পাবনায় পরিবেশ রক্ষা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করেছে ইয়াং জার্নালিস্ট ফোরাম। সংগঠনটির উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেন মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
শনিবার বিকেলে পাবনা সার্কিট হাউজ চত্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে কাঠবাদামের চারা রোপণের মাধ্যমে কর্মসূচির একটি পর্ব উদ্বোধন করেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু এমপি। এ সময় পরিবেশ সংরক্ষণে সামাজিক উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় এখন থেকেই পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরোপণ বাড়াতে হবে।
বৃক্ষরোপণ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল এমপি, পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এমপি এবং পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সেলিম রেজা হাবিব।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে পাবনার পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব, সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মাকসুদুর রহমান মাসুদ খন্দকার, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত আলোকচিত্রী খালেদ হোসেন পরাগ, পাবনা প্রেসক্লাবের সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার ও সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলামসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
ইয়াং জার্নালিস্ট ফোরামের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং তরুণদের মধ্যে সবুজায়ন নিয়ে সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই মাসব্যাপী এই কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।
গত ৪ এপ্রিল পাবনা জেলা স্কুল চত্বরে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এমপি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় সাংবাদিক, শিক্ষার্থী ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সংগঠনের নেতারা জানান, শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়—বাস্তবভাবে সবুজ পরিবেশ গড়ে তুলতে জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি এলাকা ও জনসমাগমস্থলে ধাপে ধাপে বৃক্ষরোপণ করা হবে।
কর্মসূচিতে ইয়াং জার্নালিস্ট ফোরামের সভাপতি তারেক খান, সহ-সভাপতি আর কে আকাশ, সাধারণ সম্পাদক রনি ইমরান এবং সদস্য তরু তমালসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা অংশ নেন।
সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, তরুণদের পরিবেশবান্ধব কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তন আনার চেষ্টা চলছে। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে সহযোগিতা করেছে “বাংলাদেশের জলবায়ু ও সবুজায়ন” নামের একটি পরিবেশভিত্তিক সংগঠন। সংগঠনটির চেয়ারম্যান ও পরিবেশবিদ মো. নুরুল ইসলাম কামাল বলেন, দেশে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অনিয়মিত বৃষ্টি ও পরিবেশগত পরিবর্তনের প্রভাব দিন দিন বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে বেশি করে গাছ লাগানোর কোনো বিকল্প নেই।
তার মতে, শুধু সরকারি উদ্যোগ নয়, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকেও পরিবেশ রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাড়তে দেখা যাচ্ছে। পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব উদ্যোগ জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বিশেষ করে শহরাঞ্চলে খালি জায়গা কমে যাওয়া, গাছপালা নিধন এবং জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে তাপমাত্রা বাড়ছে। এ অবস্থায় পরিকল্পিত সবুজায়ন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ইয়াং জার্নালিস্ট ফোরামের নেতারা জানিয়েছেন, চলমান বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। শুধু পাবনা শহর নয়, জেলার বিভিন্ন উপজেলাতেও পর্যায়ক্রমে গাছের চারা বিতরণ ও রোপণ কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
তারা আশা করছেন, তরুণ সমাজ ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়লে পরিবেশ রক্ষায় এই উদ্যোগ আরও কার্যকর হবে।

শনিবার, ০৯ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ মে ২০২৬
পাবনায় পরিবেশ রক্ষা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করেছে ইয়াং জার্নালিস্ট ফোরাম। সংগঠনটির উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেন মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
শনিবার বিকেলে পাবনা সার্কিট হাউজ চত্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে কাঠবাদামের চারা রোপণের মাধ্যমে কর্মসূচির একটি পর্ব উদ্বোধন করেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু এমপি। এ সময় পরিবেশ সংরক্ষণে সামাজিক উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় এখন থেকেই পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরোপণ বাড়াতে হবে।
বৃক্ষরোপণ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল এমপি, পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এমপি এবং পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সেলিম রেজা হাবিব।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে পাবনার পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব, সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মাকসুদুর রহমান মাসুদ খন্দকার, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত আলোকচিত্রী খালেদ হোসেন পরাগ, পাবনা প্রেসক্লাবের সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার ও সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলামসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
ইয়াং জার্নালিস্ট ফোরামের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং তরুণদের মধ্যে সবুজায়ন নিয়ে সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই মাসব্যাপী এই কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।
গত ৪ এপ্রিল পাবনা জেলা স্কুল চত্বরে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এমপি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় সাংবাদিক, শিক্ষার্থী ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সংগঠনের নেতারা জানান, শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়—বাস্তবভাবে সবুজ পরিবেশ গড়ে তুলতে জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি এলাকা ও জনসমাগমস্থলে ধাপে ধাপে বৃক্ষরোপণ করা হবে।
কর্মসূচিতে ইয়াং জার্নালিস্ট ফোরামের সভাপতি তারেক খান, সহ-সভাপতি আর কে আকাশ, সাধারণ সম্পাদক রনি ইমরান এবং সদস্য তরু তমালসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা অংশ নেন।
সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, তরুণদের পরিবেশবান্ধব কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তন আনার চেষ্টা চলছে। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে সহযোগিতা করেছে “বাংলাদেশের জলবায়ু ও সবুজায়ন” নামের একটি পরিবেশভিত্তিক সংগঠন। সংগঠনটির চেয়ারম্যান ও পরিবেশবিদ মো. নুরুল ইসলাম কামাল বলেন, দেশে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অনিয়মিত বৃষ্টি ও পরিবেশগত পরিবর্তনের প্রভাব দিন দিন বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে বেশি করে গাছ লাগানোর কোনো বিকল্প নেই।
তার মতে, শুধু সরকারি উদ্যোগ নয়, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকেও পরিবেশ রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাড়তে দেখা যাচ্ছে। পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব উদ্যোগ জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বিশেষ করে শহরাঞ্চলে খালি জায়গা কমে যাওয়া, গাছপালা নিধন এবং জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে তাপমাত্রা বাড়ছে। এ অবস্থায় পরিকল্পিত সবুজায়ন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ইয়াং জার্নালিস্ট ফোরামের নেতারা জানিয়েছেন, চলমান বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। শুধু পাবনা শহর নয়, জেলার বিভিন্ন উপজেলাতেও পর্যায়ক্রমে গাছের চারা বিতরণ ও রোপণ কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
তারা আশা করছেন, তরুণ সমাজ ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়লে পরিবেশ রক্ষায় এই উদ্যোগ আরও কার্যকর হবে।

আপনার মতামত লিখুন