ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বজুড়ে মজুত থাকা আধুনিক সামরিক অস্ত্রের একটি বড় অংশ দ্রুত কমে যাচ্ছে—এমন উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে একটি আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পেন্টাগনকে এশিয়া ও ইউরোপীয় কমান্ড থেকে অস্ত্র সরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠাতে হচ্ছে বলেও জানা গেছে।
প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ব্যাপক হারে আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ব্যবহার করছে। এতে করে দেশটির কৌশলগত অস্ত্রভাণ্ডারে চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যেসব অস্ত্র ভবিষ্যতে চীন বা অন্য বড় শক্তির বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সংঘাতের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছিল, সেগুলোর কিছু অংশও এখন ব্যবহার করতে হচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রকে এশিয়া ও ইউরোপীয় অঞ্চল থেকে দীর্ঘপাল্লার নির্ভুল আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র মধ্যপ্রাচ্যে সরিয়ে নিতে হয়েছে। এতে অন্য অঞ্চলের সামরিক প্রস্তুতি নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, একাধিক অঞ্চলে একসঙ্গে সামরিক প্রস্তুতি ধরে রাখা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
যে অস্ত্রগুলোর মজুত নিয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ দেখা দিয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে প্রিসিশন-স্ট্রাইক মিসাইল, এটিএসিএমএস ভূমি থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর মিসাইল। এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র সাধারণত অত্যন্ত নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে এবং শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যুদ্ধের সময় এসব অস্ত্র ব্যাপকভাবে ব্যবহার হওয়ায় দ্রুত মজুত কমে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে যুদ্ধের ব্যয় নিয়েও বড় ধরনের আলোচনা চলছে। যদিও হোয়াইট হাউস আনুষ্ঠানিকভাবে মোট ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ করেনি, তবে দুটি স্বতন্ত্র সংস্থার হিসাবে প্রতিদিন প্রায় ১০০ কোটি ডলার পর্যন্ত খরচ হচ্ছে। যুদ্ধের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মোট ব্যয় ২৮ থেকে ৩৫ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে থাকতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এই বিপুল ব্যয় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাজেটের ওপরও চাপ তৈরি করছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
পটভূমি হিসেবে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী সাধারণত বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে আগাম প্রস্তুতি হিসেবে অস্ত্র মজুত রাখে। এর উদ্দেশ্য হলো যেকোনো সম্ভাব্য সংঘাতের সময় দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানো। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এই মজুত দ্রুত কমে যেতে পারে—যেমনটি এখন ইরান যুদ্ধের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা সময়সাপেক্ষ এবং ব্যয়বহুল। অনেক ক্ষেত্রে নতুন করে উৎপাদন বাড়াতে কয়েক বছর সময় লেগে যেতে পারে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতি ভবিষ্যতের সামরিক প্রস্তুতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্র আগে থেকেই ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য সংঘাতে বিপুল পরিমাণ সামরিক সহায়তা দিয়েছে। ফলে একাধিক ফ্রন্টে দীর্ঘদিন ধরে অস্ত্র ব্যবহার হওয়ায় সামগ্রিক মজুতের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বাস্তবতা এখন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমানে দেশটির সামরিক সক্ষমতা এখনও শক্ত অবস্থানে রয়েছে এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা প্রস্তুত আছে। একই সঙ্গে অস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনাও নেওয়া হচ্ছে।
সব মিলিয়ে ইরান যুদ্ধ শুধু মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিই নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক সামরিক কৌশল ও প্রস্তুতি নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। সামনে যুদ্ধ দীর্ঘ হলে এই চাপ আরও বাড়তে পারে—এমনটাই মনে করছেন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।
বিষয় : মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রে -ইউরোপ

শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বজুড়ে মজুত থাকা আধুনিক সামরিক অস্ত্রের একটি বড় অংশ দ্রুত কমে যাচ্ছে—এমন উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে একটি আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পেন্টাগনকে এশিয়া ও ইউরোপীয় কমান্ড থেকে অস্ত্র সরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠাতে হচ্ছে বলেও জানা গেছে।
প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ব্যাপক হারে আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ব্যবহার করছে। এতে করে দেশটির কৌশলগত অস্ত্রভাণ্ডারে চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যেসব অস্ত্র ভবিষ্যতে চীন বা অন্য বড় শক্তির বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সংঘাতের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছিল, সেগুলোর কিছু অংশও এখন ব্যবহার করতে হচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রকে এশিয়া ও ইউরোপীয় অঞ্চল থেকে দীর্ঘপাল্লার নির্ভুল আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র মধ্যপ্রাচ্যে সরিয়ে নিতে হয়েছে। এতে অন্য অঞ্চলের সামরিক প্রস্তুতি নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, একাধিক অঞ্চলে একসঙ্গে সামরিক প্রস্তুতি ধরে রাখা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
যে অস্ত্রগুলোর মজুত নিয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ দেখা দিয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে প্রিসিশন-স্ট্রাইক মিসাইল, এটিএসিএমএস ভূমি থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর মিসাইল। এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র সাধারণত অত্যন্ত নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে এবং শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যুদ্ধের সময় এসব অস্ত্র ব্যাপকভাবে ব্যবহার হওয়ায় দ্রুত মজুত কমে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে যুদ্ধের ব্যয় নিয়েও বড় ধরনের আলোচনা চলছে। যদিও হোয়াইট হাউস আনুষ্ঠানিকভাবে মোট ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ করেনি, তবে দুটি স্বতন্ত্র সংস্থার হিসাবে প্রতিদিন প্রায় ১০০ কোটি ডলার পর্যন্ত খরচ হচ্ছে। যুদ্ধের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মোট ব্যয় ২৮ থেকে ৩৫ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে থাকতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এই বিপুল ব্যয় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাজেটের ওপরও চাপ তৈরি করছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
পটভূমি হিসেবে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী সাধারণত বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে আগাম প্রস্তুতি হিসেবে অস্ত্র মজুত রাখে। এর উদ্দেশ্য হলো যেকোনো সম্ভাব্য সংঘাতের সময় দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানো। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এই মজুত দ্রুত কমে যেতে পারে—যেমনটি এখন ইরান যুদ্ধের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা সময়সাপেক্ষ এবং ব্যয়বহুল। অনেক ক্ষেত্রে নতুন করে উৎপাদন বাড়াতে কয়েক বছর সময় লেগে যেতে পারে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতি ভবিষ্যতের সামরিক প্রস্তুতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্র আগে থেকেই ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য সংঘাতে বিপুল পরিমাণ সামরিক সহায়তা দিয়েছে। ফলে একাধিক ফ্রন্টে দীর্ঘদিন ধরে অস্ত্র ব্যবহার হওয়ায় সামগ্রিক মজুতের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বাস্তবতা এখন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমানে দেশটির সামরিক সক্ষমতা এখনও শক্ত অবস্থানে রয়েছে এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা প্রস্তুত আছে। একই সঙ্গে অস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনাও নেওয়া হচ্ছে।
সব মিলিয়ে ইরান যুদ্ধ শুধু মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিই নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক সামরিক কৌশল ও প্রস্তুতি নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। সামনে যুদ্ধ দীর্ঘ হলে এই চাপ আরও বাড়তে পারে—এমনটাই মনে করছেন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।

আপনার মতামত লিখুন