বিনোদনে সীমাবদ্ধ নয়; এগুলো সমাজে নতুন ধারণা তৈরি করে এবং মানুষের ভাবনার জগতে বৈচিত্র্য আনে। তাই চলচ্চিত্র নির্মাতা, লেখক এবং যোগাযোগমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


‘সত্যজিৎ রায় উৎসব’: ঐতিহ্য ও সৃষ্টিশীলতার মিলনমেলা

প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত এই উৎসবটি যৌথভাবে আয়োজন করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনে সোসাইটি, ইতিহাস ঐতিহ্য পরিষদ এবং ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশনস। দুই দিনব্যাপী এই আয়োজনে চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, আলোচনা সভা এবং তরুণ নির্মাতাদের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য।

উৎসবে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা জানান, এ ধরনের আয়োজন তাদের চলচ্চিত্র সম্পর্কে নতুন করে ভাবতে শেখায়। এক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “শুধু সিনেমা দেখা নয়, এর ভেতরের বার্তা বোঝার চেষ্টা করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই উৎসব আমাদের সেই সুযোগ করে দিয়েছে।”


ইতিহাসের প্রভাব ও স্বাধীন চিন্তার আহ্বান

অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে তথ্যমন্ত্রী উপমহাদেশের ইতিহাস, বিশেষ করে ১৯৪৭ সালের দেশভাগের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই ঐতিহাসিক ঘটনা আমাদের সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে গভীর প্রভাব ফেলেছে, তবে সেই প্রভাব যেন চিন্তার স্বাধীনতাকে সংকুচিত না করে।

তার মতে, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া জরুরি হলেও নতুন প্রজন্মকে মুক্তভাবে ভাবতে উৎসাহিত করতে হবে। “আমাদের ক্রিটিক্যাল চিন্তা করতে হবে, প্রচলিত ধারণাকে প্রশ্ন করতে হবে”—এমন মন্তব্য করে তিনি তরুণদের সৃজনশীলতার প্রতি আরও মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।


বিশিষ্টজনদের বক্তব্য: সত্যজিৎ রায়ের প্রাসঙ্গিকতা

অনুষ্ঠানে উপস্থিত চলচ্চিত্র সমালোচক ও সাংবাদিক বিধান রিবেরু বলেন, বর্তমান সময়েও সত্যজিৎ রায়ের কাজ অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তার মতে, রায়ের চলচ্চিত্রগুলো শুধু গল্প বলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সমাজের বাস্তবতা ও মানবিক মূল্যবোধ তুলে ধরার এক অনন্য উদাহরণ।


এছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার শ্রী পাওয়ান বঢ়ে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামরুল আহসান, চলচ্চিত্র গবেষক অধ্যাপক মঈনুদ্দিন খালেদ, নির্মাতা তানভীর মোকাম্মেল এবং অভিনেতা-নির্মাতা তৌকির আহমেদ।

তারা সবাই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং নতুন প্রজন্মকে এই মাধ্যমের প্রতি আগ্রহী হওয়ার আহ্বান জানান।


তরুণদের সম্পৃক্ততা: সময়ের দাবি

তথ্যমন্ত্রী তার বক্তব্যে বিশেষভাবে তরুণদের সঙ্গে সংযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, সৃষ্টিশীল ক্ষেত্রগুলোতে তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়াতে না পারলে ভবিষ্যতে এই মাধ্যমগুলোর বিকাশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

এ বিষয়ে এক শিক্ষক মন্তব্য করেন, “বর্তমান প্রজন্ম ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বেশি সময় ব্যয় করছে। তাই চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতির সঙ্গে তাদের যুক্ত করতে হলে নতুন ধরনের উদ্যোগ নিতে হবে।”


প্রভাব ও বিশ্লেষণ: সমাজে পরিবর্তনের সম্ভাবনা

বিশেষজ্ঞদের মতে, চলচ্চিত্র সমাজের প্রতিচ্ছবি যেমন তুলে ধরে, তেমনি সমাজকে প্রভাবিত করতেও সক্ষম। একটি শক্তিশালী গল্প মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিতে পারে, যা সামাজিক পরিবর্তনের পথ তৈরি করে।

এই আয়োজনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে চলচ্চিত্র নিয়ে আলোচনা ও গবেষণার আগ্রহ বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে সংস্কৃতির বিনিময়ও জোরদার হবে।


প্রশাসনের ভূমিকা ও প্রয়োজনীয়তা

সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত হলে তরুণদের মধ্যে সৃষ্টিশীল চর্চা বাড়বে। এজন্য প্রশাসনিক সহায়তা এবং সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

তবে আয়োজকদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এই উৎসব আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।



উপসংহার

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘সত্যজিৎ রায় উৎসব-২০২৬’ শুধু একটি সাংস্কৃতিক আয়োজন নয়, বরং চলচ্চিত্রের মাধ্যমে চিন্তা ও মনোজগতের বিকাশের এক গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তথ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে—চলচ্চিত্র সমাজ গঠনের একটি কার্যকর মাধ্যম, যা সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলে নতুন প্রজন্মকে ইতিবাচক পথে পরিচালিত করা সম্ভব।

বিষয় : চলচ্চিত্রের প্রভাব সত্যজিৎ রায় উৎসব ২০২৬, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬


চলচ্চিত্র বদলায় চিন্তার কাঠামো: জাবিতে ‘সত্যজিৎ রায় উৎসব-২০২৬’-এ তথ্যমন্ত্রীর গুরুত্বারোপ

প্রকাশের তারিখ : ০৫ মে ২০২৬

featured Image

ইন্ট্রো:
চলচ্চিত্র কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়—মানুষের চিন্তাধারা ও মনোজগৎ গঠনের শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবেই এটি কাজ করে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ‘সত্যজিৎ রায় উৎসব-২০২৬’-এ অংশ নিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন, যা তরুণদের মধ্যে সৃষ্টিশীলতা ও সমালোচনামূলক চিন্তার গুরুত্ব নতুনভাবে সামনে এনেছে।


চলচ্চিত্রের প্রভাব: বিনোদনের বাইরে এক শক্তিশালী মাধ্যম

সোমবার দুপুরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘সত্যজিৎ রায় উৎসব-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী বলেন, চলচ্চিত্র মানুষের মানসিক গঠন ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি নির্মাণে গভীর প্রভাব ফেলে। তার ভাষায়, একটি ভালো চলচ্চিত্র কিংবা বই মানুষের চিন্তায় দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন আনতে পারে।


তিনি আরও উল্লেখ করেন, সৃষ্টিশীল মাধ্যমগুলোর শক্তি শুধু বিনোদনে সীমাবদ্ধ নয়; এগুলো সমাজে নতুন ধারণা তৈরি করে এবং মানুষের ভাবনার জগতে বৈচিত্র্য আনে। তাই চলচ্চিত্র নির্মাতা, লেখক এবং যোগাযোগমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


‘সত্যজিৎ রায় উৎসব’: ঐতিহ্য ও সৃষ্টিশীলতার মিলনমেলা

প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত এই উৎসবটি যৌথভাবে আয়োজন করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনে সোসাইটি, ইতিহাস ঐতিহ্য পরিষদ এবং ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশনস। দুই দিনব্যাপী এই আয়োজনে চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, আলোচনা সভা এবং তরুণ নির্মাতাদের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য।

উৎসবে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা জানান, এ ধরনের আয়োজন তাদের চলচ্চিত্র সম্পর্কে নতুন করে ভাবতে শেখায়। এক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “শুধু সিনেমা দেখা নয়, এর ভেতরের বার্তা বোঝার চেষ্টা করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই উৎসব আমাদের সেই সুযোগ করে দিয়েছে।”


ইতিহাসের প্রভাব ও স্বাধীন চিন্তার আহ্বান

অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে তথ্যমন্ত্রী উপমহাদেশের ইতিহাস, বিশেষ করে ১৯৪৭ সালের দেশভাগের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই ঐতিহাসিক ঘটনা আমাদের সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে গভীর প্রভাব ফেলেছে, তবে সেই প্রভাব যেন চিন্তার স্বাধীনতাকে সংকুচিত না করে।

তার মতে, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া জরুরি হলেও নতুন প্রজন্মকে মুক্তভাবে ভাবতে উৎসাহিত করতে হবে। “আমাদের ক্রিটিক্যাল চিন্তা করতে হবে, প্রচলিত ধারণাকে প্রশ্ন করতে হবে”—এমন মন্তব্য করে তিনি তরুণদের সৃজনশীলতার প্রতি আরও মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।


বিশিষ্টজনদের বক্তব্য: সত্যজিৎ রায়ের প্রাসঙ্গিকতা

অনুষ্ঠানে উপস্থিত চলচ্চিত্র সমালোচক ও সাংবাদিক বিধান রিবেরু বলেন, বর্তমান সময়েও সত্যজিৎ রায়ের কাজ অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তার মতে, রায়ের চলচ্চিত্রগুলো শুধু গল্প বলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সমাজের বাস্তবতা ও মানবিক মূল্যবোধ তুলে ধরার এক অনন্য উদাহরণ।


এছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার শ্রী পাওয়ান বঢ়ে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামরুল আহসান, চলচ্চিত্র গবেষক অধ্যাপক মঈনুদ্দিন খালেদ, নির্মাতা তানভীর মোকাম্মেল এবং অভিনেতা-নির্মাতা তৌকির আহমেদ।

তারা সবাই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং নতুন প্রজন্মকে এই মাধ্যমের প্রতি আগ্রহী হওয়ার আহ্বান জানান।


তরুণদের সম্পৃক্ততা: সময়ের দাবি

তথ্যমন্ত্রী তার বক্তব্যে বিশেষভাবে তরুণদের সঙ্গে সংযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, সৃষ্টিশীল ক্ষেত্রগুলোতে তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়াতে না পারলে ভবিষ্যতে এই মাধ্যমগুলোর বিকাশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

এ বিষয়ে এক শিক্ষক মন্তব্য করেন, “বর্তমান প্রজন্ম ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বেশি সময় ব্যয় করছে। তাই চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতির সঙ্গে তাদের যুক্ত করতে হলে নতুন ধরনের উদ্যোগ নিতে হবে।”


প্রভাব ও বিশ্লেষণ: সমাজে পরিবর্তনের সম্ভাবনা

বিশেষজ্ঞদের মতে, চলচ্চিত্র সমাজের প্রতিচ্ছবি যেমন তুলে ধরে, তেমনি সমাজকে প্রভাবিত করতেও সক্ষম। একটি শক্তিশালী গল্প মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিতে পারে, যা সামাজিক পরিবর্তনের পথ তৈরি করে।

এই আয়োজনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে চলচ্চিত্র নিয়ে আলোচনা ও গবেষণার আগ্রহ বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে সংস্কৃতির বিনিময়ও জোরদার হবে।


প্রশাসনের ভূমিকা ও প্রয়োজনীয়তা

সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত হলে তরুণদের মধ্যে সৃষ্টিশীল চর্চা বাড়বে। এজন্য প্রশাসনিক সহায়তা এবং সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

তবে আয়োজকদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এই উৎসব আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।



উপসংহার

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘সত্যজিৎ রায় উৎসব-২০২৬’ শুধু একটি সাংস্কৃতিক আয়োজন নয়, বরং চলচ্চিত্রের মাধ্যমে চিন্তা ও মনোজগতের বিকাশের এক গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তথ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে—চলচ্চিত্র সমাজ গঠনের একটি কার্যকর মাধ্যম, যা সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলে নতুন প্রজন্মকে ইতিবাচক পথে পরিচালিত করা সম্ভব।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর