কলম যখন প্রতিবাদের ভাষা রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত গণমাধ্যম। আর এই স্তম্ভের কারিগর হলেন সাংবাদিকরা, যারা দিন-রাত এক করে দেশ ও জনগণের স্বার্থে কাজ করে যান। কিন্তু মুদ্রার উল্টো পিঠ হলো, অন্যের অধিকার নিয়ে সোচ্চার এই মানুষগুলোই অনেক সময় নিজেদের মৌলিক অধিকার ও পেশাগত মর্যাদার প্রশ্নে অবহেলিত থেকে যান। সেই অবহেলার দেয়াল ভেঙে নিজেদের পাওনা বুঝে নিতে এবং পেশার মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতে আগামী ৭ই মে, ২০২৬ তারিখে এক ঐতিহাসিক সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে।
১০ম জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহ: উৎসব নয়, অধিকারের অঙ্গীকার আগামী ১ থেকে ৭ই মে পর্যন্ত দেশব্যাপী পালিত হতে যাচ্ছে '১০ম জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহ'। সাধারণত কোনো বিশেষ সপ্তাহ উদযাপনের অর্থ হয় আনন্দ ও উৎসব। কিন্তু এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। সাংবাদিক সমাজ এই সপ্তাহটিকে বেছে নিয়েছে আত্মশুদ্ধি এবং দাবি আদায়ের হাতিয়ার হিসেবে। আয়োজকদের মতে, পেশার মর্যাদা এবং অধিকার রক্ষা না হলে কেবল উৎসব দিয়ে সাংবাদিকতার সংকট মোচন সম্ভব নয়।
কেন এই রাজপথের লড়াই? (১৪ দফা দাবিনামা) সমাবেশের মূল লক্ষ্য হলো সাংবাদিকদের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এবং দাবিগুলো সরকারের নীতিনির্ধারক ও সংশ্লিষ্ট মহলের কাছে জোরালোভাবে পৌঁছে দেওয়া। বিশেষ করে '১৪ দফা দাবি' আদায়ের বিষয়টি এখন সাংবাদিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। এই দাবিসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
পেশাগত নিরাপত্তা: মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও মামলার প্রতিকার。
মর্যাদা রক্ষা: সংবাদকর্মীদের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা সুনিশ্চিত করা。
ন্যায্য পাওনা: বেতন বৈষম্য দূর করা এবং ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন。
কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা: বিনা নোটিশে ছাঁটাই বন্ধ এবং বকেয়া বেতন পরিশোধ。
সকাল ১১টা: জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মিলিত হওয়ার আহ্বান আগামী ৭ই মে (মঙ্গলবার) সকাল ১১ ঘটিকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এই বিশাল 'দাবি সমাবেশ' অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজক কমিটি থেকে পাঠানো আমন্ত্রণপত্রে অত্যন্ত বিনীত কিন্তু দৃঢ় কণ্ঠে বলা হয়েছে, "সুপ্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ, সালাম ও শুভেচ্ছা গ্রহণ করুন... নিজ অধিকার আদায়ে আপনিও অংশগ্রহণ করুন"। এই আহ্বান কেবল একটি আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ নয়, বরং এটি প্রতিটি গণমাধ্যমকর্মীর অস্তিত্ব রক্ষার ডাক।
"সাংবাদিক মোরা ভাই-ভাই": ঐক্যের এক অনন্য সুর সমাবেশের প্রধান স্লোগান নির্ধারণ করা হয়েছে— "সাংবাদিক মোরা ভাই-ভাই, বিভেদ নয় ঐক্য চাই"। সাংবাদিকতায় বিভিন্ন সংগঠন, মতাদর্শ বা হাউস থাকতে পারে, কিন্তু অধিকারের প্রশ্নে সবাই যে এক—এই বার্তাই পৌঁছে দিতে চান আয়োজকরা। বিভেদ ভুলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়ালে যে কোনো যৌক্তিক দাবি আদায় সম্ভব, এই বিশ্বাস থেকেই স্লোগানটি নির্বাচন করা হয়েছে。
উপসংহার: ইতিহাসের অপেক্ষায় রাজপথ ইতিহাস সাক্ষী, সাংবাদিকরা যখনই ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন, তখনই সত্যের জয় হয়েছে। এবারের সমাবেশটিও কেবল একটি সাধারণ কর্মসূচি নয়, বরং এটি সাংবাদিকতার মানচিত্র রক্ষার লড়াই। ঢাকার রাজপথ আগামী ৭ই মে দেখবে কলম সৈনিকদের এক অনন্য সংহতি।
দেশের সকল স্তরের সহকর্মী সাংবাদিকদের প্রতি আকুল আবেদন জানানো হয়েছে, যেন তারা ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যস্ততা সরিয়ে রেখে নিজ স্বার্থে এবং পরবর্তী প্রজন্মের সাংবাদিকদের জন্য একটি সুন্দর কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রেস ক্লাবের সামনে উপস্থিত হন।
সমাবেশের তথ্য একনজরে:
কর্মসূচি: সাংবাদিকদের দাবি সমাবেশ।
উপলক্ষ: ১০ম জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহ উদযাপন।
সময়: ৭ মে ২০২৬, সকাল ১১:০০টা।
স্থান: জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণ।
মনে রাখবেন, আজ আপনার নীরবতা ভবিষ্যতের পেশাগত সংকটকে আরও ঘনীভূত করতে পারে। তাই আসুন, নিজ অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ হই।

বুধবার, ০৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ মে ২০২৬
কলম যখন প্রতিবাদের ভাষা রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত গণমাধ্যম। আর এই স্তম্ভের কারিগর হলেন সাংবাদিকরা, যারা দিন-রাত এক করে দেশ ও জনগণের স্বার্থে কাজ করে যান। কিন্তু মুদ্রার উল্টো পিঠ হলো, অন্যের অধিকার নিয়ে সোচ্চার এই মানুষগুলোই অনেক সময় নিজেদের মৌলিক অধিকার ও পেশাগত মর্যাদার প্রশ্নে অবহেলিত থেকে যান। সেই অবহেলার দেয়াল ভেঙে নিজেদের পাওনা বুঝে নিতে এবং পেশার মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতে আগামী ৭ই মে, ২০২৬ তারিখে এক ঐতিহাসিক সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে।
১০ম জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহ: উৎসব নয়, অধিকারের অঙ্গীকার আগামী ১ থেকে ৭ই মে পর্যন্ত দেশব্যাপী পালিত হতে যাচ্ছে '১০ম জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহ'। সাধারণত কোনো বিশেষ সপ্তাহ উদযাপনের অর্থ হয় আনন্দ ও উৎসব। কিন্তু এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। সাংবাদিক সমাজ এই সপ্তাহটিকে বেছে নিয়েছে আত্মশুদ্ধি এবং দাবি আদায়ের হাতিয়ার হিসেবে। আয়োজকদের মতে, পেশার মর্যাদা এবং অধিকার রক্ষা না হলে কেবল উৎসব দিয়ে সাংবাদিকতার সংকট মোচন সম্ভব নয়।
কেন এই রাজপথের লড়াই? (১৪ দফা দাবিনামা) সমাবেশের মূল লক্ষ্য হলো সাংবাদিকদের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এবং দাবিগুলো সরকারের নীতিনির্ধারক ও সংশ্লিষ্ট মহলের কাছে জোরালোভাবে পৌঁছে দেওয়া। বিশেষ করে '১৪ দফা দাবি' আদায়ের বিষয়টি এখন সাংবাদিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। এই দাবিসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
পেশাগত নিরাপত্তা: মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও মামলার প্রতিকার。
মর্যাদা রক্ষা: সংবাদকর্মীদের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা সুনিশ্চিত করা。
ন্যায্য পাওনা: বেতন বৈষম্য দূর করা এবং ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন。
কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা: বিনা নোটিশে ছাঁটাই বন্ধ এবং বকেয়া বেতন পরিশোধ。
সকাল ১১টা: জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মিলিত হওয়ার আহ্বান আগামী ৭ই মে (মঙ্গলবার) সকাল ১১ ঘটিকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এই বিশাল 'দাবি সমাবেশ' অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজক কমিটি থেকে পাঠানো আমন্ত্রণপত্রে অত্যন্ত বিনীত কিন্তু দৃঢ় কণ্ঠে বলা হয়েছে, "সুপ্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ, সালাম ও শুভেচ্ছা গ্রহণ করুন... নিজ অধিকার আদায়ে আপনিও অংশগ্রহণ করুন"। এই আহ্বান কেবল একটি আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ নয়, বরং এটি প্রতিটি গণমাধ্যমকর্মীর অস্তিত্ব রক্ষার ডাক।
"সাংবাদিক মোরা ভাই-ভাই": ঐক্যের এক অনন্য সুর সমাবেশের প্রধান স্লোগান নির্ধারণ করা হয়েছে— "সাংবাদিক মোরা ভাই-ভাই, বিভেদ নয় ঐক্য চাই"। সাংবাদিকতায় বিভিন্ন সংগঠন, মতাদর্শ বা হাউস থাকতে পারে, কিন্তু অধিকারের প্রশ্নে সবাই যে এক—এই বার্তাই পৌঁছে দিতে চান আয়োজকরা। বিভেদ ভুলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়ালে যে কোনো যৌক্তিক দাবি আদায় সম্ভব, এই বিশ্বাস থেকেই স্লোগানটি নির্বাচন করা হয়েছে。
উপসংহার: ইতিহাসের অপেক্ষায় রাজপথ ইতিহাস সাক্ষী, সাংবাদিকরা যখনই ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন, তখনই সত্যের জয় হয়েছে। এবারের সমাবেশটিও কেবল একটি সাধারণ কর্মসূচি নয়, বরং এটি সাংবাদিকতার মানচিত্র রক্ষার লড়াই। ঢাকার রাজপথ আগামী ৭ই মে দেখবে কলম সৈনিকদের এক অনন্য সংহতি।
দেশের সকল স্তরের সহকর্মী সাংবাদিকদের প্রতি আকুল আবেদন জানানো হয়েছে, যেন তারা ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যস্ততা সরিয়ে রেখে নিজ স্বার্থে এবং পরবর্তী প্রজন্মের সাংবাদিকদের জন্য একটি সুন্দর কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রেস ক্লাবের সামনে উপস্থিত হন।
সমাবেশের তথ্য একনজরে:
কর্মসূচি: সাংবাদিকদের দাবি সমাবেশ।
উপলক্ষ: ১০ম জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহ উদযাপন।
সময়: ৭ মে ২০২৬, সকাল ১১:০০টা।
স্থান: জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণ।
মনে রাখবেন, আজ আপনার নীরবতা ভবিষ্যতের পেশাগত সংকটকে আরও ঘনীভূত করতে পারে। তাই আসুন, নিজ অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ হই।

আপনার মতামত লিখুন