দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

ইবি ক্যাম্পাসে হুঁশিয়ারি ও পাল্টা অভিযোগ, নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

ইবি ক্যাম্পাসে হুঁশিয়ারি ও পাল্টা অভিযোগ, নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার, অপরজন এখনো নিখোঁজ

গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে দরকার শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ গণমাধ্যম

এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ—এমসিকিউ আগে, পরে সৃজনশীল পরীক্ষা

ইউসিটিসিতে অটাম–২০২৬ ভর্তি মেলার সময় বাড়ল ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত, থাকছে বড় ছাড়

বাল্যবিবাহ ও অনাগ্রহে ঝরে পড়া—পোরশায় ১২১ পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় বসেনি

এসএসসি-দাখিল পরীক্ষায় স্বস্তি: রায়পুরে শিক্ষার্থীদের জন্য হেল্প ডেস্ক চালু

দেশজুড়ে ৩,৮৮৫ কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষা শুরু, নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা

যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার, অপরজন এখনো নিখোঁজ

যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার, অপরজন এখনো নিখোঁজ
-ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থীর মধ্যে একজনের মরদেহ উদ্ধার হওয়ায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত জামিল আহমেদ লিমন (২৭) ছিলেন ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার একজন শিক্ষার্থী। একই ঘটনায় নিখোঁজ থাকা আরেক শিক্ষার্থী নাহিদা এস বৃষ্টির এখনো কোনো খোঁজ মেলেনি, যা পুরো ঘটনাকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, জামিলের রুমমেট হিশাম আবুঘরবেহ (২৬) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করার পরই এই ঘটনার অগ্রগতি হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফ্লোরিডার হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ এলাকা থেকে জামিলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে সন্দেহভাজনকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং ঘটনাটির বিস্তারিত কারণ অনুসন্ধান করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

জামিল আহমেদ লিমন ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। অন্যদিকে নিখোঁজ নাহিদা এস বৃষ্টি একই বিশ্ববিদ্যালয়ে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে উচ্চশিক্ষা নিচ্ছিলেন। তারা দুজনই মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুপরিচিত ছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ গত ১৬ এপ্রিল জামিলকে সকাল ৯টার দিকে তার ছাত্রাবাসের কাছে দেখা যায়। একই দিন সকাল ১০টার দিকে নাহিদাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাচারাল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস ভবনে দেখা যায়। এরপর থেকেই তাদের সঙ্গে আর যোগাযোগ করা যায়নি।

পরদিন ১৭ এপ্রিল তাদের এক পারিবারিক বন্ধু বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানালে দুটি নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। এরপরই পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং বিভিন্ন সূত্র ধরে অনুসন্ধান চালাতে থাকে। প্রায় ১০ দিনের অনুসন্ধানের পর জামিলের মরদেহ উদ্ধার হলেও নাহিদার কোনো খোঁজ না পাওয়ায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নাহিদাকে খুঁজে বের করতে স্থানীয় কমিউনিটির সহযোগিতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেউ তার সম্পর্কে কোনো তথ্য জানলে দ্রুত প্রশাসনকে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।

এদিকে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসও বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখছে। দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তোজা এক ফেসবুক পোস্টে জামিলের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং নাহিদার খোঁজে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন।

পটভূমি হিসেবে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে মাঝেমধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়, বিশেষ করে বড় শহর ও বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাগুলোতে। যদিও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এসব এলাকা নিরাপদ হিসেবে পরিচিত, তবুও ব্যক্তিগত বিরোধ বা অপরাধমূলক ঘটনার কারণে মাঝে মাঝে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়। ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় অতীতেও বিচ্ছিন্নভাবে সহিংস ঘটনার নজির রয়েছে, তবে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জড়িত এমন ঘটনা তুলনামূলকভাবে কম।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা নতুন পরিবেশে থাকার কারণে অনেক সময় ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারেন। তাই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় এবং শিক্ষার্থীদের সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।

এই ঘটনার পর বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যেও শোক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে নাহিদার পরিবারের জন্য এটি একটি অত্যন্ত কঠিন সময়, কারণ এখনো তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

সব মিলিয়ে, জামিলের মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন এবং নিখোঁজ নাহিদা এস বৃষ্টিকে দ্রুত খুঁজে বের করা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির ওপরই নির্ভর করছে এই ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।

বিষয় : যুক্তরাষ্ট্রে উদ্ধার শিক্ষার্থীর

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬


যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার, অপরজন এখনো নিখোঁজ

প্রকাশের তারিখ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থীর মধ্যে একজনের মরদেহ উদ্ধার হওয়ায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত জামিল আহমেদ লিমন (২৭) ছিলেন ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার একজন শিক্ষার্থী। একই ঘটনায় নিখোঁজ থাকা আরেক শিক্ষার্থী নাহিদা এস বৃষ্টির এখনো কোনো খোঁজ মেলেনি, যা পুরো ঘটনাকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, জামিলের রুমমেট হিশাম আবুঘরবেহ (২৬) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করার পরই এই ঘটনার অগ্রগতি হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফ্লোরিডার হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ এলাকা থেকে জামিলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে সন্দেহভাজনকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং ঘটনাটির বিস্তারিত কারণ অনুসন্ধান করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

জামিল আহমেদ লিমন ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। অন্যদিকে নিখোঁজ নাহিদা এস বৃষ্টি একই বিশ্ববিদ্যালয়ে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে উচ্চশিক্ষা নিচ্ছিলেন। তারা দুজনই মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুপরিচিত ছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ গত ১৬ এপ্রিল জামিলকে সকাল ৯টার দিকে তার ছাত্রাবাসের কাছে দেখা যায়। একই দিন সকাল ১০টার দিকে নাহিদাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাচারাল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস ভবনে দেখা যায়। এরপর থেকেই তাদের সঙ্গে আর যোগাযোগ করা যায়নি।

পরদিন ১৭ এপ্রিল তাদের এক পারিবারিক বন্ধু বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানালে দুটি নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। এরপরই পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং বিভিন্ন সূত্র ধরে অনুসন্ধান চালাতে থাকে। প্রায় ১০ দিনের অনুসন্ধানের পর জামিলের মরদেহ উদ্ধার হলেও নাহিদার কোনো খোঁজ না পাওয়ায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নাহিদাকে খুঁজে বের করতে স্থানীয় কমিউনিটির সহযোগিতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেউ তার সম্পর্কে কোনো তথ্য জানলে দ্রুত প্রশাসনকে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।

এদিকে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসও বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখছে। দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তোজা এক ফেসবুক পোস্টে জামিলের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং নাহিদার খোঁজে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন।

পটভূমি হিসেবে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে মাঝেমধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়, বিশেষ করে বড় শহর ও বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাগুলোতে। যদিও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এসব এলাকা নিরাপদ হিসেবে পরিচিত, তবুও ব্যক্তিগত বিরোধ বা অপরাধমূলক ঘটনার কারণে মাঝে মাঝে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়। ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় অতীতেও বিচ্ছিন্নভাবে সহিংস ঘটনার নজির রয়েছে, তবে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জড়িত এমন ঘটনা তুলনামূলকভাবে কম।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা নতুন পরিবেশে থাকার কারণে অনেক সময় ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারেন। তাই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় এবং শিক্ষার্থীদের সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।

এই ঘটনার পর বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যেও শোক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে নাহিদার পরিবারের জন্য এটি একটি অত্যন্ত কঠিন সময়, কারণ এখনো তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

সব মিলিয়ে, জামিলের মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন এবং নিখোঁজ নাহিদা এস বৃষ্টিকে দ্রুত খুঁজে বের করা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির ওপরই নির্ভর করছে এই ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর