দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

থিসিস জমার আগমুহূর্তে উধাও লিমন-বৃষ্টি, উদ্বেগে পরিবার ও প্রবাসী কমিউনিটি

থিসিস জমার আগমুহূর্তে উধাও লিমন-বৃষ্টি, উদ্বেগে পরিবার ও প্রবাসী কমিউনিটি

গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে দরকার শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ গণমাধ্যম

এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ—এমসিকিউ আগে, পরে সৃজনশীল পরীক্ষা

ইউসিটিসিতে অটাম–২০২৬ ভর্তি মেলার সময় বাড়ল ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত, থাকছে বড় ছাড়

বাল্যবিবাহ ও অনাগ্রহে ঝরে পড়া—পোরশায় ১২১ পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় বসেনি

এসএসসি-দাখিল পরীক্ষায় স্বস্তি: রায়পুরে শিক্ষার্থীদের জন্য হেল্প ডেস্ক চালু

দেশজুড়ে ৩,৮৮৫ কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষা শুরু, নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা

হাবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতির নতুন নেতৃত্বে তালহা সভাপতি, রাফিউল সাধারণ সম্পাদক

থিসিস জমার আগমুহূর্তে উধাও লিমন-বৃষ্টি, উদ্বেগে পরিবার ও প্রবাসী কমিউনিটি

থিসিস জমার আগমুহূর্তে উধাও লিমন-বৃষ্টি, উদ্বেগে পরিবার ও প্রবাসী কমিউনিটি
-ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে পিএইচডি অধ্যয়নরত দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল লিমন ও নাহিদা বৃষ্টি নিখোঁজ হওয়ার পর প্রায় নয় দিন পার হলেও এখনো তাদের কোনো সন্ধান মেলেনি। বিষয়টি ঘিরে পরিবার, বন্ধু এবং প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা। স্থানীয় পুলিশ, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ কনস্যুলেট একযোগে তাদের খোঁজে কাজ করছে।

জানা গেছে, গত ১৬ এপ্রিল সকালে শেষবার আলাদাভাবে দুজনকে দেখা যায়। এরপর থেকেই তাদের সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এই দীর্ঘ সময়েও কোনো নিশ্চিত তথ্য না পাওয়ায় ঘটনাটি আরও রহস্যজনক হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিখোঁজ জামিল লিমনের ছোট ভাই জুবায়ের আহমেদ জানিয়েছেন, লিমন ও নাহিদার মধ্যে আগে থেকেই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। তবে তারা কাউকে কিছু না জানিয়ে কোথাও চলে যাবেন—এমনটা পরিবারের কাছে একেবারেই বিশ্বাসযোগ্য মনে হচ্ছে না। বিশেষ করে লিমনের পিএইচডি থিসিস জমা দেওয়ার সময় খুব কাছাকাছি চলে এসেছিল। গত দুই বছর ধরে তিনি এই গবেষণার কাজ করছিলেন। এমন গুরুত্বপূর্ণ সময় হঠাৎ করে নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার কোনো কারণ পরিবার খুঁজে পাচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, পরিবার এখন খুব কঠিন সময় পার করছে। প্রতিদিন নতুন কোনো তথ্য পাওয়ার আশায় অপেক্ষা করছেন তারা। কিন্তু এখন পর্যন্ত পুলিশ বা অন্য কোনো সংস্থা থেকে পরিষ্কার কোনো ধারণা পাওয়া যায়নি যে আসলে কী ঘটেছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেল অফিস থেকেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। কনসাল জেনারেল সেহেলী সাবরীন জানিয়েছেন, নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থীর বিষয়ে তারা নিয়মিত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস থেকেও বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

এই ঘটনার পর কনস্যুলেট অফিসের একজন কর্মকর্তা সরাসরি টাম্পা শহরে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, পুলিশ বিভাগ এবং স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সেখানে বাংলাদেশি স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। সবাই মিলে দ্রুত দুই শিক্ষার্থীর সন্ধান পাওয়ার বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ জানিয়েছে, জামিল লিমনকে শেষবার ১৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে টাম্পায় তার বাসার কাছাকাছি দেখা যায়। একই দিন সকাল ১০টার দিকে নাহিদা বৃষ্টিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি একাডেমিক ভবনে শেষবার দেখা যায়। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, তারা দুজন বন্ধু এবং সম্ভবত একসঙ্গে কোথাও থাকতে পারেন। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, তাদের খোঁজে চারটি কাউন্টির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একযোগে কাজ করছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা এবং অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি, যা থেকে বোঝা যায় তারা কোনো অপরাধের শিকার হয়েছেন বা অভিবাসন সংক্রান্ত কোনো সমস্যায় পড়েছেন।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে কোনো শিক্ষার্থী নিখোঁজ হলে সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ, স্থানীয় কাউন্টি পুলিশ এবং ফেডারেল সংস্থাগুলো একসঙ্গে কাজ করে। এতে দ্রুত তথ্য সংগ্রহ এবং অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করা সম্ভব হয়। এই ঘটনাতেও একই ধরনের সমন্বিত অনুসন্ধান চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

এছাড়া প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিও বিষয়টি নিয়ে সক্রিয় হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে তাদের খোঁজে তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, যাতে দ্রুত কোনো সূত্র পাওয়া যায়।

সব মিলিয়ে নয় দিন পার হলেও এখনো কোনো স্পষ্ট তথ্য না পাওয়ায় পরিবারের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, অনুসন্ধান কার্যক্রম এখনো জোরদার রয়েছে এবং তারা আশাবাদী—খুব শিগগিরই নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থীর বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোনো তথ্য পাওয়া যাবে।

বিষয় : থিসিস কমিউনিটি আগমুহূর্তে

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬


থিসিস জমার আগমুহূর্তে উধাও লিমন-বৃষ্টি, উদ্বেগে পরিবার ও প্রবাসী কমিউনিটি

প্রকাশের তারিখ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে পিএইচডি অধ্যয়নরত দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল লিমন ও নাহিদা বৃষ্টি নিখোঁজ হওয়ার পর প্রায় নয় দিন পার হলেও এখনো তাদের কোনো সন্ধান মেলেনি। বিষয়টি ঘিরে পরিবার, বন্ধু এবং প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা। স্থানীয় পুলিশ, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ কনস্যুলেট একযোগে তাদের খোঁজে কাজ করছে।

জানা গেছে, গত ১৬ এপ্রিল সকালে শেষবার আলাদাভাবে দুজনকে দেখা যায়। এরপর থেকেই তাদের সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এই দীর্ঘ সময়েও কোনো নিশ্চিত তথ্য না পাওয়ায় ঘটনাটি আরও রহস্যজনক হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিখোঁজ জামিল লিমনের ছোট ভাই জুবায়ের আহমেদ জানিয়েছেন, লিমন ও নাহিদার মধ্যে আগে থেকেই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। তবে তারা কাউকে কিছু না জানিয়ে কোথাও চলে যাবেন—এমনটা পরিবারের কাছে একেবারেই বিশ্বাসযোগ্য মনে হচ্ছে না। বিশেষ করে লিমনের পিএইচডি থিসিস জমা দেওয়ার সময় খুব কাছাকাছি চলে এসেছিল। গত দুই বছর ধরে তিনি এই গবেষণার কাজ করছিলেন। এমন গুরুত্বপূর্ণ সময় হঠাৎ করে নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার কোনো কারণ পরিবার খুঁজে পাচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, পরিবার এখন খুব কঠিন সময় পার করছে। প্রতিদিন নতুন কোনো তথ্য পাওয়ার আশায় অপেক্ষা করছেন তারা। কিন্তু এখন পর্যন্ত পুলিশ বা অন্য কোনো সংস্থা থেকে পরিষ্কার কোনো ধারণা পাওয়া যায়নি যে আসলে কী ঘটেছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেল অফিস থেকেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। কনসাল জেনারেল সেহেলী সাবরীন জানিয়েছেন, নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থীর বিষয়ে তারা নিয়মিত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস থেকেও বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

এই ঘটনার পর কনস্যুলেট অফিসের একজন কর্মকর্তা সরাসরি টাম্পা শহরে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, পুলিশ বিভাগ এবং স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সেখানে বাংলাদেশি স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। সবাই মিলে দ্রুত দুই শিক্ষার্থীর সন্ধান পাওয়ার বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ জানিয়েছে, জামিল লিমনকে শেষবার ১৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে টাম্পায় তার বাসার কাছাকাছি দেখা যায়। একই দিন সকাল ১০টার দিকে নাহিদা বৃষ্টিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি একাডেমিক ভবনে শেষবার দেখা যায়। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, তারা দুজন বন্ধু এবং সম্ভবত একসঙ্গে কোথাও থাকতে পারেন। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, তাদের খোঁজে চারটি কাউন্টির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একযোগে কাজ করছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা এবং অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি, যা থেকে বোঝা যায় তারা কোনো অপরাধের শিকার হয়েছেন বা অভিবাসন সংক্রান্ত কোনো সমস্যায় পড়েছেন।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে কোনো শিক্ষার্থী নিখোঁজ হলে সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ, স্থানীয় কাউন্টি পুলিশ এবং ফেডারেল সংস্থাগুলো একসঙ্গে কাজ করে। এতে দ্রুত তথ্য সংগ্রহ এবং অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করা সম্ভব হয়। এই ঘটনাতেও একই ধরনের সমন্বিত অনুসন্ধান চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

এছাড়া প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিও বিষয়টি নিয়ে সক্রিয় হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে তাদের খোঁজে তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, যাতে দ্রুত কোনো সূত্র পাওয়া যায়।

সব মিলিয়ে নয় দিন পার হলেও এখনো কোনো স্পষ্ট তথ্য না পাওয়ায় পরিবারের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, অনুসন্ধান কার্যক্রম এখনো জোরদার রয়েছে এবং তারা আশাবাদী—খুব শিগগিরই নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থীর বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোনো তথ্য পাওয়া যাবে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর