দালাল নয়, আমরা দেশের সবচেয়ে প্রশিক্ষিত পেশাজীবী—এই স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা পরিষদ চত্বর। নিরাপদ কর্মপরিবেশ, পেশাগত মর্যাদা ও সামাজিক স্বীকৃতির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানির মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভরা। সোমবার দুপুরে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
স্থানীয় পর্যায়ে এই মানববন্ধনটি সারাদেশে ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজন করা হয় বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। এতে ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা একত্র হয়ে তাদের দীর্ঘদিনের নানা অভিযোগ ও দাবি তুলে ধরেন।
দুপুরের দিকে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা পরিষদের সামনে একত্র হন শতাধিক মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ। ব্যানার, ফেস্টুন ও স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। মানববন্ধনের সময় তারা দাঁড়িয়ে শান্তিপূর্ণভাবে তাদের দাবি তুলে ধরেন।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য কারও বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া নয়, বরং পেশার মর্যাদা রক্ষা এবং কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া অনেকেই অভিযোগ করেন, মাঠপর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে তাদের বিভিন্ন সময় অপমানজনক মন্তব্য, হয়রানি ও নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির মুখোমুখি হতে হয়।
তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভরা দীর্ঘ প্রশিক্ষণ ও দক্ষতার মাধ্যমে চিকিৎসা খাতের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করেন। কিন্তু সমাজের একটি অংশ তাদের পেশাগত পরিচয়কে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে “দালাল” হিসেবে আখ্যায়িত করে, যা অত্যন্ত কষ্টদায়ক ও অসম্মানজনক।
তারা বলেন, এই ধরনের মনোভাব শুধু ব্যক্তিগত মর্যাদাকেই ক্ষুণ্ণ করে না, বরং পুরো স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশকে অবমূল্যায়ন করে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দেশের ওষুধ শিল্প ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা চিকিৎসক, ফার্মেসি ও ওষুধ কোম্পানির মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করেন।
তাদের দাবি, রোগীর সঠিক চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় ওষুধ সম্পর্কে তথ্য পৌঁছে দেওয়া এবং স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত করার ক্ষেত্রে এই পেশাজীবীদের অবদান অস্বীকার করা যায় না।
বক্তারা আরও বলেন, মাঠপর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে অনেক সময় অনিরাপদ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। বিশেষ করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ বা দায়িত্ব পালনের সময় অযাচিত আচরণ ও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়, যা তাদের কাজকে ব্যাহত করে।
তাই তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপ করে একটি নিরাপদ, সম্মানজনক ও পেশাগত পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন বাঞ্ছারামপুর মডেল ফারিয়ার সভাপতি সোহাগ আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক মনিরুল হাসান আব্দুল্লাহ, সিনিয়র সহ-সভাপতি শাখাওয়াত হোসেন রাজিব, সাংগঠনিক সম্পাদক মামুনুর রশীদ, উপদেষ্টা সোহান কামাল, লোকমান হোসেন ও আলমগীর হোসেনসহ অনেকে।
তারা বলেন, এটি কোনো হঠাৎ দাবি নয়, বরং দীর্ঘদিনের পেশাগত সমস্যার ফল। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে আরও বড় আন্দোলনের ইঙ্গিতও দেন তারা।
বিশ্লেষকদের মতে, মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের ভূমিকা নিয়ে সমাজে এখনো স্পষ্ট ধারণার অভাব রয়েছে। একদিকে তারা স্বাস্থ্যখাতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করেন, অন্যদিকে অনেক সময় ভুল ধারণা ও সামাজিক স্টেরিওটাইপের শিকার হন।
এই ধরনের মানববন্ধন শুধু একটি পেশার দাবি নয়, বরং সমাজে পেশাগত মর্যাদা ও সম্মানবোধ নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি করে। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবার মতো সংবেদনশীল খাতে কাজ করা মানুষদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

সোমবার, ১১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ মে ২০২৬
দালাল নয়, আমরা দেশের সবচেয়ে প্রশিক্ষিত পেশাজীবী—এই স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা পরিষদ চত্বর। নিরাপদ কর্মপরিবেশ, পেশাগত মর্যাদা ও সামাজিক স্বীকৃতির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানির মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভরা। সোমবার দুপুরে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
স্থানীয় পর্যায়ে এই মানববন্ধনটি সারাদেশে ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজন করা হয় বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। এতে ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা একত্র হয়ে তাদের দীর্ঘদিনের নানা অভিযোগ ও দাবি তুলে ধরেন।
দুপুরের দিকে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা পরিষদের সামনে একত্র হন শতাধিক মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ। ব্যানার, ফেস্টুন ও স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। মানববন্ধনের সময় তারা দাঁড়িয়ে শান্তিপূর্ণভাবে তাদের দাবি তুলে ধরেন।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য কারও বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া নয়, বরং পেশার মর্যাদা রক্ষা এবং কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া অনেকেই অভিযোগ করেন, মাঠপর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে তাদের বিভিন্ন সময় অপমানজনক মন্তব্য, হয়রানি ও নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির মুখোমুখি হতে হয়।
তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভরা দীর্ঘ প্রশিক্ষণ ও দক্ষতার মাধ্যমে চিকিৎসা খাতের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করেন। কিন্তু সমাজের একটি অংশ তাদের পেশাগত পরিচয়কে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে “দালাল” হিসেবে আখ্যায়িত করে, যা অত্যন্ত কষ্টদায়ক ও অসম্মানজনক।
তারা বলেন, এই ধরনের মনোভাব শুধু ব্যক্তিগত মর্যাদাকেই ক্ষুণ্ণ করে না, বরং পুরো স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশকে অবমূল্যায়ন করে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দেশের ওষুধ শিল্প ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা চিকিৎসক, ফার্মেসি ও ওষুধ কোম্পানির মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করেন।
তাদের দাবি, রোগীর সঠিক চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় ওষুধ সম্পর্কে তথ্য পৌঁছে দেওয়া এবং স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত করার ক্ষেত্রে এই পেশাজীবীদের অবদান অস্বীকার করা যায় না।
বক্তারা আরও বলেন, মাঠপর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে অনেক সময় অনিরাপদ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। বিশেষ করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ বা দায়িত্ব পালনের সময় অযাচিত আচরণ ও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়, যা তাদের কাজকে ব্যাহত করে।
তাই তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপ করে একটি নিরাপদ, সম্মানজনক ও পেশাগত পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন বাঞ্ছারামপুর মডেল ফারিয়ার সভাপতি সোহাগ আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক মনিরুল হাসান আব্দুল্লাহ, সিনিয়র সহ-সভাপতি শাখাওয়াত হোসেন রাজিব, সাংগঠনিক সম্পাদক মামুনুর রশীদ, উপদেষ্টা সোহান কামাল, লোকমান হোসেন ও আলমগীর হোসেনসহ অনেকে।
তারা বলেন, এটি কোনো হঠাৎ দাবি নয়, বরং দীর্ঘদিনের পেশাগত সমস্যার ফল। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে আরও বড় আন্দোলনের ইঙ্গিতও দেন তারা।
বিশ্লেষকদের মতে, মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের ভূমিকা নিয়ে সমাজে এখনো স্পষ্ট ধারণার অভাব রয়েছে। একদিকে তারা স্বাস্থ্যখাতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করেন, অন্যদিকে অনেক সময় ভুল ধারণা ও সামাজিক স্টেরিওটাইপের শিকার হন।
এই ধরনের মানববন্ধন শুধু একটি পেশার দাবি নয়, বরং সমাজে পেশাগত মর্যাদা ও সম্মানবোধ নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি করে। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবার মতো সংবেদনশীল খাতে কাজ করা মানুষদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

আপনার মতামত লিখুন