দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : রোববার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

যেতে দাও’ চিৎকারে উত্তেজনা, হরিপালের সভায় নিরাপত্তা ঘিরে প্রশ্ন

যেতে দাও’ চিৎকারে উত্তেজনা, হরিপালের সভায় নিরাপত্তা ঘিরে প্রশ্ন

ইসলামাবাদে ইরানের প্রতিনিধি, যুক্তরাষ্ট্রের দূত আসছেন—শান্তি আলোচনায় অগ্রগতির আশা

টঙ্গীতে বাবা-ছেলের রহস্যজনক মৃত্যু, জিজ্ঞাসাবাদে বড় ছেলে

ওয়াশিংটনে নৈশভোজে গুলির আতঙ্ক, সন্দেহভাজন বন্দুকধারী গ্রেপ্তার

ঢাকাসহ ৬ বিভাগে বাড়ছে বৃষ্টি, কোথাও হতে পারে অতিভারী বর্ষণ

ইরানের তেল কেনায় চীনা রিফাইনারির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বাড়ছে বৈশ্বিক উত্তেজনা

২০ বছর পর গাজায় ভোট: যুদ্ধের মাঝেও প্রতীকী নির্বাচন শুরু

মধ্যপ্রাচ্যের পথে মার্কিন সুপারক্যারিয়ার এইচডব্লিউ বুশ, অঞ্চলে বাড়ছে সামরিক উপস্থিতি

যেতে দাও’ চিৎকারে উত্তেজনা, হরিপালের সভায় নিরাপত্তা ঘিরে প্রশ্ন

যেতে দাও’ চিৎকারে উত্তেজনা, হরিপালের সভায় নিরাপত্তা ঘিরে প্রশ্ন
-ছবি: সংগৃহীত

হুগলির হরিপালে প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi-র জনসভায় আচমকাই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়, যখন এক মহিলা ব্যারিকেড টপকে মঞ্চে ওঠার চেষ্টা করেন। প্রধানমন্ত্রীর কাছাকাছি যাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠা ওই মহিলাকে শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তার কারণে জোর করে সরিয়ে নিয়ে যেতে হয়। ঘটনাটি সভাস্থলে উপস্থিত বহু মানুষের দৃষ্টি কাড়ে এবং মুহূর্তের মধ্যেই চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।

রবিবার আরামবাগ সাংগঠনিক জেলার অন্তর্গত হরিপালে এই জনসভা অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। প্রধানমন্ত্রী তখন মঞ্চে দাঁড়িয়ে বক্তব্য রাখছিলেন। সেই সময় আচমকাই এক মহিলা ব্যারিকেড অতিক্রম করে সামনে এগিয়ে আসেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তিনি সরাসরি মঞ্চে উঠতে চাইছিলেন এবং প্রধানমন্ত্রীর কাছাকাছি পৌঁছানোর চেষ্টা করছিলেন।

নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ ও মহিলা কর্মীরা দ্রুত তাকে আটকানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু তাতে তিনি থামেননি। বরং মাটিতে শুয়ে পড়ে বারবার বলতে থাকেন, “যেতে দাও, যেতে দাও।” তার এই আচরণে পরিস্থিতি কিছুটা অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। উপস্থিত নিরাপত্তারক্ষীরা তাকে সরাতে গেলে তিনি বাধা দেন এবং কান্নায় ভেঙে পড়েন।

বিজেপি সূত্রে জানা গেছে, ওই মহিলা দলেরই একজন সমর্থক বা কর্মী হতে পারেন। যদিও তার পরিচয় নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। ঘটনাটি এতটাই নাটকীয় ছিল যে তা প্রধানমন্ত্রীর নজরেও আসে। পরে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয় এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। শেষে ওই মহিলাকে প্রায় চ্যাংদোলা করে সভাস্থল থেকে বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়।

এই ধরনের ঘটনা নতুন নয়। বড় রাজনৈতিক সভায় বহু সময় সাধারণ মানুষ আবেগের বশে নেতাদের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করেন। বিশেষ করে ভারতের মতো দেশে রাজনৈতিক নেতাদের ঘিরে ব্যক্তিগত ভক্তি বা আবেগ অনেক সময় এই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করে। তাই প্রধানমন্ত্রীর মতো উচ্চ নিরাপত্তার আওতায় থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বহুস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়, যেখানে সাধারণ মানুষের সরাসরি যোগাযোগ প্রায় অসম্ভব।

অন্যদিকে, এই সভায় প্রধানমন্ত্রী মহিলাদের আর্থিক উন্নয়ন নিয়ে বেশ কিছু প্রতিশ্রুতিও দেন। তিনি বলেন, মহিলাদের বছরে এক লক্ষ টাকার বেশি আয় নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রায় ৭৫ লক্ষ মহিলাকে এই সুবিধার আওতায় আনার কথা জানান তিনি। পাশাপাশি ২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণের সুবিধা দেওয়া হবে, যেখানে ব্যাংকের গ্যারান্টির দায়িত্বও সরকার নেবে বলে জানান।

তিনি আরও বলেন, হুগলি নদীর আশেপাশের এলাকায় একসময় বহু কারখানা ছিল, যা এখন ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে গেছে। গত ১৫ বছরে একাধিক পাটকল বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথাও উল্লেখ করেন। তার দাবি, এখন সেখানে শিল্পের বদলে সিন্ডিকেট এবং কমিশন-নির্ভর অর্থনীতি গড়ে উঠেছে।

হুগলি অঞ্চল ঐতিহাসিকভাবে শিল্পসমৃদ্ধ এলাকা হিসেবে পরিচিত। ব্রিটিশ আমল থেকেই এখানে পাটশিল্পের ব্যাপক বিস্তার ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই শিল্পের অবক্ষয় ঘটেছে। ফলে এই অঞ্চলের অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যা রাজনৈতিক বক্তব্যেও বারবার উঠে আসে।

সব মিলিয়ে, হরিপালের এই সভা শুধু রাজনৈতিক বক্তব্যের জন্য নয়, বরং ওই মহিলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আরও বেশি আলোচনায় এসেছে। একদিকে যেমন নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্ব সামনে এসেছে, অন্যদিকে মানুষের আবেগও স্পষ্ট হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে নিরাপত্তা আরও কঠোর করা হতে পারে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিষয় : নিরাপত্তা চিৎকারে উত্তেজনা

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

রোববার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬


যেতে দাও’ চিৎকারে উত্তেজনা, হরিপালের সভায় নিরাপত্তা ঘিরে প্রশ্ন

প্রকাশের তারিখ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

হুগলির হরিপালে প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi-র জনসভায় আচমকাই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়, যখন এক মহিলা ব্যারিকেড টপকে মঞ্চে ওঠার চেষ্টা করেন। প্রধানমন্ত্রীর কাছাকাছি যাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠা ওই মহিলাকে শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তার কারণে জোর করে সরিয়ে নিয়ে যেতে হয়। ঘটনাটি সভাস্থলে উপস্থিত বহু মানুষের দৃষ্টি কাড়ে এবং মুহূর্তের মধ্যেই চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।

রবিবার আরামবাগ সাংগঠনিক জেলার অন্তর্গত হরিপালে এই জনসভা অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। প্রধানমন্ত্রী তখন মঞ্চে দাঁড়িয়ে বক্তব্য রাখছিলেন। সেই সময় আচমকাই এক মহিলা ব্যারিকেড অতিক্রম করে সামনে এগিয়ে আসেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তিনি সরাসরি মঞ্চে উঠতে চাইছিলেন এবং প্রধানমন্ত্রীর কাছাকাছি পৌঁছানোর চেষ্টা করছিলেন।

নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ ও মহিলা কর্মীরা দ্রুত তাকে আটকানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু তাতে তিনি থামেননি। বরং মাটিতে শুয়ে পড়ে বারবার বলতে থাকেন, “যেতে দাও, যেতে দাও।” তার এই আচরণে পরিস্থিতি কিছুটা অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। উপস্থিত নিরাপত্তারক্ষীরা তাকে সরাতে গেলে তিনি বাধা দেন এবং কান্নায় ভেঙে পড়েন।

বিজেপি সূত্রে জানা গেছে, ওই মহিলা দলেরই একজন সমর্থক বা কর্মী হতে পারেন। যদিও তার পরিচয় নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। ঘটনাটি এতটাই নাটকীয় ছিল যে তা প্রধানমন্ত্রীর নজরেও আসে। পরে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয় এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। শেষে ওই মহিলাকে প্রায় চ্যাংদোলা করে সভাস্থল থেকে বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়।

এই ধরনের ঘটনা নতুন নয়। বড় রাজনৈতিক সভায় বহু সময় সাধারণ মানুষ আবেগের বশে নেতাদের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করেন। বিশেষ করে ভারতের মতো দেশে রাজনৈতিক নেতাদের ঘিরে ব্যক্তিগত ভক্তি বা আবেগ অনেক সময় এই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করে। তাই প্রধানমন্ত্রীর মতো উচ্চ নিরাপত্তার আওতায় থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বহুস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়, যেখানে সাধারণ মানুষের সরাসরি যোগাযোগ প্রায় অসম্ভব।

অন্যদিকে, এই সভায় প্রধানমন্ত্রী মহিলাদের আর্থিক উন্নয়ন নিয়ে বেশ কিছু প্রতিশ্রুতিও দেন। তিনি বলেন, মহিলাদের বছরে এক লক্ষ টাকার বেশি আয় নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রায় ৭৫ লক্ষ মহিলাকে এই সুবিধার আওতায় আনার কথা জানান তিনি। পাশাপাশি ২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণের সুবিধা দেওয়া হবে, যেখানে ব্যাংকের গ্যারান্টির দায়িত্বও সরকার নেবে বলে জানান।

তিনি আরও বলেন, হুগলি নদীর আশেপাশের এলাকায় একসময় বহু কারখানা ছিল, যা এখন ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে গেছে। গত ১৫ বছরে একাধিক পাটকল বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথাও উল্লেখ করেন। তার দাবি, এখন সেখানে শিল্পের বদলে সিন্ডিকেট এবং কমিশন-নির্ভর অর্থনীতি গড়ে উঠেছে।

হুগলি অঞ্চল ঐতিহাসিকভাবে শিল্পসমৃদ্ধ এলাকা হিসেবে পরিচিত। ব্রিটিশ আমল থেকেই এখানে পাটশিল্পের ব্যাপক বিস্তার ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই শিল্পের অবক্ষয় ঘটেছে। ফলে এই অঞ্চলের অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যা রাজনৈতিক বক্তব্যেও বারবার উঠে আসে।

সব মিলিয়ে, হরিপালের এই সভা শুধু রাজনৈতিক বক্তব্যের জন্য নয়, বরং ওই মহিলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আরও বেশি আলোচনায় এসেছে। একদিকে যেমন নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্ব সামনে এসেছে, অন্যদিকে মানুষের আবেগও স্পষ্ট হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে নিরাপত্তা আরও কঠোর করা হতে পারে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর