বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারী এলাকায় দেশীয় অস্ত্রসহ দুই যুবককে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন স্থানীয় জনতা। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আতঙ্ক ছড়ানোর অভিযোগ থাকায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তাদের ধরে ফেলেন বলে জানা গেছে।
রোববার (১৯ এপ্রিল) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার বাইশারী এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। আটক দুজন হলেন উত্তর বাইশারী ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত ইসহাক মাস্টারের ছেলে আতাউল্লাহ কলিম (৩২) এবং মধ্যম বাইশারী এলাকার শফি মিস্ত্রীর ছেলে হারুন (২৬)। ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশীয় কাটাবন্দুকও উদ্ধার করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আটক আতাউল্লাহ কলিম ও হারুন দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকা ঘিরে সক্রিয় একটি গরু পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, তারা নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় ভয়ভীতি সৃষ্টি করতেন। বিভিন্ন সময় তাদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপকর্মের অভিযোগ উঠলেও স্থানীয় মানুষ সরাসরি প্রতিরোধ করতে সাহস পাননি। তবে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার পর এলাকাবাসীর ক্ষোভ বাড়তে থাকে।
রোববার সন্ধ্যায় সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করার সময় স্থানীয় কয়েকজন তাদের আটক করেন। পরে তল্লাশি চালিয়ে একটি দেশীয় কাটাবন্দুক পাওয়া গেলে বিষয়টি দ্রুত থানায় জানানো হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুইজনকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, স্থানীয়রা দুইজনকে আটক করে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের থানায় নিয়ে আসে। তিনি আরও বলেন, তাদের বিরুদ্ধে কী ধরনের অভিযোগ রয়েছে এবং অস্ত্রটি কোথা থেকে এসেছে—এসব বিষয় তদন্ত করে বিস্তারিত জানা যাবে।
স্থানীয়দের মতে, সীমান্তঘেঁষা নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার কিছু এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই গরু পাচারসহ বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। এসব কাজে কিছু অসাধু চক্র সক্রিয় থাকায় সাধারণ মানুষ অনেক সময় নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। ফলে এমন ঘটনায় এলাকাবাসীর সরাসরি প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা প্রায়ই বলে থাকেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে বিভিন্ন অপরাধ সংঘটনের ঝুঁকি বেশি থাকে। তাই এসব এলাকায় পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং স্থানীয়দেরও সচেতন থাকতে বলা হচ্ছে।
এদিকে এলাকাবাসীর দাবি, আটক দুই যুবকের বিরুদ্ধে আগে থেকে থাকা অভিযোগগুলোও খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তারা আশা করছেন, এই ঘটনার মাধ্যমে এলাকায় দীর্ঘদিনের ভীতি কিছুটা হলেও কমবে।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে থানা কর্তৃপক্ষ।
সব মিলিয়ে, স্থানীয় জনতার উদ্যোগে অস্ত্রসহ দুইজনকে আটক করার এই ঘটনাটি এলাকায় নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন তদন্তের ফলাফলের ওপরই নির্ভর করছে পরবর্তী পরিস্থিতি কোন দিকে যায়।

সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ এপ্রিল ২০২৬
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারী এলাকায় দেশীয় অস্ত্রসহ দুই যুবককে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন স্থানীয় জনতা। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আতঙ্ক ছড়ানোর অভিযোগ থাকায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তাদের ধরে ফেলেন বলে জানা গেছে।
রোববার (১৯ এপ্রিল) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার বাইশারী এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। আটক দুজন হলেন উত্তর বাইশারী ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত ইসহাক মাস্টারের ছেলে আতাউল্লাহ কলিম (৩২) এবং মধ্যম বাইশারী এলাকার শফি মিস্ত্রীর ছেলে হারুন (২৬)। ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশীয় কাটাবন্দুকও উদ্ধার করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আটক আতাউল্লাহ কলিম ও হারুন দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকা ঘিরে সক্রিয় একটি গরু পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, তারা নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় ভয়ভীতি সৃষ্টি করতেন। বিভিন্ন সময় তাদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপকর্মের অভিযোগ উঠলেও স্থানীয় মানুষ সরাসরি প্রতিরোধ করতে সাহস পাননি। তবে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার পর এলাকাবাসীর ক্ষোভ বাড়তে থাকে।
রোববার সন্ধ্যায় সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করার সময় স্থানীয় কয়েকজন তাদের আটক করেন। পরে তল্লাশি চালিয়ে একটি দেশীয় কাটাবন্দুক পাওয়া গেলে বিষয়টি দ্রুত থানায় জানানো হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুইজনকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, স্থানীয়রা দুইজনকে আটক করে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের থানায় নিয়ে আসে। তিনি আরও বলেন, তাদের বিরুদ্ধে কী ধরনের অভিযোগ রয়েছে এবং অস্ত্রটি কোথা থেকে এসেছে—এসব বিষয় তদন্ত করে বিস্তারিত জানা যাবে।
স্থানীয়দের মতে, সীমান্তঘেঁষা নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার কিছু এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই গরু পাচারসহ বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। এসব কাজে কিছু অসাধু চক্র সক্রিয় থাকায় সাধারণ মানুষ অনেক সময় নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। ফলে এমন ঘটনায় এলাকাবাসীর সরাসরি প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা প্রায়ই বলে থাকেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে বিভিন্ন অপরাধ সংঘটনের ঝুঁকি বেশি থাকে। তাই এসব এলাকায় পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং স্থানীয়দেরও সচেতন থাকতে বলা হচ্ছে।
এদিকে এলাকাবাসীর দাবি, আটক দুই যুবকের বিরুদ্ধে আগে থেকে থাকা অভিযোগগুলোও খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তারা আশা করছেন, এই ঘটনার মাধ্যমে এলাকায় দীর্ঘদিনের ভীতি কিছুটা হলেও কমবে।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে থানা কর্তৃপক্ষ।
সব মিলিয়ে, স্থানীয় জনতার উদ্যোগে অস্ত্রসহ দুইজনকে আটক করার এই ঘটনাটি এলাকায় নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন তদন্তের ফলাফলের ওপরই নির্ভর করছে পরবর্তী পরিস্থিতি কোন দিকে যায়।

আপনার মতামত লিখুন