দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

এক বছরের অনলাইন প্রেমের পরিণতি—চীনা যুবকের সঙ্গে কুষ্টিয়ার তরুণীর বিয়ে

এক বছরের অনলাইন প্রেমের পরিণতি—চীনা যুবকের সঙ্গে কুষ্টিয়ার তরুণীর বিয়ে

বিএনপি নেত্রীর হয়ে পরীক্ষা দিতে গিয়ে কলেজছাত্রী আটক, বগুড়ায় চাঞ্চল্য

জ্বালানি নিতে গিয়ে হামলার শিকার জামায়াত এমপি, বিএনপির বিরুদ্ধে অভিযোগ

জমি দখলের চেষ্টা, ভুয়া দলিল তৈরির অভিযোগে নওগাঁয় ৪ আসামি জেলহাজতে

হাজার হাজার মিসাইল ব্যবহার, চাপে মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডার

১২ দিন ধরে পানিহীন মিরপুরের বিহারী ক্যাম্প, চরম দুর্ভোগে বাসিন্দারা

অবৈধ বার ঘিরে উত্তরা তোলপাড়, পুলিশের অভিযানে উদ্ধার মদ ও সরঞ্জাম

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের ধাক্কা, এশিয়া-ইউরোপ থেকে অস্ত্র সরাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

এক বছরের অনলাইন প্রেমের পরিণতি—চীনা যুবকের সঙ্গে কুষ্টিয়ার তরুণীর বিয়ে

এক বছরের অনলাইন প্রেমের পরিণতি—চীনা যুবকের সঙ্গে কুষ্টিয়ার তরুণীর বিয়ে
-ছবি: সংগৃহীত


কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় এখন একটাই আলোচনা—প্রেমের টানে সুদূর চীন থেকে ছুটে আসা এক যুবকের বিয়ে। অনলাইন পরিচয় থেকে শুরু হওয়া সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত গড়িয়েছে বিবাহে, যা স্থানীয়দের মধ্যে তৈরি করেছে ব্যাপক কৌতূহল ও আগ্রহ।

জানা গেছে, চীনের গাতসু প্রদেশের বাসিন্দা ২৩ বছর বয়সী চেন বাও মিং দীর্ঘ এক বছরের সম্পর্কের পর কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার পশ্চিম বেহলা গ্রামের তাসলিমা খাতুনকে বিয়ে করেছেন। সোমবার (২০ এপ্রিল) তাদের এই বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাসলিমার বাবা মধু মোল্লা।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই প্রথম পরিচয় হয় চেন বাও মিং ও তাসলিমার। শুরুতে সাধারণ আলাপচারিতা থাকলেও সময়ের সঙ্গে তা গভীর সম্পর্কে রূপ নেয়। প্রায় এক বছর ধরে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে দুজনের মধ্যে বিশ্বাস ও ভালোবাসা গড়ে ওঠে। পরে বিষয়টি উভয় পরিবারকে জানানো হলে তারা সম্মতি দেন।

চেন বাও মিং পেশায় একজন রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী। পরিবারের সম্মতি নিয়েই তিনি বাংলাদেশে আসেন। বাংলাদেশে আসার পর দুই পরিবারের উপস্থিতিতে কুষ্টিয়া আদালতে তাদের কোর্ট ম্যারেজ সম্পন্ন হয়। বর্তমানে নবদম্পতি তাসলিমার নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন।

বিদেশি জামাই আসার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়তেই আশপাশের গ্রামগুলোতে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। প্রতিদিনই ভিড় করছেন স্থানীয়রা। কেউ কৌতূহলবশত, কেউবা নতুন এই অভিজ্ঞতা কাছ থেকে দেখার জন্য আসছেন। গ্রামের অনেকেই প্রথমবারের মতো এত কাছ থেকে কোনো বিদেশিকে দেখছেন, যা তাদের জন্য নতুন এক অভিজ্ঞতা।


নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তাসলিমা খাতুন বলেন, “আমাদের বিয়ে দুই পরিবারের সম্মতিতেই হয়েছে। আমার শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে আমার বাবা-মায়ের নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে। আমি খুবই খুশি।” তার কথায় বোঝা যায়, পরিবারের সমর্থন পাওয়ায় তাদের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে।

অন্যদিকে চেন বাও মিং বলেন, “আমি তাসলিমাকে ভালোবাসি। তার পরিবারের সবাই খুবই আন্তরিক। আমি এখানে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি।” তিনি আরও জানান, খুব দ্রুত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পন্ন করে স্ত্রীকে চীনে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার।

এই ধরনের আন্তঃদেশীয় বিয়ে এখন আর একেবারে নতুন কিছু নয়। ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের মধ্যে সহজেই যোগাযোগ তৈরি হচ্ছে। বাংলাদেশেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিদেশিদের সঙ্গে বিয়ের ঘটনা কিছুটা বেড়েছে, বিশেষ করে অনলাইন পরিচয়ের মাধ্যমে।

ভেড়ামারা এলাকা মূলত কৃষিভিত্তিক হলেও এখানে এমন আন্তর্জাতিক ঘটনার নজির খুব একটা দেখা যায় না। তাই এই বিয়ে স্থানীয়দের কাছে শুধু একটি পারিবারিক ঘটনা নয়, বরং এক ধরনের ব্যতিক্রমী সামাজিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সব মিলিয়ে, চেন বাও মিং ও তাসলিমা খাতুনের এই বিয়ে ভালোবাসার এক বাস্তব উদাহরণ হয়ে উঠেছে। ভাষা, সংস্কৃতি আর দূরত্ব—সবকিছুকে পেছনে ফেলে দুই মানুষের একসঙ্গে পথচলার সিদ্ধান্ত অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার। এখন দেখার বিষয়, তাদের এই নতুন জীবন কেমনভাবে এগিয়ে যায় এবং দুই দেশের সংস্কৃতির এই মেলবন্ধন কতটা সুন্দরভাবে গড়ে ওঠে।

বিষয় : কুষ্টিয়ার তরুণীর চীনা

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬


এক বছরের অনলাইন প্রেমের পরিণতি—চীনা যুবকের সঙ্গে কুষ্টিয়ার তরুণীর বিয়ে

প্রকাশের তারিখ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬

featured Image


কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় এখন একটাই আলোচনা—প্রেমের টানে সুদূর চীন থেকে ছুটে আসা এক যুবকের বিয়ে। অনলাইন পরিচয় থেকে শুরু হওয়া সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত গড়িয়েছে বিবাহে, যা স্থানীয়দের মধ্যে তৈরি করেছে ব্যাপক কৌতূহল ও আগ্রহ।

জানা গেছে, চীনের গাতসু প্রদেশের বাসিন্দা ২৩ বছর বয়সী চেন বাও মিং দীর্ঘ এক বছরের সম্পর্কের পর কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার পশ্চিম বেহলা গ্রামের তাসলিমা খাতুনকে বিয়ে করেছেন। সোমবার (২০ এপ্রিল) তাদের এই বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাসলিমার বাবা মধু মোল্লা।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই প্রথম পরিচয় হয় চেন বাও মিং ও তাসলিমার। শুরুতে সাধারণ আলাপচারিতা থাকলেও সময়ের সঙ্গে তা গভীর সম্পর্কে রূপ নেয়। প্রায় এক বছর ধরে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে দুজনের মধ্যে বিশ্বাস ও ভালোবাসা গড়ে ওঠে। পরে বিষয়টি উভয় পরিবারকে জানানো হলে তারা সম্মতি দেন।

চেন বাও মিং পেশায় একজন রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী। পরিবারের সম্মতি নিয়েই তিনি বাংলাদেশে আসেন। বাংলাদেশে আসার পর দুই পরিবারের উপস্থিতিতে কুষ্টিয়া আদালতে তাদের কোর্ট ম্যারেজ সম্পন্ন হয়। বর্তমানে নবদম্পতি তাসলিমার নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন।

বিদেশি জামাই আসার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়তেই আশপাশের গ্রামগুলোতে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। প্রতিদিনই ভিড় করছেন স্থানীয়রা। কেউ কৌতূহলবশত, কেউবা নতুন এই অভিজ্ঞতা কাছ থেকে দেখার জন্য আসছেন। গ্রামের অনেকেই প্রথমবারের মতো এত কাছ থেকে কোনো বিদেশিকে দেখছেন, যা তাদের জন্য নতুন এক অভিজ্ঞতা।


নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তাসলিমা খাতুন বলেন, “আমাদের বিয়ে দুই পরিবারের সম্মতিতেই হয়েছে। আমার শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে আমার বাবা-মায়ের নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে। আমি খুবই খুশি।” তার কথায় বোঝা যায়, পরিবারের সমর্থন পাওয়ায় তাদের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে।

অন্যদিকে চেন বাও মিং বলেন, “আমি তাসলিমাকে ভালোবাসি। তার পরিবারের সবাই খুবই আন্তরিক। আমি এখানে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি।” তিনি আরও জানান, খুব দ্রুত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পন্ন করে স্ত্রীকে চীনে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার।

এই ধরনের আন্তঃদেশীয় বিয়ে এখন আর একেবারে নতুন কিছু নয়। ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের মধ্যে সহজেই যোগাযোগ তৈরি হচ্ছে। বাংলাদেশেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিদেশিদের সঙ্গে বিয়ের ঘটনা কিছুটা বেড়েছে, বিশেষ করে অনলাইন পরিচয়ের মাধ্যমে।

ভেড়ামারা এলাকা মূলত কৃষিভিত্তিক হলেও এখানে এমন আন্তর্জাতিক ঘটনার নজির খুব একটা দেখা যায় না। তাই এই বিয়ে স্থানীয়দের কাছে শুধু একটি পারিবারিক ঘটনা নয়, বরং এক ধরনের ব্যতিক্রমী সামাজিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সব মিলিয়ে, চেন বাও মিং ও তাসলিমা খাতুনের এই বিয়ে ভালোবাসার এক বাস্তব উদাহরণ হয়ে উঠেছে। ভাষা, সংস্কৃতি আর দূরত্ব—সবকিছুকে পেছনে ফেলে দুই মানুষের একসঙ্গে পথচলার সিদ্ধান্ত অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার। এখন দেখার বিষয়, তাদের এই নতুন জীবন কেমনভাবে এগিয়ে যায় এবং দুই দেশের সংস্কৃতির এই মেলবন্ধন কতটা সুন্দরভাবে গড়ে ওঠে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর