কক্সবাজারের টেকনাফ ও সেন্টমার্টিন সমুদ্র এলাকায় কোস্ট গার্ডের পৃথক দুটি অভিযানে বিদেশি মদ ও বিপুল পরিমাণ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসহ মোট ১৩ জনকে আটক করা হয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো এসব অভিযানে মাদক ও চোরাচালান চক্রের সক্রিয়তা আবারও সামনে এসেছে।
কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, মঙ্গলবার (৫ মে) ভোর ৪টার দিকে সেন্টমার্টিনের ছেড়াদ্বীপের উত্তর-পশ্চিম সংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় অভিযান চালানো হয়।
কোস্ট গার্ড স্টেশন সেন্টমার্টিনের একটি বিশেষ দল সন্দেহজনক একটি বোটে তল্লাশি চালিয়ে অভিযান পরিচালনা করে।
তল্লাশির সময় প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা মূল্যের ৮ বোতল বিদেশি মদসহ ১০ জনকে আটক করা হয়।
কোস্ট গার্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, আটকরা দীর্ঘদিন ধরে সমুদ্রপথ ব্যবহার করে অবৈধভাবে মাদক পরিবহনের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অপরদিকে, বুধবার (৬ মে) রাত ১টার দিকে টেকনাফ থানাধীন শাহপরীর দ্বীপের গোলারচর সংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় আরেকটি অভিযান পরিচালনা করা হয়।
কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট শাহপরীর সদস্যরা একটি বোট তল্লাশি করে বিপুল পরিমাণ নিত্যপণ্য জব্দ করে।
জব্দকৃত পণ্যের মধ্যে ছিল প্রায় ৪০০ লিটার সয়াবিন তেল, ৪০০ কেজি পেঁয়াজ এবং ৪৫০ কেজি ময়দা।
এসব পণ্য শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে মায়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
এই অভিযানে পাচার কাজে ব্যবহৃত বোটসহ ৩ জনকে আটক করা হয়।
কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পৃথক দুটি অভিযান পরিচালনা করা হয়।
তিনি বলেন, সমুদ্রপথে মাদক ও চোরাচালান রোধে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
টেকনাফ ও সেন্টমার্টিন এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই মাদক ও পণ্য পাচারের ঝুঁকিপূর্ণ রুট হিসেবে পরিচিত।
বিশেষ করে মায়ানমারের সীমান্তবর্তী হওয়ায় এসব এলাকায় অবৈধ পাচার চক্র সক্রিয় থাকার অভিযোগ রয়েছে।
কখনো মাদক, আবার কখনো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য—সমুদ্রপথ ব্যবহার করে এসব পাচার হয়ে থাকে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, নিয়মিত অভিযান চালানো হলেও পাচার চক্র পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসছে না।
তাদের দাবি, সমুদ্রপথে নজরদারি আরও বাড়ানো এবং প্রযুক্তিনির্ভর টহল ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্তবর্তী এই অঞ্চল অর্থনৈতিক ও ভৌগোলিক কারণে পাচারের জন্য সহজ লক্ষ্য হয়ে ওঠে।
কোস্ট গার্ডের এই দুটি অভিযানে মোট ১৩ জন আটক এবং বিপুল পরিমাণ মাদক ও নিত্যপণ্য জব্দ হওয়ায় সমুদ্রপথে চোরাচালানের চিত্র আবারও সামনে এসেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে চলবে। তবে স্থানীয়দের প্রত্যাশা—শুধু অভিযান নয়, স্থায়ীভাবে পাচার রোধে আরও কার্যকর ও টেকসই ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

বুধবার, ০৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ মে ২০২৬
কক্সবাজারের টেকনাফ ও সেন্টমার্টিন সমুদ্র এলাকায় কোস্ট গার্ডের পৃথক দুটি অভিযানে বিদেশি মদ ও বিপুল পরিমাণ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসহ মোট ১৩ জনকে আটক করা হয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো এসব অভিযানে মাদক ও চোরাচালান চক্রের সক্রিয়তা আবারও সামনে এসেছে।
কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, মঙ্গলবার (৫ মে) ভোর ৪টার দিকে সেন্টমার্টিনের ছেড়াদ্বীপের উত্তর-পশ্চিম সংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় অভিযান চালানো হয়।
কোস্ট গার্ড স্টেশন সেন্টমার্টিনের একটি বিশেষ দল সন্দেহজনক একটি বোটে তল্লাশি চালিয়ে অভিযান পরিচালনা করে।
তল্লাশির সময় প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা মূল্যের ৮ বোতল বিদেশি মদসহ ১০ জনকে আটক করা হয়।
কোস্ট গার্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, আটকরা দীর্ঘদিন ধরে সমুদ্রপথ ব্যবহার করে অবৈধভাবে মাদক পরিবহনের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অপরদিকে, বুধবার (৬ মে) রাত ১টার দিকে টেকনাফ থানাধীন শাহপরীর দ্বীপের গোলারচর সংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় আরেকটি অভিযান পরিচালনা করা হয়।
কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট শাহপরীর সদস্যরা একটি বোট তল্লাশি করে বিপুল পরিমাণ নিত্যপণ্য জব্দ করে।
জব্দকৃত পণ্যের মধ্যে ছিল প্রায় ৪০০ লিটার সয়াবিন তেল, ৪০০ কেজি পেঁয়াজ এবং ৪৫০ কেজি ময়দা।
এসব পণ্য শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে মায়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
এই অভিযানে পাচার কাজে ব্যবহৃত বোটসহ ৩ জনকে আটক করা হয়।
কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পৃথক দুটি অভিযান পরিচালনা করা হয়।
তিনি বলেন, সমুদ্রপথে মাদক ও চোরাচালান রোধে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
টেকনাফ ও সেন্টমার্টিন এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই মাদক ও পণ্য পাচারের ঝুঁকিপূর্ণ রুট হিসেবে পরিচিত।
বিশেষ করে মায়ানমারের সীমান্তবর্তী হওয়ায় এসব এলাকায় অবৈধ পাচার চক্র সক্রিয় থাকার অভিযোগ রয়েছে।
কখনো মাদক, আবার কখনো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য—সমুদ্রপথ ব্যবহার করে এসব পাচার হয়ে থাকে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, নিয়মিত অভিযান চালানো হলেও পাচার চক্র পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসছে না।
তাদের দাবি, সমুদ্রপথে নজরদারি আরও বাড়ানো এবং প্রযুক্তিনির্ভর টহল ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্তবর্তী এই অঞ্চল অর্থনৈতিক ও ভৌগোলিক কারণে পাচারের জন্য সহজ লক্ষ্য হয়ে ওঠে।
কোস্ট গার্ডের এই দুটি অভিযানে মোট ১৩ জন আটক এবং বিপুল পরিমাণ মাদক ও নিত্যপণ্য জব্দ হওয়ায় সমুদ্রপথে চোরাচালানের চিত্র আবারও সামনে এসেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে চলবে। তবে স্থানীয়দের প্রত্যাশা—শুধু অভিযান নয়, স্থায়ীভাবে পাচার রোধে আরও কার্যকর ও টেকসই ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

আপনার মতামত লিখুন