ঢাকা, সোমবার: দীর্ঘদিন পর পুলিশের পোশাকে আসছে আংশিক পরিবর্তন। মূল কাঠামো অপরিবর্তিত রেখে ইউনিফর্মে আনা হচ্ছে নতুনত্ব—বিশেষ করে প্যান্টের রঙে। শার্ট আগের মতোই থাকছে, তবে প্যান্টে ফিরছে ঐতিহ্যবাহী খাকি রঙ।
সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, পুলিশের পোশাকে কিছু পরিবর্তন আনার বিষয়ে সরকার কাজ করছে। তিনি বলেন, শার্টের রঙ আগের মতোই থাকবে—মেট্রোপলিটন এলাকায় সবুজ এবং অন্যান্য জেলায় নীল। তবে প্যান্টের ক্ষেত্রে খাকি রঙ নির্ধারণের চিন্তাভাবনা চলছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইউনিফর্মের ঐতিহ্য বজায় রেখে আধুনিকতা যোগ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিভিন্ন মহলের মতামত বিবেচনায় নিয়ে এই সিদ্ধান্তের দিকে এগোচ্ছে সরকার।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশের পোশাকের একটি ঐতিহ্যবাহী দিক ছিল খাকি রঙ, যা অতীতে ব্যবহৃত হতো। সেই ঐতিহ্যের কিছু অংশ ফিরিয়ে আনার বিষয়ে ইতিবাচক ভাবনা রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “খাকি রঙের ইউনিফর্ম আমাদের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িত। নতুন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে এটি বাহিনীর মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করতে পারে।”
এই ঘোষণা আসে বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের (রোহিঙ্গা) সমন্বয়, ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির প্রথম সভা শেষে। সভায় রোহিঙ্গা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত বাহিনীর কার্যকারিতা বাড়াতে ইউনিফর্মসহ নানা বিষয়ে সময়োপযোগী পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা উঠে এসেছে বৈঠকে।
এদিকে, সংসদের প্রথম অধিবেশন নিয়ে ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি দাবি করেন, অধিবেশনটি প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। তার অভিযোগ, সংস্কার প্রস্তাব ও গণভোটের ফল বাস্তবায়নে সরকার দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখাতে পারেনি।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পুরনো সংবিধান কাঠামোর মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট দলকে সুবিধা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিরোধীদলের এসব অভিযোগের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের বক্তব্য নতুন নয়। তিনি জানান, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিরোধীদল তাদের মতামত প্রকাশ করতেই পারে।
মন্ত্রী বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছর পর গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সংসদের প্রথম অধিবেশন ছিল প্রাণবন্ত। এখানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আইন প্রণয়ন হয়েছে এবং আলোচনা হয়েছে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে।”
তিনি আরও দাবি করেন, সরকার ও বিরোধীদলের মধ্যে মতবিনিময় হয়েছে এবং পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখে আলোচনা পরিচালিত হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে সরকার ও বিরোধীদল একসঙ্গে কাজ করেছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি যৌথ কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা জনগণের স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
একাধিক সংসদ সদস্যের মতে, মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজার সংস্কৃতি ইতিবাচক বার্তা দেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, পুলিশের পোশাকে এই পরিবর্তন প্রতীকী হলেও এর সামাজিক ও মানসিক প্রভাব থাকতে পারে। ইউনিফর্ম শুধু বাহ্যিক পরিচয় নয়, এটি শৃঙ্খলা, ঐতিহ্য এবং দায়িত্ববোধের প্রতীক।
ঢাকার এক নিরাপত্তা বিশ্লেষক বলেন, “খাকি রঙের পুনঃপ্রবর্তন পুলিশের ঐতিহ্যের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের সংযোগ তৈরি করতে পারে। তবে এর কার্যকারিতা নির্ভর করবে বাস্তব প্রয়োগ ও বাহিনীর সামগ্রিক দক্ষতার ওপর।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউনিফর্ম পরিবর্তনের পাশাপাশি পুলিশ বাহিনীর প্রশিক্ষণ, জনসেবার মান এবং জবাবদিহিতা বাড়ানোর দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। শুধুমাত্র পোশাক পরিবর্তন নয়, কার্যক্রমেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হবে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে বিস্তারিত মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশের ইউনিফর্মে খাকি রঙের প্যান্ট ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ একদিকে যেমন ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা, অন্যদিকে আধুনিকতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার প্রচেষ্টা। তবে এই পরিবর্তন কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে বাস্তবায়ন এবং সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার উন্নতির ওপর।
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় মতভেদ থাকতেই পারে, তবে সমন্বিত উদ্যোগই শেষ পর্যন্ত জনস্বার্থ নিশ্চিত করতে পারে—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সোমবার, ০৪ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ মে ২০২৬
ঢাকা, সোমবার: দীর্ঘদিন পর পুলিশের পোশাকে আসছে আংশিক পরিবর্তন। মূল কাঠামো অপরিবর্তিত রেখে ইউনিফর্মে আনা হচ্ছে নতুনত্ব—বিশেষ করে প্যান্টের রঙে। শার্ট আগের মতোই থাকছে, তবে প্যান্টে ফিরছে ঐতিহ্যবাহী খাকি রঙ।
সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, পুলিশের পোশাকে কিছু পরিবর্তন আনার বিষয়ে সরকার কাজ করছে। তিনি বলেন, শার্টের রঙ আগের মতোই থাকবে—মেট্রোপলিটন এলাকায় সবুজ এবং অন্যান্য জেলায় নীল। তবে প্যান্টের ক্ষেত্রে খাকি রঙ নির্ধারণের চিন্তাভাবনা চলছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইউনিফর্মের ঐতিহ্য বজায় রেখে আধুনিকতা যোগ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিভিন্ন মহলের মতামত বিবেচনায় নিয়ে এই সিদ্ধান্তের দিকে এগোচ্ছে সরকার।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশের পোশাকের একটি ঐতিহ্যবাহী দিক ছিল খাকি রঙ, যা অতীতে ব্যবহৃত হতো। সেই ঐতিহ্যের কিছু অংশ ফিরিয়ে আনার বিষয়ে ইতিবাচক ভাবনা রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “খাকি রঙের ইউনিফর্ম আমাদের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িত। নতুন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে এটি বাহিনীর মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করতে পারে।”
এই ঘোষণা আসে বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের (রোহিঙ্গা) সমন্বয়, ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির প্রথম সভা শেষে। সভায় রোহিঙ্গা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত বাহিনীর কার্যকারিতা বাড়াতে ইউনিফর্মসহ নানা বিষয়ে সময়োপযোগী পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা উঠে এসেছে বৈঠকে।
এদিকে, সংসদের প্রথম অধিবেশন নিয়ে ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি দাবি করেন, অধিবেশনটি প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। তার অভিযোগ, সংস্কার প্রস্তাব ও গণভোটের ফল বাস্তবায়নে সরকার দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখাতে পারেনি।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পুরনো সংবিধান কাঠামোর মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট দলকে সুবিধা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিরোধীদলের এসব অভিযোগের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের বক্তব্য নতুন নয়। তিনি জানান, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিরোধীদল তাদের মতামত প্রকাশ করতেই পারে।
মন্ত্রী বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছর পর গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সংসদের প্রথম অধিবেশন ছিল প্রাণবন্ত। এখানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আইন প্রণয়ন হয়েছে এবং আলোচনা হয়েছে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে।”
তিনি আরও দাবি করেন, সরকার ও বিরোধীদলের মধ্যে মতবিনিময় হয়েছে এবং পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখে আলোচনা পরিচালিত হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে সরকার ও বিরোধীদল একসঙ্গে কাজ করেছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি যৌথ কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা জনগণের স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
একাধিক সংসদ সদস্যের মতে, মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজার সংস্কৃতি ইতিবাচক বার্তা দেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, পুলিশের পোশাকে এই পরিবর্তন প্রতীকী হলেও এর সামাজিক ও মানসিক প্রভাব থাকতে পারে। ইউনিফর্ম শুধু বাহ্যিক পরিচয় নয়, এটি শৃঙ্খলা, ঐতিহ্য এবং দায়িত্ববোধের প্রতীক।
ঢাকার এক নিরাপত্তা বিশ্লেষক বলেন, “খাকি রঙের পুনঃপ্রবর্তন পুলিশের ঐতিহ্যের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের সংযোগ তৈরি করতে পারে। তবে এর কার্যকারিতা নির্ভর করবে বাস্তব প্রয়োগ ও বাহিনীর সামগ্রিক দক্ষতার ওপর।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউনিফর্ম পরিবর্তনের পাশাপাশি পুলিশ বাহিনীর প্রশিক্ষণ, জনসেবার মান এবং জবাবদিহিতা বাড়ানোর দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। শুধুমাত্র পোশাক পরিবর্তন নয়, কার্যক্রমেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হবে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে বিস্তারিত মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশের ইউনিফর্মে খাকি রঙের প্যান্ট ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ একদিকে যেমন ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা, অন্যদিকে আধুনিকতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার প্রচেষ্টা। তবে এই পরিবর্তন কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে বাস্তবায়ন এবং সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার উন্নতির ওপর।
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় মতভেদ থাকতেই পারে, তবে সমন্বিত উদ্যোগই শেষ পর্যন্ত জনস্বার্থ নিশ্চিত করতে পারে—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মতামত লিখুন