দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : সোমবার, ১১ মে ২০২৬

শার্শার গিলাপোলে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু, এলাকায় শোকের ছায়া

শার্শার গিলাপোলে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু, এলাকায় শোকের ছায়া

সোনারামপুরে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ম্যানেজারের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, গ্রাহকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক

বাঞ্ছারামপুরে মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের মানববন্ধন: নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও পেশাগত মর্যাদা রক্ষার দাবি

শাহজাদপুরে র‍্যাবের অভিযানে নেশাজাতীয় সিরাপসহ আটক ১

জবিতে জামালপুর জেলা ছাত্রকল্যাণের নতুন নেতৃত্বে শফিকুল-রিয়ন

সুরে সুরে ডেঙ্গু সচেতনতা: রাজধানীতে ভ্রাম্যমান সংগীত কর্মসূচির উদ্বোধন

মা দিবসে ভালোবাসায় স্মরণ পৃথিবীর সকল মাকে

তদন্তে সত্যতা নিশ্চিত না করে সাংবাদিক গ্রেফতার করা যাবে না: আহমেদ আবু জাফর

সোনারামপুরে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ম্যানেজারের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, গ্রাহকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক

সোনারামপুরে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ম্যানেজারের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, গ্রাহকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক
টাকা আত্মসাৎ অভিযোগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার সোনারামপুর ইউনিয়নের সোনারামপুর বাজারে এশিয়া ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং শাখার ম্যানেজার জাহাঙ্গীর হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রাহকের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে আত্মগোপনে চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম উদ্বেগ, ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।

স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে নির্ভরযোগ্য ব্যাংকিং সেবা হিসেবে পরিচিত এই এজেন্ট শাখায় সাধারণ মানুষ তাদের সঞ্চয় ও উপার্জিত অর্থ নিরাপদ ভেবে জমা রাখতেন। কিন্তু হঠাৎ করে সংশ্লিষ্ট ম্যানেজার নিখোঁজ হয়ে যাওয়ায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।


দীর্ঘদিনের লেনদেনের পর হঠাৎ উধাও ম্যানেজার

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাহাঙ্গীর হোসেন সোনারামপুর বাজারে এশিয়া ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। এলাকার বহু মানুষ নিয়মিতভাবে তার মাধ্যমে টাকা জমা, উত্তোলন ও বিভিন্ন আর্থিক লেনদেন করতেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, হঠাৎ করেই তিনি প্রতিষ্ঠান থেকে আত্মগোপনে চলে যান। এরপর থেকেই গ্রাহকরা তাদের টাকা তুলতে গিয়ে সমস্যার সম্মুখীন হন এবং ধীরে ধীরে বিষয়টি সামনে আসে।



গ্রাহকদের কোটি টাকার সঞ্চয় নিয়ে অনিশ্চয়তা

ভুক্তভোগীরা জানান, তারা শুধু ব্যক্তিগত সঞ্চয়ই নয়, ব্যবসার মূলধন এবং প্রবাসে থাকা স্বজনদের পাঠানো অর্থও ওই এজেন্ট শাখায় জমা রেখেছিলেন।

এখন ম্যানেজারের কোনো খোঁজ না পাওয়ায় গ্রাহকদের মধ্যে চরম হতাশা তৈরি হয়েছে। অনেকেই বলছেন, তারা বুঝতেই পারছেন না তাদের জমা টাকা আদৌ নিরাপদ আছে কিনা।

একাধিক গ্রাহক ইতোমধ্যে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।


ভুক্তভোগীর অভিযোগ: “আমার ফিঙ্গার ব্যবহার করে টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে”

ভুক্তভোগী রাশিয়া খাতুন বলেন, তার ছেলে মালয়েশিয়া প্রবাসী এবং নিয়মিতভাবে টাকা পাঠাতেন। তিনি সেই টাকা স্থানীয় এজেন্ট ব্যাংকের মাধ্যমে উত্তোলন করতেন।

তার ভাষায়, তিনি চোখে কম দেখেন এবং মোবাইলের মেসেজও সবসময় খেয়াল করতে পারেন না। এই সুযোগে বিভিন্ন সময় তার ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্যবহার করে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি দাবি করেন, “আমি বুঝতেই পারিনি যে আমার অ্যাকাউন্ট থেকে বড় অঙ্কের টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে।”


অভিযুক্তের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি

এ বিষয়ে অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তিনি বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে স্থানীয়রা ধারণা করছেন।


ব্যাংক কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া

এশিয়া ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসান জানান, বিষয়টি ইতোমধ্যে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, গ্রাহকদের কাছ থেকে অভিযোগ গ্রহণ করা হচ্ছে এবং সব তথ্য হেড অফিসে পাঠানো হবে।

তিনি আরও বলেন, তদন্ত শেষে বিষয়টি সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


এলাকায় চরম ক্ষোভ ও তদন্তের দাবি

ঘটনার পর থেকেই সোনারামপুর বাজার এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষ দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সত্যতা উদঘাটন এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের ঘটনায় সাধারণ মানুষের ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতি আস্থা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।


বিশ্লেষণ: এজেন্ট ব্যাংকিং ব্যবস্থায় আস্থার সংকটের শঙ্কা

বিশেষজ্ঞদের মতে, এজেন্ট ব্যাংকিং দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে আর্থিক সেবা পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও এর নিয়ন্ত্রণ ও তদারকিতে ঘাটতি থাকলে এমন অনিয়মের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এই ঘটনায় যদি অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে এটি শুধু একটি এলাকার নয়, বরং পুরো এজেন্ট ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থাকে প্রভাবিত করতে পারে।



সোনারামপুরে এজেন্ট ব্যাংকিং কেন্দ্রকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই অভিযোগ এখন স্থানীয়ভাবে বড় ধরনের আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। গ্রাহকরা তাদের কষ্টার্জিত অর্থ ফেরতের আশায় প্রশাসন ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন। তদন্তের অগ্রগতি এখন সবার নজরে।

বিষয় : এজেন্ট ব্যাংকিং কেলেঙ্কারি বাঞ্ছারামপুর ব্যাংক অভিযোগ সোনারামপুর বাজার সংবাদ গ্রাহকের টাকা আত্মসাৎ এশিয়া ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

সোমবার, ১১ মে ২০২৬


সোনারামপুরে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ম্যানেজারের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, গ্রাহকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক

প্রকাশের তারিখ : ১১ মে ২০২৬

featured Image

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার সোনারামপুর ইউনিয়নের সোনারামপুর বাজারে এশিয়া ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং শাখার ম্যানেজার জাহাঙ্গীর হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রাহকের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে আত্মগোপনে চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম উদ্বেগ, ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।

স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে নির্ভরযোগ্য ব্যাংকিং সেবা হিসেবে পরিচিত এই এজেন্ট শাখায় সাধারণ মানুষ তাদের সঞ্চয় ও উপার্জিত অর্থ নিরাপদ ভেবে জমা রাখতেন। কিন্তু হঠাৎ করে সংশ্লিষ্ট ম্যানেজার নিখোঁজ হয়ে যাওয়ায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।


দীর্ঘদিনের লেনদেনের পর হঠাৎ উধাও ম্যানেজার

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাহাঙ্গীর হোসেন সোনারামপুর বাজারে এশিয়া ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। এলাকার বহু মানুষ নিয়মিতভাবে তার মাধ্যমে টাকা জমা, উত্তোলন ও বিভিন্ন আর্থিক লেনদেন করতেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, হঠাৎ করেই তিনি প্রতিষ্ঠান থেকে আত্মগোপনে চলে যান। এরপর থেকেই গ্রাহকরা তাদের টাকা তুলতে গিয়ে সমস্যার সম্মুখীন হন এবং ধীরে ধীরে বিষয়টি সামনে আসে।



গ্রাহকদের কোটি টাকার সঞ্চয় নিয়ে অনিশ্চয়তা

ভুক্তভোগীরা জানান, তারা শুধু ব্যক্তিগত সঞ্চয়ই নয়, ব্যবসার মূলধন এবং প্রবাসে থাকা স্বজনদের পাঠানো অর্থও ওই এজেন্ট শাখায় জমা রেখেছিলেন।

এখন ম্যানেজারের কোনো খোঁজ না পাওয়ায় গ্রাহকদের মধ্যে চরম হতাশা তৈরি হয়েছে। অনেকেই বলছেন, তারা বুঝতেই পারছেন না তাদের জমা টাকা আদৌ নিরাপদ আছে কিনা।

একাধিক গ্রাহক ইতোমধ্যে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।


ভুক্তভোগীর অভিযোগ: “আমার ফিঙ্গার ব্যবহার করে টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে”

ভুক্তভোগী রাশিয়া খাতুন বলেন, তার ছেলে মালয়েশিয়া প্রবাসী এবং নিয়মিতভাবে টাকা পাঠাতেন। তিনি সেই টাকা স্থানীয় এজেন্ট ব্যাংকের মাধ্যমে উত্তোলন করতেন।

তার ভাষায়, তিনি চোখে কম দেখেন এবং মোবাইলের মেসেজও সবসময় খেয়াল করতে পারেন না। এই সুযোগে বিভিন্ন সময় তার ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্যবহার করে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি দাবি করেন, “আমি বুঝতেই পারিনি যে আমার অ্যাকাউন্ট থেকে বড় অঙ্কের টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে।”


অভিযুক্তের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি

এ বিষয়ে অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তিনি বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে স্থানীয়রা ধারণা করছেন।


ব্যাংক কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া

এশিয়া ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসান জানান, বিষয়টি ইতোমধ্যে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, গ্রাহকদের কাছ থেকে অভিযোগ গ্রহণ করা হচ্ছে এবং সব তথ্য হেড অফিসে পাঠানো হবে।

তিনি আরও বলেন, তদন্ত শেষে বিষয়টি সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


এলাকায় চরম ক্ষোভ ও তদন্তের দাবি

ঘটনার পর থেকেই সোনারামপুর বাজার এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষ দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সত্যতা উদঘাটন এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের ঘটনায় সাধারণ মানুষের ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতি আস্থা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।


বিশ্লেষণ: এজেন্ট ব্যাংকিং ব্যবস্থায় আস্থার সংকটের শঙ্কা

বিশেষজ্ঞদের মতে, এজেন্ট ব্যাংকিং দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে আর্থিক সেবা পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও এর নিয়ন্ত্রণ ও তদারকিতে ঘাটতি থাকলে এমন অনিয়মের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এই ঘটনায় যদি অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে এটি শুধু একটি এলাকার নয়, বরং পুরো এজেন্ট ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থাকে প্রভাবিত করতে পারে।



সোনারামপুরে এজেন্ট ব্যাংকিং কেন্দ্রকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই অভিযোগ এখন স্থানীয়ভাবে বড় ধরনের আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। গ্রাহকরা তাদের কষ্টার্জিত অর্থ ফেরতের আশায় প্রশাসন ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন। তদন্তের অগ্রগতি এখন সবার নজরে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর