শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি তার প্রতিষ্ঠার ২৫ বছর পূর্তি বা রজতজয়ন্তী উদযাপন করেছে একাধিক ধর্মীয় ও আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে। এ উপলক্ষে রোববার ব্যাংকের করপোরেট প্রধান কার্যালয়সহ দেশের সব শাখা ও উপশাখায় কোরআন খতম, দোয়া মাহফিল এবং বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। একই দিনে নতুন ১২টি এসএমই বিনিয়োগ প্রডাক্টের উদ্বোধন করা হয়, যা ব্যাংকটির ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক সম্প্রসারণ কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানায়, দীর্ঘ ২৫ বছরের পথচলায় গ্রাহক, কর্মকর্তা ও অংশীদারদের অবদানের স্বীকৃতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরতেই এই আয়োজন করা হয়।
দিনের শুরুতে দেশের বিভিন্ন শাখা ও উপশাখায় পবিত্র কোরআন খতম ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। ব্যাংকের সার্বিক অগ্রগতি, স্থিতিশীলতা এবং ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
পরে রাজধানীতে ব্যাংকের করপোরেট প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় মূল অনুষ্ঠান। সেখানে সংবাদ সম্মেলনের পাশাপাশি কেক কেটে রজতজয়ন্তীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল ব্যাংকের দীর্ঘ যাত্রা, অর্জন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার প্রতিফলন।
ব্যাংকটির কর্মকর্তারা জানান, ২৫ বছরের এই যাত্রা শুধুই সময়ের হিসাব নয়, বরং দেশের ব্যাংকিং খাতে শরিয়াহভিত্তিক সেবার প্রসারে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
রজতজয়ন্তীর অন্যতম বড় ঘোষণা ছিল ১২টি নতুন এসএমই (Small and Medium Enterprise) বিনিয়োগ প্রডাক্টের উদ্বোধন। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের মতে, এই প্রডাক্টগুলো মূলত ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে অর্থায়ন নিশ্চিত করতে তৈরি করা হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, দেশের অর্থনীতিতে এসএমই খাতের ভূমিকা ক্রমশ বাড়ছে। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই নতুন এই প্রডাক্টগুলো চালু করা হয়েছে, যাতে উদ্যোক্তারা দ্রুত ও সহজ প্রক্রিয়ায় বিনিয়োগ সুবিধা পান।
ব্যাংকের কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় ব্যবসা সম্প্রসারণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোসলেহ্ উদ্দীন আহমেদ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইউনুছ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভাইস চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহমেদ, পরিচালক মো. সানাউল্লাহ সাহিদ, হারুন মিয়া, আক্কাচ উদ্দিন মোল্লা, খন্দকার শাকিব আহমেদ, মো. তৌহীদুর রহমান, ফকির মনিরুজ্জামান, আবদুল হাকিম এবং স্বতন্ত্র পরিচালক মো. রিয়াজুল করিম।
এছাড়া ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল্লাহ আল-মামুন, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এম সাইফুল ইসলাম ও মো. জাফর ছাদেক উপস্থিত ছিলেন।
শরিয়াহ সুপারভাইজরি কমিটির সদস্য মুফতি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মোনাজাত পরিচালনা করেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন এসইভিপি ও কোম্পানি সচিব মো. আবুল বাশার এবং দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনায় যুক্ত ছিলেন জেএভিপি ও জনসংযোগ বিভাগের ইনচার্জ কে এম হারুনুর রশীদ।
Shahjalal Islami Bank PLC-এর কর্মকর্তারা জানান, ২০০১ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে ব্যাংকটি ধীরে ধীরে দেশের বেসরকারি ইসলামী ব্যাংকিং খাতে একটি পরিচিত নাম হয়ে উঠেছে।
ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, এই ২৫ বছরে শাখা বিস্তার, ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা এবং এসএমই খাতে অংশগ্রহণ বাড়ানো ছিল অন্যতম প্রধান কৌশল। নতুন প্রডাক্ট চালুর মাধ্যমে ব্যাংকটি এখন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা কেন্দ্রিক অর্থায়নে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে চায়।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামী ব্যাংকিং খাতে প্রতিযোগিতা বাড়লেও গ্রাহক আস্থা ধরে রাখতে নতুন প্রডাক্ট ও সেবা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ব্যাংকের নতুন উদ্যোগকে ঘিরে অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি দেশের এসএমই খাতে একটি ইতিবাচক সংকেত। ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তারা সাধারণত ঋণ বা বিনিয়োগ সুবিধা পেতে জটিলতার মুখোমুখি হন। নতুন প্রডাক্টগুলো যদি বাস্তবিকভাবে সহজ শর্তে অর্থায়ন নিশ্চিত করে, তাহলে তা স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
একই সঙ্গে কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রেও এটি সহায়ক হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য এটি নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।
তবে কিছু ব্যাংকিং বিশ্লেষক সতর্ক করে বলছেন, শুধু প্রডাক্ট ঘোষণা যথেষ্ট নয়—এর বাস্তবায়ন, স্বচ্ছতা এবং মাঠ পর্যায়ে কার্যকারিতাই আসল চ্যালেঞ্জ। গ্রাহক সেবা ও দ্রুত প্রসেসিং নিশ্চিত করা না গেলে প্রত্যাশিত ফল নাও আসতে পারে।
রজতজয়ন্তী উদযাপনের মধ্য দিয়ে Shahjalal Islami Bank PLC একদিকে যেমন তাদের দীর্ঘ পথচলার অর্জন তুলে ধরেছে, অন্যদিকে ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক পরিকল্পনার দিকনির্দেশনাও দিয়েছে।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষের মতে, আগামী দিনে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং সেবা সম্প্রসারণ, এসএমই খাতে শক্ত অবস্থান এবং শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিংকে আরও শক্তিশালী করাই তাদের মূল লক্ষ্য।
সব মিলিয়ে ২৫ বছরের এই উদযাপন শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং নতুন একটি ব্যবসায়িক ও কৌশলগত যাত্রার সূচনা হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

সোমবার, ১১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ মে ২০২৬
শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি তার প্রতিষ্ঠার ২৫ বছর পূর্তি বা রজতজয়ন্তী উদযাপন করেছে একাধিক ধর্মীয় ও আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে। এ উপলক্ষে রোববার ব্যাংকের করপোরেট প্রধান কার্যালয়সহ দেশের সব শাখা ও উপশাখায় কোরআন খতম, দোয়া মাহফিল এবং বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। একই দিনে নতুন ১২টি এসএমই বিনিয়োগ প্রডাক্টের উদ্বোধন করা হয়, যা ব্যাংকটির ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক সম্প্রসারণ কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানায়, দীর্ঘ ২৫ বছরের পথচলায় গ্রাহক, কর্মকর্তা ও অংশীদারদের অবদানের স্বীকৃতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরতেই এই আয়োজন করা হয়।
দিনের শুরুতে দেশের বিভিন্ন শাখা ও উপশাখায় পবিত্র কোরআন খতম ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। ব্যাংকের সার্বিক অগ্রগতি, স্থিতিশীলতা এবং ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
পরে রাজধানীতে ব্যাংকের করপোরেট প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় মূল অনুষ্ঠান। সেখানে সংবাদ সম্মেলনের পাশাপাশি কেক কেটে রজতজয়ন্তীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল ব্যাংকের দীর্ঘ যাত্রা, অর্জন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার প্রতিফলন।
ব্যাংকটির কর্মকর্তারা জানান, ২৫ বছরের এই যাত্রা শুধুই সময়ের হিসাব নয়, বরং দেশের ব্যাংকিং খাতে শরিয়াহভিত্তিক সেবার প্রসারে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
রজতজয়ন্তীর অন্যতম বড় ঘোষণা ছিল ১২টি নতুন এসএমই (Small and Medium Enterprise) বিনিয়োগ প্রডাক্টের উদ্বোধন। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের মতে, এই প্রডাক্টগুলো মূলত ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে অর্থায়ন নিশ্চিত করতে তৈরি করা হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, দেশের অর্থনীতিতে এসএমই খাতের ভূমিকা ক্রমশ বাড়ছে। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই নতুন এই প্রডাক্টগুলো চালু করা হয়েছে, যাতে উদ্যোক্তারা দ্রুত ও সহজ প্রক্রিয়ায় বিনিয়োগ সুবিধা পান।
ব্যাংকের কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় ব্যবসা সম্প্রসারণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোসলেহ্ উদ্দীন আহমেদ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইউনুছ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভাইস চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহমেদ, পরিচালক মো. সানাউল্লাহ সাহিদ, হারুন মিয়া, আক্কাচ উদ্দিন মোল্লা, খন্দকার শাকিব আহমেদ, মো. তৌহীদুর রহমান, ফকির মনিরুজ্জামান, আবদুল হাকিম এবং স্বতন্ত্র পরিচালক মো. রিয়াজুল করিম।
এছাড়া ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল্লাহ আল-মামুন, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এম সাইফুল ইসলাম ও মো. জাফর ছাদেক উপস্থিত ছিলেন।
শরিয়াহ সুপারভাইজরি কমিটির সদস্য মুফতি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মোনাজাত পরিচালনা করেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন এসইভিপি ও কোম্পানি সচিব মো. আবুল বাশার এবং দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনায় যুক্ত ছিলেন জেএভিপি ও জনসংযোগ বিভাগের ইনচার্জ কে এম হারুনুর রশীদ।
Shahjalal Islami Bank PLC-এর কর্মকর্তারা জানান, ২০০১ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে ব্যাংকটি ধীরে ধীরে দেশের বেসরকারি ইসলামী ব্যাংকিং খাতে একটি পরিচিত নাম হয়ে উঠেছে।
ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, এই ২৫ বছরে শাখা বিস্তার, ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা এবং এসএমই খাতে অংশগ্রহণ বাড়ানো ছিল অন্যতম প্রধান কৌশল। নতুন প্রডাক্ট চালুর মাধ্যমে ব্যাংকটি এখন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা কেন্দ্রিক অর্থায়নে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে চায়।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামী ব্যাংকিং খাতে প্রতিযোগিতা বাড়লেও গ্রাহক আস্থা ধরে রাখতে নতুন প্রডাক্ট ও সেবা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ব্যাংকের নতুন উদ্যোগকে ঘিরে অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি দেশের এসএমই খাতে একটি ইতিবাচক সংকেত। ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তারা সাধারণত ঋণ বা বিনিয়োগ সুবিধা পেতে জটিলতার মুখোমুখি হন। নতুন প্রডাক্টগুলো যদি বাস্তবিকভাবে সহজ শর্তে অর্থায়ন নিশ্চিত করে, তাহলে তা স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
একই সঙ্গে কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রেও এটি সহায়ক হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য এটি নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।
তবে কিছু ব্যাংকিং বিশ্লেষক সতর্ক করে বলছেন, শুধু প্রডাক্ট ঘোষণা যথেষ্ট নয়—এর বাস্তবায়ন, স্বচ্ছতা এবং মাঠ পর্যায়ে কার্যকারিতাই আসল চ্যালেঞ্জ। গ্রাহক সেবা ও দ্রুত প্রসেসিং নিশ্চিত করা না গেলে প্রত্যাশিত ফল নাও আসতে পারে।
রজতজয়ন্তী উদযাপনের মধ্য দিয়ে Shahjalal Islami Bank PLC একদিকে যেমন তাদের দীর্ঘ পথচলার অর্জন তুলে ধরেছে, অন্যদিকে ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক পরিকল্পনার দিকনির্দেশনাও দিয়েছে।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষের মতে, আগামী দিনে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং সেবা সম্প্রসারণ, এসএমই খাতে শক্ত অবস্থান এবং শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিংকে আরও শক্তিশালী করাই তাদের মূল লক্ষ্য।
সব মিলিয়ে ২৫ বছরের এই উদযাপন শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং নতুন একটি ব্যবসায়িক ও কৌশলগত যাত্রার সূচনা হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মতামত লিখুন