দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : সোমবার, ০৪ মে ২০২৬

বন্ধ কারখানায় নতুন প্রাণ: শিল্প খাত পুনরুজ্জীবনে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগ

বন্ধ কারখানায় নতুন প্রাণ: শিল্প খাত পুনরুজ্জীবনে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগ

পুলিশের পোশাকে নতুন ছোঁয়া: শার্ট আগের মতো, প্যান্টে ফিরছে খাকি রঙ

শাহজালাল বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে তুরস্কের আগ্রহ, বাড়ছে নতুন সম্ভাবনা

শাপলা চত্বর ২০১৩: তদন্তে নতুন তথ্য—শুধু ঢাকাতেই ৩২ জন নিহতের প্রমাণ

ইরানে গণসমাবেশে শক্তির বার্তা: “কোনো শক্তিই আমাদের দুর্বল করতে পারবে না”

দু’দিনে ১৫২ জন গ্রেফতার: রাজধানীতে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা ডিএমপির

৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণ নিয়ে শুরু—চ্যালেঞ্জের মুখে নতুন সরকার, কী বললেন প্রধানমন্ত্রী?

হরমুজ প্রণালি সংকটে বিশ্বজুড়ে সার সরবরাহে ধস, খাদ্য উৎপাদনে বড় ঝুঁকি

বন্ধ কারখানায় নতুন প্রাণ: শিল্প খাত পুনরুজ্জীবনে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগ

বন্ধ কারখানায় নতুন প্রাণ: শিল্প খাত পুনরুজ্জীবনে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগ
-ছবি: সংগৃহীত

দেশের বহুদিন ধরে বন্ধ থাকা কলকারখানাগুলো আবার সচল করার উদ্যোগে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও অর্থনীতিকে গতিশীল করতে এক বিশেষ বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই উদ্যোগকে ঘিরে শিল্পখাত সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।


বৈঠকের প্রেক্ষাপট ও উদ্দেশ্য

সোমবার সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বস্ত্র ও পাট খাতকে কেন্দ্র করে দেশের রুগ্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করা হয়। বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলো পুনরায় চালু করা এবং শিল্পখাতে স্থবিরতা কাটিয়ে ওঠা।


প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে বিনিয়োগের অভাব, ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং প্রযুক্তিগত পিছিয়ে পড়ার কারণে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। এতে উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থানেও বড় ধাক্কা লাগে।


পুনরুজ্জীবনের পরিকল্পনা

বৈঠকে শিল্প খাত পুনরুজ্জীবনের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—

  • বন্ধ কারখানাগুলোর তালিকা তৈরি করে দ্রুত পুনরায় চালুর উদ্যোগ
  • পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (PPP) মডেলে বিনিয়োগ বাড়ানো
  • পুরনো যন্ত্রপাতি বদলে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার
  • দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ
  • শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ

বৈঠকে উপস্থিত একাধিক কর্মকর্তা জানান, এই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে শিল্পখাতে নতুন গতি আসতে পারে।


পাট ও বস্ত্র খাতে বিশেষ গুরুত্ব

প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে পাট খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বলেন, পরিবেশবান্ধব পণ্যের বিশ্বব্যাপী চাহিদা বাড়ছে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে পাটজাত পণ্য রপ্তানিতে বাংলাদেশ বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, শুধু কাঁচামাল রপ্তানি নয়, বরং মূল্য সংযোজন করে তৈরি পণ্য রপ্তানির দিকে মনোযোগ দিতে হবে। এতে বৈদেশিক মুদ্রা আয় বাড়বে এবং শিল্পখাত আরও শক্তিশালী হবে।

বস্ত্র খাতের আধুনিকায়নের প্রসঙ্গেও তিনি বলেন, স্থানীয় বাজারে সুতা ও কাপড়ের সরবরাহ বাড়াতে বন্ধ টেক্সটাইল মিলগুলো চালু করা জরুরি।



সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমান সাংবাদিকদের জানান, এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল শিল্পখাতের স্থবিরতা কাটিয়ে ওঠা। তিনি বলেন, “অনেক গুরুত্বপূর্ণ কারখানা দীর্ঘদিন বন্ধ রয়েছে, যা অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর। এগুলো চালু হলে ব্যাপক কর্মসংস্থান তৈরি হবে।”

বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, ইতোমধ্যে একটি টাস্কফোর্স গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই টাস্কফোর্স কারখানাগুলোর আর্থিক ও আইনি জটিলতা নিরসনে কাজ করবে।

প্রধানমন্ত্রীর শিল্প বিষয়ক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেন, অতীতের নানা সমস্যার কারণে অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকার শিল্পবান্ধব নীতি গ্রহণ করেছে এবং যেকোনো প্রশাসনিক জটিলতা দূর করতে কাজ করা হবে।


স্থানীয়দের প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থিত বন্ধ জুট মিল ও টেক্সটাইল কারখানাগুলো নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে দীর্ঘদিনের হতাশা রয়েছে। উত্তরবঙ্গের এক বাসিন্দা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অবস্থায় বলেন, “কারখানাগুলো চালু হলে আমাদের এলাকায় কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে। অনেক তরুণ বাইরে যেতে বাধ্য হচ্ছে।”

আরেকজন স্থানীয় ব্যবসায়ী জানান, শিল্পকারখানা চালু হলে আশেপাশের ছোট ব্যবসাগুলোও ঘুরে দাঁড়াবে।


অর্থনৈতিক প্রভাব ও বিশ্লেষণ

অর্থনীতিবিদদের মতে, এই উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে—

তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, শুধুমাত্র পরিকল্পনা নয়, বাস্তবায়নের ওপরই সবকিছু নির্ভর করছে। অতীতে অনেক উদ্যোগ ঘোষণার পরও বাস্তবায়নের অভাবে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায়নি।


প্রশাসনের ভূমিকা

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে—

  • দ্রুত লাইসেন্স প্রদান
  • জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা
  • দুর্নীতি ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো

সরকার ইতোমধ্যে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালুর মাধ্যমে শিল্প স্থাপনের প্রক্রিয়া সহজ করার কথা জানিয়েছে।


ব্যালান্সড অবস্থান

এই উদ্যোগ নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিকভাবে সবার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সকল অংশীজনের সমন্বিত অংশগ্রহণ ছাড়া এই পরিকল্পনা সফল করা কঠিন হতে পারে।


উপসংহার

বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানাগুলো পুনরায় চালু করার উদ্যোগ দেশের অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি শুধু শিল্পখাত নয়, বরং লাখো মানুষের জীবিকার সঙ্গে সরাসরি জড়িত।

তবে বাস্তব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে পরিকল্পনাগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে, এই উদ্যোগ দেশের শিল্পায়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। অন্যথায় এটি কেবল আরেকটি ঘোষণাতেই সীমাবদ্ধ থাকার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

বিষয় : শিল্প খাত পুনরুজ্জীবন, বন্ধ কারখানা চালু কর্মসংস্থান বৃদ্ধি

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

সোমবার, ০৪ মে ২০২৬


বন্ধ কারখানায় নতুন প্রাণ: শিল্প খাত পুনরুজ্জীবনে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগ

প্রকাশের তারিখ : ০৪ মে ২০২৬

featured Image

দেশের বহুদিন ধরে বন্ধ থাকা কলকারখানাগুলো আবার সচল করার উদ্যোগে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও অর্থনীতিকে গতিশীল করতে এক বিশেষ বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই উদ্যোগকে ঘিরে শিল্পখাত সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।


বৈঠকের প্রেক্ষাপট ও উদ্দেশ্য

সোমবার সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বস্ত্র ও পাট খাতকে কেন্দ্র করে দেশের রুগ্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করা হয়। বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলো পুনরায় চালু করা এবং শিল্পখাতে স্থবিরতা কাটিয়ে ওঠা।


প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে বিনিয়োগের অভাব, ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং প্রযুক্তিগত পিছিয়ে পড়ার কারণে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। এতে উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থানেও বড় ধাক্কা লাগে।


পুনরুজ্জীবনের পরিকল্পনা

বৈঠকে শিল্প খাত পুনরুজ্জীবনের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—

  • বন্ধ কারখানাগুলোর তালিকা তৈরি করে দ্রুত পুনরায় চালুর উদ্যোগ
  • পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (PPP) মডেলে বিনিয়োগ বাড়ানো
  • পুরনো যন্ত্রপাতি বদলে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার
  • দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ
  • শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ

বৈঠকে উপস্থিত একাধিক কর্মকর্তা জানান, এই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে শিল্পখাতে নতুন গতি আসতে পারে।


পাট ও বস্ত্র খাতে বিশেষ গুরুত্ব

প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে পাট খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বলেন, পরিবেশবান্ধব পণ্যের বিশ্বব্যাপী চাহিদা বাড়ছে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে পাটজাত পণ্য রপ্তানিতে বাংলাদেশ বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, শুধু কাঁচামাল রপ্তানি নয়, বরং মূল্য সংযোজন করে তৈরি পণ্য রপ্তানির দিকে মনোযোগ দিতে হবে। এতে বৈদেশিক মুদ্রা আয় বাড়বে এবং শিল্পখাত আরও শক্তিশালী হবে।

বস্ত্র খাতের আধুনিকায়নের প্রসঙ্গেও তিনি বলেন, স্থানীয় বাজারে সুতা ও কাপড়ের সরবরাহ বাড়াতে বন্ধ টেক্সটাইল মিলগুলো চালু করা জরুরি।



সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমান সাংবাদিকদের জানান, এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল শিল্পখাতের স্থবিরতা কাটিয়ে ওঠা। তিনি বলেন, “অনেক গুরুত্বপূর্ণ কারখানা দীর্ঘদিন বন্ধ রয়েছে, যা অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর। এগুলো চালু হলে ব্যাপক কর্মসংস্থান তৈরি হবে।”

বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, ইতোমধ্যে একটি টাস্কফোর্স গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই টাস্কফোর্স কারখানাগুলোর আর্থিক ও আইনি জটিলতা নিরসনে কাজ করবে।

প্রধানমন্ত্রীর শিল্প বিষয়ক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেন, অতীতের নানা সমস্যার কারণে অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকার শিল্পবান্ধব নীতি গ্রহণ করেছে এবং যেকোনো প্রশাসনিক জটিলতা দূর করতে কাজ করা হবে।


স্থানীয়দের প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থিত বন্ধ জুট মিল ও টেক্সটাইল কারখানাগুলো নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে দীর্ঘদিনের হতাশা রয়েছে। উত্তরবঙ্গের এক বাসিন্দা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অবস্থায় বলেন, “কারখানাগুলো চালু হলে আমাদের এলাকায় কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে। অনেক তরুণ বাইরে যেতে বাধ্য হচ্ছে।”

আরেকজন স্থানীয় ব্যবসায়ী জানান, শিল্পকারখানা চালু হলে আশেপাশের ছোট ব্যবসাগুলোও ঘুরে দাঁড়াবে।


অর্থনৈতিক প্রভাব ও বিশ্লেষণ

অর্থনীতিবিদদের মতে, এই উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে—

  • বেকারত্ব কমবে
  • উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়বে
  • গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হবে

  • শিল্পখাতে নতুন বিনিয়োগ আসবে

তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, শুধুমাত্র পরিকল্পনা নয়, বাস্তবায়নের ওপরই সবকিছু নির্ভর করছে। অতীতে অনেক উদ্যোগ ঘোষণার পরও বাস্তবায়নের অভাবে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায়নি।


প্রশাসনের ভূমিকা

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে—

  • দ্রুত লাইসেন্স প্রদান
  • জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা
  • দুর্নীতি ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো

সরকার ইতোমধ্যে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালুর মাধ্যমে শিল্প স্থাপনের প্রক্রিয়া সহজ করার কথা জানিয়েছে।


ব্যালান্সড অবস্থান

এই উদ্যোগ নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিকভাবে সবার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সকল অংশীজনের সমন্বিত অংশগ্রহণ ছাড়া এই পরিকল্পনা সফল করা কঠিন হতে পারে।


উপসংহার

বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানাগুলো পুনরায় চালু করার উদ্যোগ দেশের অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি শুধু শিল্পখাত নয়, বরং লাখো মানুষের জীবিকার সঙ্গে সরাসরি জড়িত।

তবে বাস্তব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে পরিকল্পনাগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে, এই উদ্যোগ দেশের শিল্পায়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। অন্যথায় এটি কেবল আরেকটি ঘোষণাতেই সীমাবদ্ধ থাকার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর