নওগাঁর নিয়ামতপুরে ধান কাটার কাজে নিয়োজিত এক শ্রমিক বজ্রপাতে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারিয়েছেন। বিকেলের হঠাৎ বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রাঘাতে মুহূর্তেই থেমে যায় তার জীবন। এ ঘটনায় এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
বুধবার (৬ মে) বিকেলে নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর উপজেলার ১নং হাজিনগর ইউনিয়নের খোর্দোচাম্পা এলাকার সোনাহার গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শ্রমিকের নাম আব্দুর রফিক (৪৫)। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বাসিন্দা ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আসা ১২–১৫ জন শ্রমিকের একটি দল কৃষক দেলোয়ার হোসেনের তিন বিঘা জমির ধান কাটার কাজে নিয়োজিত ছিলেন।
সারাদিন কাজ শেষে বিকেলের দিকে তারা কাটা ধান একত্রিত করছিলেন। ঠিক তখনই আকাশ হঠাৎ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হয়।
পরিস্থিতি বুঝে শ্রমিকরা দ্রুত নিরাপদ স্থানে যাওয়ার চেষ্টা করেন। অধিকাংশ শ্রমিক নিরাপদে পৌঁছালেও আব্দুর রফিক মাঠেই থেকে যান।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, হঠাৎ একটি বিকট শব্দের সঙ্গে বজ্রপাত সরাসরি আব্দুর রফিকের ওপর পড়ে।
ঘটনাস্থলেই তিনি লুটিয়ে পড়েন। সহকর্মীরা দ্রুত এগিয়ে গিয়ে তাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করেন, তবে ততক্ষণে তিনি নিথর হয়ে পড়েন।
তার শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যাওয়ার চিহ্ন পাওয়া যায় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
স্থানীয় শ্রমিকরা জানান, আবহাওয়া হঠাৎ পরিবর্তন হয়ে যায়। কেউ বুঝে ওঠার আগেই বজ্রপাত ঘটে।
একজন সহকর্মী বলেন, “আমরা সবাই দৌড়ে নিরাপদ স্থানে যাচ্ছিলাম। কিন্তু রফিক ভাই আর সময় পাননি।”
মর্মান্তিক এই ঘটনায় সোনাহার গ্রামে শোক নেমে এসেছে। স্থানীয় কৃষক ও শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্কও দেখা দিয়েছে।
অনেকে বলছেন, মৌসুমি কাজের সময় হঠাৎ এমন আবহাওয়ার কারণে শ্রমিকদের ঝুঁকি সবসময় থাকে।
বাংলাদেশে ধান কাটার মৌসুমে হাজারো শ্রমিক বিভিন্ন জেলা থেকে অন্য জেলায় কাজ করতে যান।
কিন্তু এই সময় হঠাৎ বৃষ্টি ও বজ্রপাত কৃষি শ্রমিকদের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাঠে কাজ করার সময় আবহাওয়ার পূর্বাভাস জানা ও সতর্ক থাকা অত্যন্ত জরুরি।
স্থানীয়রা জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার পর পরিবারকে জানানো হয়েছে। মরদেহ স্থানীয়ভাবে দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে কৃষকদের জন্য বজ্রপাত সতর্কতা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
একটি দিনের শ্রম শেষ হওয়ার আগেই প্রকৃতির ভয়াবহ রূপ কেড়ে নিল আব্দুর রফিকের জীবন।
এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল—বাংলাদেশের গ্রামীণ জীবনে কৃষি শ্রমিকদের কাজ কতটা ঝুঁকিপূর্ণ।
এখন স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বজ্রপাতসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে শ্রমিকদের সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক মৃত্যু আর না ঘটে।

বুধবার, ০৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ মে ২০২৬
নওগাঁর নিয়ামতপুরে ধান কাটার কাজে নিয়োজিত এক শ্রমিক বজ্রপাতে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারিয়েছেন। বিকেলের হঠাৎ বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রাঘাতে মুহূর্তেই থেমে যায় তার জীবন। এ ঘটনায় এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
বুধবার (৬ মে) বিকেলে নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর উপজেলার ১নং হাজিনগর ইউনিয়নের খোর্দোচাম্পা এলাকার সোনাহার গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শ্রমিকের নাম আব্দুর রফিক (৪৫)। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বাসিন্দা ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আসা ১২–১৫ জন শ্রমিকের একটি দল কৃষক দেলোয়ার হোসেনের তিন বিঘা জমির ধান কাটার কাজে নিয়োজিত ছিলেন।
সারাদিন কাজ শেষে বিকেলের দিকে তারা কাটা ধান একত্রিত করছিলেন। ঠিক তখনই আকাশ হঠাৎ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হয়।
পরিস্থিতি বুঝে শ্রমিকরা দ্রুত নিরাপদ স্থানে যাওয়ার চেষ্টা করেন। অধিকাংশ শ্রমিক নিরাপদে পৌঁছালেও আব্দুর রফিক মাঠেই থেকে যান।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, হঠাৎ একটি বিকট শব্দের সঙ্গে বজ্রপাত সরাসরি আব্দুর রফিকের ওপর পড়ে।
ঘটনাস্থলেই তিনি লুটিয়ে পড়েন। সহকর্মীরা দ্রুত এগিয়ে গিয়ে তাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করেন, তবে ততক্ষণে তিনি নিথর হয়ে পড়েন।
তার শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যাওয়ার চিহ্ন পাওয়া যায় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
স্থানীয় শ্রমিকরা জানান, আবহাওয়া হঠাৎ পরিবর্তন হয়ে যায়। কেউ বুঝে ওঠার আগেই বজ্রপাত ঘটে।
একজন সহকর্মী বলেন, “আমরা সবাই দৌড়ে নিরাপদ স্থানে যাচ্ছিলাম। কিন্তু রফিক ভাই আর সময় পাননি।”
মর্মান্তিক এই ঘটনায় সোনাহার গ্রামে শোক নেমে এসেছে। স্থানীয় কৃষক ও শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্কও দেখা দিয়েছে।
অনেকে বলছেন, মৌসুমি কাজের সময় হঠাৎ এমন আবহাওয়ার কারণে শ্রমিকদের ঝুঁকি সবসময় থাকে।
বাংলাদেশে ধান কাটার মৌসুমে হাজারো শ্রমিক বিভিন্ন জেলা থেকে অন্য জেলায় কাজ করতে যান।
কিন্তু এই সময় হঠাৎ বৃষ্টি ও বজ্রপাত কৃষি শ্রমিকদের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাঠে কাজ করার সময় আবহাওয়ার পূর্বাভাস জানা ও সতর্ক থাকা অত্যন্ত জরুরি।
স্থানীয়রা জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার পর পরিবারকে জানানো হয়েছে। মরদেহ স্থানীয়ভাবে দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে কৃষকদের জন্য বজ্রপাত সতর্কতা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
একটি দিনের শ্রম শেষ হওয়ার আগেই প্রকৃতির ভয়াবহ রূপ কেড়ে নিল আব্দুর রফিকের জীবন।
এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল—বাংলাদেশের গ্রামীণ জীবনে কৃষি শ্রমিকদের কাজ কতটা ঝুঁকিপূর্ণ।
এখন স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বজ্রপাতসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে শ্রমিকদের সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক মৃত্যু আর না ঘটে।

আপনার মতামত লিখুন