সংবাদ প্রকাশ করেই সাংবাদিকদের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না—আলোচিত ও স্পর্শকাতর ঘটনার বিচার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত গণমাধ্যমকে সক্রিয় থাকতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন সাংবাদিক নেতারা। তারা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ফলোআপ সংবাদের চর্চা কমে যাওয়ায় অনেক অপরাধী পার পেয়ে যাচ্ছে, যা সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
শনিবার (৯ মে) রাজধানীর পুরানা পল্টনের ফেনী সমিতির হলরুমে দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রা-র ৯ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা ও প্রতিনিধি সম্মেলনে এসব কথা উঠে আসে। অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত সাংবাদিক, পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এ্যালায়েন্স অব বাংলাদেশ জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন (এ্যাবজা)-এর আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি আহমেদ আবু জাফর বলেন, অপরাধ ও দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের পর সেটির অগ্রগতি নিয়ে ধারাবাহিকভাবে প্রতিবেদন প্রকাশ করা জরুরি।
তার ভাষায়, “সাপের লেজে পা দিয়ে ছেড়ে দিলে যেমন বিপদের আশঙ্কা থাকে, তেমনি অপরাধীদের বিরুদ্ধেও মাঝপথে থেমে গেলে তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে।”
তিনি দাবি করেন, দীর্ঘ সময় ধরে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পরবর্তী ধাপ বা ফলোআপ সংবাদে অনেক গণমাধ্যমের আগ্রহ কমেছে। এতে করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে জনচাপ কমে যায় এবং অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ধীরে ধীরে আড়ালে চলে যায়।
আহমেদ আবু জাফর আরও বলেন, শুধুমাত্র প্রথম দিনের সংবাদ দিয়ে দায়িত্ব শেষ করলে চলবে না। আদালত, প্রশাসনিক তদন্ত কিংবা আইনগত পদক্ষেপ কোথায় গিয়ে দাঁড়ালো—সেটিও জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। এর মাধ্যমে সাংবাদিকতার বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়বে বলেও তিনি মত দেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা ও অধিকার নিয়েও কথা বলেন। আহমেদ আবু জাফর সরকারের কাছে সাংবাদিকদের একটি জাতীয় তালিকা তৈরির উদ্যোগ, সাংবাদিক নিয়োগ নীতিমালা এবং সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়নের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চান।
তার মতে, দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকরা নানা ধরনের চাপ, হুমকি ও অনিশ্চয়তার মধ্যে কাজ করছেন। বিশেষ করে অনুসন্ধানী বা অপরাধভিত্তিক সংবাদ প্রকাশের পর অনেক সাংবাদিক ব্যক্তিগত নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। এ অবস্থায় সুনির্দিষ্ট আইন ও নীতিমালা জরুরি বলে মত দেন তিনি।
সাংবাদিকদের একটি অংশও অনুষ্ঠানে একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাদের দাবি, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সংবাদকর্মীদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে স্বাধীন সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে স্বাধীন গণমাধ্যম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তার বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, “যারা সত্য তুলে ধরবে, তাদের ওপর কোনো ধরনের অযাচিত চাপ সৃষ্টি করা উচিত নয়। রাজনৈতিক দল, প্রশাসন কিংবা অন্য যেকোনো পক্ষেরই সংবাদ প্রকাশে বাধা না দিয়ে দায়িত্বশীল আচরণ করা প্রয়োজন।”
তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি সামনে নিয়ে আসেন বলেই অনেক বিষয় জনসমক্ষে আলোচনায় আসে। তাই সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় সব পক্ষকে সচেতন থাকতে হবে।
একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন সময় সাংবাদিকদের অধিকার আদায়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক পর্যায়ে প্রতিবাদ ও মানববন্ধনের মতো কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সাবেক তথ্য সচিব সৈয়দ মার্গুব মোর্শেদ। দিনব্যাপী কর্মশালায় সাংবাদিকতার নৈতিকতা, তথ্য যাচাই, ডিজিটাল নিরাপত্তা, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন এবং গণমাধ্যমের বর্তমান চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হয়।
বিশেষ অতিথি ও প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, গ্রীণ ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক ড. মো. অলিউর রহমান, পিআইবির সাবেক পরিচালক মিজানুর রহমান, এডিটরস ফোরামের মহাসচিব ওমর ফারুক জালালসহ বিভিন্ন পর্যায়ের গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও আইনজীবীরা।
বক্তারা বলেন, বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দ্রুত বিস্তারের কারণে ভুয়া তথ্য ও অপপ্রচার বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে পেশাদার সাংবাদিকদের দায়িত্ব আরও বেড়েছে। যাচাই-বাছাই ছাড়া সংবাদ প্রকাশ করলে গণমাধ্যমের প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলেও মত দেন তারা।
গণমাধ্যম বিশ্লেষকদের মতে, কোনো অপরাধ, দুর্নীতি বা অনিয়মের ঘটনা প্রকাশের পর যদি তার অগ্রগতি নিয়ে আর সংবাদ না হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের আগ্রহ ধীরে ধীরে কমে যায়। এতে অনেক অভিযোগ তদন্তের আগেই চাপা পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ফলোআপ সাংবাদিকতা শুধু তথ্য পরিবেশন নয়; এটি জবাবদিহিতা নিশ্চিত করারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়। আদালতের রায়, প্রশাসনিক পদক্ষেপ কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের বর্তমান অবস্থাও ধারাবাহিক প্রতিবেদনের মাধ্যমে সামনে আনা প্রয়োজন।
তারা আরও বলেন, ডিজিটাল যুগে দ্রুত সংবাদ প্রকাশের প্রতিযোগিতায় অনেক সময় গভীর অনুসন্ধান ও পরবর্তী আপডেট উপেক্ষিত হচ্ছে। ফলে পাঠক তাৎক্ষণিক তথ্য পেলেও ঘটনার পূর্ণ চিত্র জানতে পারছেন না।
সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত প্রতিনিধি ও সাংবাদিকরা অংশ নেন। তারা মাঠপর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর অনেক সময় সামাজিক ও রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়তে হয়।
কিছু প্রতিনিধি অভিযোগ করেন, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কাজ করা অনেক সাংবাদিক পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও আইনি সহায়তা পান না। এজন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজনের দাবি জানান তারা।
অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকতার মানোন্নয়ন, পেশাগত নিরাপত্তা এবং দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনের ওপর গুরুত্বারোপ করে কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরা হয়।
গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু দ্রুত সংবাদ প্রকাশ নয়, বরং ঘটনার শেষ পরিণতি পর্যন্ত নজর রাখা এখন সময়ের দাবি। অনুসন্ধানী ও ফলোআপ সাংবাদিকতার চর্চা বাড়লে সমাজে জবাবদিহিতা শক্তিশালী হতে পারে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা গেলে গণমাধ্যম আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রোববার, ১০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ মে ২০২৬
সংবাদ প্রকাশ করেই সাংবাদিকদের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না—আলোচিত ও স্পর্শকাতর ঘটনার বিচার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত গণমাধ্যমকে সক্রিয় থাকতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন সাংবাদিক নেতারা। তারা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ফলোআপ সংবাদের চর্চা কমে যাওয়ায় অনেক অপরাধী পার পেয়ে যাচ্ছে, যা সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
শনিবার (৯ মে) রাজধানীর পুরানা পল্টনের ফেনী সমিতির হলরুমে দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রা-র ৯ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা ও প্রতিনিধি সম্মেলনে এসব কথা উঠে আসে। অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত সাংবাদিক, পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এ্যালায়েন্স অব বাংলাদেশ জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন (এ্যাবজা)-এর আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি আহমেদ আবু জাফর বলেন, অপরাধ ও দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের পর সেটির অগ্রগতি নিয়ে ধারাবাহিকভাবে প্রতিবেদন প্রকাশ করা জরুরি।
তার ভাষায়, “সাপের লেজে পা দিয়ে ছেড়ে দিলে যেমন বিপদের আশঙ্কা থাকে, তেমনি অপরাধীদের বিরুদ্ধেও মাঝপথে থেমে গেলে তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে।”
তিনি দাবি করেন, দীর্ঘ সময় ধরে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পরবর্তী ধাপ বা ফলোআপ সংবাদে অনেক গণমাধ্যমের আগ্রহ কমেছে। এতে করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে জনচাপ কমে যায় এবং অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ধীরে ধীরে আড়ালে চলে যায়।
আহমেদ আবু জাফর আরও বলেন, শুধুমাত্র প্রথম দিনের সংবাদ দিয়ে দায়িত্ব শেষ করলে চলবে না। আদালত, প্রশাসনিক তদন্ত কিংবা আইনগত পদক্ষেপ কোথায় গিয়ে দাঁড়ালো—সেটিও জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। এর মাধ্যমে সাংবাদিকতার বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়বে বলেও তিনি মত দেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা ও অধিকার নিয়েও কথা বলেন। আহমেদ আবু জাফর সরকারের কাছে সাংবাদিকদের একটি জাতীয় তালিকা তৈরির উদ্যোগ, সাংবাদিক নিয়োগ নীতিমালা এবং সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়নের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চান।
তার মতে, দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকরা নানা ধরনের চাপ, হুমকি ও অনিশ্চয়তার মধ্যে কাজ করছেন। বিশেষ করে অনুসন্ধানী বা অপরাধভিত্তিক সংবাদ প্রকাশের পর অনেক সাংবাদিক ব্যক্তিগত নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। এ অবস্থায় সুনির্দিষ্ট আইন ও নীতিমালা জরুরি বলে মত দেন তিনি।
সাংবাদিকদের একটি অংশও অনুষ্ঠানে একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাদের দাবি, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সংবাদকর্মীদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে স্বাধীন সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে স্বাধীন গণমাধ্যম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তার বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, “যারা সত্য তুলে ধরবে, তাদের ওপর কোনো ধরনের অযাচিত চাপ সৃষ্টি করা উচিত নয়। রাজনৈতিক দল, প্রশাসন কিংবা অন্য যেকোনো পক্ষেরই সংবাদ প্রকাশে বাধা না দিয়ে দায়িত্বশীল আচরণ করা প্রয়োজন।”
তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি সামনে নিয়ে আসেন বলেই অনেক বিষয় জনসমক্ষে আলোচনায় আসে। তাই সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় সব পক্ষকে সচেতন থাকতে হবে।
একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন সময় সাংবাদিকদের অধিকার আদায়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক পর্যায়ে প্রতিবাদ ও মানববন্ধনের মতো কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সাবেক তথ্য সচিব সৈয়দ মার্গুব মোর্শেদ। দিনব্যাপী কর্মশালায় সাংবাদিকতার নৈতিকতা, তথ্য যাচাই, ডিজিটাল নিরাপত্তা, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন এবং গণমাধ্যমের বর্তমান চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হয়।
বিশেষ অতিথি ও প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, গ্রীণ ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক ড. মো. অলিউর রহমান, পিআইবির সাবেক পরিচালক মিজানুর রহমান, এডিটরস ফোরামের মহাসচিব ওমর ফারুক জালালসহ বিভিন্ন পর্যায়ের গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও আইনজীবীরা।
বক্তারা বলেন, বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দ্রুত বিস্তারের কারণে ভুয়া তথ্য ও অপপ্রচার বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে পেশাদার সাংবাদিকদের দায়িত্ব আরও বেড়েছে। যাচাই-বাছাই ছাড়া সংবাদ প্রকাশ করলে গণমাধ্যমের প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলেও মত দেন তারা।
গণমাধ্যম বিশ্লেষকদের মতে, কোনো অপরাধ, দুর্নীতি বা অনিয়মের ঘটনা প্রকাশের পর যদি তার অগ্রগতি নিয়ে আর সংবাদ না হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের আগ্রহ ধীরে ধীরে কমে যায়। এতে অনেক অভিযোগ তদন্তের আগেই চাপা পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ফলোআপ সাংবাদিকতা শুধু তথ্য পরিবেশন নয়; এটি জবাবদিহিতা নিশ্চিত করারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়। আদালতের রায়, প্রশাসনিক পদক্ষেপ কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের বর্তমান অবস্থাও ধারাবাহিক প্রতিবেদনের মাধ্যমে সামনে আনা প্রয়োজন।
তারা আরও বলেন, ডিজিটাল যুগে দ্রুত সংবাদ প্রকাশের প্রতিযোগিতায় অনেক সময় গভীর অনুসন্ধান ও পরবর্তী আপডেট উপেক্ষিত হচ্ছে। ফলে পাঠক তাৎক্ষণিক তথ্য পেলেও ঘটনার পূর্ণ চিত্র জানতে পারছেন না।
সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত প্রতিনিধি ও সাংবাদিকরা অংশ নেন। তারা মাঠপর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর অনেক সময় সামাজিক ও রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়তে হয়।
কিছু প্রতিনিধি অভিযোগ করেন, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কাজ করা অনেক সাংবাদিক পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও আইনি সহায়তা পান না। এজন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজনের দাবি জানান তারা।
অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকতার মানোন্নয়ন, পেশাগত নিরাপত্তা এবং দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনের ওপর গুরুত্বারোপ করে কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরা হয়।
গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু দ্রুত সংবাদ প্রকাশ নয়, বরং ঘটনার শেষ পরিণতি পর্যন্ত নজর রাখা এখন সময়ের দাবি। অনুসন্ধানী ও ফলোআপ সাংবাদিকতার চর্চা বাড়লে সমাজে জবাবদিহিতা শক্তিশালী হতে পারে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা গেলে গণমাধ্যম আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মতামত লিখুন