ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার সোনারামপুর ইউনিয়নের সোনারামপুর বাজারে এশিয়া ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং শাখার ম্যানেজার জাহাঙ্গীর হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রাহকের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে আত্মগোপনে চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম উদ্বেগ, ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে নির্ভরযোগ্য ব্যাংকিং সেবা হিসেবে পরিচিত এই এজেন্ট শাখায় সাধারণ মানুষ তাদের সঞ্চয় ও উপার্জিত অর্থ নিরাপদ ভেবে জমা রাখতেন। কিন্তু হঠাৎ করে সংশ্লিষ্ট ম্যানেজার নিখোঁজ হয়ে যাওয়ায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাহাঙ্গীর হোসেন সোনারামপুর বাজারে এশিয়া ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। এলাকার বহু মানুষ নিয়মিতভাবে তার মাধ্যমে টাকা জমা, উত্তোলন ও বিভিন্ন আর্থিক লেনদেন করতেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, হঠাৎ করেই তিনি প্রতিষ্ঠান থেকে আত্মগোপনে চলে যান। এরপর থেকেই গ্রাহকরা তাদের টাকা তুলতে গিয়ে সমস্যার সম্মুখীন হন এবং ধীরে ধীরে বিষয়টি সামনে আসে।
ভুক্তভোগীরা জানান, তারা শুধু ব্যক্তিগত সঞ্চয়ই নয়, ব্যবসার মূলধন এবং প্রবাসে থাকা স্বজনদের পাঠানো অর্থও ওই এজেন্ট শাখায় জমা রেখেছিলেন।
এখন ম্যানেজারের কোনো খোঁজ না পাওয়ায় গ্রাহকদের মধ্যে চরম হতাশা তৈরি হয়েছে। অনেকেই বলছেন, তারা বুঝতেই পারছেন না তাদের জমা টাকা আদৌ নিরাপদ আছে কিনা।
একাধিক গ্রাহক ইতোমধ্যে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী রাশিয়া খাতুন বলেন, তার ছেলে মালয়েশিয়া প্রবাসী এবং নিয়মিতভাবে টাকা পাঠাতেন। তিনি সেই টাকা স্থানীয় এজেন্ট ব্যাংকের মাধ্যমে উত্তোলন করতেন।
তার ভাষায়, তিনি চোখে কম দেখেন এবং মোবাইলের মেসেজও সবসময় খেয়াল করতে পারেন না। এই সুযোগে বিভিন্ন সময় তার ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্যবহার করে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি দাবি করেন, “আমি বুঝতেই পারিনি যে আমার অ্যাকাউন্ট থেকে বড় অঙ্কের টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তিনি বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে স্থানীয়রা ধারণা করছেন।
এশিয়া ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসান জানান, বিষয়টি ইতোমধ্যে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, গ্রাহকদের কাছ থেকে অভিযোগ গ্রহণ করা হচ্ছে এবং সব তথ্য হেড অফিসে পাঠানো হবে।
তিনি আরও বলেন, তদন্ত শেষে বিষয়টি সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ঘটনার পর থেকেই সোনারামপুর বাজার এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষ দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সত্যতা উদঘাটন এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের ঘটনায় সাধারণ মানুষের ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতি আস্থা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এজেন্ট ব্যাংকিং দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে আর্থিক সেবা পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও এর নিয়ন্ত্রণ ও তদারকিতে ঘাটতি থাকলে এমন অনিয়মের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এই ঘটনায় যদি অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে এটি শুধু একটি এলাকার নয়, বরং পুরো এজেন্ট ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থাকে প্রভাবিত করতে পারে।

সোমবার, ১১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ মে ২০২৬
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার সোনারামপুর ইউনিয়নের সোনারামপুর বাজারে এশিয়া ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং শাখার ম্যানেজার জাহাঙ্গীর হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রাহকের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে আত্মগোপনে চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম উদ্বেগ, ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে নির্ভরযোগ্য ব্যাংকিং সেবা হিসেবে পরিচিত এই এজেন্ট শাখায় সাধারণ মানুষ তাদের সঞ্চয় ও উপার্জিত অর্থ নিরাপদ ভেবে জমা রাখতেন। কিন্তু হঠাৎ করে সংশ্লিষ্ট ম্যানেজার নিখোঁজ হয়ে যাওয়ায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাহাঙ্গীর হোসেন সোনারামপুর বাজারে এশিয়া ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। এলাকার বহু মানুষ নিয়মিতভাবে তার মাধ্যমে টাকা জমা, উত্তোলন ও বিভিন্ন আর্থিক লেনদেন করতেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, হঠাৎ করেই তিনি প্রতিষ্ঠান থেকে আত্মগোপনে চলে যান। এরপর থেকেই গ্রাহকরা তাদের টাকা তুলতে গিয়ে সমস্যার সম্মুখীন হন এবং ধীরে ধীরে বিষয়টি সামনে আসে।
ভুক্তভোগীরা জানান, তারা শুধু ব্যক্তিগত সঞ্চয়ই নয়, ব্যবসার মূলধন এবং প্রবাসে থাকা স্বজনদের পাঠানো অর্থও ওই এজেন্ট শাখায় জমা রেখেছিলেন।
এখন ম্যানেজারের কোনো খোঁজ না পাওয়ায় গ্রাহকদের মধ্যে চরম হতাশা তৈরি হয়েছে। অনেকেই বলছেন, তারা বুঝতেই পারছেন না তাদের জমা টাকা আদৌ নিরাপদ আছে কিনা।
একাধিক গ্রাহক ইতোমধ্যে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী রাশিয়া খাতুন বলেন, তার ছেলে মালয়েশিয়া প্রবাসী এবং নিয়মিতভাবে টাকা পাঠাতেন। তিনি সেই টাকা স্থানীয় এজেন্ট ব্যাংকের মাধ্যমে উত্তোলন করতেন।
তার ভাষায়, তিনি চোখে কম দেখেন এবং মোবাইলের মেসেজও সবসময় খেয়াল করতে পারেন না। এই সুযোগে বিভিন্ন সময় তার ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্যবহার করে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি দাবি করেন, “আমি বুঝতেই পারিনি যে আমার অ্যাকাউন্ট থেকে বড় অঙ্কের টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তিনি বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে স্থানীয়রা ধারণা করছেন।
এশিয়া ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসান জানান, বিষয়টি ইতোমধ্যে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, গ্রাহকদের কাছ থেকে অভিযোগ গ্রহণ করা হচ্ছে এবং সব তথ্য হেড অফিসে পাঠানো হবে।
তিনি আরও বলেন, তদন্ত শেষে বিষয়টি সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ঘটনার পর থেকেই সোনারামপুর বাজার এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষ দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সত্যতা উদঘাটন এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের ঘটনায় সাধারণ মানুষের ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতি আস্থা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এজেন্ট ব্যাংকিং দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে আর্থিক সেবা পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও এর নিয়ন্ত্রণ ও তদারকিতে ঘাটতি থাকলে এমন অনিয়মের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এই ঘটনায় যদি অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে এটি শুধু একটি এলাকার নয়, বরং পুরো এজেন্ট ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থাকে প্রভাবিত করতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন