দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

. সারা দেশে শুরু হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন, ৬ মাস–৫ বছরের শিশুদের টিকা দিতে আহ্বান

. সারা দেশে শুরু হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন, ৬ মাস–৫ বছরের শিশুদের টিকা দিতে আহ্বান

স্বাস্থ্যসেবার দাবিতে সীমান্ত নগরীতে মানববন্ধন, কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি

হামের উপসর্গে আরও ৪ জনের মৃত্যু, একদিনেই নতুন শনাক্ত ৯৪২

হামের প্রকোপ বাড়ছে: ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভিড় বাড়ছে

২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে ১০ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৪২৮

২৪ ঘণ্টায় ৩ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৯৪৭ — দেশে হামের ভয়াবহ বিস্তার

রমজান এলেই কেন বাড়ে দাম? রাজধানীতে মাছ-মাংস ও কাঁচামালের আগুন মূল্য, চরম ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

এমপক্স করোনা মহামারির মতো ভয়াবহ হবে না: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

. সারা দেশে শুরু হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন, ৬ মাস–৫ বছরের শিশুদের টিকা দিতে আহ্বান

. সারা দেশে শুরু হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন, ৬ মাস–৫ বছরের শিশুদের টিকা দিতে আহ্বান
-ছবি: সংগৃহীত

দেশজুড়ে হামের সংক্রমণ ও শিশু মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় সরকার আজ সোমবার (২০ এপ্রিল) থেকে বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে। এই কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের টিকা দেওয়া হচ্ছে, যাতে দ্রুত সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হামে আক্রান্তের সংখ্যা ২২ হাজার ছাড়িয়েছে। একই সময়ে নিশ্চিত ও সন্দেহজনক মিলিয়ে ২০০-এর বেশি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে জাতীয় পর্যায়ে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

এর আগে গত ৫ এপ্রিল দেশের ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলাকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে সেখানে জরুরি টিকাদান শুরু করা হয়। পরে ১২ এপ্রিল ঢাকাতেও এই কার্যক্রম চালু হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এখন সারা দেশে একযোগে এই কর্মসূচি চালানো হচ্ছে যাতে দ্রুত সংক্রমণের হার কমানো যায়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, টিকার কোনো ঘাটতি নেই। তিনি অভিভাবকদের বিভ্রান্তিকর তথ্য এড়িয়ে শিশুদের টিকা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, এই কর্মসূচি সফল হলে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে। 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও সাম্প্রতিক এক সম্মেলনে বলেন, অতীতে শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমে ঘাটতির কারণে আজকের এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে বর্তমান সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় পরিস্থিতির আরও অবনতি ঠেকানো সম্ভব হয়েছে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যেসব শিশুর জ্বর আছে বা বর্তমানে অসুস্থ, তাদের সুস্থ হওয়ার পর টিকা দিতে হবে। একইভাবে, প্রথম ডোজ নেওয়ার চার সপ্তাহ পূর্ণ না হলে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া যাবে না।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. বে-নজীর আহমেদ জানিয়েছেন, হাম একটি ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ। সাধারণত গলাব্যথা, কাশি, হাঁচি এবং জ্বর দিয়ে শুরু হয়। পরে শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেয়। এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। 

তিনি আরও বলেন, হামের নির্দিষ্ট কোনো ওষুধ নেই। তবে লক্ষণ অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয়। জ্বর হলে প্যারাসিটামল দেওয়া যেতে পারে এবং প্রয়োজন হলে ভিটামিন এ সাপ্লিমেন্ট দেওয়া হয়। জটিলতা দেখা দিলে, বিশেষ করে নিউমোনিয়া হলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে ৩ হাজার ৪৪৩ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে। এছাড়া সন্দেহজনক আক্রান্তের সংখ্যা ২৩ হাজারের বেশি। এই পরিসংখ্যান থেকেই পরিস্থিতির গুরুত্ব বোঝা যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম প্রতিরোধে টিকাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। বাংলাদেশে বহু বছর ধরে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে হাম নিয়ন্ত্রণে ছিল। তবে করোনার সময় নিয়মিত টিকাদান ব্যাহত হওয়ায় অনেক শিশু সময়মতো টিকা পায়নি—এটিও বর্তমান সংক্রমণ বৃদ্ধির একটি বড় কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে। 

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের ক্ষেত্রে হামের ঝুঁকি বেশি থাকে। তাই চিকিৎসকরা অভিভাবকদের টিকার পাশাপাশি শিশুদের পুষ্টিকর খাবারের দিকেও নজর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হওয়াই এখন সবচেয়ে জরুরি। সময়মতো টিকা দেওয়া এবং লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া গেলে হামের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। দেশব্যাপী এই টিকাদান কর্মসূচি সফল হলে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি সংক্রমণও দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬


. সারা দেশে শুরু হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন, ৬ মাস–৫ বছরের শিশুদের টিকা দিতে আহ্বান

প্রকাশের তারিখ : ২০ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

দেশজুড়ে হামের সংক্রমণ ও শিশু মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় সরকার আজ সোমবার (২০ এপ্রিল) থেকে বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে। এই কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের টিকা দেওয়া হচ্ছে, যাতে দ্রুত সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হামে আক্রান্তের সংখ্যা ২২ হাজার ছাড়িয়েছে। একই সময়ে নিশ্চিত ও সন্দেহজনক মিলিয়ে ২০০-এর বেশি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে জাতীয় পর্যায়ে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

এর আগে গত ৫ এপ্রিল দেশের ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলাকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে সেখানে জরুরি টিকাদান শুরু করা হয়। পরে ১২ এপ্রিল ঢাকাতেও এই কার্যক্রম চালু হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এখন সারা দেশে একযোগে এই কর্মসূচি চালানো হচ্ছে যাতে দ্রুত সংক্রমণের হার কমানো যায়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, টিকার কোনো ঘাটতি নেই। তিনি অভিভাবকদের বিভ্রান্তিকর তথ্য এড়িয়ে শিশুদের টিকা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, এই কর্মসূচি সফল হলে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে। 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও সাম্প্রতিক এক সম্মেলনে বলেন, অতীতে শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমে ঘাটতির কারণে আজকের এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে বর্তমান সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় পরিস্থিতির আরও অবনতি ঠেকানো সম্ভব হয়েছে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যেসব শিশুর জ্বর আছে বা বর্তমানে অসুস্থ, তাদের সুস্থ হওয়ার পর টিকা দিতে হবে। একইভাবে, প্রথম ডোজ নেওয়ার চার সপ্তাহ পূর্ণ না হলে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া যাবে না।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. বে-নজীর আহমেদ জানিয়েছেন, হাম একটি ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ। সাধারণত গলাব্যথা, কাশি, হাঁচি এবং জ্বর দিয়ে শুরু হয়। পরে শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেয়। এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। 

তিনি আরও বলেন, হামের নির্দিষ্ট কোনো ওষুধ নেই। তবে লক্ষণ অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয়। জ্বর হলে প্যারাসিটামল দেওয়া যেতে পারে এবং প্রয়োজন হলে ভিটামিন এ সাপ্লিমেন্ট দেওয়া হয়। জটিলতা দেখা দিলে, বিশেষ করে নিউমোনিয়া হলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে ৩ হাজার ৪৪৩ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে। এছাড়া সন্দেহজনক আক্রান্তের সংখ্যা ২৩ হাজারের বেশি। এই পরিসংখ্যান থেকেই পরিস্থিতির গুরুত্ব বোঝা যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম প্রতিরোধে টিকাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। বাংলাদেশে বহু বছর ধরে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে হাম নিয়ন্ত্রণে ছিল। তবে করোনার সময় নিয়মিত টিকাদান ব্যাহত হওয়ায় অনেক শিশু সময়মতো টিকা পায়নি—এটিও বর্তমান সংক্রমণ বৃদ্ধির একটি বড় কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে। 

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের ক্ষেত্রে হামের ঝুঁকি বেশি থাকে। তাই চিকিৎসকরা অভিভাবকদের টিকার পাশাপাশি শিশুদের পুষ্টিকর খাবারের দিকেও নজর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হওয়াই এখন সবচেয়ে জরুরি। সময়মতো টিকা দেওয়া এবং লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া গেলে হামের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। দেশব্যাপী এই টিকাদান কর্মসূচি সফল হলে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি সংক্রমণও দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর