মানুষের সেবা নিশ্চিত করতে নেতাকর্মীদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা। তিনি বলেছেন, “অনেক কষ্ট ও ত্যাগের বিনিময়ে আমরা ক্ষমতায় এসেছি। তাই জনগণের কল্যাণে কাজ করতে হবে এবং এমন কোনো আচরণ করা যাবে না, যাতে মানুষ কষ্ট পায়।”
সোমবার রাত ৮টার দিকে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গাজিখালী নদীর সংযোগ মুখ থেকে চন্দ্রখালী খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে আয়োজিত এক জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
জনসভায় মন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মানুষের দুয়ারে গিয়ে তাদের সমস্যা ও প্রয়োজনের খোঁজ নিতে হবে। শুধু রাজনৈতিক কার্যক্রম নয়, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনো নেতাকর্মী যদি অন্যায়, অনিয়ম বা ক্ষমতার অপব্যবহারের সঙ্গে জড়িত থাকেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনগণের আস্থা ধরে রাখতে দায়িত্বশীল আচরণের বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে আফরোজা খানম রিতা বলেন, সমাজে মাদকের বিস্তার রোধে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। শুধু রাজনৈতিক সভা-সমাবেশে সীমাবদ্ধ না থেকে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, সচেতনতা কার্যক্রম এবং সামাজিক উদ্যোগে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, প্রয়োজনে প্রতিটি ওয়ার্ডে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে মাদকবিরোধী কমিটি গঠন করা যেতে পারে। সেখানে জামায়াত, এনসিপি ও বিএনপির কর্মীদেরও যুক্ত করার কথা উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষ্য, মাদক কারবারিদের প্রতিহত করতে সামাজিক ঐক্য জরুরি।
অনুষ্ঠানে খাল খনন প্রকল্প নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, কৃষকদের জন্য পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান–এর আদর্শ অনুসরণ করেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই কর্মসূচি শুরু করেছেন।
তিনি আরও বলেন, খাল খনন কাজে কোনো ধরনের দুর্নীতির সুযোগ রাখা হবে না। কাজ বাস্তবায়নে শ্রমিক সংকট দেখা দিলে দলীয় নেতাকর্মীরাও মাঠে নেমে মাটি কাটার কাজে অংশ নেবেন বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, কৃষকের স্বার্থ বিবেচনায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই খননকাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে। দীর্ঘদিন ধরে খালগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় কৃষিকাজে পানি সরবরাহে সমস্যা হচ্ছিল বলে স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে।
নারী শিক্ষার বিষয়েও বক্তব্য দেন আফরোজা খানম রিতা। তিনি বলেন, সরকার নারীদের অনার্স পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা করছে। অর্থের অভাবে কোনো মেয়ের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাক, সেটি সরকার চায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তার মতে, নারীদের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করা গেলে পরিবার ও সমাজ উভয় ক্ষেত্রেই ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। যদিও এ বিষয়ে এখনো বিস্তারিত নীতিমালা প্রকাশ করা হয়নি।
খাল খনন কর্মসূচিকে ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আশাবাদ দেখা গেলেও অনেকে বাস্তবায়ন নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। তাদের দাবি, অতীতেও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ঘোষণা এলেও কিছু ক্ষেত্রে কাজের গতি ধীর ছিল কিংবা কাঙ্ক্ষিত সুফল মেলেনি।
স্থানীয় কয়েকজন কৃষক জানান, খালগুলো সচল হলে সেচব্যবস্থা উন্নত হবে এবং বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতাও কমতে পারে। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
বিশ্লেষকদের মতে, মন্ত্রীর বক্তব্যে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি রাজনৈতিক বার্তাও স্পষ্ট ছিল। বিশেষ করে নেতাকর্মীদের আচরণ, মাদকবিরোধী অবস্থান এবং মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থাকার আহ্বান বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকে।
তবে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে মাদকবিরোধী কমিটি গঠনের বক্তব্য স্থানীয় পর্যায়ে কতটা বাস্তবায়ন হবে, সেটিও এখন দেখার বিষয়।
চন্দ্রখালী খাল খনন কার্যক্রমের উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। এখন প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়ে শেষ হয় কি না এবং কৃষকেরা বাস্তবে কতটা উপকার পান, সেটিই বড় প্রশ্ন হয়ে থাকছে।

মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ মে ২০২৬
মানুষের সেবা নিশ্চিত করতে নেতাকর্মীদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা। তিনি বলেছেন, “অনেক কষ্ট ও ত্যাগের বিনিময়ে আমরা ক্ষমতায় এসেছি। তাই জনগণের কল্যাণে কাজ করতে হবে এবং এমন কোনো আচরণ করা যাবে না, যাতে মানুষ কষ্ট পায়।”
সোমবার রাত ৮টার দিকে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গাজিখালী নদীর সংযোগ মুখ থেকে চন্দ্রখালী খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে আয়োজিত এক জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
জনসভায় মন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মানুষের দুয়ারে গিয়ে তাদের সমস্যা ও প্রয়োজনের খোঁজ নিতে হবে। শুধু রাজনৈতিক কার্যক্রম নয়, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনো নেতাকর্মী যদি অন্যায়, অনিয়ম বা ক্ষমতার অপব্যবহারের সঙ্গে জড়িত থাকেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনগণের আস্থা ধরে রাখতে দায়িত্বশীল আচরণের বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে আফরোজা খানম রিতা বলেন, সমাজে মাদকের বিস্তার রোধে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। শুধু রাজনৈতিক সভা-সমাবেশে সীমাবদ্ধ না থেকে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, সচেতনতা কার্যক্রম এবং সামাজিক উদ্যোগে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, প্রয়োজনে প্রতিটি ওয়ার্ডে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে মাদকবিরোধী কমিটি গঠন করা যেতে পারে। সেখানে জামায়াত, এনসিপি ও বিএনপির কর্মীদেরও যুক্ত করার কথা উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষ্য, মাদক কারবারিদের প্রতিহত করতে সামাজিক ঐক্য জরুরি।
অনুষ্ঠানে খাল খনন প্রকল্প নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, কৃষকদের জন্য পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান–এর আদর্শ অনুসরণ করেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই কর্মসূচি শুরু করেছেন।
তিনি আরও বলেন, খাল খনন কাজে কোনো ধরনের দুর্নীতির সুযোগ রাখা হবে না। কাজ বাস্তবায়নে শ্রমিক সংকট দেখা দিলে দলীয় নেতাকর্মীরাও মাঠে নেমে মাটি কাটার কাজে অংশ নেবেন বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, কৃষকের স্বার্থ বিবেচনায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই খননকাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে। দীর্ঘদিন ধরে খালগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় কৃষিকাজে পানি সরবরাহে সমস্যা হচ্ছিল বলে স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে।
নারী শিক্ষার বিষয়েও বক্তব্য দেন আফরোজা খানম রিতা। তিনি বলেন, সরকার নারীদের অনার্স পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা করছে। অর্থের অভাবে কোনো মেয়ের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাক, সেটি সরকার চায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তার মতে, নারীদের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করা গেলে পরিবার ও সমাজ উভয় ক্ষেত্রেই ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। যদিও এ বিষয়ে এখনো বিস্তারিত নীতিমালা প্রকাশ করা হয়নি।
খাল খনন কর্মসূচিকে ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আশাবাদ দেখা গেলেও অনেকে বাস্তবায়ন নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। তাদের দাবি, অতীতেও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ঘোষণা এলেও কিছু ক্ষেত্রে কাজের গতি ধীর ছিল কিংবা কাঙ্ক্ষিত সুফল মেলেনি।
স্থানীয় কয়েকজন কৃষক জানান, খালগুলো সচল হলে সেচব্যবস্থা উন্নত হবে এবং বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতাও কমতে পারে। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
বিশ্লেষকদের মতে, মন্ত্রীর বক্তব্যে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি রাজনৈতিক বার্তাও স্পষ্ট ছিল। বিশেষ করে নেতাকর্মীদের আচরণ, মাদকবিরোধী অবস্থান এবং মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থাকার আহ্বান বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকে।
তবে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে মাদকবিরোধী কমিটি গঠনের বক্তব্য স্থানীয় পর্যায়ে কতটা বাস্তবায়ন হবে, সেটিও এখন দেখার বিষয়।
চন্দ্রখালী খাল খনন কার্যক্রমের উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। এখন প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়ে শেষ হয় কি না এবং কৃষকেরা বাস্তবে কতটা উপকার পান, সেটিই বড় প্রশ্ন হয়ে থাকছে।

আপনার মতামত লিখুন