দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

ভিসা জালিয়াতির অভিযোগে মালয়েশিয়ায় ধরা পড়লেন ৫৬ বাংলাদেশি

ভিসা জালিয়াতির অভিযোগে মালয়েশিয়ায় ধরা পড়লেন ৫৬ বাংলাদেশি

হজযাত্রা জমে উঠছে: ইতোমধ্যে সৌদিতে ৩২৫৩২ বাংলাদেশি, দুইজনের মৃত্যু

প্রবাসীদের অধিকার রক্ষায় সৌদি আরবে দেশবন্ধুর কমিটি গঠন

অস্ট্রেলিয়ায় প্রথমবার এমআইএসটি অ্যালামনাই পুনর্মিলনী, মেলবোর্নে জমল প্রবাসী প্রাক্তনদের মিলনমেলা

হজ ফ্লাইটে গতি: ৫৮টি ফ্লাইটে সৌদি গেছেন ২৩ হাজারের বেশি বাংলাদেশি

রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট ইস্যু ত্বরান্বিত করতে বিশেষ টিম পাঠিয়েছে বাংলাদেশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক ফিয়েস্তায় সেরা বাংলাদেশ স্টল, সংস্কৃতির রঙে মুগ্ধ বিচারকরা

লিবিয়া উপকূলে ভেসে এলো ১৭ অভিবাসীর মরদেহ, শনাক্ত এক বাংলাদেশি

ভিসা জালিয়াতির অভিযোগে মালয়েশিয়ায় ধরা পড়লেন ৫৬ বাংলাদেশি

ভিসা জালিয়াতির অভিযোগে মালয়েশিয়ায় ধরা পড়লেন ৫৬ বাংলাদেশি
-ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়ায় আবারও অবৈধ অভিবাসনবিরোধী অভিযানে ধরা পড়েছেন বাংলাদেশিরা। দেশটির সেলাঙ্গর রাজ্যের শাহ আলাম ও পুচং এলাকায় চালানো এক অভিযানে ৫৬ জন বাংলাদেশিসহ মোট ৬২ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ।

জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ‘অপস মাহির’ নামে একটি সমন্বিত অভিযান চালায় মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের এনফোর্সমেন্ট ইউনিট। এই অভিযানে দুটি আলাদা প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালানো হয়। সেখানে মোট ১১২ জন বিদেশি কর্মীর কাগজপত্র যাচাই করা হয়। এর মধ্যে ৬২ জনকে অবৈধ হিসেবে শনাক্ত করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৫৬ জন বাংলাদেশি ছাড়াও ৪ জন নেপালি, ১ জন ভারতীয় এবং ১ জন ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক রয়েছেন।

অভিযান শেষে প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, আটক হওয়া অনেকেই অন্য কোম্পানির নামে দেওয়া অস্থায়ী কর্ম ভিসা ব্যবহার করছিলেন। তারা যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করার অনুমতি পেয়েছিলেন, সেখানে না গিয়ে অন্য জায়গায় কাজ করছিলেন। এই ধরনের কাজ মালয়েশিয়ার ভিসা নিয়মের সরাসরি লঙ্ঘন হিসেবে ধরা হয়।

মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ জানিয়েছে, এটি শুধু নিয়ম ভাঙার বিষয় নয়, বরং অনেক ক্ষেত্রে পরিকল্পিতভাবে আইনের ফাঁক ব্যবহার করে ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাদের ধারণা, এর পেছনে বড় কোনো দালাল চক্র বা সিন্ডিকেট থাকতে পারে, যারা বিদেশি কর্মীদের ভুল পথে পরিচালিত করছে। বিষয়টি আরও গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।

আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বৈধ পরিচয়পত্র না থাকা, অনুমোদিত সময়ের বেশি অবস্থান করা এবং পাসপোর্ট ও কাজের অনুমতির অপব্যবহার। এসব অভিযোগ মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩ এবং ১৯৬৩ সালের বিধিমালার আওতায় পড়ে।

তদন্তের স্বার্থে তিনজনকে ‘চার্জ টু উইটনেস’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, অর্থাৎ তারা মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী হতে পারেন। বর্তমানে আটক ব্যক্তিদের সেমেনিয়াহ ইমিগ্রেশন ডিপো এবং কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দল (কেএলআইএ)-এর নির্ধারিত স্থানে রাখা হয়েছে। সেখানে তাদের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

পটভূমি হিসেবে বলা যায়, মালয়েশিয়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম বড় শ্রমবাজার, যেখানে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের লাখ লাখ অভিবাসী কাজ করেন। নির্মাণ, কারখানা ও সেবা খাতে বাংলাদেশিদের উপস্থিতি বেশ উল্লেখযোগ্য। তবে দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধভাবে কাজ করা, ভিসার শর্ত না মানা এবং দালাল চক্রের মাধ্যমে প্রতারণার ঘটনা সেখানে দেখা যায়।

এর আগে মালয়েশিয়া সরকার একাধিকবার অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে। এসব অভিযানের লক্ষ্য হচ্ছে শ্রমবাজারকে নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করা। বিশেষ করে ভিসা জালিয়াতি ও ভুয়া নিয়োগকর্তার বিষয়টি দেশটির কর্তৃপক্ষ বেশ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেক ক্ষেত্রে শ্রমিকরা নিজেরা পুরো নিয়ম না বুঝেই দালালদের ওপর নির্ভর করেন। এতে করে তারা ঝুঁকিতে পড়ে যান এবং শেষ পর্যন্ত আইনি জটিলতায় পড়তে হয়। তাই বিদেশে কাজ করতে যাওয়ার আগে সঠিক তথ্য জানা এবং বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

সব মিলিয়ে, মালয়েশিয়ার এই অভিযান আবারও প্রমাণ করলো যে দেশটি অবৈধ অভিবাসন ও ভিসা জালিয়াতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। একই সঙ্গে এটি বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশের কর্মীদের জন্যও একটি সতর্কবার্তা—বিদেশে কাজ করতে হলে অবশ্যই নিয়ম মেনে চলতে হবে, না হলে এর পরিণতি হতে পারে কঠিন।

বিষয় : জালিয়াতির মালয়েশিয়ায় ৫৬ বাংলাদেশি

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬


ভিসা জালিয়াতির অভিযোগে মালয়েশিয়ায় ধরা পড়লেন ৫৬ বাংলাদেশি

প্রকাশের তারিখ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

মালয়েশিয়ায় আবারও অবৈধ অভিবাসনবিরোধী অভিযানে ধরা পড়েছেন বাংলাদেশিরা। দেশটির সেলাঙ্গর রাজ্যের শাহ আলাম ও পুচং এলাকায় চালানো এক অভিযানে ৫৬ জন বাংলাদেশিসহ মোট ৬২ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ।

জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ‘অপস মাহির’ নামে একটি সমন্বিত অভিযান চালায় মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের এনফোর্সমেন্ট ইউনিট। এই অভিযানে দুটি আলাদা প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালানো হয়। সেখানে মোট ১১২ জন বিদেশি কর্মীর কাগজপত্র যাচাই করা হয়। এর মধ্যে ৬২ জনকে অবৈধ হিসেবে শনাক্ত করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৫৬ জন বাংলাদেশি ছাড়াও ৪ জন নেপালি, ১ জন ভারতীয় এবং ১ জন ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক রয়েছেন।

অভিযান শেষে প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, আটক হওয়া অনেকেই অন্য কোম্পানির নামে দেওয়া অস্থায়ী কর্ম ভিসা ব্যবহার করছিলেন। তারা যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করার অনুমতি পেয়েছিলেন, সেখানে না গিয়ে অন্য জায়গায় কাজ করছিলেন। এই ধরনের কাজ মালয়েশিয়ার ভিসা নিয়মের সরাসরি লঙ্ঘন হিসেবে ধরা হয়।

মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ জানিয়েছে, এটি শুধু নিয়ম ভাঙার বিষয় নয়, বরং অনেক ক্ষেত্রে পরিকল্পিতভাবে আইনের ফাঁক ব্যবহার করে ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাদের ধারণা, এর পেছনে বড় কোনো দালাল চক্র বা সিন্ডিকেট থাকতে পারে, যারা বিদেশি কর্মীদের ভুল পথে পরিচালিত করছে। বিষয়টি আরও গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।

আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বৈধ পরিচয়পত্র না থাকা, অনুমোদিত সময়ের বেশি অবস্থান করা এবং পাসপোর্ট ও কাজের অনুমতির অপব্যবহার। এসব অভিযোগ মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩ এবং ১৯৬৩ সালের বিধিমালার আওতায় পড়ে।

তদন্তের স্বার্থে তিনজনকে ‘চার্জ টু উইটনেস’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, অর্থাৎ তারা মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী হতে পারেন। বর্তমানে আটক ব্যক্তিদের সেমেনিয়াহ ইমিগ্রেশন ডিপো এবং কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দল (কেএলআইএ)-এর নির্ধারিত স্থানে রাখা হয়েছে। সেখানে তাদের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

পটভূমি হিসেবে বলা যায়, মালয়েশিয়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম বড় শ্রমবাজার, যেখানে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের লাখ লাখ অভিবাসী কাজ করেন। নির্মাণ, কারখানা ও সেবা খাতে বাংলাদেশিদের উপস্থিতি বেশ উল্লেখযোগ্য। তবে দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধভাবে কাজ করা, ভিসার শর্ত না মানা এবং দালাল চক্রের মাধ্যমে প্রতারণার ঘটনা সেখানে দেখা যায়।

এর আগে মালয়েশিয়া সরকার একাধিকবার অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে। এসব অভিযানের লক্ষ্য হচ্ছে শ্রমবাজারকে নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করা। বিশেষ করে ভিসা জালিয়াতি ও ভুয়া নিয়োগকর্তার বিষয়টি দেশটির কর্তৃপক্ষ বেশ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেক ক্ষেত্রে শ্রমিকরা নিজেরা পুরো নিয়ম না বুঝেই দালালদের ওপর নির্ভর করেন। এতে করে তারা ঝুঁকিতে পড়ে যান এবং শেষ পর্যন্ত আইনি জটিলতায় পড়তে হয়। তাই বিদেশে কাজ করতে যাওয়ার আগে সঠিক তথ্য জানা এবং বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

সব মিলিয়ে, মালয়েশিয়ার এই অভিযান আবারও প্রমাণ করলো যে দেশটি অবৈধ অভিবাসন ও ভিসা জালিয়াতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। একই সঙ্গে এটি বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশের কর্মীদের জন্যও একটি সতর্কবার্তা—বিদেশে কাজ করতে হলে অবশ্যই নিয়ম মেনে চলতে হবে, না হলে এর পরিণতি হতে পারে কঠিন।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর