গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী, তিন সন্তান ও শ্যালককে হত্যার ঘটনায় নতুন এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। নিহত পাঁচজনের মরদেহের ওপর পাওয়া গেছে কম্পিউটারে টাইপ করা অভিযোগপত্রের কপি। অভিযোগটি গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি বরাবর লেখা বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে সেটি সত্যিই থানায় জমা দেওয়া হয়েছিল কি না, নাকি শুধুই ঘটনাস্থলে রেখে যাওয়া একটি বার্তা—তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শনিবার সকালে গাজীপুর জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া কাগজগুলো একই ধরনের এবং প্রতিটি মরদেহের ওপর আলাদা করে রাখা ছিল। ওই অভিযোগপত্রে দাম্পত্য কলহ, অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এবং পরকীয়ার দাবি উল্লেখ করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি এখন তদন্তাধীন।
ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার দিবাগত রাতে গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের রাউৎকোনা গ্রামে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ভোরের দিকে বাড়ি থেকে কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে আশপাশের মানুষের সন্দেহ হয়। পরে ঘরের ভেতরে ঢুকে একই পরিবারের পাঁচজনের রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান তারা।
নিহতরা হলেন—শারমিন খানম (৪০), তাঁর তিন মেয়ে মিম (১৬), মারিয়া (৮) ও ফারিয়া (২), এবং শারমিনের ভাই রসুল (২২)। অভিযুক্ত ফোরকান মিয়া ওই বাড়িতে পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকতেন বলে জানা গেছে।
পুলিশের ধারণা, পারিবারিক বিরোধের জের ধরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে রাজি নন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ঘটনাস্থলে পাওয়া টাইপ করা অভিযোগপত্র এখন তদন্তের সবচেয়ে আলোচিত অংশ। সেখানে দাবি করা হয়েছে, ফোরকানের উপার্জিত প্রায় ১০ লাখ টাকা স্ত্রী শারমিন তাঁর বাবার বাড়ির এলাকায় জমি কেনার কাজে ব্যবহার করেছেন। পাশাপাশি শারমিনের বিরুদ্ধে তাঁর খালাতো ভাই রাজু আহমেদের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার অভিযোগও তোলা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে আরও লেখা ছিল, বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এমনকি গত ৫ মে ফোরকানকে মারধরের ঘটনাও সেখানে উল্লেখ করা হয়। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো যাচাই হয়নি।
পুলিশ বলছে, ঘটনাস্থলে পাওয়া কাগজগুলোকে গুরুত্ব দিয়েই তদন্ত এগোচ্ছে। তবে শুধুমাত্র একটি লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চায় না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
গাজীপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কালীগঞ্জ সার্কেল) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, মরদেহগুলোর ওপর একটি করে লিখিত অভিযোগের কপি পাওয়া গেছে। অভিযোগটি গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি বরাবর লেখা। সেটি থানায় জমা হয়েছিল কি না, কিংবা আদৌ গ্রহণ করা হয়েছিল কি না—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে অভিযুক্ত ফোরকানকে ধরতে অভিযান চলছে। প্রাথমিকভাবে এটি পারিবারিক বিরোধ থেকে ঘটেছে বলে ধারণা করা হলেও তদন্তের আগে চূড়ান্ত কিছু বলা সম্ভব নয়।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানিয়েছেন, পরিবারটিকে বাইরে থেকে সাধারণ ও শান্ত স্বভাবের মনে হতো। তবে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মাঝেমধ্যে ঝগড়ার শব্দ শোনা যেত বলে দাবি করেছেন কেউ কেউ। আবার অনেকেই বলেছেন, এমন নৃশংস ঘটনা ঘটতে পারে তা কখনো কল্পনাও করেননি।
এক প্রতিবেশী বলেন, “বাচ্চাগুলো খুবই ছোট ছিল। সকালে খবর শুনে সবাই হতবাক হয়ে যায়। পুরো এলাকায় এখন আতঙ্ক আর শোকের পরিবেশ।”
আরেকজনের ভাষ্য, “পরিবারের ভেতরে সমস্যা ছিল কি না আমরা জানতাম না। কিন্তু পাঁচজন মানুষকে এভাবে হত্যা করার ঘটনা মেনে নেওয়া কঠিন।”
তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, মরদেহের ওপর অভিযোগপত্র রেখে যাওয়ার বিষয়টি পরিকল্পিত হতে পারে। এটি হত্যার পেছনের কারণ বোঝাতে চাওয়া হয়েছে, নাকি তদন্তকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা—সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক সময় অপরাধের পর অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে লিখিত নোট বা বার্তা রেখে যান। তবে সেটি সত্য নাকি নিজের পক্ষে যুক্তি দাঁড় করানোর চেষ্টা, তা নির্ভর করে তদন্ত ও প্রমাণের ওপর।
এ ঘটনায় কথিত প্রেমিক হিসেবে যার নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাঁর পক্ষ থেকে এখনো কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ বলছে, অভিযোগপত্রে যাদের নাম এসেছে, তাদের সঙ্গেও কথা বলা হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে পারিবারিক কলহ, দাম্পত্য অবিশ্বাস ও মানসিক চাপকে কেন্দ্র করে সহিংস ঘটনার সংখ্যা বাড়ছে বলে মনে করছেন সমাজ বিশ্লেষকেরা। বিশেষ করে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত দ্বন্দ্ব, অর্থনৈতিক চাপ এবং পারস্পরিক অবিশ্বাস অনেক পরিবারকে ভয়াবহ পরিণতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
তবে যেকোনো অভিযোগ বা সম্পর্কের টানাপোড়েনের সমাধান কখনোই সহিংসতা হতে পারে না—এ কথাও মনে করিয়ে দিচ্ছেন তারা। পরিবারে সংকট তৈরি হলে আইনি সহায়তা, কাউন্সেলিং বা সামাজিক মধ্যস্থতার মতো পথগুলো আরও সহজলভ্য করা প্রয়োজন বলেও মত তাদের।
শনিবার দুপুর পর্যন্ত নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ফোরকান পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাঁকে ধরতে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হচ্ছে।
একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া অভিযোগপত্রের সত্যতা, পারিবারিক সম্পর্কের অবস্থা এবং হত্যাকাণ্ডের পেছনের প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে। পুরো ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ ও শোক বিরাজ করছে।

শনিবার, ০৯ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ মে ২০২৬
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী, তিন সন্তান ও শ্যালককে হত্যার ঘটনায় নতুন এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। নিহত পাঁচজনের মরদেহের ওপর পাওয়া গেছে কম্পিউটারে টাইপ করা অভিযোগপত্রের কপি। অভিযোগটি গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি বরাবর লেখা বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে সেটি সত্যিই থানায় জমা দেওয়া হয়েছিল কি না, নাকি শুধুই ঘটনাস্থলে রেখে যাওয়া একটি বার্তা—তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শনিবার সকালে গাজীপুর জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া কাগজগুলো একই ধরনের এবং প্রতিটি মরদেহের ওপর আলাদা করে রাখা ছিল। ওই অভিযোগপত্রে দাম্পত্য কলহ, অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এবং পরকীয়ার দাবি উল্লেখ করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি এখন তদন্তাধীন।
ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার দিবাগত রাতে গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের রাউৎকোনা গ্রামে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ভোরের দিকে বাড়ি থেকে কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে আশপাশের মানুষের সন্দেহ হয়। পরে ঘরের ভেতরে ঢুকে একই পরিবারের পাঁচজনের রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান তারা।
নিহতরা হলেন—শারমিন খানম (৪০), তাঁর তিন মেয়ে মিম (১৬), মারিয়া (৮) ও ফারিয়া (২), এবং শারমিনের ভাই রসুল (২২)। অভিযুক্ত ফোরকান মিয়া ওই বাড়িতে পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকতেন বলে জানা গেছে।
পুলিশের ধারণা, পারিবারিক বিরোধের জের ধরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে রাজি নন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ঘটনাস্থলে পাওয়া টাইপ করা অভিযোগপত্র এখন তদন্তের সবচেয়ে আলোচিত অংশ। সেখানে দাবি করা হয়েছে, ফোরকানের উপার্জিত প্রায় ১০ লাখ টাকা স্ত্রী শারমিন তাঁর বাবার বাড়ির এলাকায় জমি কেনার কাজে ব্যবহার করেছেন। পাশাপাশি শারমিনের বিরুদ্ধে তাঁর খালাতো ভাই রাজু আহমেদের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার অভিযোগও তোলা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে আরও লেখা ছিল, বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এমনকি গত ৫ মে ফোরকানকে মারধরের ঘটনাও সেখানে উল্লেখ করা হয়। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো যাচাই হয়নি।
পুলিশ বলছে, ঘটনাস্থলে পাওয়া কাগজগুলোকে গুরুত্ব দিয়েই তদন্ত এগোচ্ছে। তবে শুধুমাত্র একটি লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চায় না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
গাজীপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কালীগঞ্জ সার্কেল) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, মরদেহগুলোর ওপর একটি করে লিখিত অভিযোগের কপি পাওয়া গেছে। অভিযোগটি গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি বরাবর লেখা। সেটি থানায় জমা হয়েছিল কি না, কিংবা আদৌ গ্রহণ করা হয়েছিল কি না—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে অভিযুক্ত ফোরকানকে ধরতে অভিযান চলছে। প্রাথমিকভাবে এটি পারিবারিক বিরোধ থেকে ঘটেছে বলে ধারণা করা হলেও তদন্তের আগে চূড়ান্ত কিছু বলা সম্ভব নয়।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানিয়েছেন, পরিবারটিকে বাইরে থেকে সাধারণ ও শান্ত স্বভাবের মনে হতো। তবে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মাঝেমধ্যে ঝগড়ার শব্দ শোনা যেত বলে দাবি করেছেন কেউ কেউ। আবার অনেকেই বলেছেন, এমন নৃশংস ঘটনা ঘটতে পারে তা কখনো কল্পনাও করেননি।
এক প্রতিবেশী বলেন, “বাচ্চাগুলো খুবই ছোট ছিল। সকালে খবর শুনে সবাই হতবাক হয়ে যায়। পুরো এলাকায় এখন আতঙ্ক আর শোকের পরিবেশ।”
আরেকজনের ভাষ্য, “পরিবারের ভেতরে সমস্যা ছিল কি না আমরা জানতাম না। কিন্তু পাঁচজন মানুষকে এভাবে হত্যা করার ঘটনা মেনে নেওয়া কঠিন।”
তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, মরদেহের ওপর অভিযোগপত্র রেখে যাওয়ার বিষয়টি পরিকল্পিত হতে পারে। এটি হত্যার পেছনের কারণ বোঝাতে চাওয়া হয়েছে, নাকি তদন্তকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা—সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক সময় অপরাধের পর অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে লিখিত নোট বা বার্তা রেখে যান। তবে সেটি সত্য নাকি নিজের পক্ষে যুক্তি দাঁড় করানোর চেষ্টা, তা নির্ভর করে তদন্ত ও প্রমাণের ওপর।
এ ঘটনায় কথিত প্রেমিক হিসেবে যার নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাঁর পক্ষ থেকে এখনো কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ বলছে, অভিযোগপত্রে যাদের নাম এসেছে, তাদের সঙ্গেও কথা বলা হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে পারিবারিক কলহ, দাম্পত্য অবিশ্বাস ও মানসিক চাপকে কেন্দ্র করে সহিংস ঘটনার সংখ্যা বাড়ছে বলে মনে করছেন সমাজ বিশ্লেষকেরা। বিশেষ করে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত দ্বন্দ্ব, অর্থনৈতিক চাপ এবং পারস্পরিক অবিশ্বাস অনেক পরিবারকে ভয়াবহ পরিণতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
তবে যেকোনো অভিযোগ বা সম্পর্কের টানাপোড়েনের সমাধান কখনোই সহিংসতা হতে পারে না—এ কথাও মনে করিয়ে দিচ্ছেন তারা। পরিবারে সংকট তৈরি হলে আইনি সহায়তা, কাউন্সেলিং বা সামাজিক মধ্যস্থতার মতো পথগুলো আরও সহজলভ্য করা প্রয়োজন বলেও মত তাদের।
শনিবার দুপুর পর্যন্ত নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ফোরকান পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাঁকে ধরতে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হচ্ছে।
একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া অভিযোগপত্রের সত্যতা, পারিবারিক সম্পর্কের অবস্থা এবং হত্যাকাণ্ডের পেছনের প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে। পুরো ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ ও শোক বিরাজ করছে।

আপনার মতামত লিখুন