কক্সবাজারের টেকনাফে গভীর রাতে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে একটি বিদেশি রাইফেল, গুলি ও বিপুল পরিমাণ ইয়াবা জব্দ করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। তবে অভিযানের সময় পাচারকারীরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
সোমবার (১১ মে) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন। তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টেকনাফের লেদা খাল সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়।
ভোররাতে বিশেষ অভিযান
কোস্ট গার্ড সূত্র জানায়, সোমবার ভোররাত ৩টার দিকে কোস্ট গার্ড স্টেশন টেকনাফের সদস্যরা এলাকাটিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানের সময় সন্দেহজনক স্থানে তল্লাশি চালিয়ে একটি বিদেশি রাইফেল, একটি ম্যাগাজিন, পাঁচ রাউন্ড তাজা গুলি এবং ৭০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
অভিযান চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে সংশ্লিষ্টরা দ্রুত পাহাড়ি পথ ব্যবহার করে পালিয়ে যায় বলে দাবি করা হয়েছে। ফলে ঘটনাস্থল থেকে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
সীমান্তজুড়ে মাদকপাচারের উদ্বেগ
টেকনাফ দীর্ঘদিন ধরেই মাদক পাচারের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে মিয়ানমার সীমান্ত ঘেঁষা বিভিন্ন পয়েন্ট ব্যবহার করে ইয়াবা পাচারের অভিযোগ প্রায়ই উঠে আসে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক অভিযানে নিয়মিত মাদক উদ্ধার হলেও পাচারচক্র পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসছে না বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু মাদক নয়, সীমান্তপথে অবৈধ অস্ত্রের চলাচলও নিরাপত্তা পরিস্থিতির জন্য বড় উদ্বেগ তৈরি করছে। এবার ইয়াবার সঙ্গে বিদেশি রাইফেল উদ্ধারের ঘটনায় সেই শঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে।
কোস্ট গার্ডের বক্তব্য
কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, জব্দ করা অস্ত্র, গোলাবারুদ ও ইয়াবার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং মাদক পাচার রোধে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।
তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপ
ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। সীমান্ত এলাকায় নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে বলেও দাবি করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
বিশ্লেষকদের মতে, শুধু অভিযান চালিয়ে মাদক নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি সম্ভব নয়। সীমান্তে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পাচারচক্রের আর্থিক নেটওয়ার্ক ভাঙার দিকেও জোর দিতে হবে।
বর্তমানে জব্দ হওয়া ইয়াবা, অস্ত্র ও গুলি সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।

সোমবার, ১১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ মে ২০২৬
কক্সবাজারের টেকনাফে গভীর রাতে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে একটি বিদেশি রাইফেল, গুলি ও বিপুল পরিমাণ ইয়াবা জব্দ করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। তবে অভিযানের সময় পাচারকারীরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
সোমবার (১১ মে) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন। তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টেকনাফের লেদা খাল সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়।
ভোররাতে বিশেষ অভিযান
কোস্ট গার্ড সূত্র জানায়, সোমবার ভোররাত ৩টার দিকে কোস্ট গার্ড স্টেশন টেকনাফের সদস্যরা এলাকাটিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানের সময় সন্দেহজনক স্থানে তল্লাশি চালিয়ে একটি বিদেশি রাইফেল, একটি ম্যাগাজিন, পাঁচ রাউন্ড তাজা গুলি এবং ৭০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
অভিযান চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে সংশ্লিষ্টরা দ্রুত পাহাড়ি পথ ব্যবহার করে পালিয়ে যায় বলে দাবি করা হয়েছে। ফলে ঘটনাস্থল থেকে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
সীমান্তজুড়ে মাদকপাচারের উদ্বেগ
টেকনাফ দীর্ঘদিন ধরেই মাদক পাচারের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে মিয়ানমার সীমান্ত ঘেঁষা বিভিন্ন পয়েন্ট ব্যবহার করে ইয়াবা পাচারের অভিযোগ প্রায়ই উঠে আসে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক অভিযানে নিয়মিত মাদক উদ্ধার হলেও পাচারচক্র পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসছে না বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু মাদক নয়, সীমান্তপথে অবৈধ অস্ত্রের চলাচলও নিরাপত্তা পরিস্থিতির জন্য বড় উদ্বেগ তৈরি করছে। এবার ইয়াবার সঙ্গে বিদেশি রাইফেল উদ্ধারের ঘটনায় সেই শঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে।
কোস্ট গার্ডের বক্তব্য
কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, জব্দ করা অস্ত্র, গোলাবারুদ ও ইয়াবার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং মাদক পাচার রোধে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।
তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপ
ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। সীমান্ত এলাকায় নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে বলেও দাবি করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
বিশ্লেষকদের মতে, শুধু অভিযান চালিয়ে মাদক নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি সম্ভব নয়। সীমান্তে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পাচারচক্রের আর্থিক নেটওয়ার্ক ভাঙার দিকেও জোর দিতে হবে।
বর্তমানে জব্দ হওয়া ইয়াবা, অস্ত্র ও গুলি সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।

আপনার মতামত লিখুন