দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

দেশে ভয়াবহ হামের প্রাদুর্ভাব, টিকা সংকটে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা

দেশে ভয়াবহ হামের প্রাদুর্ভাব, টিকা সংকটে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা

লোডশেডিং কমার আশা কবে? বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর আশ্বাসে স্বস্তির ইঙ্গিত

গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার শঙ্কা, দেশজুড়ে সতর্কতা জোরদার

ইসলামাবাদে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী, নতুন করে শুরু হতে পারে তেহরান-ওয়াশিংটন সংলাপ

শাহবাগ উত্তেজনার জেরে আটক শিবির নেতাদের মুক্তি, ভোরে ক্যাম্পাসে ফিরলেন সাদিক কায়েম

রানা প্লাজা ধসের ১৩ বছর: নিরাপত্তা বদলেছে, কিন্তু বিচার অপেক্ষায়

ওমান সাগরে উত্তেজনা: মার্কিন বাধা এড়িয়ে আইআরজিসির পাহারায় বন্দরে ঢুকল ইরানের জাহাজ

জ্বালানি নিরাপত্তা ও রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে উদ্বেগ জানালেন সেনাপ্রধান

লোডশেডিং কমার আশা কবে? বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর আশ্বাসে স্বস্তির ইঙ্গিত

লোডশেডিং কমার আশা কবে? বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর আশ্বাসে স্বস্তির ইঙ্গিত
-ছবি: সংগৃহীত

তীব্র গরমের মধ্যে লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে দেশের মানুষ। তবে স্বস্তির খবর হলো—সরকার বলছে, খুব শিগগিরই পরিস্থিতি কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে আসতে পারে।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে বিদ্যুৎ সংকট বেড়ে যাওয়ায় জনজীবনে চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে শহর ও গ্রাম—দুই জায়গাতেই ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় মানুষের দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হচ্ছে। শিল্প কারখানায় উৎপাদন কমে যাচ্ছে, কৃষিতে সেচ কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, আর সাধারণ মানুষের জীবন হয়ে উঠছে দুর্বিষহ।

এই পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, লোডশেডিং খুব দ্রুত পুরোপুরি না কমলেও শিগগিরই কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসবে। তিনি বলেন, কয়েকটি বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে নতুন করে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হলে পরিস্থিতির উন্নতি দেখা যাবে।

বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২৬ এপ্রিল থেকে আদানি পাওয়ারের আমদানিকৃত বিদ্যুৎ আবার জাতীয় গ্রিডে যোগ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহে একটি বড় ধরনের সহায়তা মিলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এর পাশাপাশি বাঁশখালির এসএস পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকেও বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ার কথা রয়েছে। এই কেন্দ্রটি থেকে প্রায় ৬৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ২৮ এপ্রিলের পর জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে। সব মিলিয়ে এই দুই উৎস থেকে প্রায় ১৩০০ মেগাওয়াট অতিরিক্ত বিদ্যুৎ পাওয়ার আশা করছে সরকার।

বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্ম সচিব উম্মে রেহানা জানিয়েছেন, ২৮ এপ্রিলের পর পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি দেখা যাবে। তিনি আরও বলেন, মে মাসের শুরুতে মোট প্রায় ২০০০ মেগাওয়াট অতিরিক্ত বিদ্যুৎ পাওয়া যেতে পারে। এতে লোডশেডিং পুরোপুরি না কমলেও অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকটের স্থায়ী সমাধান এখনই হচ্ছে না। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ইজাজ হোসেন মনে করেন, আপাতত তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো চালু করে ঘাটতি কমানো সম্ভব হলেও এতে খরচ অনেক বেড়ে যায়। কারণ তেল দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন গ্যাস বা কয়লার তুলনায় অনেক বেশি ব্যয়বহুল।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পটভূমি হলো—বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের বড় অংশই গ্যাসনির্ভর। কিন্তু গ্যাসের ঘাটতির কারণে অনেক বিদ্যুৎ কেন্দ্র পুরো সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না। ফলে বিকল্প হিসেবে তেলভিত্তিক কেন্দ্র চালাতে হচ্ছে, যা সরকারের জন্য বড় অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করছে।

আরেকটি বিষয় হলো, গত কয়েক বছরে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা দ্রুত বেড়েছে। শিল্পায়ন, নগরায়ন এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তনের কারণে বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়লেও উৎপাদন ও জ্বালানি সরবরাহ সেই হারে বাড়েনি। ফলে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে একটা ফাঁক তৈরি হয়েছে।

বর্তমানে সরকার বিদ্যুৎ খাতে বড় অঙ্কের ভর্তুকি দিচ্ছে। কিন্তু যদি তেলভিত্তিক উৎপাদনের ওপর নির্ভরতা বাড়ে, তাহলে এই ভর্তুকির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে—যা ভবিষ্যতে অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করবে।

সবকিছু মিলিয়ে বলা যায়, সামনে কিছুটা স্বস্তি এলেও সংকট পুরোপুরি কাটতে সময় লাগবে। নতুন বিদ্যুৎ যোগ হওয়ায় পরিস্থিতি কিছুটা ভালো হবে ঠিকই, তবে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি সরবরাহ ও উৎপাদন ব্যবস্থায় বড় ধরনের উন্নয়ন না হলে লোডশেডিং সমস্যার স্থায়ী সমাধান সহজ হবে না।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬


লোডশেডিং কমার আশা কবে? বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর আশ্বাসে স্বস্তির ইঙ্গিত

প্রকাশের তারিখ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

তীব্র গরমের মধ্যে লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে দেশের মানুষ। তবে স্বস্তির খবর হলো—সরকার বলছে, খুব শিগগিরই পরিস্থিতি কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে আসতে পারে।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে বিদ্যুৎ সংকট বেড়ে যাওয়ায় জনজীবনে চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে শহর ও গ্রাম—দুই জায়গাতেই ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় মানুষের দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হচ্ছে। শিল্প কারখানায় উৎপাদন কমে যাচ্ছে, কৃষিতে সেচ কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, আর সাধারণ মানুষের জীবন হয়ে উঠছে দুর্বিষহ।

এই পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, লোডশেডিং খুব দ্রুত পুরোপুরি না কমলেও শিগগিরই কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসবে। তিনি বলেন, কয়েকটি বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে নতুন করে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হলে পরিস্থিতির উন্নতি দেখা যাবে।

বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২৬ এপ্রিল থেকে আদানি পাওয়ারের আমদানিকৃত বিদ্যুৎ আবার জাতীয় গ্রিডে যোগ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহে একটি বড় ধরনের সহায়তা মিলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এর পাশাপাশি বাঁশখালির এসএস পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকেও বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ার কথা রয়েছে। এই কেন্দ্রটি থেকে প্রায় ৬৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ২৮ এপ্রিলের পর জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে। সব মিলিয়ে এই দুই উৎস থেকে প্রায় ১৩০০ মেগাওয়াট অতিরিক্ত বিদ্যুৎ পাওয়ার আশা করছে সরকার।

বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্ম সচিব উম্মে রেহানা জানিয়েছেন, ২৮ এপ্রিলের পর পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি দেখা যাবে। তিনি আরও বলেন, মে মাসের শুরুতে মোট প্রায় ২০০০ মেগাওয়াট অতিরিক্ত বিদ্যুৎ পাওয়া যেতে পারে। এতে লোডশেডিং পুরোপুরি না কমলেও অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকটের স্থায়ী সমাধান এখনই হচ্ছে না। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ইজাজ হোসেন মনে করেন, আপাতত তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো চালু করে ঘাটতি কমানো সম্ভব হলেও এতে খরচ অনেক বেড়ে যায়। কারণ তেল দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন গ্যাস বা কয়লার তুলনায় অনেক বেশি ব্যয়বহুল।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পটভূমি হলো—বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের বড় অংশই গ্যাসনির্ভর। কিন্তু গ্যাসের ঘাটতির কারণে অনেক বিদ্যুৎ কেন্দ্র পুরো সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না। ফলে বিকল্প হিসেবে তেলভিত্তিক কেন্দ্র চালাতে হচ্ছে, যা সরকারের জন্য বড় অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করছে।

আরেকটি বিষয় হলো, গত কয়েক বছরে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা দ্রুত বেড়েছে। শিল্পায়ন, নগরায়ন এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তনের কারণে বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়লেও উৎপাদন ও জ্বালানি সরবরাহ সেই হারে বাড়েনি। ফলে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে একটা ফাঁক তৈরি হয়েছে।

বর্তমানে সরকার বিদ্যুৎ খাতে বড় অঙ্কের ভর্তুকি দিচ্ছে। কিন্তু যদি তেলভিত্তিক উৎপাদনের ওপর নির্ভরতা বাড়ে, তাহলে এই ভর্তুকির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে—যা ভবিষ্যতে অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করবে।

সবকিছু মিলিয়ে বলা যায়, সামনে কিছুটা স্বস্তি এলেও সংকট পুরোপুরি কাটতে সময় লাগবে। নতুন বিদ্যুৎ যোগ হওয়ায় পরিস্থিতি কিছুটা ভালো হবে ঠিকই, তবে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি সরবরাহ ও উৎপাদন ব্যবস্থায় বড় ধরনের উন্নয়ন না হলে লোডশেডিং সমস্যার স্থায়ী সমাধান সহজ হবে না।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর