দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
আপডেট : রোববার, ১০ মে ২০২৬

মা দিবসে ভালোবাসায় স্মরণ পৃথিবীর সকল মাকে

মা দিবসে ভালোবাসায় স্মরণ পৃথিবীর সকল মাকে

তদন্তে সত্যতা নিশ্চিত না করে সাংবাদিক গ্রেফতার করা যাবে না: আহমেদ আবু জাফর

মাধবপুরে ইটবোঝাই ট্রাকে মিলল কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য, বিজিবির অভিযানে চোরাচালান জব্দ

হান্টাভাইরাস আতঙ্কে বিপর্যস্ত ‘এমভি হন্ডিয়াস’ জাহাজ স্পেনের বন্দরে, শুরু হলো জরুরি সরিয়ে নেওয়া

ফলোআপ সাংবাদিকতায় জোর দেওয়ার আহ্বান, অপরাধের বিরুদ্ধে ‘শেষ পর্যন্ত’ কলম চালানোর বার্তা

খালার বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে শিশুর জীবনে দুঃস্বপ্ন, কাশিয়ানীতে পাশবিকতার অভিযোগে তীব্র ক্ষোভ

শেরপুরে টিআরসি নিয়োগে নতুন ধাপ, লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিলেন উত্তীর্ণ প্রার্থীরা

সংবিধির অপেক্ষায় পদোন্নতি প্রক্রিয়া, ববিতে শিক্ষকদের অসন্তোষ প্রকাশ

তদন্তে সত্যতা নিশ্চিত না করে সাংবাদিক গ্রেফতার করা যাবে না: আহমেদ আবু জাফর

তদন্তে সত্যতা নিশ্চিত না করে সাংবাদিক গ্রেফতার করা যাবে না: আহমেদ আবু জাফর
সাংবাদিক আনোয়ার হোসেনকে আটক নিয়ে প্রশ্ন

রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাব-এর সামনে এক মানববন্ধন থেকে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ বা মামলার সত্যতা যাচাই ছাড়া কাউকে গ্রেফতার না করার দাবি উঠেছে। বক্তারা বলেছেন, আইন প্রয়োগের নামে সাংবাদিকদের হয়রানি বন্ধ করতে হবে এবং এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি।

রোববার (১০ মে) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাব-এর সামনে ‘সাংবাদিক ও সচেতন সমাজ’-এর ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে এ দাবি জানান বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা। সেখানে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আহমেদ আবু জাফর

সাংবাদিক গ্রেফতারে তদন্তের ওপর জোর

মানববন্ধনে আহমেদ আবু জাফর বলেন, কোনো অভিযোগ উঠলে প্রথমে তার সত্যতা যাচাই করা উচিত। অভিযোগের ভিত্তি নিশ্চিত না করে সাংবাদিকদের গ্রেফতার করা হলে তা পেশাগত স্বাধীনতার জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।


তার বক্তব্যে তিনি বলেন, দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা যেমন জরুরি, তেমনি আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রেও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি থাকা প্রয়োজন। তদন্ত ছাড়া গ্রেফতার করলে তা সংবাদকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করতে পারে।

সাংবাদিক আনোয়ার হোসেনকে আটক নিয়ে প্রশ্ন

সমাবেশে বক্তারা সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন-কে আটকের ঘটনার উল্লেখ করেন। তাদের দাবি, গত ৪ মে ভোররাতে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর এলাকায় নিজ বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়। এ সময় তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে কি না জানতে চাওয়া হলেও পুলিশ তা দেখাতে পারেনি বলে অভিযোগ করা হয়।

আনোয়ার হোসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, তাকে বাসা থেকে থানায় নেওয়া হয় এবং পরদিন ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হয়। পরে আদালত তাকে অব্যাহতি দেন বলে মানববন্ধনে উল্লেখ করা হয়।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বক্তারা প্রশ্ন তোলেন, যদি আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হয়, তবে তাকে কেন আটক করা হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য মানববন্ধনে উপস্থাপন করা হয়নি।

কামরাঙ্গীরচর থানার ওসির অপসারণ দাবি

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া নেতারা গোলাম ফারুক-এর অপসারণ দাবি করেন। তাদের অভিযোগ, এই ঘটনায় দায়িত্বশীল আচরণ করা হয়নি এবং একজন সাংবাদিককে অপ্রয়োজনে হয়রানির মুখে পড়তে হয়েছে।

তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এ অভিযোগের বিষয়ে কোনো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

বিভিন্ন সংগঠনের নেতাদের বক্তব্য

মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন জাকির হোসেন, হুমায়ুন কবির, জেসমিন জুঁই, তাজুল ইসলাম, মো. রাসেল, সদস্য তাজউদ্দীন, মো. আফসার ও মো. আসলামসহ অনেকে।

বক্তারা বলেন, সংবাদকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা হলে তা আইন অনুযায়ী তদন্ত হতে পারে। তবে কোনো ব্যক্তিকে হয়রানির উদ্দেশ্যে আটক করা হলে তা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।

সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়নের দাবি

সমাবেশে সাংবাদিকদের জন্য পৃথক সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, নিয়োগ নীতিমালা চূড়ান্ত করা এবং দেশের সক্রিয় সাংবাদিকদের একটি নির্ভরযোগ্য তালিকা তৈরির দাবি জানানো হয়।

বক্তাদের মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে পেশাটিতে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং প্রকৃত সংবাদকর্মীরা অযথা হয়রানির শিকার হবেন না।

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সামাজিক প্রভাব

সাংবাদিকতা শুধু তথ্য পরিবেশনের কাজ নয়; এটি রাষ্ট্র, সমাজ ও নাগরিকের মধ্যে আস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধ। সংবাদকর্মীরা যদি আইনগত অনিশ্চয়তা বা গ্রেফতারের আশঙ্কায় কাজ করেন, তাহলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জনসমক্ষে আসা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

অন্যদিকে, সাংবাদিকদেরও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখা জরুরি। তাই অভিযোগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা সময়ের দাবি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


বর্তমান পরিস্থিতি

মানববন্ধন থেকে অবিলম্বে সাংবাদিক হয়রানি বন্ধ, তদন্ত ছাড়া গ্রেফতার না করা এবং আটক সাংবাদিকদের আইনি সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে প্রত্যাশা করছেন অংশগ্রহণকারীরা।

বিষয় : সাংবাদিক সুরক্ষা আইন সাংবাদিক গ্রেফতার জাতীয় প্রেস ক্লাব আনোয়ার হোসেন সাংবাদিক হয়রানি

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

রোববার, ১০ মে ২০২৬


তদন্তে সত্যতা নিশ্চিত না করে সাংবাদিক গ্রেফতার করা যাবে না: আহমেদ আবু জাফর

প্রকাশের তারিখ : ১০ মে ২০২৬

featured Image

রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাব-এর সামনে এক মানববন্ধন থেকে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ বা মামলার সত্যতা যাচাই ছাড়া কাউকে গ্রেফতার না করার দাবি উঠেছে। বক্তারা বলেছেন, আইন প্রয়োগের নামে সাংবাদিকদের হয়রানি বন্ধ করতে হবে এবং এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি।

রোববার (১০ মে) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাব-এর সামনে ‘সাংবাদিক ও সচেতন সমাজ’-এর ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে এ দাবি জানান বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা। সেখানে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আহমেদ আবু জাফর

সাংবাদিক গ্রেফতারে তদন্তের ওপর জোর

মানববন্ধনে আহমেদ আবু জাফর বলেন, কোনো অভিযোগ উঠলে প্রথমে তার সত্যতা যাচাই করা উচিত। অভিযোগের ভিত্তি নিশ্চিত না করে সাংবাদিকদের গ্রেফতার করা হলে তা পেশাগত স্বাধীনতার জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।


তার বক্তব্যে তিনি বলেন, দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা যেমন জরুরি, তেমনি আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রেও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি থাকা প্রয়োজন। তদন্ত ছাড়া গ্রেফতার করলে তা সংবাদকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করতে পারে।

সাংবাদিক আনোয়ার হোসেনকে আটক নিয়ে প্রশ্ন

সমাবেশে বক্তারা সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন-কে আটকের ঘটনার উল্লেখ করেন। তাদের দাবি, গত ৪ মে ভোররাতে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর এলাকায় নিজ বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়। এ সময় তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে কি না জানতে চাওয়া হলেও পুলিশ তা দেখাতে পারেনি বলে অভিযোগ করা হয়।

আনোয়ার হোসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, তাকে বাসা থেকে থানায় নেওয়া হয় এবং পরদিন ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হয়। পরে আদালত তাকে অব্যাহতি দেন বলে মানববন্ধনে উল্লেখ করা হয়।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বক্তারা প্রশ্ন তোলেন, যদি আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হয়, তবে তাকে কেন আটক করা হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য মানববন্ধনে উপস্থাপন করা হয়নি।

কামরাঙ্গীরচর থানার ওসির অপসারণ দাবি

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া নেতারা গোলাম ফারুক-এর অপসারণ দাবি করেন। তাদের অভিযোগ, এই ঘটনায় দায়িত্বশীল আচরণ করা হয়নি এবং একজন সাংবাদিককে অপ্রয়োজনে হয়রানির মুখে পড়তে হয়েছে।

তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এ অভিযোগের বিষয়ে কোনো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

বিভিন্ন সংগঠনের নেতাদের বক্তব্য

মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন জাকির হোসেন, হুমায়ুন কবির, জেসমিন জুঁই, তাজুল ইসলাম, মো. রাসেল, সদস্য তাজউদ্দীন, মো. আফসার ও মো. আসলামসহ অনেকে।

বক্তারা বলেন, সংবাদকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা হলে তা আইন অনুযায়ী তদন্ত হতে পারে। তবে কোনো ব্যক্তিকে হয়রানির উদ্দেশ্যে আটক করা হলে তা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।

সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়নের দাবি

সমাবেশে সাংবাদিকদের জন্য পৃথক সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, নিয়োগ নীতিমালা চূড়ান্ত করা এবং দেশের সক্রিয় সাংবাদিকদের একটি নির্ভরযোগ্য তালিকা তৈরির দাবি জানানো হয়।

বক্তাদের মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে পেশাটিতে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং প্রকৃত সংবাদকর্মীরা অযথা হয়রানির শিকার হবেন না।

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সামাজিক প্রভাব

সাংবাদিকতা শুধু তথ্য পরিবেশনের কাজ নয়; এটি রাষ্ট্র, সমাজ ও নাগরিকের মধ্যে আস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধ। সংবাদকর্মীরা যদি আইনগত অনিশ্চয়তা বা গ্রেফতারের আশঙ্কায় কাজ করেন, তাহলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জনসমক্ষে আসা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

অন্যদিকে, সাংবাদিকদেরও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখা জরুরি। তাই অভিযোগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা সময়ের দাবি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


বর্তমান পরিস্থিতি

মানববন্ধন থেকে অবিলম্বে সাংবাদিক হয়রানি বন্ধ, তদন্ত ছাড়া গ্রেফতার না করা এবং আটক সাংবাদিকদের আইনি সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে প্রত্যাশা করছেন অংশগ্রহণকারীরা।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর