দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

ইরানে অবিস্ফোরিত বোমা নিষ্ক্রিয় করতে গিয়ে বিস্ফোরণ, নিহত ১৪—নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রশ্ন

ইরানে অবিস্ফোরিত বোমা নিষ্ক্রিয় করতে গিয়ে বিস্ফোরণ, নিহত ১৪—নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রশ্ন

জার্মানি থেকে ৫ হাজার সেনা প্রত্যাহার: ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন

নয়াপল্টনে বিএনপির শ্রমিক সমাবেশ শুরু, লাখো মানুষের উপস্থিতির প্রত্যাশা

মিরপুর হত্যা মামলা: সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন ফের ৪ দিনের রিমান্ডে

ইন্দোনেশিয়ায় ট্রেন সংঘর্ষে প্রাণহানি, বহু যাত্রী এখনও আটকা

জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহে জেসমিন প্রকল্পের উদ্যোগ, ইসলামপুর ও মেলান্দহে সচেতনতা কার্যক্রম

যেতে দাও’ চিৎকারে উত্তেজনা, হরিপালের সভায় নিরাপত্তা ঘিরে প্রশ্ন

ইসলামাবাদে ইরানের প্রতিনিধি, যুক্তরাষ্ট্রের দূত আসছেন—শান্তি আলোচনায় অগ্রগতির আশা

ঈদযাত্রায় ঘরমুখো মানুষের ঢল: রেল-সড়ক-নৌপথে বাড়ছে চাপ, কোথাও স্বস্তি কোথাও ভোগান্তি

ঈদযাত্রায় ঘরমুখো মানুষের ঢল: রেল-সড়ক-নৌপথে বাড়ছে চাপ, কোথাও স্বস্তি কোথাও ভোগান্তি
-ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাজধানী ঢাকা ছেড়ে গ্রামের বাড়ির পথে নেমেছে ঘরমুখো মানুষের ঢল। সড়ক, রেল ও নৌপথ—সবখানেই কয়েকগুণ বেড়েছে যাত্রীচাপ। বুধবার (১৮ মার্চ) ভোর থেকেই রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় দেখা গেছে উপচেপড়া ভিড়।

ভোরের শুরু থেকেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাত্রার উদ্দেশ্যে স্টেশনে ভিড় জমাতে থাকেন যাত্রীরা। কেউ পরিবার-পরিজন নিয়ে, কেউ ছোট শিশুদের সঙ্গে নিয়ে ট্রেনের অপেক্ষায় প্ল্যাটফর্মে অবস্থান নেন। অতিরিক্ত যাত্রীর চাপে অনেকেই ট্রেনের ভেতরে জায়গা না পেয়ে ঝুঁকি নিয়ে ছাদে চড়ে গন্তব্যে রওনা হচ্ছেন, যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ।

স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, সকাল সোয়া ৭টা পর্যন্ত ছয়টি ট্রেন নির্ধারিত সময়েই ছেড়ে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে ধূমকেতু, পারাবত, নীলসাগর, সোনার বাংলা, এগারোসিন্দুর প্রভাতী ও নারায়ণগঞ্জ কমিউটার ট্রেন।

বাংলাদেশ রেলওয়ে জানিয়েছে, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে সময়সূচি ঠিক রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে যাত্রীচাপ স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অন্যদিকে সড়কপথেও বেড়েছে যানবাহনের চাপ। বিভিন্ন মহাসড়কে হালকা থেকে মাঝারি যানজটের খবর পাওয়া গেছে। বিশেষ করে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে ধীরগতির সৃষ্টি হচ্ছে। টোল প্লাজা, নির্মাণাধীন অংশ এবং সংকীর্ণ সড়কগুলোতে ভোগান্তি বাড়ছে।

ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত মহাসড়কে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও লরি চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যবাহী যানবাহন এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে।

নৌপথেও যাত্রীচাপ বেড়েছে। রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি যাত্রী দেখা গেছে। লঞ্চগুলো যাত্রী পূর্ণ করেই নির্ধারিত রুটে ছেড়ে যাচ্ছে। যদিও পদ্মা সেতু চালুর পর যাত্রী কিছুটা কমেছে, তবুও ঈদের সময় ভাড়া বৃদ্ধি ও স্বস্তির কারণে অনেকে নৌপথ বেছে নিচ্ছেন।

সড়ক ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দেশের মহাসড়কে ২০০টির বেশি যানজটপ্রবণ স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে, যেগুলোতে বিশেষ নজরদারি চলছে। বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হয়েছে।

এদিকে পদ্মা সেতু এলাকায় যানবাহনের চাপ বাড়লেও বড় ধরনের যানজটের সৃষ্টি হয়নি। স্বাভাবিকভাবেই পারাপার করছেন দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীরা।

তবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভাঙাচোরা সড়ক, নির্মাণাধীন মহাসড়ক ও সংকীর্ণ পথে যানবাহনের ধীরগতির কারণে ভোগান্তির আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা-সিলেট, যশোর-খুলনা ও বরিশাল রুটে যাত্রীদের বাড়তি সময় লাগছে।

সরকারি সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক রাখতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তবে যাত্রীদের শৃঙ্খলা মেনে চলা এবং নিরাপদ ভ্রমণের জন্য সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

শনিবার, ০২ মে ২০২৬


ঈদযাত্রায় ঘরমুখো মানুষের ঢল: রেল-সড়ক-নৌপথে বাড়ছে চাপ, কোথাও স্বস্তি কোথাও ভোগান্তি

প্রকাশের তারিখ : ১৮ মার্চ ২০২৬

featured Image

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাজধানী ঢাকা ছেড়ে গ্রামের বাড়ির পথে নেমেছে ঘরমুখো মানুষের ঢল। সড়ক, রেল ও নৌপথ—সবখানেই কয়েকগুণ বেড়েছে যাত্রীচাপ। বুধবার (১৮ মার্চ) ভোর থেকেই রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় দেখা গেছে উপচেপড়া ভিড়।

ভোরের শুরু থেকেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাত্রার উদ্দেশ্যে স্টেশনে ভিড় জমাতে থাকেন যাত্রীরা। কেউ পরিবার-পরিজন নিয়ে, কেউ ছোট শিশুদের সঙ্গে নিয়ে ট্রেনের অপেক্ষায় প্ল্যাটফর্মে অবস্থান নেন। অতিরিক্ত যাত্রীর চাপে অনেকেই ট্রেনের ভেতরে জায়গা না পেয়ে ঝুঁকি নিয়ে ছাদে চড়ে গন্তব্যে রওনা হচ্ছেন, যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ।

স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, সকাল সোয়া ৭টা পর্যন্ত ছয়টি ট্রেন নির্ধারিত সময়েই ছেড়ে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে ধূমকেতু, পারাবত, নীলসাগর, সোনার বাংলা, এগারোসিন্দুর প্রভাতী ও নারায়ণগঞ্জ কমিউটার ট্রেন।

বাংলাদেশ রেলওয়ে জানিয়েছে, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে সময়সূচি ঠিক রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে যাত্রীচাপ স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অন্যদিকে সড়কপথেও বেড়েছে যানবাহনের চাপ। বিভিন্ন মহাসড়কে হালকা থেকে মাঝারি যানজটের খবর পাওয়া গেছে। বিশেষ করে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে ধীরগতির সৃষ্টি হচ্ছে। টোল প্লাজা, নির্মাণাধীন অংশ এবং সংকীর্ণ সড়কগুলোতে ভোগান্তি বাড়ছে।

ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত মহাসড়কে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও লরি চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যবাহী যানবাহন এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে।

নৌপথেও যাত্রীচাপ বেড়েছে। রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি যাত্রী দেখা গেছে। লঞ্চগুলো যাত্রী পূর্ণ করেই নির্ধারিত রুটে ছেড়ে যাচ্ছে। যদিও পদ্মা সেতু চালুর পর যাত্রী কিছুটা কমেছে, তবুও ঈদের সময় ভাড়া বৃদ্ধি ও স্বস্তির কারণে অনেকে নৌপথ বেছে নিচ্ছেন।

সড়ক ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দেশের মহাসড়কে ২০০টির বেশি যানজটপ্রবণ স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে, যেগুলোতে বিশেষ নজরদারি চলছে। বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হয়েছে।

এদিকে পদ্মা সেতু এলাকায় যানবাহনের চাপ বাড়লেও বড় ধরনের যানজটের সৃষ্টি হয়নি। স্বাভাবিকভাবেই পারাপার করছেন দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীরা।

তবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভাঙাচোরা সড়ক, নির্মাণাধীন মহাসড়ক ও সংকীর্ণ পথে যানবাহনের ধীরগতির কারণে ভোগান্তির আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা-সিলেট, যশোর-খুলনা ও বরিশাল রুটে যাত্রীদের বাড়তি সময় লাগছে।

সরকারি সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক রাখতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তবে যাত্রীদের শৃঙ্খলা মেনে চলা এবং নিরাপদ ভ্রমণের জন্য সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর