সীমান্ত পরিস্থিতি ও প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, “বাংলাদেশের মানুষ কাঁটাতার ভয় পায় না, সরকারও ভয় পায় না।” একই সঙ্গে সীমান্তে অতীতের মতো সহিংস পরিস্থিতি আর মেনে নেওয়া হবে না বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
সোমবার (১১ মে) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন হুমায়ুন কবির।
সীমান্তে ‘ভয় দেখানোর সুযোগ নেই’
সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, কাঁটাতার দিয়ে বাংলাদেশকে ভয় দেখানোর সময় এখন আর নেই। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের জনগণ ও সরকার—দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থান নিয়ে স্পষ্ট।
তার ভাষায়, “যেখানে আমাদের কথা বলা দরকার, আমরা কথা বলব।”
তিনি আরও বলেন, অতীতে সীমান্তে গুলি করে হত্যা কিংবা কাঁটাতারে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখার মতো যেসব ঘটনা ঘটেছে, ভবিষ্যতে সেই ধরনের পরিস্থিতি আর দেখতে চায় না বাংলাদেশ।
‘গোলামীর বাংলাদেশ নয়’
পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, সীমান্তে যদি আবারও আগের মতো পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা হয়, তাহলে বাংলাদেশ চুপ করে থাকবে না।
তিনি মন্তব্য করেন, “এই বাংলাদেশ সেই গোলামীর বাংলাদেশ না যে বসে বসে দেখবে।” তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো কৌশল প্রকাশ করেননি। শুধু বলেন, দেশের পরিকল্পনা রয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তার এই বক্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ভারত ও শেখ হাসিনা প্রসঙ্গ
আলোচনার একপর্যায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রসঙ্গও তোলেন হুমায়ুন কবির। তিনি দাবি করেন, “দেড় হাজার মানুষকে হত্যা করে পালিয়ে যাওয়া সন্ত্রাসী শেখ হাসিনা এখন ভারতের আশ্রয়ে আছে।”
তিনি আরও বলেন, ভারত সরকারকে জানানো হয়েছে যেন বাংলাদেশবিরোধী কোনো কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ না দেওয়া হয়। এ বিষয়ে ভারত ইতিবাচক আশ্বাস দিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তবে এই বক্তব্যের বিষয়ে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেশীদের সঙ্গে সংলাপ চায় বাংলাদেশ
হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশ প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সংঘাত নয়, বরং সংলাপ ও ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক চায়। তার মতে, আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখতে পারস্পরিক সহযোগিতা জরুরি।
তিনি বলেন, “চ্যালেঞ্জ অবশ্যই থাকবে, কিন্তু আলোচনার মাধ্যমেই সমাধানের পথ খুঁজতে হবে।”
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশ কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার কৌশল নিয়েই এগোতে চাইছে।
পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে মন্তব্য
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা। তিনি জানান, ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করার কোনো ইচ্ছা বাংলাদেশের নেই।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের মূল সম্পর্ক থাকবে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে। রাজ্যভিত্তিক রাজনৈতিক পরিবর্তনকে তারা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবেই দেখছে।
চীন সফর নিয়ে ইতিবাচক বার্তা
সম্প্রতি চীন সফর প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির বলেন, সফরটি ফলপ্রসূ হয়েছে। বিশেষ করে তিস্তা প্রকল্প নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
তার দাবি, চীনের এক্সিম ব্যাংক এ প্রকল্পে অর্থায়নে আগ্রহ দেখিয়েছে। যদিও অর্থায়নের পরিমাণ বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, তিস্তা প্রকল্পে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাংলাদেশের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
কূটনৈতিক বার্তায় নতুন ইঙ্গিত?
হুমায়ুন কবিরের বক্তব্যকে অনেকেই বর্তমান আঞ্চলিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থানের একটি ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে সীমান্ত, প্রতিবেশী সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রশ্নে সরকার এখন আরও দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
তবে কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে উত্তেজনা নয়, বরং আলোচনাকেই গুরুত্ব দেওয়া হবে—এ কথাও স্পষ্ট করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ মে ২০২৬
সীমান্ত পরিস্থিতি ও প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, “বাংলাদেশের মানুষ কাঁটাতার ভয় পায় না, সরকারও ভয় পায় না।” একই সঙ্গে সীমান্তে অতীতের মতো সহিংস পরিস্থিতি আর মেনে নেওয়া হবে না বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
সোমবার (১১ মে) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন হুমায়ুন কবির।
সীমান্তে ‘ভয় দেখানোর সুযোগ নেই’
সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, কাঁটাতার দিয়ে বাংলাদেশকে ভয় দেখানোর সময় এখন আর নেই। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের জনগণ ও সরকার—দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থান নিয়ে স্পষ্ট।
তার ভাষায়, “যেখানে আমাদের কথা বলা দরকার, আমরা কথা বলব।”
তিনি আরও বলেন, অতীতে সীমান্তে গুলি করে হত্যা কিংবা কাঁটাতারে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখার মতো যেসব ঘটনা ঘটেছে, ভবিষ্যতে সেই ধরনের পরিস্থিতি আর দেখতে চায় না বাংলাদেশ।
‘গোলামীর বাংলাদেশ নয়’
পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, সীমান্তে যদি আবারও আগের মতো পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা হয়, তাহলে বাংলাদেশ চুপ করে থাকবে না।
তিনি মন্তব্য করেন, “এই বাংলাদেশ সেই গোলামীর বাংলাদেশ না যে বসে বসে দেখবে।” তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো কৌশল প্রকাশ করেননি। শুধু বলেন, দেশের পরিকল্পনা রয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তার এই বক্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ভারত ও শেখ হাসিনা প্রসঙ্গ
আলোচনার একপর্যায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রসঙ্গও তোলেন হুমায়ুন কবির। তিনি দাবি করেন, “দেড় হাজার মানুষকে হত্যা করে পালিয়ে যাওয়া সন্ত্রাসী শেখ হাসিনা এখন ভারতের আশ্রয়ে আছে।”
তিনি আরও বলেন, ভারত সরকারকে জানানো হয়েছে যেন বাংলাদেশবিরোধী কোনো কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ না দেওয়া হয়। এ বিষয়ে ভারত ইতিবাচক আশ্বাস দিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তবে এই বক্তব্যের বিষয়ে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেশীদের সঙ্গে সংলাপ চায় বাংলাদেশ
হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশ প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সংঘাত নয়, বরং সংলাপ ও ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক চায়। তার মতে, আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখতে পারস্পরিক সহযোগিতা জরুরি।
তিনি বলেন, “চ্যালেঞ্জ অবশ্যই থাকবে, কিন্তু আলোচনার মাধ্যমেই সমাধানের পথ খুঁজতে হবে।”
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশ কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার কৌশল নিয়েই এগোতে চাইছে।
পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে মন্তব্য
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা। তিনি জানান, ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করার কোনো ইচ্ছা বাংলাদেশের নেই।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের মূল সম্পর্ক থাকবে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে। রাজ্যভিত্তিক রাজনৈতিক পরিবর্তনকে তারা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবেই দেখছে।
চীন সফর নিয়ে ইতিবাচক বার্তা
সম্প্রতি চীন সফর প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির বলেন, সফরটি ফলপ্রসূ হয়েছে। বিশেষ করে তিস্তা প্রকল্প নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
তার দাবি, চীনের এক্সিম ব্যাংক এ প্রকল্পে অর্থায়নে আগ্রহ দেখিয়েছে। যদিও অর্থায়নের পরিমাণ বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, তিস্তা প্রকল্পে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাংলাদেশের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
কূটনৈতিক বার্তায় নতুন ইঙ্গিত?
হুমায়ুন কবিরের বক্তব্যকে অনেকেই বর্তমান আঞ্চলিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থানের একটি ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে সীমান্ত, প্রতিবেশী সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রশ্নে সরকার এখন আরও দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
তবে কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে উত্তেজনা নয়, বরং আলোচনাকেই গুরুত্ব দেওয়া হবে—এ কথাও স্পষ্ট করেছেন তিনি।

আপনার মতামত লিখুন